খুঁজুন
, ,

জাল ভোট দিলে কী শাস্তি? জানুন নির্বাচনী আইন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ
জাল ভোট দিলে কী শাস্তি? জানুন নির্বাচনী আইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে একটি নয়, দিতে হবে দুটি ভোট। সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার পাশাপাশি ভোটাররা দেবেন গণভোটও। নির্বাচনী ব্যালটে যেখানে বিভিন্ন দলের প্রতীক থাকে, সেখানে গণভোটে থাকবে দুটি অপশন। ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের মত জানাবেন।

ভোট একজন নাগরিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। একটি সিল বা বোতাম চাপার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় দেশের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা। কিন্তু সেই ভোট যদি প্রকৃত ভোটারের পরিবর্তে অন্য কেউ দেয়, অথবা চাপ প্রয়োগ করে আদায় করা হয়, তখনই তা জালভোটে পরিণত হয়। বাংলাদেশের নির্বাচনকে ঘিরে এই বিষয়টি বহুবার আলোচনায় এসেছে, সৃষ্টি করেছে বিতর্ক এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

জালভোট কী?

জালভোট বলতে এমন ভোটকে বোঝায়, যা প্রকৃত ভোটার নিজে স্বেচ্ছায় দেননি। যেমন—কোনো ব্যক্তি অন্যের নাম ব্যবহার করে ভোট দিয়ে দেওয়া, ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত না থাকলেও তার নামে ব্যালট বা ইভিএমে ভোট পড়ে যাওয়া, ভয়ভীতি দেখিয়ে বা জোর করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা, কিংবা একজনের একাধিকবার ভোট দেওয়া। অর্থাৎ যেখানে ভোটারের স্বাধীন সিদ্ধান্ত থাকে না, সেখানেই জালভোটের ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে জালভোটের অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ভোটার কেন্দ্রে না গেলেও তার নামে ভোট পড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সকালবেলাতেই কিছু কেন্দ্রে ‘ভোট শেষ’ হওয়ার মতো অভিযোগ শোনা গেছে।

কিছু ক্ষেত্রে কোনো একটি পক্ষ ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। তখন সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ পান না, তাদের আগেই বিপুলসংখ্যক ভোট দেওয়া হয়ে যায়। অনেক সময় হামলা, হুমকি বা সামাজিক চাপের কারণে ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে ভয় পান। এতে প্রকৃত ভোটার অনুপস্থিত থাকায় জালভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এমনকি মৃত ব্যক্তির নামেও ভোট পড়ে যাওয়ার অভিযোগ বহুবার সামনে এসেছে। ভোটকেন্দ্রে বিরোধী দলের এজেন্ট বা নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক না থাকলে এ ধরনের অভিযোগ আরও বাড়ে।

স্বাধীনতার পর থেকে দেশে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে জালভোটের অভিযোগ শোনা গেছে। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের পর নির্বাচন ঘিরে এ বিতর্ক আরও বেশি আলোচনায় আসে। কোথাও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আবার কোথাও ভোট শুরুর আগেই অধিকাংশ ভোট পড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সাধারণ মানুষের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে অনাস্থা তৈরি করেছে।

জালভোট হলে তার প্রভাব পড়ে শুধু নির্বাচনে নয়, ব্যক্তি থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের সব স্তরে। এটি কেবল একটি অনিয়ম নয়, বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। প্রকৃত ভোটের প্রতিফলন না ঘটলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে, মানুষের শাসনের ধারণা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ভোটারদের আগ্রহ কমে যায়, কারণ আস্থা হারালে মানুষ ভোট দিতে অনীহা দেখায়। পাশাপাশি জালভোটের অভিযোগ ঘিরে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাও বাড়তে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও মানুষের বিশ্বাস কমে যায়।

জালভোট ঠেকাতে দেশে বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভুয়া ভোটার শনাক্তে ছবি ও তথ্যসম্বলিত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। একাধিকবার ভোট দেওয়া কঠিন করতে কাগজের ব্যালটের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চালু করা হয়েছে।

জালভোট দেওয়ার আইন ও শাস্তি সম্পর্কে জানেন কি?

নির্বাচনী আইনে জালভোটকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, শুধু আইন বা প্রযুক্তি থাকলেই সমস্যার সমাধান হয় না; বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২–এর ৭৩ থেকে ৮৭ ধারায় ভোটকেন্দ্র এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ ও তার শাস্তির বিধান উল্লেখ রয়েছে।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে বেআইনি আচরণ বা অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া অনধিকার প্রবেশের অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। ভোটের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধের ধরন বিবেচনা করে শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৭৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে, (১) যদি কোনো ব্যক্তি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনে সুবিধা প্রদান বা বাধাগ্রস্ত করিবার উদ্দেশ্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করেন বা সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করার চেষ্টা করেন।

(২) ভোট দেওয়ার যোগ্য নন বা অযোগ্য জানা সত্ত্বেও কোনো নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।

(৩) একই ভোটকেন্দ্রে একাধিকবার ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।

(৪) একই নির্বাচনে একাধিক ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান। (৫) ভোট চলাকালে কোনো ভোটকেন্দ্র হতে ব্যালট পেপার সরিয়ে ফেলেন।

অথবা (৬) জ্ঞাতসারে এসব কাজ করার জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্ররোচিত করেন বা তার সাহায্য চান-তাহলে তিনি বেআইনি কাজের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং তিনি সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডে ও অর্থদন্ডে দণ্ডিত হবেন।

ভোটার হিসেবে ব্যক্তিগত দায়িত্বও কম নয়। জালভোট ঠেকাতে শুধু রাষ্ট্র বা নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; ভোটারদেরও সচেতন হতে হবে। নিয়ম মেনে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া, কোনো অনিয়ম দেখলে তা নিয়ে প্রতিবাদ করা এবং নিজের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা—এসব বিষয় সমানভাবে জরুরি।

জালভোট কেবল ভোট কারচুপি নয়, এটি মানুষের কণ্ঠস্বর কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা। বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার অন্যতম শর্ত। জালভোটের অভিযোগ যতদিন থাকবে, ততদিন নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাবে—এটি কি সত্যিই জনগণের রায়, নাকি ক্ষমতার প্রভাব?

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদ দ্রুত কার্যকরের দাবিতে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক দলের নেতারা অংশ নেন। তারা দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংক মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা মো. বদরুদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং দলীয় মুখপাত্র মুফতি আবু নাসির আইয়ুবী ও অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. বায়েজিদ আহমাদ শাহেদ, খেলাফত আন্দোলন ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, এলডিপি সভাপতি মো. কামরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

বক্তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের মতামত এবং জুলাই সনদের প্রস্তাবনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

নেতারা আরও বলেন, দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে সারাদেশে আরও বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তারা ঘোষণা দেন।

সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল এবং বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্লোগান দেন।

ভাঙ্গায় গুলিতে যুবক নিহত: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, কমিটি বিলুপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় গুলিতে যুবক নিহত: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, কমিটি বিলুপ্ত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিতে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ মামলার একদিন পরই ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে ভাঙ্গা পৌরসভার হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ (২৩)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মিলন শেখ গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও পূর্ব হাসামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বরকে (২৮)।

পুলিশ জানায়, মামলার পর থেকে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি সজীব মাতুব্বর এখনও পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে নিহত সুমন শেখের বাড়িতে যান ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি নিহতের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।

সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, “মামলা তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। এই মামলায় কেউ কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। যারা অভিযুক্ত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আজই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”

সংসদ সদস্যের ওই বক্তব্যের প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন ও সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অনিবার্য কারণবশত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ভাঙ্গা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ৩ জুলাই থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।”

কমিটি বিলুপ্তির বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা কমিটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সর্বশেষ কমিটির এক শীর্ষ নেতা হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি হওয়ায় এবং মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সুপারিশে উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব যেন তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

ডিম ছাড়ার মৌসুমেও সালথায় চায়না দুয়ারির দাপট, হুমকিতে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ডিম ছাড়ার মৌসুমেও সালথায় চায়না দুয়ারির দাপট, হুমকিতে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (চায়না জাল) দিয়ে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। আষাঢ় মাসজুড়ে যখন দেশীয় প্রজাতির অধিকাংশ মাছ ডিম ছাড়ে ও বংশবিস্তার করে, ঠিক সেই সময় নির্বিচারে মাছ ধরায় জলজ জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় খাল, বিল, নালা ও নদীর বিভিন্ন স্থানে চায়না দুয়ারি বসিয়ে দিন-রাত মাছ ধরা হচ্ছে। এসব ফাঁদে শুধু বড় মাছই নয়, রেণু, পোনা এবং ডিমওয়ালা মাছও আটকা পড়ছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এভাবে নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর অভিযান না থাকায় অসাধু জেলেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে একদিকে যেমন দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বাসিন্দা মজিবুর মাতুব্বর বলেন, “আগে বর্ষাকালে খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না দুয়ারির কারণে ছোট-বড় সব মাছ ধরা পড়ে যাচ্ছে। মাছ ডিম দেওয়ার আগেই ধরে ফেলায় আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।”

একই উপজেলার বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেন, “চায়না দুয়ারি একবার বসালে পানির ভেতরের প্রায় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ে। এতে ছোট মাছও রক্ষা পায় না। কয়েকজনের লাভের জন্য পুরো এলাকার মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। বিষয়টি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়না দুয়ারি বা সূক্ষ্ম ফাঁসের অবৈধ জাল ব্যবহারের ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এসব জাল ব্যবহার দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। এ কারণে সরকার বিভিন্ন সময় এ ধরনের অবৈধ উপকরণ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তরুণ বসু ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “চায়না দুয়ারি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অবৈধভাবে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে স্থানীয়দেরও সচেতন হয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”