চরভদ্রাসনে পদ্মায় নিখোঁজের ৬ দিন পর বাল্কহেড সুকানীর মরদেহ উদ্ধার
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পদ্মা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া বাল্কহেডের সুকানী আরিফ শেখ (৪৬)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে নিখোঁজ হওয়ার স্থানসংলগ্ন এলাকা থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
এর আগে গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিলারচর ও সবুল্লা সিকদারের ডাঙ্গী এলাকায় বালু বোঝাই একটি বাল্কহেডে কর্মরত অবস্থায় অসাবধানতাবশত পদ্মা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন আরিফ শেখ। ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু করা হয়।
নিহত আরিফ শেখ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার শোলমারী গ্রামের মজিবর শেখের ছেলে। তিনি চার ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। ব্যক্তিজীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক মেয়ে ও দুই ছেলের জনক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হওয়ায় তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বাল্কহেডের সুকানী হিসেবে কাজ করছিলেন আরিফ শেখ। দুর্ঘটনার দিন দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে যান তিনি। নদীর স্রোত প্রবল থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয়রা নদীর কূলে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহ শনাক্তের পর তা আরিফ শেখের বলে নিশ্চিত করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. মর্তুজা ফকির ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’কে বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল ৭ টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫’শ গজ অদূরে ভাসছিল।’
চরভদ্রাসন থানার পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনায় নিহত আরিফ শেখের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন
Array