খুঁজুন
, ,

ঈদ ভ্রমণে যে সতর্কতা না মানলে আনন্দ হতে পারে বিঘ্নিত?

ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ
ঈদ ভ্রমণে যে সতর্কতা না মানলে আনন্দ হতে পারে বিঘ্নিত?

এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের প্রধান উৎসব আর আনন্দের দিন হচ্ছে ঈদুল ফিতর। আর এ সময়টাতে নাড়ির টানে পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য দলে দলে মানুষের গ্রামের পথে ছুটে চলার প্রবণতা চিরন্তন।

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, উল্লাস, ফূর্তি আর নতুন সাজে সজ্জিত হওয়া। আমাদের ঈদ-সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অন্যতম আকর্ষণ হলো ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে আবালবৃদ্ধবনিতা সবার জন্যই নতুন পোশাক, একটু ভালো খাবারদাবার আর আনন্দ বিনোদন।

ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি, বুকে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ, ফ্রেমে বন্দি অসংখ্য স্থিরচিত্র, বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয়ের বাসায় বাসায় ঘোরাঘুরি, খাওয়াদাওয়া, মজা করা মুসলিমদের জন্য এক মহা আনন্দের। আর এসব ঈদের সংস্কৃতির অংশ। তবে ঈদ ভ্রমণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সতর্কতা নিয়ে সবাইকে হতে হবে সচেতন। ঈদ ভ্রমণে স্বাস্থ্যঝুঁকির খুঁটিনাটি জানা থাকলে ভ্রমণটি হতে পারে আরও আনন্দময়।

যাত্রাপথে যারা দূরদূরান্তে যান, তাদের রাস্তাঘাটে পোহাতে হয় হাজারো দুর্ভোগ আর বিড়ম্বনা। তারপরও বাসায় ফেরার আনন্দে মন থাকে মাতোয়ারা। তাই কষ্টগুলো আর বড় হয়ে ওঠে না। এ সময়টাতে অনেককেই ভ্রমণ করতে হয় বাস, ট্রেন অথবা লঞ্চে। রাস্তায় যানজট, ফেরি স্বল্পতা ও পারাপারের সংকট, লঞ্চ-স্টিমারে গাদাগাদি-ঠাসাঠাসি। প্রচণ্ড ভিড় আর ঠেলাঠেলি করে ক্লান্তিকর ও দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে বাড়ি পৌঁছাতে হয়, আবার ছুটি শেষে কাজে যোগদান করতে হয়। সবাই চায় নির্বিঘ্নে আর নিরাপদে ঘরে ফিরতে। তবে যাওয়া আসার ঝক্কিতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিশু ও বয়স্কদের পক্ষে লম্বা যাত্রাপথের ধকল সহ্য করা খুব কঠিন হয় বৈকি। এ সময় আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শরীর খারাপ হতেই পারে। তাই যাত্রাপথে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। অন্যথায় ঈদের আনন্দ আগেভাগেই মাটি হয়ে যেতে পারে। তাই ঈদ ভ্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়াটা কোনোক্রমেই কাম্য নয়।

পরিকল্পনা : যাত্রা শুরুর আগে সুন্দরভাবে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে রওনা হবেন। একটু সতর্ক হলেই প্রতিরোধযোগ্য অসুখ-বিসুখ সহজে এড়ানো সম্ভব। শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লাগেজ গোছানো : গোছগাছের ব্যাপারটির সঙ্গে কোথায় যাওয়া হচ্ছে এবং কতদিন থাকতে হবে তা জড়িত। অবশ্যই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ এমনকি ছোট বাচ্চা বা বয়স্কদের জন্য যা যা দরকার, তা সঙ্গে রাখা উচিত। যতটা সম্ভব অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দেওয়া ভালো।

রোজা অবস্থায় ভ্রমণ : রোজা রেখে রওনা হলে নিজের ঘরের তৈরি প্রয়োজনীয় খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় সঙ্গে রাখুন, যেন ইফতারের সময় বাইরের খাবার খেতে না হয়। বর্তমানে প্রচণ্ড গরম, তাই বেশি বেশি বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

পরিধেয় পোশাক : ভ্রমণে যত হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরা যায়, ততই সুবিধা, কারণ বাইরে প্রচণ্ড গরম। ছেলেরা টি-শার্ট পরতে পারেন। তবে নিজের আরামদায়ক হয়, এমন যে কোনো পোশাকই পরতে পারেন। বেশি টাইট জামাকাপড় পরিহার করা উচিত।

যাত্রাপথে পরনের জুতা : জুতার ব্যাপারে অবশ্যই খেয়াল রাখুন। বিশেষ করে, নারীরা ভ্রমণের সময় হাইহিল জুতা এড়িয়ে চলুন। ভ্রমণক্ষেত্রে কমফোর্টেবল জুতা বা স্যান্ডেল হাঁটার জন্য আরামদায়ক।

যানবাহনে সতর্কতা : জানালা দিয়ে মাথা বা হাত বের করে রাখবেন না। অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাস, ট্রেন বা লঞ্চে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। বাস বা ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা খুবই বিপজ্জনক, তাই ছাদে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন।

ফাস্টএইড বক্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধ : ভ্রমণের প্যাকিং করার আগে অবশ্যই ফাস্টএইড বক্স নিয়ে নিন। ভ্রমণকালে যে কোনো সময় ছোটখাটো অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার কাটা-ছেঁড়ায় প্রাথমিক সহায়তা হবে। বিশেষ করে যারা পাহাড়-পর্বত বা ট্র্যাকিং ট্রিপ দিতে পছন্দ করেন, তাদের ক্ষেত্রে অধিক কাজে দেবে। কারণ ট্র্যাকিং করার সময় কাটা-ছেঁড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। ফাস্টএইড বক্সের সঙ্গে নিয়ে নিন প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র। জ্বর-ঠান্ডা, মাথাব্যথা ইত্যাদি সমস্যা হওয়াটা স্বাভাবিক। এছাড়া বমি, পেট খারাপের ওষুধ এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে অ্যান্টিবায়োটিক সঙ্গে রাখা জরুরি।

যারা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন : যারা বিভিন্ন রোগে ভোগেন, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, বাতরোগ, অ্যাজমা বা অ্যালার্জি, তারা অবশ্যই ঈদ ভ্রমণে প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নিতে ভুলবেন না। অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা সঙ্গে রাখুন ইনহেলার। ডায়াবেটিস রোগীরা ইনসুলিন বা ট্যাবলেট সঙ্গে রাখবেন এবং লজেন্স, সুগার কিউব সঙ্গে নেবেন। প্লেনে ভ্রমণ করলে ঘন ঘন পা ম্যাসাজ করতে হবে, না হলে পায়ে রক্ত জমাট বেঁধে ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস হতে পারে। তারা পায়ে রক্তজমা প্রতিরোধকারী মোজা পরতে পারেন। যাদের ওজন বেশি তারাও এটা পরতে পারেন।

খাবার নিয়ে সতর্কতা : ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। নিজের ঘরের তৈরি খাবার এবং প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানি সঙ্গে রাখবেন। বাইরের খাবা, শরবত বা পানীয় পরিহার করবেন। অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার বা পানীয় পান করবেন না। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশুদ্ধ পানি পান করুন এবং বাচ্চাদেরও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করাবেন। ভ্রমণে খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে।

ভ্রমণের পূর্বে পর্যাপ্ত ঘুম : ভ্রমণের সময় দীর্ঘ দূরত্ব না থাকা সত্ত্বেও প্রায়ই যানজটের জন্য দীর্ঘক্ষণ রাস্তাতেই কেটে যায়। এমতাবস্থায় শরীরে যথেষ্ট পরিমাণে শক্তির জোগানের জন্য ভ্রমণের আগে পর্যাপ্ত ঘুম দরকার। এছাড়াও ট্রেনে মোশন সিকনেস থেকে রক্ষা পেতে যানবাহন চলাকালে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ রাখা অথবা সম্ভব হলে ঘুমিয়ে নেওয়া ভালো।

গর্ভবতী নারীদের ভ্রমণ : ভ্রমণের সময়ে গর্ভবতী নারীদের রোজা না রাখাই ভালো। কারণ এ সময়ে ঘন ঘন পানি না খেলে শরীরে পানির অভাব দেখা দিতে পারে। বাইরের খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত নয় গর্ভবতী নারীদের। বাসা থেকেই শুকনো খাবার নিয়ে আসা উচিত সঙ্গে করে। বাসের একদম পেছনের দিকের সিট কিংবা ট্রেনের একেবারে পেছনের দিকের বগিতে অনেক বেশি ঝাঁকি অনুভূত হয়। তাই গর্ভবতী নারীদের উচিত টিকিট করার সময়ে নিজের অসুবিধার কথা জানিয়ে সামনের দিকের সিট নির্বাচন করা। গর্ভাবস্থায় অনেকক্ষণ এক স্থানে বসে থাকতে থাকতে পায়ে পানি এসে পা ফুলে যেতে পারে। এছাড়াও দীর্ঘক্ষণ একস্থানে বসে থাকলে রক্তচলাচল কমে যায়। তাই সম্ভব হলে যাত্রাবিরতিতে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করে নিন। এতে রক্তচলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

শিশুদের নিয়ে বাড়তি সতর্কতা : ট্রেনে, বাসে কিংবা লঞ্চে ভ্রমণের সময়ে শিশুরা সব সময়েই জানালার ধারের সিটটি পছন্দ করে। এ কারণে হঠাৎ করে অতিরিক্ত বাতাসের মুখোমুখি হয়। ফলে শিশুরা অনেকে ঠিক ভ্রমণের পর পরই আক্রান্ত হয় সর্দি-জ্বর কিংবা সাধারণ কাশিতে। এছাড়াও বাইরের পানীয় এবং খাবার খেয়ে বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। তাই তারা যাতে যাত্রাপথে বাইরের খাবার না খায়, সে ব্যাপারে সজাগ থাকুন। একেবারে ছোট দুগ্ধপোষ্য শিশু নিয়ে ভ্রমণ না করাই উচিত। প্রয়োজনে বের হতে হলে তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করে নিতে হবে। চলার পথে শিশুকে অবশ্যই ধরে রাখবেন, ট্রেন, বাস বা লঞ্চ থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কিন্তু উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। খেয়াল রাখবেন কোনো বাচ্চা যেন জানালা দিয়ে হাত বাইরে না রাখে। এ বিষয়ে সতর্ক হোন।

বয়স্কদের সতর্কতা : দীর্ঘ ভ্রমণ বয়স্কদের জন্য বেশি কষ্টসাধ্য। বিভিন্ন রোগসহ অনেকেই বাতজ্বর বা আরথ্রাইটিসে ভোগেন। তাদের জন্য বাসে বা ট্রেনে ওঠাও সহজ নয়, সে সময় তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। যাত্রাপথে যেন তারা একই ভঙ্গিতে বেশিক্ষণ বসে না থাকে এবং মাঝেমধ্যে যানবাহনের মধ্যেই যেন কিছুক্ষণ চলাফেরা করেন, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখুন। তা না হলে বাতের ব্যথা বাড়তে পারে, এমনকি পায়ে পানি জমে পা ফুলেও যেতে পারে।

অজ্ঞান পার্টি থেকে সাবধান : যাত্রাপথে মলম পার্টি ও ছিনতাইকারীদের আনাগোনা বেশি থাকে তাই সতর্ক থাকুন। যানবাহনে অপরিচিত কেউ খাদ্য বা পানীয় দিলে খাবেন না। কারণ প্রায়ই শোনা যায়, এ ধরনের খাবার খেয়ে অনেকেই বড় দুর্ঘটনায় পড়েছেন। কাজেই এই বিপদ এড়াতে সচেতন থাকবেন।

জরুরি প্রয়োজনে : পরিচিত ডাক্তার এবং পুলিশের ফোন নাম্বার সঙ্গে রাখুন। অসুস্থ বা কোনো বিপদে পড়লে যেন সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ ও বিপদের সময় পুলিশের সাহায্য নিতে পারেন। পুলিশের সাহায্য নিতে যেকোন জায়গা থেকে ৯৯৯-এ ফোন করবেন।

বাড়তি সতর্কতা : ঈদে ঘরমুখো মানুষ বাড়ি যাওয়ার জন্য খুবই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বাস, ট্রেন ও লঞ্চের ছাদে চড়ে ঝুঁকিপূর্ণ সফর করেন, এতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ-আপদের শিকার হন। অন্য সময়ের চেয়ে ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ বাড়ে। এ জন্য সফরে সতর্ক ও সাবধান থাকতে হবে, কোনোভাবেই অসতর্কভাবে চলাফেরা করা যাবে না। যে কদিন গ্রামে থাকবেন, অযথা অপ্রয়োজনে রোদে এবং অন্য কোথাও বেশি ঘোরাফেরা করবেন না। এ সময় সাপে কামড়ের রোগীরও প্রচুর খবর পাওয়া যায়। বাচ্চাদের দিকে বেশি নজর রাখবেন যেন পুকুর, নদী বা জলাশয়ের পানিতে বাচ্চারা একা একা না নামে।

সবার ভ্রমণ সুন্দর ও নিরাপদ হোক। সর্বোপরি ঈদের ছুটিতে ভ্রমণের প্রস্তুতি, সতর্কতা ও নিরাপত্তা অব্যাহত থাকলে সুন্দর স্মরণীয় এক ভ্রমণ অভিজ্ঞতার আশা করা যায়।

লেখক: ইমেরিটাস অধ্যাপক

কোন জার্সি পরে ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
কোন জার্সি পরে ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা?

চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে ভিন্ন জার্সিতে খেলার অনুমতি চেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচে নীল জার্সিতে খেলেছিল তারা, যেই জার্সি এই আসরে তারা এর আগে পরেছিল জর্ডানের বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচে তারা অ্যাওয়ে জার্সি পরলেও ফাইনালে হোম জার্সি পরেই খেলবে।

নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচে তারা যে হোম কিট ব্যবহার করেছিল, ফাইনালেও সেটিই পরবে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা স্পেনের বিপক্ষে যে কিটটি পরবে, এই বিশ্বকাপে কেবল তিনটি ম্যাচে তার পরিবর্তন এনেছিল। গ্রুপ পর্বের শেষ দুটি ম্যাচের একটিতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নীল মোজা এবং জর্ডানের বিপক্ষে বিকল্প (অ্যাওয়ে) কিট পরেছিল। সাম্প্রতিক সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তারা বিকল্প কিট পরে মাঠে নেমেছিল।

এই বিশ্বকাপে আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, মিশর এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বাকি ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনা তাদের হোম জার্সি এবং সাদা রঙের শর্টস ও মোজা ব্যবহার করেছিল। ঠিক এই কিটেই তারা মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মাঠে নামবে।

এদিকে, আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ সম্পূর্ণ সবুজ রঙের কিট পরবেন। যেটা তিনি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের বেশিরভাগ সময় এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে পরেছিলেন। যদিও সেবারের জার্সিটি ভিন্ন ছিল। তবে গত বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালেও আর্জেন্টিনা সাদা শর্টস ও মোজা পরেছিল।

অন্যদিকে, সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে হারানোর ম্যাচে বিকল্প কিট ব্যবহার করা স্পেন এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তাদের হোম কিটে ফিরবে। নীল হাতা ও হলুদ নকশায় সম্পূর্ণ লাল রঙের জার্সি।

রাতে ভাত খাওয়া ভালো নাকি ক্ষতি? জানালেন পুষ্টিবিদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
রাতে ভাত খাওয়া ভালো নাকি ক্ষতি? জানালেন পুষ্টিবিদ

বাঙালি ভাত অন্ত প্রাণ জাতি। সারাদিন কাজ শেষে রাতে এক থালা গরম ভাত না খেলে যেন অনেকের দু’চোখে ঘুম আসতে চায় না। তবে বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে একদল মানুষ রাতে ভাত খাওয়ার অভ্যাসকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করছেন।

এই দ্বন্দ্বে অনেকেই দোটানায় পড়ে রাতের খাবারের তালিকা থেকে প্রিয় ভাত বাদ দিচ্ছেন। তবে সত্যিই কি রাতে ভাত খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন কলকাতা শহরের বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদার।

ভাতেও রয়েছে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ

ভাত মানেই কেবল কার্বোহাইড্রেট নয়। শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেওয়ার পাশাপাশি ভাতে রয়েছে একাধিক জরুরি ভিটামিন ও খনিজ। পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদারের মতে, ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তির ঘাটতি দূর করে আমাদের সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ভাতে থাকে:

আয়রন

ভিটামিন বি৬

ম্যাগনেশিয়াম

পটাশিয়াম

রাতে ভাত খাওয়া কি নিরাপদ?

অনেকের ধারণা, রাতে ভাত খেলে মেদ বাড়ে বা বদহজম হয়। কিন্তু পুষ্টিবিদ বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে, রাতে অনায়াসেই ভাত খাওয়া যায়। ভাত একটি সহজপাচ্য খাবার, যা পেটের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া ভাতের একটি বিশেষ গুণ হলো, এটি রাতে ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে। তাই অহেতুক ভয় না পেয়ে যারা রাতে ভাত খেতে পছন্দ করেন, তারা নিশ্চিন্তে এটি গ্রহণ করতে পারেন।

পরিমাণ কতটুকু হওয়া উচিত?

ভাত খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো এর পরিমাণ। একজন সুস্থ মানুষ যার উচ্চতা মোটামুটি ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, তিনি দিনে প্রায় ১৫০ গ্রাম চালের ভাত খেতে পারেন। এক্ষেত্রে দুপুরে ৭৫ গ্রাম এবং রাতে ৭৫ গ্রাম চালের ভাত রাখা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, প্রত্যেকের উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী ক্যালোরির চাহিদা ভিন্ন হয়, তাই সঠিক পরিমাপ নির্ধারণে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ডায়বেটিস ও ভাতের সম্পর্ক

ডায়বেটিস থাকলে অনেকেই রাতে ভাত খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। তবে পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন, সঠিক নিয়ম মেনে ডায়বেটিস রোগীরাও নিয়মিত ভাত খেতে পারেন। এক্ষেত্রে ভাতের পরিমাপ পুষ্টিবিদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া জরুরি, যাতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ভাত বনাম রুটি: কোনটি সেরা?

অনেকে ওজন কমাতে ভাতের বদলে রুটি বেছে নেন। মজার বিষয় হলো, ভাত এবং রুটির ক্যালোরি ভ্যালু প্রায় সমান। রুটিতে ভাতের তুলনায় ফাইবার বেশি থাকে যা সুগার নিয়ন্ত্রণে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু রুটি অনেকেরই সহ্য হয় না এবং পেটের সমস্যা তৈরি করে। সেক্ষেত্রে পুষ্টিবিদের পরামর্শ হলো, রুটি বা ভাতের মধ্যে অহেতুক তুলনা না করে নিজের শরীরে যা সহ্য হয় এবং পছন্দের খাবারটিই খাওয়া ভালো।

তথ্যসূত্র: এই সময়

‘সংসদ আর রাবারস্ট্যাম্প নয়, এখন গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র’— ডেপুটি স্পিকার

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
‘সংসদ আর রাবারস্ট্যাম্প নয়, এখন গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র’— ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেছেন, “দীর্ঘদিন জাতীয় সংসদ জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করেনি। একসময় সংসদকে ‘রাবারস্ট্যাম্প’ বা ‘মাস্টার ভয়েস’ হিসেবে পরিচালিত করা হয়েছে। কিন্তু এখন জাতীয় সংসদ গণতন্ত্র চর্চার কার্যকর মঞ্চে পরিণত হয়েছে। সরকারি দল ও বিরোধী দল নিজ নিজ বক্তব্য স্বাধীনভাবে উপস্থাপন করতে পারছে এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।”

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের সাওতিকান্দা গ্রামে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, “স্বাধীনতার পর বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর যে নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচিত হয়েছে, সেই সংসদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক। আমরাও সেই প্রত্যাশার গুরুত্ব উপলব্ধি করি। এই সংসদ বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।”

তিনি আরও বলেন, “যে ত্যাগ ও আত্মদানের বিনিময়ে দেশে নতুন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সংসদ নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবং বিরোধী দলের নেতার সহযোগিতায় আমরা দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সংসদকে আরও কার্যকর করতে কাজ করছি। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটানোর লক্ষ্যেই সংসদ পরিচালিত হচ্ছে।”

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম সিয়াম, ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজোয়ান দিপু, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা, শহিদুল ইসলাম মিরু মুন্সী, জাহাঙ্গীর মাতুব্বর, অ্যাডভোকেট জহুরুল হক মিঠু, মোসারেফ হোসেন, আলমগীর মাতুব্বরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।