নির্বাচনী প্রচারে গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা দেখায়নি: মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ
নির্বাচনী প্রচারণায় বেশিরভাগ গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা দেখাতে পারেনি এবং বিএনপিকে জামায়াতের চেয়ে কাভারেজ বেশি দিয়েছে বলে জানিয়েছে মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ নামের একটি প্লাটফর্ম।
বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সংবাদ প্রচারে কোনো কোনো গণমাধ্যম, কোনো কোনো সাংবাদিক পেশাদারী হওয়ার পরিবর্তে অ্যক্টিভিজম চর্চা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্লাটফর্মটির প্রতিনিধি ও একতা বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের আহ্বায়ক প্লাবন তারিক বলেন, ‘অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে যা করার কথা ছিল, তা করা যায়নি। আজকে গণমাধ্যমের ওপর হামলা হচ্ছে। গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ থাকার কথা থাকলেও তা হয়নি। কোনো না কোনো দলের পক্ষে কাজ করছে গণমাধ্যমগুলো। নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না।’
‘গণমাধ্যমসহ সবার কাছে যে নিরপেক্ষতার প্রত্যাশা ছিল তা তারা পালন করতে পারেনি।’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্লাবন তারিক বলেন, ‘নির্বাচনের প্রচারণার ১৮ দিনের তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব তুলে ধরেছে মিডিয়া ওয়াচ।’
গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে প্লাবন তারিক বলেন, ‘প্লাটফর্মটি কোনো মিডিয়া পুলিশিং করছে না।’
প্লাবন তারিক জানান, ‘১৯৭৫ সালে ২৯টি দৈনিক ও ১৩৮টি সাপ্তাহিক পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার আমলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো নিবর্তনমূলক আইন করে গণমাধ্যমকে, গণমাধ্যমকর্মীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো।’
মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশের প্রতিনিধি প্লাবন তারিক বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমলের পর গণমাধ্যম একটা বড় সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তার কিছুই হয়নি। মালিকানা পরিবর্তন হলেও এডিটোরিয়াল পলিসিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা ভয়ে আছে যদি বিএনপি আসে, যদি জামায়াত আসে এসব ভেবে। তারা পক্ষপাতমূলক সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছে।’
প্লাবন তারিক বলেন, ‘সবাইকে সমান কাভার দেওয়ার কথা বলা হলেও তা পরিলক্ষিত হয়নি। বিএনপি ও জামায়াতের সংবাদ প্রচারের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে দেখা যায়। মিডিয়াগুলো কীভাবে কাজ করছে তা তুলে ধরার জন্যই এ প্রতিবেদন, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২২ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি সময়ে দিনভিত্তিক ও প্রতিবেদনের সংখ্যাভিত্তিক বিএনপি ও জামাতকে কাভারেজ দেওয়ার তুলনামূলক চিত্রে ৫টি অনলাইন, ৫টি দৈনিক পত্রিকা ও ৫টি টেলিভিশনের প্রচারিত সংবাদ নিয়ে এ প্রতিবেদন। প্রতিবেদনের চিত্রে জামায়াতের থেকে বিএনপিকে গড়ে কাভারেজ বেশি দেওয়া হয়েছে বলে উঠে এসেছে।
প্লাবন তারিক বলেন, ‘বিটিভি বিএনপি ও জামায়াতকে সমান কাভারেজ দিয়েছে। তবে বাকি টেলিভিশনগুলো বিএনপিকে বেশি দিয়েছে।’
ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে এ প্রতিবেদনে রাখা হয়নি। সময়, যমুনা, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর ও বাংলা ভিশনকে রাখা হয়েছে। অন্যান্য সব গণমাধ্যমের খবর নেওয়া হলেও সময়ের বিবেচনায় প্রতিবেদনে রাখা হয়নি।
প্লাবন তারিক বলেন, ‘মিডিয়া ওয়াচ বলতে চায় গণমাধ্যম যেন নিরপেক্ষতা বজায় রাখে। ফ্যাক্ট চ্যাকিংকে গুজব প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকতার এথিক্স মেনে চলতে হবে। টকশোগুলোর চ্যাক অ্যান্ড ব্যালেন্স বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। গণমাধ্যমের মালিকদের সততার পরিচয় দিতে হবে। এসব প্রতিপালিত না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না, কর্তৃত্ববাদী শাসনই প্রতিষ্ঠিত হবে।’
সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

আপনার মতামত লিখুন
Array