খুঁজুন
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৮ মাঘ, ১৪৩২

নির্বাচনী প্রচারে গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা দেখায়নি: মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ 

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫১ পিএম
নির্বাচনী প্রচারে গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা দেখায়নি: মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ 

নির্বাচনী প্রচারণায় বেশিরভাগ গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা দেখাতে পারেনি এবং বিএনপিকে জামায়াতের চেয়ে কাভারেজ বেশি দিয়েছে বলে জানিয়েছে মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ নামের একটি প্লাটফর্ম।

বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সংবাদ প্রচারে কোনো কোনো গণমাধ্যম, কোনো কোনো সাংবাদিক পেশাদারী হওয়ার পরিবর্তে অ্যক্টিভিজম চর্চা করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্লাটফর্মটির প্রতিনিধি ও একতা বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের আহ্বায়ক প্লাবন তারিক বলেন, ‘অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে যা করার কথা ছিল, তা করা যায়নি। আজকে গণমাধ্যমের ওপর হামলা হচ্ছে। গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ থাকার কথা থাকলেও তা হয়নি। কোনো না কোনো দলের পক্ষে কাজ করছে গণমাধ্যমগুলো। নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না।’

‘গণমাধ্যমসহ সবার কাছে যে নিরপেক্ষতার প্রত্যাশা ছিল তা তারা পালন করতে পারেনি।’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্লাবন তারিক বলেন, ‘নির্বাচনের প্রচারণার ১৮ দিনের তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব তুলে ধরেছে মিডিয়া ওয়াচ।’

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে প্লাবন তারিক বলেন, ‘প্লাটফর্মটি কোনো মিডিয়া পুলিশিং করছে না।’

প্লাবন তারিক জানান, ‘১৯৭৫ সালে ২৯টি দৈনিক ও ১৩৮টি সাপ্তাহিক পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার আমলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো নিবর্তনমূলক আইন করে গণমাধ্যমকে, গণমাধ্যমকর্মীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো।’

মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশের প্রতিনিধি প্লাবন তারিক বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমলের পর গণমাধ্যম একটা বড় সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তার কিছুই হয়নি। মালিকানা পরিবর্তন হলেও এডিটোরিয়াল পলিসিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা ভয়ে আছে যদি বিএনপি আসে, যদি জামায়াত আসে এসব ভেবে। তারা পক্ষপাতমূলক সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছে।’

প্লাবন তারিক বলেন, ‘সবাইকে সমান কাভার দেওয়ার কথা বলা হলেও তা পরিলক্ষিত হয়নি। বিএনপি ও জামায়াতের সংবাদ প্রচারের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে দেখা যায়। মিডিয়াগুলো কীভাবে কাজ করছে তা তুলে ধরার জন্যই এ প্রতিবেদন, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২২ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি সময়ে দিনভিত্তিক ও প্রতিবেদনের সংখ্যাভিত্তিক বিএনপি ও জামাতকে কাভারেজ দেওয়ার তুলনামূলক চিত্রে ৫টি অনলাইন, ৫টি দৈনিক পত্রিকা ও ৫টি টেলিভিশনের প্রচারিত সংবাদ নিয়ে এ প্রতিবেদন। প্রতিবেদনের চিত্রে জামায়াতের থেকে বিএনপিকে গড়ে কাভারেজ বেশি দেওয়া হয়েছে বলে উঠে এসেছে।

প্লাবন তারিক বলেন, ‘বিটিভি বিএনপি ও জামায়াতকে সমান কাভারেজ দিয়েছে। তবে বাকি টেলিভিশনগুলো বিএনপিকে বেশি দিয়েছে।’

ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে এ প্রতিবেদনে রাখা হয়নি। সময়, যমুনা, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর ও বাংলা ভিশনকে রাখা হয়েছে। অন্যান্য সব গণমাধ্যমের খবর নেওয়া হলেও সময়ের বিবেচনায় প্রতিবেদনে রাখা হয়নি।

প্লাবন তারিক বলেন, ‘মিডিয়া ওয়াচ বলতে চায় গণমাধ্যম যেন নিরপেক্ষতা বজায় রাখে। ফ্যাক্ট চ্যাকিংকে গুজব প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকতার এথিক্স মেনে চলতে হবে। টকশোগুলোর চ্যাক অ্যান্ড ব্যালেন্স বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। গণমাধ্যমের মালিকদের সততার পরিচয় দিতে হবে। এসব প্রতিপালিত না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না, কর্তৃত্ববাদী শাসনই প্রতিষ্ঠিত হবে।’

সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন 

ফরিদপুর-২ আসনে রিকশা মার্কার এজেন্টদের দেওয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি, কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪১ পিএম
ফরিদপুর-২ আসনে রিকশা মার্কার এজেন্টদের দেওয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি, কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে ভোটের আগের রাতে কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ তুলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী শাহ মো. আকরাম আলী। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তার রিকশা মার্কার কেন্দ্র এজেন্টদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮ টার দিকে সালথা উপজেলা সদর বাজার এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে শাহ মো. আকরাম আলী বলেন, “আমাদের কেন্দ্র এজেন্টদের বলা হচ্ছে—যদি তারা ভোটকেন্দ্রে যায়, তাহলে তাদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হবে। নির্বাচনের পর এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের কিছু লোকজন প্রকাশ্যে কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনার কথা বলছে। “ধানের শীষ ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর এজেন্ট কেন্দ্রে থাকলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হবে—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে,” বলেন তিনি। এতে করে তার সমর্থক ও এজেন্টদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন প্রার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে রিকশা মার্কার কর্মী-সমর্থকদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। “কিছু এলাকায় আমাদের কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। পোস্টার ছেঁড়া, মাইকিংয়ে বাধা এবং রাতের আঁধারে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে,” দাবি করেন তিনি।

মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে ভোটারদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হবে। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো প্রার্থী বা এজেন্ট ভয়ভীতির শিকার না হন।”

শাহ মো. আকরাম আলী নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানান। তিনি বলেন, “আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন এবং কোনো পক্ষ যেন প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।”

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এলাকায় নির্বাচনী উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা চান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিক এবং সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।

এ ব্যাপারে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘ এব্যাপারে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে এব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, ওই প্রার্থী এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। এছাড়া উপজেলাটিতে তিন জন ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন, যারা সার্বক্ষণিক নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের কাছেও কোনো অভিযোগ করেননি। যদি প্রার্থী লিখিত অভিযোগ দেন নির্বাচনী বিধিমালা অনুসারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ফরিদপুর-২ আসনে এবারের নির্বাচনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদসহ একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে উত্তেজনা বাড়লেও প্রশাসন দাবি করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ভোটের আগের রাতে এমন অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয় এবং ভোটের দিন পরিস্থিতি কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে। ভোটারদের প্রত্যাশা—সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে যেন তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করতে পারেন।

‘একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট চাই’: শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৬ পিএম
‘একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট চাই’: শামা ওবায়েদ

নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে ভোটারদের মাঝে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন একই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে জরুরী সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমানে আমার নির্বাচনী এলাকা স্বাভাবিক আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন, তাদের ভূমিকা পালন করছেন। আমাদের কিছু সংশয় আছে। কিন্তু গত কয়েকদিন যা ঘটেছে, তা সংবাদ মাধ্যমকে আমার জানানো দরকার বলে আমি মনে করছি।

তিনি বলেন, গতকাল (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২ টার দিকে নগরকান্দার চরযোশর্দী ইউনিয়নের আলগাদিয়া ও সালথার রামকান্তুপুর এবং বাহিরদিয়া গ্রামসহ কিছু কিছু জায়গায় জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থীর লোকজন ভোটারদের মাঝে টাকা-পয়সা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আমাদের কর্মীরা তাদের বাধা দিলে তারা পালিয়ে যায়। বিষয়টি আমার কর্মীরা আমাকে জানান।

শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা সকল প্রার্থীকে সম্মান করি। সকলের নির্বাচন প্রচার-প্রচারণা করার অধিকার আছে। আমরা ভোট চাবো। ভোট চাওয়ার অধিকার সবার আছে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে ভোট কেনার জন্য তারা নেমেছে। এটা নেক্কারজনক ঘটনা। এতে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও কলুষিত করা হচ্ছে। আমি এর প্রতিবাদ করছি। আমি এই ঘটনাটি প্রশাসন সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তিনি বলেন, আজ (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতেও আমার নির্বাচনী এলাকায় তারা টাকা ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। সংবাদকর্মী ও এলাকাবাসীকে আমি বলব আপনারা সতর্ক থাকবেন, কেউ যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটাতে পারে।

শামা ওবায়েদ অভিযোগ করে বলেন, গত ৩-৪ দিন ধরে দেখছি জামায়াতের লোকজন আমাদের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করছেন। যেই অভিযোগের কোন ভিত্তি নাই।প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ দিয়েছে। সেনাবাহিনী তদন্ত করে দেখেন অভিযোগের কোনো প্রমাণ নাই। ধানের শীষের অবস্থান যেসব এলাকায় শক্ত, সেইসব এলাকার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি এ ধরনের কাজ যারা করছে তারা আমাদের বিএনপি নেতাকর্মীদের হেনস্থ করার জন্য এটা করছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, আমি সকল প্রার্থীদের অনুরোধ করবো সুষ্ঠু ভোটে আসেন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমরা প্রচারণা চালিয়েছি। একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট চাই। যেই ভোটের জন্য আমরা ১৮ বছর লড়াই করেছি। সেই ভোটাধিকার যেন নষ্ট না করি। ডক্টর ইউনুসের অধীনে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক।

তিনি বলেন, সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে। যেসব এলাকায় সংখ্যালঘুদের ভোট বেশি সেসব এলাকার ভাই-বোনেরা নির্ভয়ে যাতে ভোট দিতে পারে, নির্বাচন কমিশনের সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

ফরিদপুর-২ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোননীত প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলী বলেন, আমার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোটারদের মাঝে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ সঠিক নয়। এটা মিথ্যা অভিযোগ। আমি টাকা পাবো কোথায়। আমি নিজেই মানুষের টাকায় নির্বাচন করছি। আমরা কর্মীরা নিজেদের টাকা খরচ করে চলছে। নির্বাচনের পরিবেশ ভাল আছে বলেও জানান তিনি।

কড়া নিরাপত্তায় প্রস্তুত ফরিদপুর: ৬৫৭ কেন্দ্রে ভোট, ঝুঁকিপূর্ণ ২৫০

হারুন-অর-রশীদ ও মো. শরিফুল ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৮ পিএম
কড়া নিরাপত্তায় প্রস্তুত ফরিদপুর: ৬৫৭ কেন্দ্রে ভোট, ঝুঁকিপূর্ণ ২৫০

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের মতো ফরিদপুর জেলাতেও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে জেলার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারির মধ্য দিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্র ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি:

ফরিদপুর জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৬৫৭টি। এর মধ্যে ২৫০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাভিত্তিক ২৪টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচন উপলক্ষে মাঠে রয়েছে বিজিবির ১৩ প্লাটুন। প্রতিটি প্লাটুনের সঙ্গে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জেলার ৯টি উপজেলায় ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনী অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ দ্রুত তদন্তের জন্য চারজন সিভিল জজ নিয়ে গঠিত হয়েছে নির্বাচনী ইনকোয়ারি টিম। জেলায় সার্বিক তদারকির জন্য দায়িত্ব পালন করছেন ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানিয়েছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পুরো জেলায় প্রায় ১,৮০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

তিনি বলেন, জেলার সব ভোটকেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ কেন্দ্রে একজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় ২০ সদস্যের একটি বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে, যাতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

আসনভিত্তিক তথ্য ও প্রার্থী সংখ্যা:

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলায় মোট চারটি সংসদীয় আসন রয়েছে। আসনগুলো হলো—

ফরিদপুর-১: মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা

ফরিদপুর-২: নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা

ফরিদপুর-৩: ফরিদপুর সদর উপজেলা

ফরিদপুর-৪: ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা

এই চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ২ হাজার ৯১০ জন, মহিলা ভোটার ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন।

আসনভিত্তিক ভোটার সংখ্যা হলো

ফরিদপুর-১: ৫ লাখ ১০ হাজার ৫৪০ জন

ফরিদপুর-২: ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন

ফরিদপুর-৩: ৪ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন

ফরিদপুর-৪: ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭০৬ জন

জেলার চারটি আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ফরিদপুর-১ আসনে ৮ জন, ফরিদপুর-২ আসনে ৬ জন, ফরিদপুর-৩ আসনে ৬ জন এবং ফরিদপুর-৪ আসনে ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণায় ইতোমধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ।

নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ:

ফরিদপুরের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানিয়েছেন, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সন্ধ্যার আগেই সব কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিল, স্ট্যাম্পসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে যাবে।

তিনি বলেন, “নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

বিশেষ নজর চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায়:

জেলার চরাঞ্চল ও নদীবেষ্টিত কিছু এলাকায় যাতায়াতের অসুবিধা ও অতীতের কিছু নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনার কারণে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, এসব এলাকায় নৌ-পেট্রোলিং, মোবাইল টিম ও অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে।

দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যদের আগেভাগেই পাঠানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিলম্ব না হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল জোরদার থাকবে।

ভোটারদের প্রত্যাশা:

নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চান। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটারদের লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নারী ভোটারদের সুবিধার্থে আলাদা লাইন ও পর্যাপ্ত নারী পুলিশ সদস্য রাখা হয়েছে।

কঠোর অবস্থানে প্রশাসন:

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচন চলাকালীন কোনো ধরনের অনিয়ম, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল বা সহিংসতা সহ্য করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে আমাদের টিম প্রস্তুত রয়েছে।”

শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা:

সব মিলিয়ে ফরিদপুর জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা, বিচারিক তদারকি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি এবং বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ফলে একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

এখন অপেক্ষা ভোটারদের রায়ের। জেলার প্রায় ১৮ লাখ ভোটার আগামীকাল তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাদের জনপ্রতিনিধি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে ফরিদপুরে গণতান্ত্রিক চর্চার আরেকটি অধ্যায় যুক্ত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা।