খুঁজুন
, ,

টুপি আর ঘোমটা কি সত্যিই ভোট বাড়ায়?

তানহা তাসনিম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ
টুপি আর ঘোমটা কি সত্যিই ভোট বাড়ায়?

উদারপন্থি থেকে বামপন্থি, কিংবা স্বতন্ত্র – নির্বাচনী জনসংযোগে প্রায় সব পক্ষের প্রার্থীদেরই পোশাকে পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। টুপি, পাঞ্জাবি, ঘোমটা হয়ে উঠেছে তাদের প্রচারণার পোশাক।

কেবল পোশাকই নয়, ধর্মকে ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়টি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ পুরনো ঘটনা। আর তাতে পিছিয়ে ছিল না ধর্মভিত্তিক কিংবা উদারপন্থি রাজনৈতিক দলের কেউ।

দেখা গেছে, ধর্মভিত্তিক স্লোগান, পোস্টার কিংবা মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারের নজির।

তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর ‘নতুন বন্দোবস্তে’ ভোটাররা যে পরিবর্তনের আশা করেছিল নির্বাচনী জনসংযোগে, তার প্রতিফলন হয়নি, বরং এবাররের নির্বাচনে ধর্মকে আরও বেশি ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে।

আর ভোটারদের অজ্ঞতাকেই রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহারের কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

যদিও নির্বাচনী আচরণবিধিতে ধর্মকে ব্যবহারের বিষয়ে আছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। কোনো প্রার্থী যদি সেই নির্দেশ অমান্য করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তির বিধানও রয়েছে।

নির্বাচনী জনসংযোগে টুপি, ঘোমটা, পাঞ্জাবি

১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলেও বেশ কিছুদিন আগে থেকেই নিজ নিজ আসনে জনসংযোগ করছেন প্রার্থীরা।

বেশিরভাগ সময়ই এসব প্রার্থীদের মসজিদ বা শোকসভার মতো জমায়েতে জনসংযোগ করতে দেখা গেছে, যেখানে বেশিরভাগই পুরুষ প্রার্থীদের পরতে দেখা গেছে টুপি-পাঞ্জাবি আর নারী প্রার্থীরা টেনেছেন ঘোমটা।

বিএনপি, এনসিপি, গণঅধিকার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রায় সবাইকেই এই বেশে দেখা গেছে।

তবে এনিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েন ঢাকার এমপি পদপ্রার্থী ও এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

সম্প্রতি তার জনসংযোগের সময় একজন ধর্মীয় পোশাক পরা ব্যক্তি তাকে হঠাৎ করে টুপি, পাঞ্জাবি পরার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এসময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

মি. পাটওয়ারীই বা কেন এখন এসে এই পোশাককে প্রয়োজনীয় মনে করলেন?

“নির্বাচন আসলে এটা থাকে। আর সমাজে যারা উপরস্থ, মসজিদ বা বাজার কমিটির সভাপতি- তাদের বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছরের উপরে থাকে। ফলে তারা ঐ সময় ধর্মচর্চাটা করেন – পাঞ্জাবি, টুপি পরেন।

“তো তাদের সাথে যখন কমিউনিকেশন হয়, তখন ঐ ধরনের একটা কালচারাল জায়গা চলে আসে। যেহেতু এটা ৯০ পারসেন্ট মুসলমানের দেশ এবং ভোটার রেশিওটা মুসলমানদের মধ্যেই বেশি – তখন ওই ইস্যুটা চলে আসে” বিবিসি বাংলাকে বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

অন্যদিকে ধর্মভিত্তিক দলের নেতাদের অনেক আগে থেকেই ধর্মীয় পোশাক পরতে দেখা গেলেও, নির্বাচনী জনসংযোগের সময় তারা ধর্মকে আরও বেশি ব্যবহার করছেন- উঠছে এমন অভিযোগও।

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়ার আগে খোদ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গত ডিসেম্বরে সেদিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, “ভোটের রাজনীতিতে, জাতীয় রাজনীতিতে ধর্মের নামে ভোট চাওয়া হচ্ছে”।

‘লেবাস পরিবর্তনকে’ ভোটাররা কীভাবে দেখেন

গত ১৩ই জানুয়ারি নিজের ফেসবুক পাতায় এনিয়ে একটি পোস্ট দেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ।

সেখানে তিনি লেখেন, “নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রচারণায় টুপির ব্যবহার বেড়েছে। এটা এদেশে নতুন নয়। এতে যে কাজ হয় না তাও তো বলা যায় না! নিশ্চয়ই কাজ হয়, না হলে এত এত স্মার্ট প্রার্থীরা এই কৌশল নিবেন কেন!”

যদিও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে নির্বাচনের আগ দিয়ে পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টিকে খুব বেশি ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন না ভোটারদের অনেকে।

এনিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শাজেদুজ্জামান সৌমিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এটাতো হিপোক্রেসি হয়ে গেল না?”

“সবার রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি থাকে, সেখান থেকে কেউ যদি ফলো করে, সেটা বেটার। কিন্তু লেবাস পরে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করাতো কাম্য নয়”, বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির আরেকজন শিক্ষার্থী রুমানা খাতুন বলেন, “আমি সচেতন হলে ব্যক্তি দেখে ভোট দেবো, কিন্তু মেজরিটি মানে গ্রামের দিকে দেখা যায়, যারা তাদের মতো রিলিজিয়াস মাইন্ডের তাকে ভোট দেবে”।

ফলে সেখানে পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি কাজে দেবে বলেই মনে করেন তিনি।

বিষয়টিকে অনেকটা একইভাবে দেখেন নোয়াখালীর ব্যবসায়ী মোবারক। “এটা আসলে লোক দেখানোর জন্য, নির্বাচন চলে গেলে তারা আগের লেবাসে চলে যায়”, বলেন তিনি।

এমন কোনো প্রার্থীকে ভোট দেবেন না বলেও জানান ওই ব্যবসায়ী।

তবে কেউ যদি “লেবাস ধারণ করে ভালো ইলেকশন করতে পারে” তাতে কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মাহমা আলম শান্তা।

আপাতভাবে বেশিরভাগ ভোটারদের চোখে বিষয়টিকে প্রতারণা মনে হলেও প্রার্থীরা কেন ধর্মীয় পোশাকের দিকে ঝোঁকেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা বলেন, “একটা হলো ক্লিন ইমেজ দেয়া, কারণ অনেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলের অভিযোগ আছে। এছাড়া ঋণ খেলাপি, দুর্নীতি এগুলোতো কমবেশি আছেই”।

ফলে ধর্মীয় পোশাক পরে ভোটারদের মন জয় করা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তৈরির উদ্দেশ্যেই তারা এধরনের পোশাক পরেন বলে মন্তব্য করেন এই বিশ্লেষক।

অতীতেও দেখা গেছে ধর্মের ব্যবহার

১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান ভাগই হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। ফলে লম্বা সময় ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার এই অংশে নির্বাচন তথা রাজনীতিকে কেন্দ্র করে হয়েছে ধর্মের ব্যবহার।

আলতাফ পারভেজ তার পোস্টে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর টুপি পরার একটি প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

“মুসলিম লিগে যোগ দেয়ার আগে টুপি পরা ব্যক্তি জিন্নাহ’র ছবি পাওয়া মুশকিল। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে টুপির আনুষ্ঠানিক অভিষেক ১৯৩৭ এর নির্বাচনের পর থেকে। ঐ নির্বাচনে মুসলিম লিগ অতি খারাপ ফল করে। জিন্নাহ তখন তার ও দলের রাজনীতির মোড় বদল ঘটান।… তারপর ১৯৪৬ এর নির্বাচনে কী ঘটলো সেটা সবার জানা। মূলত সে-ই থেকে টুপির রাজনৈতিক কদর বেশ!”, লেখেন তিনি।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ালী লীগের নির্বাচনী পোস্টারের ওপর “আল্লাহু আকবর”, “পাকিস্তান জিন্দাবাদ”, “আওয়ামী লীগ জিন্দাবাদ”, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব – জিন্দাবাদ” লেখা ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ম্যানিফ্যাস্টোতে লেখা ছিল, “কুরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করতে দেয়া হবে না”।

১৯৭১ সালের তেসরা জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে জনসভা শেষে “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর” বলে স্লোগান দেন শেখ মুজিবুর রহমান।

যদিও স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। তবে ১৯৭৫ সালে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন তৈরি করেন।

১৯৭৫ সালে সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও রাজনীতিতে দেখা যায় ধর্মের ব্যবহার।

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় সংবিধানের মৌলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতার স্থলে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর চূড়ান্ত আস্থা এবং বিশ্বাস’ সংযুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে মি. আহমদের ভাষায় “সংবিধানের ইসলামিকরণ” শুরু হয়।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদটি যেখানে সকল ধরনের সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল, একটি ধর্মে বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে, তা তুলে দেয়া হয়।

কোলাবরেশন অ্যাক্ট বাতিল করে দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক শক্তিকে সহায়তা করা হয়। এমনকি জিয়াউর রহমান একটি প্রক্লেমেশন আদেশের মাধ্যমে সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে ধর্মীয় দল গঠনের ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা তুলে দেন।

এতে আরও বলা হয়, নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধতা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে এরশাদ জনগণের ধর্মীয় আবেগকে তার সরকারের সমর্থনের ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। ১৯৮৮ সালে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও ধর্মকে সামনে আনে রাজনৈতিক দলগুলো। সেসময় শাহজালালের মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

প্রচারণার সময় তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আজান বন্ধ হয়ে যাবে, মসজিদে মসজিদে উলুধ্বনি দেয়া হবে। একইসাথে নির্বাচনের সময় তাদের দলের একটি স্লোগান ছিল, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ধানের শীষে বিসমিল্লাহ”।

সেই নির্বাচনে জয়ী হয় দলটি।

পরের নির্বাচনে ১৯৯৬ সালে একইভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনে তাদের একটি স্লোগান ছিল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, নৌকার মালিক তুই আল্লাহ’।

অন্যদিকে ওমরাহ হজ করে এসে মাথায় কালো কাপড়, লম্বা হাতার ব্লাউজ আর হাতে তসবিহ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন শেখ হাসিনা। সেই নির্বাচনে তিনিও নির্বাচনী সফর শুরু করেন শাহজালালের মাজার জিয়ারত করে। প্রার্থনারত অবস্থায় তার ছবি ছাপিয়ে করা হয়েছিল পোস্টার।

নির্বাচনে ধর্ম ব্যবহারের এই দৌরাত্ম্য নব্বইয়ের দশকে শেষ হয়নি। চলেছে পরবর্তী সময়েও।

২০২৩ সালে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র পদপ্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছিলেন, “আপনি যদি হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেন, তাহলে ভোটটা পাবে ইসলাম এবং আল্লাহর নবী”।

একই বছর সিলেটের এক নির্বাচনী জনসভায় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “এই নৌকা নূহ নবির নৌকা।”

তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ধর্মকে ব্যবহারের সবচেয়ে বড় নজির দেখা যাচ্ছে এবারের নির্বাচনে।

ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোটের নামে ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

কয়েকদিন আগে ‘বিড়িতে সুখটানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারে’ বলে মন্তব্য করেন ঝালকাঠিতে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক।

আবার প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোকে নবী ইব্রাহিমের চেয়ে বড় কোরবানি বলে মন্তব্য করেন আরেক জামায়াত নেতা।

যদিও ধর্মকে ব্যবহারের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। গত মাসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আমরা ধর্মকে কখনই ব্যবহার করি নাই, করবো না”।

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহারের প্রবণতা কেন?

অজ্ঞতার কারণেই ধর্মকে ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “দেশের বেশিরভাগ মানুষ হচ্ছে অজ্ঞ, মূর্খ। তারা মুসলমান কিন্তু আরবি জানে না, কুরআন বোঝে না”।

ফলে সহজেই তাদের অনুভূতিকে ‘সুড়সুড়ি’ দিয়ে তাদের বশ করা যায় কিংবা উসকানি দেয়া যায়। “তো সেটা সবাই ব্যবহার করে”।

কিন্তু ধর্মের ব্যবহার কি আসলেই নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেয়?

“নব্বইয়ের দশকের দুই’তিনটা নির্বাচন ধরলে, মনে হয় ধর্মভিত্তিক পোশাক, স্লোগান কিছু ভোটারকে প্রভাবিত করেছে এবং ওই দলগুলোর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে”, বলেন অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা।

তবে অনেকের মতে, ধর্মীয় পোশাক পরলে আসলেই যদি জনসাধারণ প্রভাবিত হতো, তাহলে আগের নির্বাচনগুলোতে ধর্মভিত্তিক দলগুলোই সরকার গঠন করতো। বরং তাদের ভোটের হিসাব এদিক দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্রই দিচ্ছে।

“(ভোটার)কনভিন্স হলেতো শুরু থেকে জামায়াতে ইসলামীই ক্ষমতায় থাকতো। ইসলামী আন্দোলন বা যারা আছে তারাতো ভোটের বাজারে কখনোই সুবিধা করতে পারে নাই”, বলছিলেন মহিউদ্দিন আহমদ।

“আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির লক্ষ্য থাকে মুসলমানরা যাতে তাদের খাটি মুসলমান মনে করে ভোট দেয়। তখন তারা একটু ইসলামী লেবাস নেয় আর কি”।

নির্বাচনী আচরণবিধিতে আছে ধর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহারের এত নজির থাকলেও ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নির্বাচনী আচরণবিধিতে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধির ১৫ ধারা অনুযায়ী মসজিদ, মন্দির, ক্যায়াং (প্যাগোডা), গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।

নির্বাচনী আচরণবিধি ৭-এর (চ) অনুযায়ী, প্রচারণার ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুনের ছবি হতে হবে পোট্রেট, দেয়া যাবে প্রার্থনারত বা অন্য কোনো ভঙ্গিমার ছবি।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

সালথায় আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
সালথায় আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

ফরিদপুরের সালথায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে অন্তত আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ৫০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া বিলে এ অভিযান চালানো হয়। পরে জব্দ করা জালগুলো আইন ও বিধি অনুযায়ী আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিন।

​অভিযানকালে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমানসহ পুলিশ বাহিনীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন জানান, চায়না দুয়ারী জাল মাছের পোনা ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দেশে সব ধরনের নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে।

​একই সঙ্গে নিষিদ্ধ জালের অশুভ প্রভাব থেকে দেশীয় প্রজাতি রক্ষায় স্থানীয় সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আলফাডাঙ্গায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে ক্যাব সদস্যদের মতবিনিময়

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে ক্যাব সদস্যদের মতবিনিময়

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিবের সঙ্গে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপজেলা শাখার নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​সভায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, বাজারে ব্যবসায়ীদের অনিয়ম প্রতিরোধ, জনসাধারণের ভোগান্তি কমানো এবং আলফাডাঙ্গা বাজারের যানজট নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ক্যাব নেতারা।

​মতবিনিময় সভায় ক্যাব আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. সেকেন্দার আলম বলেন, “ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে ক্যাব ওতপ্রোতভাবে কাজ করছে। আলফাডাঙ্গায় কোনো ব্যবসায়ী যাতে অনিয়ম, দুর্নীতি বা ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও সহযোগিতা প্রয়োজন। যেকোনো অনিয়ম প্রতিরোধে উপজেলা ক্যাব প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা দেবে।”

​তিনি আরও বলেন, “আলফাডাঙ্গা বাজারের পরিসর তুলনামূলক ছোট হওয়ায় সেখানে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে কাঁচাবাজার, ভ্যানস্ট্যান্ড ও মাছবাজার নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”

​নবাগত ইউএনও মো. জোবায়ের হাবিব বলেন, “ক্যাব সদস্যদের দেওয়া প্রতিটি পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। আলফাডাঙ্গা উপজেলার মানুষের কল্যাণে আমি ভালো কিছু করতে চাই। জনস্বার্থে নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপে ক্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”

​সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা ক্যাবের সহ-সভাপতি সাংবাদিক ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল বাশার, দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক তাইজুল ইসলাম টিটন, সিনিয়র সদস্য আজিজুর রহমান দুলাল, নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক মো. কামরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা খান আসাদুজ্জামান টুনু, আলফাডাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সদস্য সচিব সাংবাদিক হারুনুর রশীদ, সাংবাদিক এস এম কোবাদ হোসেন, উপজেলা ক্যাবের আইসিটি সম্পাদক মো. শাহিনুর রহমান, সিনিয়র সদস্য সাংবাদিক লায়েকুজ্জামান এবং ক্যাব সদস্য রাজিব ভূঁইয়াসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

চরভদ্রাসনে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

“কৃষক কার্ড থাকলে হাতে, সেবা পাবেন সাথে সাথে”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলাতেও আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ফেনী থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

​কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রদর্শন করা হয়।

​উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মো. অহিদুজ্জামান মোল্লাসহ অনেকে।

​এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন দপ্তরপ্রধান, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, প্রান্তিক কৃষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিএসডাঙ্গী ব্লকের ৮৪৮ জন কৃষকের মধ্যে উদ্বোধনী দিনেই ৬০২ জন ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কৃষি উপকরণ সহায়তা বাবদ আড়াই হাজার (২,৫০০) টাকা করে স্থানান্তর করা হয়েছে।