খুঁজুন
শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১৩ চৈত্র, ১৪৩২

ইসলাম গ্রহণ করলেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‌্যাপার সেন্ট্রাল সি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২০ এএম
ইসলাম গ্রহণ করলেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‌্যাপার সেন্ট্রাল সি

ব্রিটিশ র‌্যাপার ওকলি নীল সিজার-সু, যিনি মিউজিক সিনে ‘সেন্ট্রাল সি’ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি এই র‌্যাপার জানিয়েছেন, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ‘স্প্রিন্টার’ খ্যাত এই তারকা ইসলাম গ্রহণের পর নিজের নাম পরিবর্তন করে রেখেছেন ‘আখিল’। আন্তর্জাতিক ইসলামিক তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতিবেদনে জানা যায়, ২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিম অনুষ্ঠানের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন।

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর PlaqueBoyMax-এর সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি লাইভ আলোচনার সময় সেন্ট্রাল সি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং এখন থেকে ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে চান। তবে এর আগে ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রকাশ্যে খুব একটা কথা বলতে দেখা যায়নি এই ব্রিটিশ র‌্যাপারকে। সেন্ট্রাল সির ঝুলিতে প্রথম ব্রিটিশ র‌্যাপার হিসেবে একক প্ল্যাটফর্মে এক বিলিয়ন স্ট্রিম অর্জনের রেকর্ড আছে। এছাড়া ড্রেক, জে. কোলের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি।

সেন্ট্রাল সির এমন সিদ্ধান্ত সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভক্ত-শ্রোতারা তাকে নেটদুনিয়ায় শুভকামনা জানিয়েছেন।

এর আগে ২০১৪ সালে সংগীতজগতে যাত্রা শুরু করেন ‘সেন্ট্রাল সি’ হিসেবে পরিচিত এই ব্রিটিশ র‌্যাপার। তবে তিনি জনপ্রিয়তা পান ২০২১ সালের পর।

সালথা বাজারে পাটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
সালথা বাজারে পাটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

ফরিদপুরের সালথা বাজারে একটি পাটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ব্যবসায়ীর প্রায় ২৫ লাখ টাকার পাট ও অন্যান্য পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সালথা উপজেলা সদর বাজারের পুরুরা রোড এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গুদামের ভেতরে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয়রা জানান, সকালে হঠাৎ গুদাম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো গুদাম এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা প্রথমে নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

খবর পেয়ে সালথা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এ সময় আগুন পাশের দোকান ও গুদামে ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় পুরো বাজার এলাকা।

সালথা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা আব্দুল জলিল জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।”

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার গুদামে থাকা অধিকাংশ পাট ও কিছু অন্যান্য পণ্য পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ফরিদপুরে ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় মিলল বিশ্বজিতের মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
ফরিদপুরে ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় মিলল বিশ্বজিতের মরদেহ

ফরিদপুর শহরে বিশ্বজিৎ অধিকারী (৪৩) নামে এক ব্যক্তির গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট থেকে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৭টার মধ্যে যেকোনো সময় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের চকবাজার শিব মন্দির এলাকার রামবাবুর ঘাটলা সংলগ্ন অরুণ কুমার দে’র বসতঘরের পাশে একটি ছোট কক্ষে ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন বিশ্বজিৎ অধিকারী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং পারিবারিক অশান্তির কারণেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঘটনার দিন সকালে তার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে পাশের দোকানদার ও স্থানীয়রা তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে তারা সন্দেহবশত আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে বিশ্বজিৎকে ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই (নি:) মাসুদ পারভেজ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মৃত বিশ্বজিৎ অধিকারী পশ্চিম খাবাসপুর চৌধুরী বাড়ি দুর্গা মন্দির এলাকার বাসিন্দা এবং মন্টু অধিকারীর ছেলে বলে জানা গেছে। তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাম্পার ফলনেও চোখে জল—ফরিদপুরে পেঁয়াজ চাষে লোকসানে কৃষক

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:০১ এএম
বাম্পার ফলনেও চোখে জল—ফরিদপুরে পেঁয়াজ চাষে লোকসানে কৃষক

ফরিদপুর জেলায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বিক্রয়মূল্য কম থাকায় অধিকাংশ চাষিই এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন। এতে করে কৃষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও হতাশা।

জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি মন (৪০ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অথচ কৃষকদের দাবি, অন্তত ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা মন দরে বিক্রি করতে পারলে তারা কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান দামে উৎপাদন খরচই উঠছে না।

সালথা উপজেলার বালিয়াগট্টি হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক ছত্তার মাতুব্বর বলেন, “এবার ফলন ভালো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাজারে এসে দেখি দাম নেই। ৮০০-৯০০ টাকায় বিক্রি করে সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের খরচই ওঠে না। আমাদের পুরোই লস হচ্ছে।”

একই উপজেলার আরেক কৃষক রহিম শেখ জানান, “এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তাতে ১০ হাজার টাকাও ফিরে আসবে কিনা সন্দেহ। এভাবে চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে পেঁয়াজ চাষ বন্ধ করে দিতে হবে।”

ভাঙ্গা উপজেলার কৃষক মজিবর মোল্লা বলেন, “পেঁয়াজ তুলতে শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন খরচ—সব মিলিয়ে এখন খরচ অনেক বেশি। কিন্তু বাজারে সিন্ডিকেট আর আমদানির কারণে দাম পড়ে গেছে। আমরা উৎপাদন করি, কিন্তু লাভ পায় অন্যরা।”

কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজের প্রভাবের কারণে দেশীয় পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। এতে করে মাঠ পর্যায়ের চাষিরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডিএ) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “এবার জেলায় পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহের ভারসাম্য না থাকায় দাম কমে গেছে। কৃষকদের ক্ষতি কমাতে সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি, বাজার তদারকি এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজের অভাব এবং পরিকল্পিত বিপণন ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করছেন। যদি সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা যায়, তাহলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন।

এদিকে কৃষকদের দাবি, দ্রুত বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণসহ মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাবেন কৃষকরা, যা দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।