খুঁজুন
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুর-১: শপথ শেষে এলাকায় এমপি ইলিয়াস মোল্লা, ফুলেল বরণে উন্নয়নের অঙ্গীকার

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
ফরিদপুর-১: শপথ শেষে এলাকায় এমপি ইলিয়াস মোল্লা, ফুলেল বরণে উন্নয়নের অঙ্গীকার

ফরিদপুর-১ (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা শপথ গ্রহণ শেষে নিজ এলাকায় ফিরে উষ্ণ সংবর্ধনা পেয়েছেন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় মধুখালী উপজেলায় পৌঁছালে উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে ভরে ওঠে।

এমপি ইলিয়াস মোল্লা তার সফরের অংশ হিসেবে মধুখালী উপজেলার গাজনা ও রায়পুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে স্বাগত জানাতে ভিড় করেন এবং নানা প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। জনতার এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মধুখালী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আলীমুজ্জামান, পৌর আমির মাওলানা রেজাউল করিম, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নওশের চৌধুরী, পৌর সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা হেমায়েতুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল হোসেনসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া যুব বিভাগ ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, “ফরিদপুর-১ আসনে অতীতে যারা সংসদ সদস্য ছিলেন, তারা মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তবে এখনও অনেক উন্নয়নমূলক কাজ বাকি রয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের সম্পদ রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধি। রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিকসহ নিম্নআয়ের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তাদের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।”

নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য উন্নয়ন ও সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান তিনি বাস্তবমুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দিতে চান। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের আশা, নতুন এমপির নেতৃত্বে ফরিদপুর-১ আসনে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন।

“২০ ফেব্রুয়ারি ফুল দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি চালানো”—ছাত্রদল সভাপতির বিস্ফোরক ফেসবুক স্ট্যাটাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৯ এএম
“২০ ফেব্রুয়ারি ফুল দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি চালানো”—ছাত্রদল সভাপতির বিস্ফোরক ফেসবুক স্ট্যাটাস

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকৃত দিবসের আগের দিন অর্থাৎ ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে তা ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তিনি তার আগের স্ট্যাটাসের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান।

সৈয়দ আদনান হোসেন অনু তার পোস্টে বলেন, তিনি আগেই উল্লেখ করেছিলেন যে, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভোরে, লোকচক্ষুর আড়ালে ফুল দিয়ে যায় এবং পরে সেটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি হিসেবে চালানোর চেষ্টা করে। তার দাবি, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে বিভিন্ন হামলা ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত ১৭ বছরে স্বাভাবিকভাবে কর্মসূচি পালনের সুযোগ খুবই সীমিত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, প্রতিটি নবীনবরণসহ নানা আয়োজনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন এবং রক্ত ঝরেছে।

ছাত্রদল সভাপতি দাবি করেন, অতীতে একাধিকবার তাকে রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। তবুও প্রতিটি হামলার জবাব তারা প্রতিরোধের মাধ্যমে দিয়েছেন। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে ‘ভয়ভীতির পরিবেশ’ তৈরি করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য প্রকৃত আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে চলছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সৈয়দ আদনান হোসেন অনু বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে এবং দলটি গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দাবি করেন, তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনায় তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী এবং শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা চান না।

সবশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে কোনো ধরনের উসকানি বা সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। ফরিদপুরকে অস্থিতিশীল করার কোনো চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

রমজানে হজমের ঝামেলা? যে খাবারেই মিলবে সহজ সমাধান

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৫ এএম
রমজানে হজমের ঝামেলা? যে খাবারেই মিলবে সহজ সমাধান

রমজান মাসে বদহজম বা হজমের সমস্যা খুব সাধারণ। এ সময় দীর্ঘক্ষণ উপবাসের পর ইফতার ও রাতে একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়ার কারণে পেট ভারি মনে হতে পারে।

এছাড়া দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ বেশি বা ভারী খাবার খেলে বদহজম, গ্যাস, বুকজ্বালা— এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বদহজম ঠেকাতে কিছু খাবার এবং অভ্যাস মেনে চলা উচিত।

বদহজম এড়াতে খাবার—

সহজ হজমযোগ্য খাবার

ভাত, রুটি, সেদ্ধ আলু, ওটস, ডাল

সবজি (হালকা ভাজা বা সিদ্ধ)

মাছ বা হালকা মাংস

প্রাকৃতিক ফাইবার যুক্ত খাবার-

শসা, গাজর, কুমড়া, লাউ

ফল যেমন কলা, আপেল (চামড়া ছাড়িয়ে)

গুটখোলা বাদাম ও বীজ (যদি পেট সহ্য করে)

দুগ্ধজাত ও হালকা প্রোটিন-

দই, ছানা, লো-ফ্যাট দুধ

পর্যাপ্ত পানি-

ইফতার ও সাহরির মধ্যে প্রচুর পানি পান করা।

খুব ঠান্ডা পানি হঠাৎ খাওয়া এড়াতে হবে।

যা এড়ানো ভালো-

তেলতেলে, ভাজাপোড়া ও মশলাদার খাবার

অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনির খাবার

অনেক কফি বা চা

অভ্যাস-

ছোট ছোট পরিমাণে খাওয়া, হঠাৎ বেশি খাবার খাওয়া এড়ানো

ধীরে ধীরে খাওয়া, ভালোভাবে চিবানো

খাবারের পরে হালকা হাঁটা বা বসে বিশ্রাম নেওয়া

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে ‘কাচ্চি বাড়ি’ রেস্টুরেন্টের জমকালো উদ্বোধন, নতুন স্বাদের সংযোজন

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৩ এএম
ফরিদপুরে ‘কাচ্চি বাড়ি’ রেস্টুরেন্টের জমকালো উদ্বোধন, নতুন স্বাদের সংযোজন

ফরিদপুর শহরের জনতা ব্যাংকের মোড়ে নবনির্মিত আধুনিক রেস্টুরেন্ট ‘কাচ্চি বাড়ি’র উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে রেস্টুরেন্টটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে রেস্টুরেন্ট প্রাঙ্গণে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ফরিয়ান ইউসুফ। এসময় তিনি বলেন, “ফরিদপুরবাসীর জন্য উন্নতমানের খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই এই রেস্টুরেন্টটি শহরের একটি নির্ভরযোগ্য খাবারের ঠিকানা হয়ে উঠুক।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ, রেজাউল করিম এবং কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. আলতাফ হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে রেস্টুরেন্টের সার্বিক উন্নতি, সফলতা ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ময়েজ মসজিদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা কবির আহমেদ।

রেস্টুরেন্টটির আধুনিক ও মনোরম পরিবেশ ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ‘কাচ্চি বাড়ি’তে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি কাচ্চি, বিরিয়ানি, কাবাব, নান-রুটি ও বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক আইটেম পরিবেশন করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এখানে রয়েছে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা এবং উন্নতমানের সার্ভিস।

উদ্বোধনের দিন থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকরা আশা করছেন, ‘কাচ্চি বাড়ি’ খুব দ্রুতই ফরিদপুরের জনপ্রিয় খাবারের একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হিসেবে পরিচিতি পাবে।