খুঁজুন
, ,

নির্বাচনী প্রচারে গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা দেখায়নি: মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ 

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
নির্বাচনী প্রচারে গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা দেখায়নি: মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ 

নির্বাচনী প্রচারণায় বেশিরভাগ গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা দেখাতে পারেনি এবং বিএনপিকে জামায়াতের চেয়ে কাভারেজ বেশি দিয়েছে বলে জানিয়েছে মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ নামের একটি প্লাটফর্ম।

বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সংবাদ প্রচারে কোনো কোনো গণমাধ্যম, কোনো কোনো সাংবাদিক পেশাদারী হওয়ার পরিবর্তে অ্যক্টিভিজম চর্চা করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্লাটফর্মটির প্রতিনিধি ও একতা বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের আহ্বায়ক প্লাবন তারিক বলেন, ‘অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে যা করার কথা ছিল, তা করা যায়নি। আজকে গণমাধ্যমের ওপর হামলা হচ্ছে। গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ থাকার কথা থাকলেও তা হয়নি। কোনো না কোনো দলের পক্ষে কাজ করছে গণমাধ্যমগুলো। নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না।’

‘গণমাধ্যমসহ সবার কাছে যে নিরপেক্ষতার প্রত্যাশা ছিল তা তারা পালন করতে পারেনি।’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্লাবন তারিক বলেন, ‘নির্বাচনের প্রচারণার ১৮ দিনের তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব তুলে ধরেছে মিডিয়া ওয়াচ।’

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে প্লাবন তারিক বলেন, ‘প্লাটফর্মটি কোনো মিডিয়া পুলিশিং করছে না।’

প্লাবন তারিক জানান, ‘১৯৭৫ সালে ২৯টি দৈনিক ও ১৩৮টি সাপ্তাহিক পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার আমলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো নিবর্তনমূলক আইন করে গণমাধ্যমকে, গণমাধ্যমকর্মীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো।’

মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশের প্রতিনিধি প্লাবন তারিক বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমলের পর গণমাধ্যম একটা বড় সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তার কিছুই হয়নি। মালিকানা পরিবর্তন হলেও এডিটোরিয়াল পলিসিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা ভয়ে আছে যদি বিএনপি আসে, যদি জামায়াত আসে এসব ভেবে। তারা পক্ষপাতমূলক সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছে।’

প্লাবন তারিক বলেন, ‘সবাইকে সমান কাভার দেওয়ার কথা বলা হলেও তা পরিলক্ষিত হয়নি। বিএনপি ও জামায়াতের সংবাদ প্রচারের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে দেখা যায়। মিডিয়াগুলো কীভাবে কাজ করছে তা তুলে ধরার জন্যই এ প্রতিবেদন, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২২ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি সময়ে দিনভিত্তিক ও প্রতিবেদনের সংখ্যাভিত্তিক বিএনপি ও জামাতকে কাভারেজ দেওয়ার তুলনামূলক চিত্রে ৫টি অনলাইন, ৫টি দৈনিক পত্রিকা ও ৫টি টেলিভিশনের প্রচারিত সংবাদ নিয়ে এ প্রতিবেদন। প্রতিবেদনের চিত্রে জামায়াতের থেকে বিএনপিকে গড়ে কাভারেজ বেশি দেওয়া হয়েছে বলে উঠে এসেছে।

প্লাবন তারিক বলেন, ‘বিটিভি বিএনপি ও জামায়াতকে সমান কাভারেজ দিয়েছে। তবে বাকি টেলিভিশনগুলো বিএনপিকে বেশি দিয়েছে।’

ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে এ প্রতিবেদনে রাখা হয়নি। সময়, যমুনা, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর ও বাংলা ভিশনকে রাখা হয়েছে। অন্যান্য সব গণমাধ্যমের খবর নেওয়া হলেও সময়ের বিবেচনায় প্রতিবেদনে রাখা হয়নি।

প্লাবন তারিক বলেন, ‘মিডিয়া ওয়াচ বলতে চায় গণমাধ্যম যেন নিরপেক্ষতা বজায় রাখে। ফ্যাক্ট চ্যাকিংকে গুজব প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকতার এথিক্স মেনে চলতে হবে। টকশোগুলোর চ্যাক অ্যান্ড ব্যালেন্স বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। গণমাধ্যমের মালিকদের সততার পরিচয় দিতে হবে। এসব প্রতিপালিত না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না, কর্তৃত্ববাদী শাসনই প্রতিষ্ঠিত হবে।’

সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন 

ফরিদপুরে স্ত্রীকে ভারতে পাচারের দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্ত্রীকে ভারতে পাচারের দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে স্ত্রীকে ভারতে পাচারের মামলায় জাহিদ শেখ (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার সময় আসামি জাহিদ শেখ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। জাহিদ শেখ নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

​আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার এক নারীর সঙ্গে বিয়ে হয় জাহিদ শেখের। এর আগে পোশাক কারখানায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন জাহিদ। বিয়ের কিছুদিন পর ভালো চাকরির প্রলোভনে ওই নারীকে ভারতের কেরালায় পাচার করে দেওয়া হয়। সেখানে কেরালা পুলিশ তাকে আটক করে। পরবর্তীতে আইনি সহায়তায় তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

​এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ৫ মার্চ ভুক্তভোগী নারীর মা বাদী হয়ে জাহিদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্ত শেষে আলফাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

​আদালত মানব পাচার দমন আইনের অপর একটি ধারায় জাহিদকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তবে দুটি সাজা একই সঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

​অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর পাঁচ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

ফরিদপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচারের দাবি

ফরিদপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে অতর্কিত হামলা চালানো ও গুরুতর রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের মরহুম অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন মোল্লা মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত সৈয়দ শামস্ তাবরেজ (৫৫) ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করার অভিযোগ আনা হয়।

​এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সৈয়দা মোশায়রা মাহবুবা।

​তিনি সাংবাদিকদের জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ সৈয়দ শামস্ তাবরেজ ও তার স্ত্রী লোহার রড, বাঁশের লাঠি এবং কাঠের বাটাম দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত হন।

​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, এই ন্যাক্কারজনক হামলায় তারা শারীরিকভাবে মারাত্মক জখম হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

​ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

 

ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৬ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৬ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫০ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলাটিতে মোট হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৯১ জনে। আর এখন পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলায় মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ২৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬ জন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসাসেবা শেষে দুই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫২ জন।

​প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ৫০ জনের মধ্যে ৩৬ জন ফরিদপুর জেলার স্থানীয় বাসিন্দা। বাকি ১৪ জন পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলা থেকে এসে ভর্তি হয়েছেন।

​বর্তমানে জেলাটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০৮ জন হাম রোগী। এর মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২৫ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৩ জন ভর্তি আছেন।