খুঁজুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

অগ্নিঝরা মার্চের সূচনায় ফরিদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
অগ্নিঝরা মার্চের সূচনায় ফরিদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা

অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম প্রহরকে ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ কার্যক্রমটি পরিচালনা করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের একজন নেতা।

রবিবার (০১ মার্চ) সকালে ফরিদপুর জেলা শহরে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরিফুল হাসান প্লাবন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালেই তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা যায় তাকে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জানান, এ সময় তার সঙ্গে কয়েকজন অনুসারীও ছিলেন। তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন এবং ছবি তোলেন। পরে সেই দৃশ্য ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে ব্যক্তিগত উদ্যোগ বলে মন্তব্য করলেও, আবার কেউ কেউ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতার এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্চ মাস বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে। তবে আইনগত বা সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনায় এ ধরনের কার্যক্রম কতটা গ্রহণযোগ্য—তা নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কোনো নেতার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, অগ্নিঝরা মার্চ বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এ মাসের প্রতিটি দিনই জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবহ।

সালথায় যুব অধিকার পরিষদের সচেতনতামূলক সভা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
সালথায় যুব অধিকার পরিষদের সচেতনতামূলক সভা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান

“মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মাদকবিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে সালথা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে যুব অধিকার পরিষদের উদ্যোগে এ সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও তরুণদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

যুব অধিকার পরিষদের সালথা উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ইমারত হোসেনের সভাপতিত্বে এবং ফরিদপুর জেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল ভান্ডারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী (ট্রাক) ও উপজেলা সভাপতি ফারুক ফকির।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালথা থানার এসআই অপূর্ব, যুব অধিকার পরিষদ ফরিদপুর জেলা সভাপতি সাইদুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ হোসেন বিপুল এবং সালথা উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফারুক ফকির বলেন, “মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একটি সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, পরিবার থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এবং সন্তানদের প্রতি নজরদারি বাড়াতে হবে।

তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।”

বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাদকাসক্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব বলেও তারা মত দেন।

সভা শেষে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত ক্যাম্পেইন, স্কুল-কলেজে প্রচার কার্যক্রম এবং তরুণদের অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ফরিদপুরে ধর্ম অবমাননার ঘটনায় যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ধর্ম অবমাননার ঘটনায় যুবক গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননাকর মামলার আসামি প্রদীপ পালকে (৪০) নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) র‌্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর লালবাগ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল র‌্যাব-১১-এর সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি মেমোরি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রদীপ পাল ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার জালালচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার এক নারীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে অশ্লীল, মানহানিকর ও ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট করেন এবং চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় ২০২৫ সালের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২৫, ২৬ ও ২৭ ধারা এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৮৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই ফরিদপুর তদন্ত চলমান রয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম এলাকার শংকর কুমার পাল (৩৩)-এর নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ফেসবুক আইডি থেকে কোরআন অবমাননাকর পোস্ট দেওয়া হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচন পত্রের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, চাঁদাবাজি, হত্যা, ছিনতাই, অপহরণ, প্রতারণাসহ সব ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে।

‘বর্তমান সরকার কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী’: অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
‘বর্তমান সরকার কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী’: অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বর্তমান সরকার কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী। দেশের সংকটময় সময়ে জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একের পর এক কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত “সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, সরকার গঠনের পরপরই কৃষক, খামারী ও মৎস্যজীবীদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে, যা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি কর্মসংস্থানই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক কাঠামোতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। বর্তমানে দেশে বেকারত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে নারী ও উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে এই হার উদ্বেগজনক।”

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে এবং দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বাস্তবমুখী ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

সমতাভিত্তিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশের সব অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে এ ধরনের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগেও এই কার্যক্রম চালানো হবে।

এর আগে দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে উপদেষ্টা জেলার শিল্প ও গবেষণা খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি শহরতলীর গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা এলাকায় অবস্থিত জোবায়দা করিম জুট মিল ঘুরে দেখেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী পরিদর্শনে তিনি পাটজাত পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং বহুমুখী পণ্যের সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

এ সময় তিনি শ্রমিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কাজের পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং শিল্পখাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরে তিনি দেশের একমাত্র নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন। সেখানে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ডিজিটাল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের চলমান গবেষণা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। নদী ব্যবস্থাপনা, ভাঙন রোধ এবং টেকসই উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দিনব্যাপী সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, পার্শ্ববর্তী জেলার সংসদ সদস্যরা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।