খুঁজুন
, ,

ঈদের আগে দামপতনে বিপাকে ফরিদপুরের পেঁয়াজচাষি, লোকসানে বিক্রি করছেন আগাম ফসল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর ও নুরুল ইসলাম নাহিদ, সালথা:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ঈদের আগে দামপতনে বিপাকে ফরিদপুরের পেঁয়াজচাষি, লোকসানে বিক্রি করছেন আগাম ফসল

ফরিদপুরের সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই জেলার অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার হাজার হাজার কৃষকের জীবিকা অনেকটাই নির্ভর করে এই ফসলের ওপর। প্রতিবছরের মতো এবারও দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক পরিসরে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই দুই উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করা হয়েছে।

তবে ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও হঠাৎ করে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বিশেষ করে রমজান মাসের আগে নগদ টাকার প্রয়োজন মেটাতে অনেক কৃষক অপরিপক্ক পেঁয়াজ তুলে বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু বাজারে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় তারা এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন।

গত বছরের লাভ, এ বছরের হতাশা:

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর মৌসুমের শুরুতেই পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। অনেক কৃষক তখন অপরিপক্ক পেঁয়াজ তুলে বাজারে বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছিলেন।

গত মৌসুমে প্রতিমণ পেঁয়াজ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। এতে কৃষকেরা উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কারণে এবারও অনেকে আগাম পেঁয়াজ তুলে বাজারে নিয়ে আসেন।

কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাইকারি বাজারে দাম কমে যাওয়ায় বর্তমানে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯৫০ থেকে ১১০০ টাকায়। ফলে উৎপাদন খরচই উঠছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

বাজারে ক্রেতা কম, হতাশ কৃষক:

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই অনেক কৃষক মাথায় বা ভ্যানে করে পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে এসেছেন। কিন্তু ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম।

পাইকাররা কম দামে পেঁয়াজ কিনছেন, আবার অনেক সময় দরদাম না মেলায় কৃষকেরা পণ্য নিয়ে বসে থাকছেন দীর্ঘ সময়। শেষ পর্যন্ত সংসারের প্রয়োজনে অনেকেই বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে হতাশ মনে বাড়ি ফিরছেন।

উৎপাদন খরচই উঠছে না:

বালিয়া বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ অনেক বেশি হয়েছে। সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি, সেচ এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে প্রতিমণ পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা দরে। ফলে প্রতিমণে অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লোকসান হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “রমজান মাসে সংসারের খরচ বেশি থাকে। সেই কারণে বাধ্য হয়েই আগাম পেঁয়াজ তুলে বাজারে আনতে হয়েছে। এখন কম দামে বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। সংসার তো চালাতে হবে।”

অপরিপক্ক পেঁয়াজ সংরক্ষণও সম্ভব নয়:

কৃষকেরা জানান, বর্তমানে যে পেঁয়াজ বাজারে আসছে সেগুলো পুরোপুরি পরিপক্ক হয়নি। এসব পেঁয়াজ পরিপক্ক হতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে।

অপরিপক্ক অবস্থায় তোলা পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না। ঘরে রেখে দিলে দ্রুত পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে হলেও বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরাও বিপাকে:

পেঁয়াজের বাজার খারাপ হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও খুব বেশি লাভ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন পাইকাররা।

স্থানীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন,
“গত এক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের বাজার খুব খারাপ। আমরা বর্তমানে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিকেজি ২৫ থেকে ২৬ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনছি। পরে এসব পেঁয়াজ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে হচ্ছে। সেখানে অনেক সময় প্রতিকেজিতে ১ থেকে ২ টাকা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “কৃষক ভালো দাম পেলে আমাদের ব্যবসাও ভালো হয়। কিন্তু বাজার খারাপ থাকলে কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়েন।”

ভালো দামের প্রত্যাশা:

ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক মনে করেন, যদি পেঁয়াজের দাম প্রতিমণ ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে থাকে, তাহলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি ব্যবসায়ীরাও স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা চালাতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে হলে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ:

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন সিকদার বলেন, “সাধারণত পেঁয়াজ উত্তোলনের মূল সময় আর এক মাস পর শুরু হবে। কিন্তু অনেক কৃষক এখনই পেঁয়াজ তুলে বাজারে বিক্রি করছেন। এতে ফলন কম হওয়ার পাশাপাশি দামও কম পাচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “অপরিপক্ক অবস্থায় পেঁয়াজ তোলা হলে এর আকার ছোট হয় এবং সংরক্ষণক্ষমতাও কমে যায়। তাই কৃষকদের আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, যতটা সম্ভব পরিপক্ক হওয়ার পরই পেঁয়াজ তুলতে।”

বিপুল উৎপাদনের সম্ভাবনা:

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সালথা ও নগরকান্দায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং রোগবালাই কম হয়, তাহলে এবার দুই উপজেলায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তবে বাজারদর স্থিতিশীল না থাকলে সেই সুফল কৃষকেরা নাও পেতে পারেন।

কৃষকের দাবি:

স্থানীয় কৃষকেরা মনে করেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। বিশেষ করে মৌসুমের শুরুতে বাজারে অস্থিরতা কমাতে সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা জরুরি।

কৃষকেরা জানান, যদি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যায়, তাহলে পেঁয়াজ চাষে কৃষকের আগ্রহ আরও বাড়বে এবং দেশের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই অঞ্চল।

সার্বিক পরিস্থিতি:

ফরিদপুরের সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার কৃষি অর্থনীতির বড় অংশই নির্ভর করে পেঁয়াজ চাষের ওপর। তাই বাজারে দাম কমে গেলে এর প্রভাব সরাসরি পড়ে হাজারো কৃষক পরিবারের ওপর।

বর্তমানে আগাম পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি করে অনেক কৃষক লোকসানে পড়লেও তারা আশা করছেন, মৌসুমের মূল সময়ে বাজারদর কিছুটা বাড়বে।

তবে কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে।

সালথায় বেকারিতে অগ্নিকাণ্ড, আগুনে পুড়ল ময়দা-চিনি ও তিন মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
সালথায় বেকারিতে অগ্নিকাণ্ড, আগুনে পুড়ল ময়দা-চিনি ও তিন মোটরসাইকেল

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রসুলপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বেকারি, তিনটি মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী পুড়ে গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) ভোর ৫ টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা আহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রসুলপুর বাজারে সেলিম মাতুব্বরের মালিকানাধীন আল্লাহরদান বেকারি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বেকারিতে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের নীরবতায় আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন এবং একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে সালথা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৭টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে আশপাশের দোকান ও স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

অগ্নিকাণ্ডে বেকারির ভেতরে থাকা দুটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল, একটি রানার মোটরসাইকেল, প্রায় ২০ বস্তা ময়দা, ২৫ বস্তা চিনি, বেকারি তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং পুরো টিনশেড ঘর পুড়ে যায়। এতে মালিকের প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সালথা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল জলিল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বেকারির চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বেকারি মালিকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভোরে আগুন লাগার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ক্ষতিগ্রস্ত বেকারিটি এলাকার অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর আর্থিক ক্ষতি বেশ বড়। দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে বেকারির কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিকভাবে চালু করা সম্ভব হবে।

অল্প বয়সী নারীরা কেন বয়স্ক পুরুষের প্রেমে পড়ে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ
অল্প বয়সী নারীরা কেন বয়স্ক পুরুষের প্রেমে পড়ে?

প্রেম বা ভালোবাসার ক্ষেত্রে বয়স সবসময় নির্ধারক নয়। মানুষের অনুভূতি, পছন্দ কিংবা মানসিক সংযোগ অনেক সময় বয়সের সীমা অতিক্রম করে যায়। যদিও অধিকাংশ সম্পর্কেই দুই সঙ্গীর বয়স কাছাকাছি থাকে, তবুও বাস্তবে এমন অনেক সম্পর্ক দেখা যায় যেখানে নারীর বয়স তুলনামূলক কম এবং পুরুষের বয়স বেশি। কেন এমনটা ঘটে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে বয়সে বড় পুরুষদের প্রতি অনেক নারীর আকর্ষণের মূল কারণ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নয়; বরং মানসিক পরিপক্বতা, দায়িত্বশীলতা, স্থিরতা এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ। আধুনিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মানসিক পরিপক্বতা তৈরি করে আস্থা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, যা তার চিন্তাভাবনা ও আচরণে পরিপক্বতা আনে। বয়সে বড় পুরুষরা সাধারণত আবেগ নিয়ন্ত্রণে বেশি দক্ষ হন এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অযথা উত্তেজিত হওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি বা অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

বাস্তবভিত্তিক সম্পর্কের প্রতি ঝোঁক

পরিণত বয়সের অনেক পুরুষ সম্পর্ককে কেবল আবেগের জায়গা থেকে নয়, বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়ন করেন। তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন। সম্পর্কে কোনো সমস্যা তৈরি হলে তা এড়িয়ে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার প্রবণতাও তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে থাকে আত্মবিশ্বাস

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতা বয়সে বড় অনেক পুরুষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা ব্যক্তিগত বিষয়ে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমাতে সাহায্য করে। এই স্থিরতা অনেক নারীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকে স্পষ্ট

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্ব অনেক। বয়সে বড় অনেক পুরুষের ক্যারিয়ার, পরিবার এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকে। ফলে সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কম দেখা যায় এবং সঙ্গীর মধ্যেও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা

জীবনের নানা অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে নতুন পরিবেশ ও ভিন্ন মতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখায়। অনেক পরিণত বয়সের পুরুষ এই অভিযোজন ক্ষমতার কারণে বিভিন্ন সামাজিক বা পারিবারিক পরিস্থিতিতে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। অনেক নারী এই গুণটিকেও ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করেন।

পারস্পরিক সম্মান ও সহানুভূতির গুরুত্ব

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বয়সে বড় অনেক পুরুষ সম্পর্কে সঙ্গীর মতামতকে গুরুত্ব দেন, ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করেন এবং প্রয়োজন হলে সমঝোতার পথও বেছে নেন। এই ধরনের আচরণ সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বদলে গেছে সম্পর্কের ধারণা

একসময় ধারণা ছিল, বয়সে বড় পুরুষের প্রতি নারীদের আকর্ষণের প্রধান কারণ আর্থিক নিরাপত্তা। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। এখন অনেক নারী এমন একজন সঙ্গীকে গুরুত্ব দেন, যিনি দায়িত্বশীল, আবেগ বোঝেন, খোলামেলা যোগাযোগে বিশ্বাসী এবং সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, পরিণত বয়সের অনেক পুরুষ দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়তে বেশি আগ্রহী হন। তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং দায়িত্ববোধকে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেন।

বয়স নয়, সম্পর্কের ভিত্তি বোঝাপড়া

তবে বিশেষজ্ঞরা এটিও স্পষ্ট করে বলছেন, শুধু বয়স বেশি হলেই কেউ আদর্শ জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠেন না। একইভাবে কম বয়স মানেই অপরিপক্ব এমন ধারণাও সঠিক নয়। একটি সম্পর্কের সফলতা নির্ভর করে ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, যোগাযোগের দক্ষতা এবং বোঝাপড়ার ওপর।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে বয়সের পার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠে তখনই, যখন দুইজন মানুষ একে অপরকে সম্মান করেন, বিশ্বাস করেন এবং মানসিকভাবে একসঙ্গে পথ চলতে প্রস্তুত থাকেন।

ফরিদপুরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ভেস্তে গেল গোল্ডকাপ ফাইনাল, খেলা ছাড়াই মিলল শিরোপা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ভেস্তে গেল গোল্ডকাপ ফাইনাল, খেলা ছাড়াই মিলল শিরোপা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি। দুই দলের লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকা হাজারো দর্শকের হতাশার মধ্যেই প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক বিরোধে এক দল মাঠে না আসায় টুর্নামেন্টের পরিসমাপ্তি ঘটে ওয়াকওভারের মাধ্যমে। পরে টুর্নামেন্টের প্রচলিত নিয়ম অনুসারে মাঠে উপস্থিত দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে ট্রফি তুলে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার (২২ জুলাই) আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, গত সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ ও পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশের। মাঠ, দর্শক, রেফারি ও আনুষ্ঠানিকতার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও নির্ধারিত সময়ে পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশের কোনো খেলোয়াড় মাঠে উপস্থিত হননি।

এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বৈরী আবহাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রথমে খেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন।
খেলা স্থগিতের ঘোষণায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকরা। তারা উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন এবং প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস আলী মোল্লার হস্তক্ষেপে উপজেলা প্রশাসন টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী মাঠে উপস্থিত দলকে ওয়াকওভারে বিজয়ী ঘোষণা করে। একই রাতে তাদের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, পুরো ঘটনার নেপথ্যে ছিল প্রধান অতিথি নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধ। আয়োজকদের আমন্ত্রণপত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস আলী মোল্লার নাম প্রধান অতিথি হিসেবে উল্লেখ করা হলে বিএনপির একটি পক্ষ আপত্তি তোলে। তাদের দাবি ছিল, বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি করা হোক। এ বিরোধের জের ধরেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাসের নির্দেশে পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ মাঠে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু বলেন, “প্রধান অতিথি নির্ধারণ নিয়েই মূল সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনকে সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি করার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু বর্তমান সংসদ সদস্যকে প্রধান অতিথি এবং খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে বিশেষ অতিথি করা হয়। যেহেতু পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ আমাদের সভাপতির এলাকার দল, তাই তারা মাঠে যায়নি। প্রশাসন প্রথমে খেলা পরে আয়োজনের কথা বললেও পরে রাতে অপর দলকে বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রফি দিয়েছে। বিষয়টি আমরা সাংগঠনিকভাবে পর্যালোচনা করব।”

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, “একটি দল মাঠে উপস্থিত না হওয়ায় ওয়াকওভার হয়েছে। টুর্নামেন্টের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মাঠে উপস্থিত দলকে বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রফি দেওয়া হয়েছে। ওয়াকওভারের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।”

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, খেলাধুলা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হলেও প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে একটি বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তাদের আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন রাজনৈতিক বিতর্কমুক্ত রেখে ক্রীড়ার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।