খুঁজুন
, ,

“২০ ফেব্রুয়ারি ফুল দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি চালানো”—ছাত্রদল সভাপতির বিস্ফোরক ফেসবুক স্ট্যাটাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
“২০ ফেব্রুয়ারি ফুল দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি চালানো”—ছাত্রদল সভাপতির বিস্ফোরক ফেসবুক স্ট্যাটাস

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকৃত দিবসের আগের দিন অর্থাৎ ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে তা ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তিনি তার আগের স্ট্যাটাসের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান।

সৈয়দ আদনান হোসেন অনু তার পোস্টে বলেন, তিনি আগেই উল্লেখ করেছিলেন যে, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভোরে, লোকচক্ষুর আড়ালে ফুল দিয়ে যায় এবং পরে সেটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি হিসেবে চালানোর চেষ্টা করে। তার দাবি, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে বিভিন্ন হামলা ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত ১৭ বছরে স্বাভাবিকভাবে কর্মসূচি পালনের সুযোগ খুবই সীমিত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, প্রতিটি নবীনবরণসহ নানা আয়োজনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন এবং রক্ত ঝরেছে।

ছাত্রদল সভাপতি দাবি করেন, অতীতে একাধিকবার তাকে রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। তবুও প্রতিটি হামলার জবাব তারা প্রতিরোধের মাধ্যমে দিয়েছেন। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে ‘ভয়ভীতির পরিবেশ’ তৈরি করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য প্রকৃত আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে চলছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সৈয়দ আদনান হোসেন অনু বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে এবং দলটি গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দাবি করেন, তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনায় তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী এবং শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা চান না।

সবশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে কোনো ধরনের উসকানি বা সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। ফরিদপুরকে অস্থিতিশীল করার কোনো চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ফরিদপুরে ট্রেনের ছাদে দৌড়াদৌড়ির সময় গাছের ডালের ধাক্কায় কিশোর নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ট্রেনের ছাদে দৌড়াদৌড়ির সময় গাছের ডালের ধাক্কায় কিশোর নিহত

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চলন্ত ট্রেনের ছাদে উঠে দৌড়াদৌড়ি করার সময় গাছের ডালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে জাহিদুল (১২) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এতে সাজেদুল শেখ নামে অপর এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের চতুল উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত জাহিদুল বোয়ালমারীর ময়না ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের মিল্টন শেখের ছেলে। আহত সাজেদুল একই গ্রামের কাইয়ুম শেখের ছেলে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাটিয়াপাড়া থেকে রাজবাড়ীগামী ‘ভাটিয়াপাড়া এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ছাদে উঠে জাহিদুল ও সাজেদুল দৌড়াদৌড়ি করছিল। ট্রেনটি চতুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে রেললাইনের পাশের একটি কাঁঠালগাছের ঝুলন্ত ডালের সঙ্গে দু’জনের সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে তারা ট্রেনের ছাদ থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান। জাহিদুল ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। স্থানীয়রা আহত সাজেদুলকে উদ্ধার করে দ্রুত বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

​বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তমাল কৃষ্ণ রায় জানান, সাজেদুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

​দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার রয়েল আহমেদ জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যেহেতু দুর্ঘটনাটি রেলপথে ঘটেছে, তাই এটি রেলওয়ে পুলিশের এখতিয়ারাধীন। রাজবাড়ী রেলওয়ে থানাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

​রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হয়েছে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

সালথায় ২৮৫ সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া, উপজেলাটির ভাগ্য বদলের পথে ইউএনও দবির উদ্দিন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
সালথায় ২৮৫ সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া, উপজেলাটির ভাগ্য বদলের পথে ইউএনও দবির উদ্দিন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিনের চলাচল দুর্ভোগ কমিয়ে মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে ব্যাপক গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৮৫টি এইচবিবি ও সোলিং সড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হওয়ায় বদলে যেতে শুরু করেছে যোগাযোগব্যবস্থা। আর এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে রয়েছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

২০২৬ সালের ৩ মার্চ সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দবির উদ্দিন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ এবং উন্নয়ন বঞ্চিত সড়কগুলোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সালথা উপজেলায় রয়েছে আটটি ইউনিয়ন—রমকান্তপুর, যদুনন্দী, গট্টি, ভাওয়াল, আটঘর, মাঝারদিয়া, বল্লভদী ও সোনাপুর। প্রায় দুই লাখ মানুষের এই উপজেলায় গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় সরাসরি সুফল পেতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে কাঁচা ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে অনেক গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়া, রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো—সব ক্ষেত্রেই ছিল নানা প্রতিবন্ধকতা। বিশেষ করে বর্ষাকালে অনেক এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ত।

এখন ২৮৫টি রাস্তার এইচবিবি ও সোলিং হওয়ায় সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। গ্রামের সঙ্গে হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা সদরের যোগাযোগ সহজ হচ্ছে। কৃষকরা কম সময়ে ও কম খরচে তাদের কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছেন। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও হচ্ছে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও সহজ হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি রাস্তা শুধু চলাচলের পথ নয়; এটি একটি এলাকার অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ভালো যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয় এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হয়। সেই বিবেচনায় সালথার এসব সড়ক উন্নয়নকে অনেকেই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্থানীয় উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় তিনি প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সড়ক উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি চেষ্টা করেছি উপজেলার সাধারণ মানুষের সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হলে মানুষের জীবনযাত্রার প্রায় সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তাই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমাতে আমরা সড়ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছি।”

তিনি বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের আন্তরিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন ভাবনার কারণে এসব কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু রাস্তা নির্মাণ নয়, মানুষের জীবনকে সহজ করা এবং উন্নয়নের সুফল প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।”

দবির উদ্দিন আরও বলেন, “সালথার প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষের উন্নয়ন চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

প্রশাসনের উদ্যোগ, জনপ্রতিনিধির সহযোগিতা এবং স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা—এই তিনের সমন্বয়ে এখন বদলে যাচ্ছে সালথার গ্রামীণ জনপদের চিত্র। ২৮৫টি সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া শুধু যোগাযোগ সহজ করেনি, নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে প্রায় দুই লাখ মানুষকে। অনেকের চোখে, এটি সালথার উন্নয়নের পথে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের নগরকান্দায় স্ত্রী কহিনুর বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী লিটন মিয়া ওরফে লিটুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ফরিদপুরের একটি আদালত। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

​এছাড়া মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে লুকানোর অভিযোগে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তাকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

​বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের পারিবারিক আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, আসামির উভয় সাজা একসাথে কার্যকর হবে।

​সাজাপ্রাপ্ত লিটন মিয়া ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার শশা উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে।

​মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে শশা উত্তরপাড়া এলাকার লিটন মিয়ার সাথে কহিনুর বেগমের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে কহিনুরকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন লিটন ও তার পরিবারের সদস্যরা। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকে।

​একপর্যায়ে প্রথম স্ত্রীকে কিছু না জানিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেন লিটন। এরপর কহিনুর ও তার সন্তানদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন তিনি। এমনকি বাড়ি না ছাড়লে কহিনুরকে মেরে মরদেহ গুম করারও হুমকি দেওয়া হয়।

​পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৭ আগস্ট রাতে কহিনুর তার মেয়েকে নিয়ে একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেয়ের ঘুম ভেঙে গেলে সে মাকে বিছানায় দেখতে না পেয়ে পাশের ঘরে থাকা ভাইকে জানায়। ভোরে স্বজনেরা বাড়ির দক্ষিণ পাশে পুকুরের উত্তর পাড়ে কহিনুরের নিথর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

​এ ঘটনায় নগরকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

​রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আজিজুর রহমান পিকু বলেন, “আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামির বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সার্বিক বিচার বিশ্লেষণ শেষে বিচারক তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এতে আমরা সন্তুষ্ট প্রকাশ করছি।”