খুঁজুন
, ,

ভাঙ্গায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ১৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সিলেটগামী একটি যাত্রীবাহী নাইট কোচ পরিবহন বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে দশটার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার বাবলাতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী সাগরিকা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে পরিবহনের চালক-হেলপার ও যাত্রীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে। তবে এতে বড় ধরনের আহতের ঘটনা ঘটেনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, পরিবহনটি ১৯ জন যাত্রী নিয়ে বরিশাল থেকে সিলেট যাচ্ছিল। ঘটনাস্থলে প্রচন্ড বৃষ্টির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়।

ফরিদপুরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রবাসীর সহায়তা, পেলেন চাল-ডালসহ নগদ অর্থ

হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ), ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রবাসীর সহায়তা, পেলেন চাল-ডালসহ নগদ অর্থ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় একটি বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ভস্মীভূত হয়েছে চারটি দোকান। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল আগুনে পুড়ে ও একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন পরিবারগুলো। এমন খবরে তাঁদের হাতে সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার তুলে দিয়েছেন ফরহাদ ওহাব আকন নামে এক কাজাখস্তান প্রবাসী।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকাল ৫ টায় সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সিরামদি বাজারে ওই প্রবাসীর পক্ষ থেকে এই সহায়তা তুলে দেন এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ সময় ক্ষতিগ্রস্থ প্রত্যেকের মাঝে নগদ অর্থের পাশাপাশি এক বস্তা চাল, ডাল, আলু, তেল সহ শুকনো খাবার তুলে দেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২ আগস্ট দিবাগত রাত ৪ টার দিকে বৈদুতিক শটসার্কিটে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে বাজারটিতে। খবর পেয়ে সদরপুর ফায়ার সার্ভিস ছুটে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায় দোকানগুলো। এ সময় দুটি মুদি দোকান, একটি ফার্মেসী ও একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দোকান ঘরসহ মালামাল ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান।

পরে খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে নিজ এলাকার প্রবীণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সহায়তা তুলে দেন। সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মুদি দোকানি নজরুল ইসলাম বলেন- এই দোকান চালিয়ই আমার সংসার চলে৷ কিন্তু এক রাতে আমার সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমাদের কথা জানতে পেরে কাজাখস্তানের ফরহাদ আকন আমাদের পাশে দাড়িয়েছেন, আল্লাহ যেন তাকে ভাল রাখে।

সহায়তা প্রদানকারী প্রবীণ ব্যক্তি মো. শামসুল হক বলেন- ‘এটা মানবিক কাজ, সমাজের বিত্তশালী প্রতিটি মানুষের উচিৎ অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের এলাকারই সন্তান সুদূর কাজাখস্তান দেশে অবস্থান করে এই পরিবারগুলোর মাঝে কিছু সহায়তা পাঠিয়েছেন। ছেলেটি ছোট সময় থেকেই অসহায় মানুষের মাঝে ছুটে আসছেন। সকলে দোয়া করবেন সে যেন ভবিষ্যতে এভাবে সেবা করে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, ফরহাদ ওহাব আকন ওই ইউনিয়ের আকনের ডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব আকনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ২২ বছর কাজাখস্তানে অবস্থান করছেন এবং একই সাথে বাংলাদেশ-কাজাখস্তান কমিনিউটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি এলাকায় সমাজসেবা ও মানবিক কাজ করে সুপরিচিত হয়ে উঠেছেন।

সালথায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
সালথায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের সালথায় মো. মাহাবুবুর রহমান পাঞ্জু (৪৮) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে তাকে ফরিদপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া পাঞ্জু বল্লভদী ইউনিয়নের মধ্য ফুলবাড়িয়া গ্রামের মো. মজিবুর রহমান মোল্যার ছেলে। তিনি বল্লভদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা করার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা পাঞ্জুকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফরিদপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ প্রকাশের পর কানাইলাল শীলের জন্মভিটায় ডিসি, মিউজিয়াম নির্মাণের আশ্বাস

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের পর কানাইলাল শীলের জন্মভিটায় ডিসি, মিউজিয়াম নির্মাণের আশ্বাস

উপমহাদেশের কিংবদন্তি দোতারা বাদক, একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকশিল্পী কানাই লাল শীলের অবহেলিত জন্মভিটা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলাম সরেজমিনে তাঁর জন্মভিটা পরিদর্শন করেছেন এবং স্মৃতিবিজড়িত ওই স্থান সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করপুর গ্রামে কানাই লাল শীলের বাড়ি পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিরু আলী ফকির, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সংস্কৃতিকর্মী ও এলাকাবাসী।

পরিদর্শনকালে কানাই লাল শীলের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য একটি উন্নত সড়ক নির্মাণ, একটি সংগীত শিক্ষালয়, স্মৃতিস্তম্ভ এবং তাঁর ব্যবহৃত স্মারক সংরক্ষণের জন্য একটি আধুনিক মিউজিয়াম নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে ইউএনওকে নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “কানাই লাল শীল শুধু ফরিদপুর বা বাংলাদেশের নন, তিনি পুরো উপমহাদেশের লোকসংগীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থান সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কীভাবে এই বাড়িটিকে একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানে রূপ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। খুব দ্রুতই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী কানাই লাল শীলের বাড়ি সংরক্ষণ, সংগীত শিক্ষালয়, স্মৃতিস্তম্ভ ও মিউজিয়াম নির্মাণসহ সম্ভাব্য সব উদ্যোগের বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। স্থানীয়দের মতামত নিয়েও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।”

ফরিদপুরের লেখক ও গবেষক মফিজ ইমাম মিলন বলেন, “এটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে আমরা কানাই লাল শীলের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছি। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এমন দ্রুত পদক্ষেপ সত্যিই আশাব্যঞ্জক। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন হলে এটি শুধু একটি স্মৃতিবিজড়িত স্থানই নয়, বাংলা লোকসংগীত গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।”

এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কানাই লাল শীলের অবহেলিত জন্মভিটা, জরাজীর্ণ স্মৃতিফলক, অরক্ষিত স্মারক এবং পরিবারের দীর্ঘদিনের হতাশার চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের পাশাপাশি প্রশাসনেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপমহাদেশের এই কিংবদন্তি শিল্পীর স্মৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা হবে।