খুঁজুন
, ,

কড়া নিরাপত্তায় প্রস্তুত ফরিদপুর: ৬৫৭ কেন্দ্রে ভোট, ঝুঁকিপূর্ণ ২৫০

হারুন-অর-রশীদ ও মো. শরিফুল ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
কড়া নিরাপত্তায় প্রস্তুত ফরিদপুর: ৬৫৭ কেন্দ্রে ভোট, ঝুঁকিপূর্ণ ২৫০

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের মতো ফরিদপুর জেলাতেও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে জেলার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারির মধ্য দিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্র ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি:

ফরিদপুর জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৬৫৭টি। এর মধ্যে ২৫০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাভিত্তিক ২৪টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচন উপলক্ষে মাঠে রয়েছে বিজিবির ১৩ প্লাটুন। প্রতিটি প্লাটুনের সঙ্গে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জেলার ৯টি উপজেলায় ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনী অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ দ্রুত তদন্তের জন্য চারজন সিভিল জজ নিয়ে গঠিত হয়েছে নির্বাচনী ইনকোয়ারি টিম। জেলায় সার্বিক তদারকির জন্য দায়িত্ব পালন করছেন ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানিয়েছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পুরো জেলায় প্রায় ১,৮০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

তিনি বলেন, জেলার সব ভোটকেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ কেন্দ্রে একজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় ২০ সদস্যের একটি বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে, যাতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

আসনভিত্তিক তথ্য ও প্রার্থী সংখ্যা:

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলায় মোট চারটি সংসদীয় আসন রয়েছে। আসনগুলো হলো—

ফরিদপুর-১: মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা

ফরিদপুর-২: নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা

ফরিদপুর-৩: ফরিদপুর সদর উপজেলা

ফরিদপুর-৪: ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা

এই চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ২ হাজার ৯১০ জন, মহিলা ভোটার ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন।

আসনভিত্তিক ভোটার সংখ্যা হলো

ফরিদপুর-১: ৫ লাখ ১০ হাজার ৫৪০ জন

ফরিদপুর-২: ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন

ফরিদপুর-৩: ৪ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন

ফরিদপুর-৪: ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭০৬ জন

জেলার চারটি আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ফরিদপুর-১ আসনে ৮ জন, ফরিদপুর-২ আসনে ৬ জন, ফরিদপুর-৩ আসনে ৬ জন এবং ফরিদপুর-৪ আসনে ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণায় ইতোমধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ।

নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ:

ফরিদপুরের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানিয়েছেন, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সন্ধ্যার আগেই সব কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিল, স্ট্যাম্পসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে যাবে।

তিনি বলেন, “নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

বিশেষ নজর চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায়:

জেলার চরাঞ্চল ও নদীবেষ্টিত কিছু এলাকায় যাতায়াতের অসুবিধা ও অতীতের কিছু নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনার কারণে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, এসব এলাকায় নৌ-পেট্রোলিং, মোবাইল টিম ও অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে।

দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যদের আগেভাগেই পাঠানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিলম্ব না হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল জোরদার থাকবে।

ভোটারদের প্রত্যাশা:

নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চান। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটারদের লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নারী ভোটারদের সুবিধার্থে আলাদা লাইন ও পর্যাপ্ত নারী পুলিশ সদস্য রাখা হয়েছে।

কঠোর অবস্থানে প্রশাসন:

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচন চলাকালীন কোনো ধরনের অনিয়ম, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল বা সহিংসতা সহ্য করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে আমাদের টিম প্রস্তুত রয়েছে।”

শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা:

সব মিলিয়ে ফরিদপুর জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা, বিচারিক তদারকি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি এবং বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ফলে একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

এখন অপেক্ষা ভোটারদের রায়ের। জেলার প্রায় ১৮ লাখ ভোটার আগামীকাল তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাদের জনপ্রতিনিধি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে ফরিদপুরে গণতান্ত্রিক চর্চার আরেকটি অধ্যায় যুক্ত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা।

ফরিদপুরে মহাসড়কে র‌্যাবের চেকপোস্ট, প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার ৮৮০ বোতল স্কাফ সিরাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মহাসড়কে র‌্যাবের চেকপোস্ট, প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার ৮৮০ বোতল স্কাফ সিরাপ

ফরিদপুর শহরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ৮৮০ বোতল স্কাফ সিরাপসহ এক পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ফরিদপুর শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকায় সাতক্ষীরা-ঢাকাগামী মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনক একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ৮৮০ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
অভিযানে মো. রানা গাজী (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর এলাকার রহিম গাজীর ছেলে।

র‌্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার রানা গাজী একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে স্কাফ সিরাপসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছিলেন। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামিও তিনি।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা বলেন, উদ্ধার হওয়া স্কাফ সিরাপ ও জব্দকৃত প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।

ফরিদপুরে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ‘হাঁস খেলা’

তামিম ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ‘হাঁস খেলা’

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যখন স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের দুনিয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ খেলাধুলা, ঠিক তখনই সেই হারানো সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ফরিদপুরের একদল তরুণ ও স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের উদ্যোগে ফরিদপুর সদরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনন্য আয়োজন ‘হাঁস খেলা’। নতুন এই আয়োজনকে ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ, আর পুকুরপাড়ে ভিড় করেন শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাইতুল আমান আদর্শ একাডেমি স্কুল সংলগ্ন একটি পুকুরে অনুষ্ঠিত হয় এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা।

জানা গেছে, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ খেলার আয়োজন দেখে অনুপ্রাণিত হন স্থানীয় বাসিন্দা শেখ আব্দুল গফুর প্রামাণিক (৫৭)। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতা ও উৎসাহে বাস্তবে রূপ নেয় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।

খেলায় অংশ নেন এলাকার তরুণ, যুবক ও প্রবীণসহ মোট ২১ জন প্রতিযোগী। সুষ্ঠুভাবে প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য তাদের সাতজন করে তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। প্রতিটি রাউন্ডে একটি হাঁস পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ২০ মিনিটের মধ্যে যে প্রতিযোগী হাঁসটিকে ধরে ফেলতে পারেন, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। খেলার সময় হাঁসটি যদি নিজে থেকে পাড়ে উঠে আসে, তাহলে সেটিকে আবার পানিতে ছেড়ে দেওয়া হতো। ফলে হাঁস ও প্রতিযোগীদের দৌড়ঝাঁপ, পানিতে সাঁতার আর লুকোচুরির মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয় দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ।

তিনটি গ্রুপ থেকে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হন তিনজন। প্রথম স্থান অর্জন করেন স্থানীয় বাইতুল আমান আদর্শ একাডেমির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ইয়াসিন (১৫)। দ্বিতীয় হন কানাইপুর এলাকার সম্রাট মোল্লা (১৭), যিনি দর্জির কাজ শিখছেন। তৃতীয় স্থান অর্জন করেন বাইতুল আমান এলাকার স্যানিটারি মিস্ত্রি সিদ্দিক মোল্লা (৫৩)। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আয়োজকেরা।

ফরিদপুর সদরে এ ধরনের আয়োজন এই প্রথম হওয়ায় সকাল থেকেই উৎসুক মানুষের ঢল নামে পুকুরপাড়ে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল। দর্শকদের করতালি, হাসি-আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

খেলা দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে এমন লোকজ খেলাধুলা প্রায় অচেনা। এই আয়োজন শুধু বিনোদনই নয়, বরং হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা শেখ রিপন বলেন, “এটি পুরো এলাকার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। প্রথম আয়োজনেই যে বিপুল সাড়া পেয়েছি, তা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আগামী বছর আরও বড় পরিসরে হাঁস খেলার আয়োজন করতে চাই। প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি আস্ত খাসি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।”

মূল উদ্যোক্তা শেখ আব্দুল গফুর প্রামাণিক বলেন, “অনেক দিন ধরেই এমন একটি আয়োজন করার স্বপ্ন ছিল। ইন্টারনেট ও টেলিভিশনে বিভিন্ন জায়গার লোকজ খেলা দেখে নিজের এলাকাতেও এমন কিছু করার ইচ্ছা জাগে। সবার সহযোগিতায় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। মানুষের ভালোবাসা ও উপস্থিতি আমাদের মুগ্ধ করেছে। ভবিষ্যতে প্রতি বছর আরও বড় পরিসরে এই আয়োজন অব্যাহত রাখতে চাই।”

স্থানীয়দের মতে, এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ফিরিয়ে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতা ও দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধের জেরে সুমন শেখ (৩০) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ।

শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন শেখ বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি এম এ খালেক কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে সামাজিক ও গ্রাম্য বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় সুমন শেখ মোটরসাইকেলে করে নিজ এলাকায় যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার গতিরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, বড়ভাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সুমনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পুরো বড়ভাগ এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত হোসাইন শেখসহ অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।”