খুঁজুন
, ,

টুপি আর ঘোমটা কি সত্যিই ভোট বাড়ায়?

তানহা তাসনিম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ
টুপি আর ঘোমটা কি সত্যিই ভোট বাড়ায়?

উদারপন্থি থেকে বামপন্থি, কিংবা স্বতন্ত্র – নির্বাচনী জনসংযোগে প্রায় সব পক্ষের প্রার্থীদেরই পোশাকে পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। টুপি, পাঞ্জাবি, ঘোমটা হয়ে উঠেছে তাদের প্রচারণার পোশাক।

কেবল পোশাকই নয়, ধর্মকে ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়টি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ পুরনো ঘটনা। আর তাতে পিছিয়ে ছিল না ধর্মভিত্তিক কিংবা উদারপন্থি রাজনৈতিক দলের কেউ।

দেখা গেছে, ধর্মভিত্তিক স্লোগান, পোস্টার কিংবা মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারের নজির।

তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর ‘নতুন বন্দোবস্তে’ ভোটাররা যে পরিবর্তনের আশা করেছিল নির্বাচনী জনসংযোগে, তার প্রতিফলন হয়নি, বরং এবাররের নির্বাচনে ধর্মকে আরও বেশি ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে।

আর ভোটারদের অজ্ঞতাকেই রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহারের কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

যদিও নির্বাচনী আচরণবিধিতে ধর্মকে ব্যবহারের বিষয়ে আছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। কোনো প্রার্থী যদি সেই নির্দেশ অমান্য করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তির বিধানও রয়েছে।

নির্বাচনী জনসংযোগে টুপি, ঘোমটা, পাঞ্জাবি

১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলেও বেশ কিছুদিন আগে থেকেই নিজ নিজ আসনে জনসংযোগ করছেন প্রার্থীরা।

বেশিরভাগ সময়ই এসব প্রার্থীদের মসজিদ বা শোকসভার মতো জমায়েতে জনসংযোগ করতে দেখা গেছে, যেখানে বেশিরভাগই পুরুষ প্রার্থীদের পরতে দেখা গেছে টুপি-পাঞ্জাবি আর নারী প্রার্থীরা টেনেছেন ঘোমটা।

বিএনপি, এনসিপি, গণঅধিকার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রায় সবাইকেই এই বেশে দেখা গেছে।

তবে এনিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েন ঢাকার এমপি পদপ্রার্থী ও এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

সম্প্রতি তার জনসংযোগের সময় একজন ধর্মীয় পোশাক পরা ব্যক্তি তাকে হঠাৎ করে টুপি, পাঞ্জাবি পরার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এসময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

মি. পাটওয়ারীই বা কেন এখন এসে এই পোশাককে প্রয়োজনীয় মনে করলেন?

“নির্বাচন আসলে এটা থাকে। আর সমাজে যারা উপরস্থ, মসজিদ বা বাজার কমিটির সভাপতি- তাদের বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছরের উপরে থাকে। ফলে তারা ঐ সময় ধর্মচর্চাটা করেন – পাঞ্জাবি, টুপি পরেন।

“তো তাদের সাথে যখন কমিউনিকেশন হয়, তখন ঐ ধরনের একটা কালচারাল জায়গা চলে আসে। যেহেতু এটা ৯০ পারসেন্ট মুসলমানের দেশ এবং ভোটার রেশিওটা মুসলমানদের মধ্যেই বেশি – তখন ওই ইস্যুটা চলে আসে” বিবিসি বাংলাকে বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

অন্যদিকে ধর্মভিত্তিক দলের নেতাদের অনেক আগে থেকেই ধর্মীয় পোশাক পরতে দেখা গেলেও, নির্বাচনী জনসংযোগের সময় তারা ধর্মকে আরও বেশি ব্যবহার করছেন- উঠছে এমন অভিযোগও।

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়ার আগে খোদ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গত ডিসেম্বরে সেদিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, “ভোটের রাজনীতিতে, জাতীয় রাজনীতিতে ধর্মের নামে ভোট চাওয়া হচ্ছে”।

‘লেবাস পরিবর্তনকে’ ভোটাররা কীভাবে দেখেন

গত ১৩ই জানুয়ারি নিজের ফেসবুক পাতায় এনিয়ে একটি পোস্ট দেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ।

সেখানে তিনি লেখেন, “নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রচারণায় টুপির ব্যবহার বেড়েছে। এটা এদেশে নতুন নয়। এতে যে কাজ হয় না তাও তো বলা যায় না! নিশ্চয়ই কাজ হয়, না হলে এত এত স্মার্ট প্রার্থীরা এই কৌশল নিবেন কেন!”

যদিও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে নির্বাচনের আগ দিয়ে পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টিকে খুব বেশি ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন না ভোটারদের অনেকে।

এনিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শাজেদুজ্জামান সৌমিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এটাতো হিপোক্রেসি হয়ে গেল না?”

“সবার রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি থাকে, সেখান থেকে কেউ যদি ফলো করে, সেটা বেটার। কিন্তু লেবাস পরে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করাতো কাম্য নয়”, বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির আরেকজন শিক্ষার্থী রুমানা খাতুন বলেন, “আমি সচেতন হলে ব্যক্তি দেখে ভোট দেবো, কিন্তু মেজরিটি মানে গ্রামের দিকে দেখা যায়, যারা তাদের মতো রিলিজিয়াস মাইন্ডের তাকে ভোট দেবে”।

ফলে সেখানে পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি কাজে দেবে বলেই মনে করেন তিনি।

বিষয়টিকে অনেকটা একইভাবে দেখেন নোয়াখালীর ব্যবসায়ী মোবারক। “এটা আসলে লোক দেখানোর জন্য, নির্বাচন চলে গেলে তারা আগের লেবাসে চলে যায়”, বলেন তিনি।

এমন কোনো প্রার্থীকে ভোট দেবেন না বলেও জানান ওই ব্যবসায়ী।

তবে কেউ যদি “লেবাস ধারণ করে ভালো ইলেকশন করতে পারে” তাতে কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মাহমা আলম শান্তা।

আপাতভাবে বেশিরভাগ ভোটারদের চোখে বিষয়টিকে প্রতারণা মনে হলেও প্রার্থীরা কেন ধর্মীয় পোশাকের দিকে ঝোঁকেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা বলেন, “একটা হলো ক্লিন ইমেজ দেয়া, কারণ অনেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলের অভিযোগ আছে। এছাড়া ঋণ খেলাপি, দুর্নীতি এগুলোতো কমবেশি আছেই”।

ফলে ধর্মীয় পোশাক পরে ভোটারদের মন জয় করা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তৈরির উদ্দেশ্যেই তারা এধরনের পোশাক পরেন বলে মন্তব্য করেন এই বিশ্লেষক।

অতীতেও দেখা গেছে ধর্মের ব্যবহার

১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান ভাগই হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। ফলে লম্বা সময় ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার এই অংশে নির্বাচন তথা রাজনীতিকে কেন্দ্র করে হয়েছে ধর্মের ব্যবহার।

আলতাফ পারভেজ তার পোস্টে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর টুপি পরার একটি প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

“মুসলিম লিগে যোগ দেয়ার আগে টুপি পরা ব্যক্তি জিন্নাহ’র ছবি পাওয়া মুশকিল। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে টুপির আনুষ্ঠানিক অভিষেক ১৯৩৭ এর নির্বাচনের পর থেকে। ঐ নির্বাচনে মুসলিম লিগ অতি খারাপ ফল করে। জিন্নাহ তখন তার ও দলের রাজনীতির মোড় বদল ঘটান।… তারপর ১৯৪৬ এর নির্বাচনে কী ঘটলো সেটা সবার জানা। মূলত সে-ই থেকে টুপির রাজনৈতিক কদর বেশ!”, লেখেন তিনি।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ালী লীগের নির্বাচনী পোস্টারের ওপর “আল্লাহু আকবর”, “পাকিস্তান জিন্দাবাদ”, “আওয়ামী লীগ জিন্দাবাদ”, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব – জিন্দাবাদ” লেখা ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ম্যানিফ্যাস্টোতে লেখা ছিল, “কুরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করতে দেয়া হবে না”।

১৯৭১ সালের তেসরা জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে জনসভা শেষে “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর” বলে স্লোগান দেন শেখ মুজিবুর রহমান।

যদিও স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। তবে ১৯৭৫ সালে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন তৈরি করেন।

১৯৭৫ সালে সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও রাজনীতিতে দেখা যায় ধর্মের ব্যবহার।

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় সংবিধানের মৌলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতার স্থলে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর চূড়ান্ত আস্থা এবং বিশ্বাস’ সংযুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে মি. আহমদের ভাষায় “সংবিধানের ইসলামিকরণ” শুরু হয়।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদটি যেখানে সকল ধরনের সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল, একটি ধর্মে বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে, তা তুলে দেয়া হয়।

কোলাবরেশন অ্যাক্ট বাতিল করে দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক শক্তিকে সহায়তা করা হয়। এমনকি জিয়াউর রহমান একটি প্রক্লেমেশন আদেশের মাধ্যমে সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে ধর্মীয় দল গঠনের ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা তুলে দেন।

এতে আরও বলা হয়, নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধতা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে এরশাদ জনগণের ধর্মীয় আবেগকে তার সরকারের সমর্থনের ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। ১৯৮৮ সালে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও ধর্মকে সামনে আনে রাজনৈতিক দলগুলো। সেসময় শাহজালালের মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

প্রচারণার সময় তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আজান বন্ধ হয়ে যাবে, মসজিদে মসজিদে উলুধ্বনি দেয়া হবে। একইসাথে নির্বাচনের সময় তাদের দলের একটি স্লোগান ছিল, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ধানের শীষে বিসমিল্লাহ”।

সেই নির্বাচনে জয়ী হয় দলটি।

পরের নির্বাচনে ১৯৯৬ সালে একইভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনে তাদের একটি স্লোগান ছিল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, নৌকার মালিক তুই আল্লাহ’।

অন্যদিকে ওমরাহ হজ করে এসে মাথায় কালো কাপড়, লম্বা হাতার ব্লাউজ আর হাতে তসবিহ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন শেখ হাসিনা। সেই নির্বাচনে তিনিও নির্বাচনী সফর শুরু করেন শাহজালালের মাজার জিয়ারত করে। প্রার্থনারত অবস্থায় তার ছবি ছাপিয়ে করা হয়েছিল পোস্টার।

নির্বাচনে ধর্ম ব্যবহারের এই দৌরাত্ম্য নব্বইয়ের দশকে শেষ হয়নি। চলেছে পরবর্তী সময়েও।

২০২৩ সালে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র পদপ্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছিলেন, “আপনি যদি হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেন, তাহলে ভোটটা পাবে ইসলাম এবং আল্লাহর নবী”।

একই বছর সিলেটের এক নির্বাচনী জনসভায় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “এই নৌকা নূহ নবির নৌকা।”

তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ধর্মকে ব্যবহারের সবচেয়ে বড় নজির দেখা যাচ্ছে এবারের নির্বাচনে।

ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোটের নামে ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

কয়েকদিন আগে ‘বিড়িতে সুখটানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারে’ বলে মন্তব্য করেন ঝালকাঠিতে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক।

আবার প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোকে নবী ইব্রাহিমের চেয়ে বড় কোরবানি বলে মন্তব্য করেন আরেক জামায়াত নেতা।

যদিও ধর্মকে ব্যবহারের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। গত মাসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আমরা ধর্মকে কখনই ব্যবহার করি নাই, করবো না”।

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহারের প্রবণতা কেন?

অজ্ঞতার কারণেই ধর্মকে ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “দেশের বেশিরভাগ মানুষ হচ্ছে অজ্ঞ, মূর্খ। তারা মুসলমান কিন্তু আরবি জানে না, কুরআন বোঝে না”।

ফলে সহজেই তাদের অনুভূতিকে ‘সুড়সুড়ি’ দিয়ে তাদের বশ করা যায় কিংবা উসকানি দেয়া যায়। “তো সেটা সবাই ব্যবহার করে”।

কিন্তু ধর্মের ব্যবহার কি আসলেই নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেয়?

“নব্বইয়ের দশকের দুই’তিনটা নির্বাচন ধরলে, মনে হয় ধর্মভিত্তিক পোশাক, স্লোগান কিছু ভোটারকে প্রভাবিত করেছে এবং ওই দলগুলোর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে”, বলেন অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা।

তবে অনেকের মতে, ধর্মীয় পোশাক পরলে আসলেই যদি জনসাধারণ প্রভাবিত হতো, তাহলে আগের নির্বাচনগুলোতে ধর্মভিত্তিক দলগুলোই সরকার গঠন করতো। বরং তাদের ভোটের হিসাব এদিক দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্রই দিচ্ছে।

“(ভোটার)কনভিন্স হলেতো শুরু থেকে জামায়াতে ইসলামীই ক্ষমতায় থাকতো। ইসলামী আন্দোলন বা যারা আছে তারাতো ভোটের বাজারে কখনোই সুবিধা করতে পারে নাই”, বলছিলেন মহিউদ্দিন আহমদ।

“আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির লক্ষ্য থাকে মুসলমানরা যাতে তাদের খাটি মুসলমান মনে করে ভোট দেয়। তখন তারা একটু ইসলামী লেবাস নেয় আর কি”।

নির্বাচনী আচরণবিধিতে আছে ধর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহারের এত নজির থাকলেও ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নির্বাচনী আচরণবিধিতে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধির ১৫ ধারা অনুযায়ী মসজিদ, মন্দির, ক্যায়াং (প্যাগোডা), গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।

নির্বাচনী আচরণবিধি ৭-এর (চ) অনুযায়ী, প্রচারণার ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুনের ছবি হতে হবে পোট্রেট, দেয়া যাবে প্রার্থনারত বা অন্য কোনো ভঙ্গিমার ছবি।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

‘নারীরা পারে’—কথায় নয়, কাজেই প্রমাণ দিল ফরিদপুরের নন্দিতা সুরক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
‘নারীরা পারে’—কথায় নয়, কাজেই প্রমাণ দিল ফরিদপুরের নন্দিতা সুরক্ষা

নারীর অধিকার, স্বাস্থ্য, আইনি সচেতনতা ও নেতৃত্ব বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে ফরিদপুরের নারী উন্নয়নভিত্তিক সামাজিক সংগঠন নন্দিতা সুরক্ষা। তবে সংস্থাটির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব শুধু এর কার্যক্রমে নয়, বরং নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামোতেও। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী থেকে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কর্মীই নারী, যাদের অধিকাংশই তরুণ।

দেশে নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও নন্দিতা সুরক্ষা দেখিয়ে দিয়েছে, নারীরা শুধু উন্নয়ন কার্যক্রমের উপকারভোগী নন; পরিকল্পনা, নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপেও তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, অনেকেই জানতে চান—‘আপনাদের প্রতিষ্ঠানে সব কর্মী নারী কেন? এটি কি পুরুষদের প্রতি বৈষম্য নয়?’ বাস্তবে বিষয়টি মোটেও এমন নয়।

তিনি বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে সমাজে বারবার শুনে এসেছি—নারীরা নেতৃত্ব দিতে পারে না, সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কিংবা বড় দায়িত্ব সামলাতে পারে না। এসব নেতিবাচক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একটি সম্পূর্ণ নারী-নেতৃত্বাধীন দল গড়ে তোলা, যেখানে নারীরা নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারবেন। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।”

রেমি আরও জানান, সংস্থায় নিয়োগের ক্ষেত্রে কখনোই নারী বা পুরুষ—কোনো লিঙ্গকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। যোগ্যতাই একমাত্র বিবেচ্য। উদাহরণ হিসেবে তিনি ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার নিয়োগের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই পদে নারী ও পুরুষ উভয়েই আবেদন করেছিলেন। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। এটি কাকতালীয় হলেও তাদের জন্য গর্বের বিষয়।

বর্তমানে নন্দিতা সুরক্ষার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন RWVL-B প্রকল্পের ম্যানেজার জান্নাতুল ফেরদৌসী, প্রজেক্ট অফিসার তানিয়া আক্তার, ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার মমতাজ আক্তারী, চরাঞ্চলের নারী নেত্রী ও ডিক্রিরচর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মনোয়ারা বেগম (ফিল্ড অর্গানাইজার) এবং অফিস সহকারী নিপা বেগম। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংস্থার কার্যক্রম দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

বর্তমানে RWVL-B, SPACE ও Shuchona প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্থাটি নারীর অধিকার, আইনি সচেতনতা, স্বাস্থ্যসেবা, নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

এছাড়া নারীদের মধ্যে সার্ভিক্যাল ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, লিগ্যাল লিটারেসি (আইনি সচেতনতা) এবং নেতৃত্ব বিকাশমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ১৮টি গ্রামের প্রায় ৬০০ নারীকে নিয়ে দুই মাস অন্তর (বাই-মান্থলি) সার্কেল মিটিং আয়োজনের মাধ্যমে তাদের অধিকার, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অংশগ্রহণ বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।

সংস্থার সভাপতি ফাইজা ফারজানা নিত্য বলেন, “যে সমাজে এখনও নারীর সক্ষমতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হয়, সেখানে নন্দিতা সুরক্ষা একটি বাস্তব উদাহরণ। নারীরা সুযোগ, আস্থা ও নেতৃত্বের পরিবেশ পেলে শুধু নিজেদের জীবনই বদলে দিতে পারেন না, বরং সমাজ পরিবর্তনেরও শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন, “নন্দিতা সুরক্ষার গল্প কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের গল্প নয়; এটি নারীর সম্ভাবনা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব এবং সামাজিক পরিবর্তনের এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা।”

ফরিদপুরে নারী নেতৃত্বের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নারীদের জন্য সমান সুযোগ ও নেতৃত্বের ক্ষেত্র তৈরি হলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

ফরিদপুরে গরুর ডাকে ঘুম ভাঙলো মালিকের, ধাওয়ায় গরু ফেলে পালাল চোর

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গরুর ডাকে ঘুম ভাঙলো মালিকের, ধাওয়ায় গরু ফেলে পালাল চোর

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার একটি গ্রামে গভীর রাতে গরু চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে গরুর ডাকেই। গোহালে ঢুকে শিকল কেটে গরু নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও গরুর অস্বাভাবিক ডাক ও শব্দে মালিকের ঘুম ভেঙে যায়।

পরে পরিবারের সদস্যদের ধাওয়ায় চোর গরু রেখেই পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়ায় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৪টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের লাভলু শেখের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সিসিটিভির ৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বড় আকারের লোহার কাটার দিয়ে গোহালের শিকল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর গোহালের দরজার ছিটকিনি খুলতে গিয়ে বিকট শব্দ হয়। এতে গরুগুলো আতঙ্কিত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করে এবং জোরে ডাকতে থাকে। একপর্যায়ে গরুর ডাক শুনে ঘুম ভেঙে যায় বাড়ির মালিকের। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে বেরিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে চোর গরু ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গরুর মালিক লাভলু হোসেন জানান, বাড়ি ও গোহালজুড়ে নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। রাতের অন্ধকারে চোর তিনটি গরু চুরির উদ্দেশ্যে আসে। প্রথমে একটি সাদা রঙের ছোট বাছুরকে টেনে-হিঁচড়ে গোহাল থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বাছুরটির চিৎকার ও অন্য গরুগুলোর ডাকাডাকিতে পরিবারের সদস্যরা জেগে ওঠেন। পরে সবাই ‘চোর-চোর’ বলে চিৎকার করলে চোরের দল বাছুরটি রেখেই পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়েছে। ফলে খামারি ও গৃহস্থদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, রাতের টহল জোরদার এবং গরু চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখে অনেকেই গৃহপালিত পশুর নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরছেন। স্থানীয়দের আশা, ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সদরপুরে মাদক সেবন ও সাপ্লাইয়ের অপরাধে যুবকের ১৫ দিনের জেল-জরিমানা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
সদরপুরে মাদক সেবন ও সাপ্লাইয়ের অপরাধে যুবকের ১৫ দিনের জেল-জরিমানা

ফরিদপুরের সদরপুরে অভিযান চালিয়ে নুর ইসলাম (১৮) নামে এক ইয়াবাসেবী ও সাপ্লায়ারকে ৪ পিস ইয়াবা সহ আটক করে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত অনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া এই দণ্ডাদেশ ও জরিমানা প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ও জরিমানা কৃত নুর ইসলাম নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শ্রীরামদিয়া গ্রামের
আলামীন মাতুব্বরের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে নুর ইসলাম (১৮) নামে এক ইয়াবাসেবী ও ইয়াবা সাপ্লায়ারকে আটক করা হয়।

তল্লাশীকালে তার কাছ থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ এর ৫ ধারা মোতাবেক তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবা বড়ি জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন সদরপুর থানার একদল পুলিশ সদস্য ।

সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।