খুঁজুন
, ,

‘একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট চাই’: শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
‘একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট চাই’: শামা ওবায়েদ

নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে ভোটারদের মাঝে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন একই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে জরুরী সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমানে আমার নির্বাচনী এলাকা স্বাভাবিক আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন, তাদের ভূমিকা পালন করছেন। আমাদের কিছু সংশয় আছে। কিন্তু গত কয়েকদিন যা ঘটেছে, তা সংবাদ মাধ্যমকে আমার জানানো দরকার বলে আমি মনে করছি।

তিনি বলেন, গতকাল (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২ টার দিকে নগরকান্দার চরযোশর্দী ইউনিয়নের আলগাদিয়া ও সালথার রামকান্তুপুর এবং বাহিরদিয়া গ্রামসহ কিছু কিছু জায়গায় জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থীর লোকজন ভোটারদের মাঝে টাকা-পয়সা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আমাদের কর্মীরা তাদের বাধা দিলে তারা পালিয়ে যায়। বিষয়টি আমার কর্মীরা আমাকে জানান।

শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা সকল প্রার্থীকে সম্মান করি। সকলের নির্বাচন প্রচার-প্রচারণা করার অধিকার আছে। আমরা ভোট চাবো। ভোট চাওয়ার অধিকার সবার আছে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে ভোট কেনার জন্য তারা নেমেছে। এটা নেক্কারজনক ঘটনা। এতে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও কলুষিত করা হচ্ছে। আমি এর প্রতিবাদ করছি। আমি এই ঘটনাটি প্রশাসন সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তিনি বলেন, আজ (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতেও আমার নির্বাচনী এলাকায় তারা টাকা ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। সংবাদকর্মী ও এলাকাবাসীকে আমি বলব আপনারা সতর্ক থাকবেন, কেউ যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটাতে পারে।

শামা ওবায়েদ অভিযোগ করে বলেন, গত ৩-৪ দিন ধরে দেখছি জামায়াতের লোকজন আমাদের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করছেন। যেই অভিযোগের কোন ভিত্তি নাই।প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ দিয়েছে। সেনাবাহিনী তদন্ত করে দেখেন অভিযোগের কোনো প্রমাণ নাই। ধানের শীষের অবস্থান যেসব এলাকায় শক্ত, সেইসব এলাকার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি এ ধরনের কাজ যারা করছে তারা আমাদের বিএনপি নেতাকর্মীদের হেনস্থ করার জন্য এটা করছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, আমি সকল প্রার্থীদের অনুরোধ করবো সুষ্ঠু ভোটে আসেন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমরা প্রচারণা চালিয়েছি। একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট চাই। যেই ভোটের জন্য আমরা ১৮ বছর লড়াই করেছি। সেই ভোটাধিকার যেন নষ্ট না করি। ডক্টর ইউনুসের অধীনে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক।

তিনি বলেন, সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে। যেসব এলাকায় সংখ্যালঘুদের ভোট বেশি সেসব এলাকার ভাই-বোনেরা নির্ভয়ে যাতে ভোট দিতে পারে, নির্বাচন কমিশনের সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

ফরিদপুর-২ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোননীত প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলী বলেন, আমার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোটারদের মাঝে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ সঠিক নয়। এটা মিথ্যা অভিযোগ। আমি টাকা পাবো কোথায়। আমি নিজেই মানুষের টাকায় নির্বাচন করছি। আমরা কর্মীরা নিজেদের টাকা খরচ করে চলছে। নির্বাচনের পরিবেশ ভাল আছে বলেও জানান তিনি।

ফরিদপুরে কাঁঠাল গাছের নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কাঁঠাল গাছের নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু

ফরিদপুর সদর উপজেলার খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রামে বৃষ্টির সময় কাঁঠাল গাছের নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে বজ্রপাতে সাব্বির মোল্লা (১৭) নামে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধু অলৌকিকভাবে অক্ষত রয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাব্বির মোল্লা খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রামের কাশেম মোল্লার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বৃষ্টি শুরু হলে সাব্বির তার দুই বন্ধুকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি কাঁঠাল গাছের নিচে বসে ছিল। এ সময় হঠাৎ গাছের পাশেই বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনজনই ছিটকে পড়ে। এতে সাব্বির গুরুতর আহত হলেও তার দুই বন্ধু প্রাণে বেঁচে যায় এবং তারা সুস্থ রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত সাব্বিরকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “বজ্রপাতে এক কিশোরের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার দায়ে মো. লালন মোল্লা (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে পুলিশি প্রহরায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত লালন মোল্লা ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী সাজেদা বেগম (৪০) ছিলেন বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামের বাসিন্দা।

২০০৪ সালে সাজেদা বেগমকে বিয়ে করেন লালন মোল্লা। এটি ছিল লালনের দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রীর সংসারে তার এক ছেলে সন্তান রয়েছে। তবে সাজেদা-লালন দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই মাদক কেনার টাকার জন্য স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দিতে চাপ দিতেন লালন। নির্যাতনের মুখে কয়েক দফায় সাজেদা বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিলেও তা বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ ২০২২ সালের ৯ আগস্ট তিনি স্ত্রীর কাছে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তাকে একাধিকবার মারধর করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে স্ত্রী সাজেদা বেগমকে হত্যা করেন লালন মোল্লা।

ঘটনার দিনই নিহতের ছোট বোন মাজেদা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় লালন মোল্লাকে একমাত্র আসামি করা হয়।

মামলাটির তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাস। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে লালন মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিতেই আদালত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ রায় সমাজে যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং সম্ভাব্য অপরাধীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

টানা ৭ দিনের বৃষ্টিতে ফরিদপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত, ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১০৫ মিমি বৃষ্টিপাত

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ
টানা ৭ দিনের বৃষ্টিতে ফরিদপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত, ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১০৫ মিমি বৃষ্টিপাত

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে টানা সাত দিনের ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে ফরিদপুরের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কর্মজীবনেও এর প্রভাব পড়েছে।

ফরিদপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় সর্বোচ্চ ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর গত সাত দিনে মোট ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে জেলার অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।

টানা বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার এলাকা এবং আবাসিক এলাকার নিচু স্থানগুলোতে পানি জমে রয়েছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় রিকশা ও ছোট যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষের আয়-রোজগারও কমে গেছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে আমন ধানের বীজতলা ও শাকসবজির ক্ষেতে পানি জমে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী ১৮ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাঝে মাঝে ভারী বর্ষণ ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই অপ্রয়োজনে জলাবদ্ধ এলাকায় চলাচল না করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।