খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুর-১ আসনে পেশিশক্তি ও কালো টাকা ছড়াচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার, অভিযোগ বিএনপি-জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
ফরিদপুর-১ আসনে পেশিশক্তি ও কালো টাকা ছড়াচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার, অভিযোগ বিএনপি-জামায়াতের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী-মধুখালী) আসনে কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার খানের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোটের মাঠকে অস্থিতিশীল করারও পাঁয়তারা চালাচ্ছেন তিনি।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে বিদেশি পিস্তলসহ আবুল বাশার খানের অনুসারী মাহাবুব হাসান সজিবকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টাকালে স্থানীয়রা বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আসনটির বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম অভিযোগ এনে বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র ও অর্থের ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে।’

পাশাপাশি নাসির অভিযোগ করে বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার ২০০ কোটি টাকার ঋণগ্রস্ত এবং তার অনেক পাওনাদার রয়েছে।’

এদিকে, বুধবার বিকালে মধুখালীর জাহাপুর ইউনিয়নে আবুল বাশারের দুই সমর্থক রবিন ও আরিফ নগদ টাকা বিতরণ ও ব্যানার টাঙানো নিয়ে স্থানীয় বিএনপির সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মারামারিতে মাদকাসক্ত রবিন ও আরিফকে গণধোলাই দেয় স্থানীয়রা।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনা শুনে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। তবে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি।’

অন্যদিকে, বুধবার অবৈধ অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার হওয়া মাহবুব হাসান সজিবকে স্থানীয়ভাবে যুবদল নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

সেনা ও পুলিশ সূত্র জানায়, সজিব আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি ও প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে অবৈধ অস্ত্র বহন করছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

আরও জানা যায়, সজিব ফরিদপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার খানের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং তার অনুগত হিসেবেই এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। সে মূলত স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছিল। এ ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম নির্বাচনে কালো টাকার বিস্তার ঘটবে না, তবে সেটা থেমে নেই। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধ করছি— কেউ টাকা দিয়ে ভোট কিনতে গেলে তাদের প্রতিহত করুন।’

ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ‘প্রশাসন এখনই যেন অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোড়ালো করে। না হলে আবুল বাশারদের মতো প্রার্থীরা নির্বাচনের দিন অস্ত্রের ঝনঝনানি বাড়াবে।’

এনসিপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুরের অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার খান নির্বাচনী এলাকায় বিপুল পরিমাণ কালো টাকা ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছেন। তার ভাষ্য, টাকা ছড়িয়ে সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করার পাশাপাশি সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আমাকে জানিয়েছে, ‘‘আবুল বাশারের কালো টাকার দাপটে এ আসনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে’’।

স্থানীয়রা বলছে, আবুল বাশারের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত সন্ত্রাসী সজিবের অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার প্রমাণ করে যে তিনি পরিকল্পিতভাবেই শক্তি প্রদর্শনের পথে হাঁটছেন। তাদের মতে, অস্ত্র, টাকা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচনী মাঠ দখলের এই কৌশল গণতন্ত্রের জন্য ভয়ংকর বার্তা দিচ্ছে। তারা মনে করেন, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আবুল বাশারের মতো প্রার্থীদের কারণে ফরিদপুর-১ আসনে ভোটের দিন সহিংসতা ও অনিয়ম আরও বাড়তে পারে।

বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-১ আসনে, বিশেষ করে মধুখালী উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বাশার কালো টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন জেলা থেকে লোক ভাড়া করে এনে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তিনি কিছু মিডিয়াকে ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অন্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। নাসিরুল ইসলামের দাবি, জামালপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশারের পক্ষে মধুখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘোরাফেরা করছে, যার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রমূলক ও অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে।

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর