খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মকে পুজি করে দুইলাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মকে পুজি করে দুইলাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

ফরিদপুর পৌরসভার একটি সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। একই সাথে নির্মাণ শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কাজে বাঁধা দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। তবে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ওই পক্ষটি।

ফরিদপুর পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার প্রকৌশলী বিভাগের অধীনে ১৪নং ওয়ার্ডের হাড়োকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ৩৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৮৮ মিটার ইউনিব্লক সড়ক নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছেন। কাজটি বাস্তবায়ন করছেন মেসার্স মির্জা কনস্ট্রাকশন নামে সিরাজগঞ্জের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এছাড়া কাজটির তদারকিতে রয়েছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দা মুরাদ শেখ নামে এক ব্যক্তি এবং গত তিনমাস আগে নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

জানা যায়, গত শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সড়ক নির্মাণ কাজে বাঁধা দেন স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাহার শেখের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি। তাঁরা নির্মাণ শ্রমিকদের হাত-পা কেটে ফেলার হুমকিও দেন বলে করিম আলী শেখ নামে এক শ্রমিক অভিযোগ করেন। এছাড়া দুই লাখ টাকা চাদা দাবির অভিযোগ করেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মুরাদ শেখ।

ঘটনাটি নিয়ে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। সেখানে প্রায় ২০ জনের একদল লোক অবস্থান করছেন। তাঁদের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় বাহার শেখ ও শামিম হোসেন ওরফে সামিউল নামে দুই ব্যক্তিকে। এ সময় তাঁরা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে ঘুরে ঘুরে সাংবাদিকদের সামনে উত্থাপন করেন।

তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, ব্যবহৃত ব্লকের মধ্যে নিম্নমানের উপদান রয়েছে, পুরুত্ব (এসএ) ৬ ইঞ্চির পরিবর্তে তিন ইঞ্চি রয়েছে। এছাড়া পলিথিন ও ময়লা মিশ্রিত মাটি ব্যবহার, নিম্নমানের ইট-খোয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অভিযোগ তুলে কখনও আবার নির্মাণ শ্রমিকদের ওপর চড়াও হোন, কখনও আবার কাজ বন্ধ রাখার জন্য শ্রমিকদের নির্দেশ দেন। এক পর্যায়ে সেখানে কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপস্থিত হোন এবং কাজে বাঁধা না দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

এ সময় অভিযোগ তুলে মুরাদ শেখ বলেন, ‘তিনমাস যাবৎ কাজ চলতেছে এখানে কিন্তু হঠাৎ করেই এসে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে বাহার শেখকে আমার বাসায় আসতে বলি এবং আসার পরে জানতে চাই কি কারণে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তখন বাহার আমাকে বলে ঠিকাদারকে আমাদের দুই লাখ টাকা দিতে বলেন। আমার বাসার মধ্যেই বসে এই টাকা চেয়েছে, তখন বাহারের সাথে সুব্রত নামে এক লোকও উপস্থিত ছিল। পরবর্তীতে আমি ঠিকাদারকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম এবং গতকাল পৌরসভায় জানানো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বাহার শেখের কাছে জানতে চাইলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন। বাহার শেখ বলেন, শুক্রবার ইফতারির পরে মুরাদ শেখ নিজেই আমাকে দেখা করতে বলে এবং কয় টাকা ঘুষ দেয়া লাগবে-সেটা আমি দেখব। সে আমাকে প্রলোভন দেখিয়ে ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তাঁর বাসায় ডেকে নেয়। আমি ভিডিওর মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে এবং ঠিকাদার চক্রটি আমাকে ফাঁদে আটকিয়ে ফেলায়ছে।

এদিকে অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নির্মাণকাজের দায়িত্বরত উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. লাইজিং হোসেন রাজু বলেন, কাজে কিছুটা অনিয়ম হচ্ছে আমিও দেখেছি এবং সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এটাকে পুজি করে স্থানীয় একটি গ্রুপ টাকা দাবি করেছে বলে শুনেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর প্রশাসক স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি এবং ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। এছাড়া চাঁদা দাবির বিষয়ে কেউ আমার কাছে অভিযোগ দেয়নি।

তারেক রহমানের নির্দেশে ছাত্রদল নেতা অনুকে দেখতে এভার কেয়ারে ডা. বিটু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের নির্দেশে ছাত্রদল নেতা অনুকে দেখতে এভার কেয়ারে ডা. বিটু

ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে (AMI with Cardiogenic Shock with Acute LVF) আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনুকে দেখতে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে গেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু)।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তিনি হাসপাতালে গিয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অনুর বর্তমান শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও ঝুঁকির মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। বিএনপি মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নির্দেশেই তিনি অসুস্থ এই ছাত্রনেতাকে দেখতে হাসপাতালে যান।

চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ তীব্র হার্ট অ্যাটাকের পর কার্ডিওজেনিক শক ও অ্যাকিউট লেফট ভেন্ট্রিকুলার ফেইলিউর (LVF) দেখা দেওয়ায় অনুর অবস্থা জটিল আকার ধারণ করে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে প্রথমে ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পরও অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে একই দিন দুপুর প্রায় ১টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স (হেলিকপ্টার) যোগে তাকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে (CCU) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন হলেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

হাসপাতালে গিয়ে ডা. বিটু চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি তিনি রোগীর সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি অনুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদেরকে সান্ত্বনা দেন এবং তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত সুস্থতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে, অনুর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সুস্থতা কামনা করে পোস্ট দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে।

পরিবারের পক্ষ থেকেও দেশবাসীর কাছে অনুর দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে। স্থানীয় নেতারা জানান, ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ও জনপ্রিয় মুখ হিসেবে অনু দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তার হঠাৎ অসুস্থতা নেতাকর্মীদের মধ্যে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা তার শারীরিক অবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের চিকিৎসা প্রতিক্রিয়ার ওপরই তার সুস্থতার অগ্রগতি অনেকটা নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে, তরুণ এই ছাত্রনেতার সুস্থতা কামনায় এখন ফরিদপুরসহ সারা দেশের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা প্রার্থনায় রয়েছেন।

ফরিদপুরে জ্বালানি তেল সংকটে বন্ধের পথে অটো ইট ভাটা, বিপাকে ২৫০ শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জ্বালানি তেল সংকটে বন্ধের পথে অটো ইট ভাটা, বিপাকে ২৫০ শ্রমিক

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জ্বালানি তেলের (ডিজেল) তীব্র সংকটে বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছে আল-আলী অটো ব্রিকস।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল)বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের কণ্ঠে ছিল অসহায়ত্ব আর বেঁচে থাকার আকুতি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন যেখানে শ্রমিকদের কোলাহলে মুখর থাকত অটো ইট ভাটার আঙিনা, সেখানে এখন নেমে এসেছে অজানা আতঙ্কের নীরবতা। জ্বালানি তেল(ডিজেল) না থাকায় প্রায় ৩০-৩৫টি যানবাহন ও দুটি জেনারেটর একেবারে অচল হয়ে পড়েছে। উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থবির। যে কোনো মুহূর্তে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে ইট ভাটাটি। এই ভাটার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২৫০ শ্রমিক আর তাদের পরিবারের চার শতাধিক মানুষ। তাদের জীবনে এখন অনিশ্চয়তার কালো ছায়া।

ভাটায় কর্মরত নবিরন বেগম নামে এক শ্রমিক বলেন, আমরা দিন আনি দিন খাই। কাজ না থাকলে ঘরে ভাত রান্না হবে না। বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। কিস্তির চাপ আছে। খাবো নাকি কিস্তি দেবো, বুঝতে পারছি না। ভাটা বন্ধ হয়ে গেলে পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।

রহিম নামে আরেকজন বলেন, এই ভাটাই আমাদের সবকিছু। এটা বন্ধ হলে আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো। মালিক আর কতদিন আমাদের কাজ ছাড়া বসিয়ে বেতন দেবে।

ইট ভাটার ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাটা চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে এক ফোঁটা জ্বালানি তেল (ডিজেল) পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সব কার্যক্রম থমকে গেছে। জ্বালানি ছাড়া আমাদের ভাটা এক মিনিটও চলতে পারে না। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে প্রায় ৫০০ মানুষের জীবিকা একসাথে বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ থাকলে কিছু কাজ করা যায়,কিন্তু ডিজেল ছাড়া গাড়ি ও জেনারেটর চালানো সম্ভব নয়। আমরা প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাই। এই শ্রমিকদের কথা ভেবে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করুন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। অনেক শ্রমিকের জীবিকা এই কারখানার সঙ্গে জড়িত। আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবো।

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭ জন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭ জন

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ জন শিশু।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিহত দুই শিশু হলেন- মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার সন্নাসীচর এলাকার মো. সেলিমের মেয়ে সাবিহা (৭ মাস)। অপরদিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সরিষা গ্রামের জসিমের ছেলে আয়াতুল্লাহ (৬ মাস)।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানায়, হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবিহা বুধবার (০৮ এপ্রিল) রাতে এবং আয়াতুল্লাহ বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ১৭ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৮৫ জন শিশু। এর মধ্যে ১০৩ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ জন শিশু।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, হাম প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।