খুঁজুন
, ,

সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০০

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০০

ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসময় বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়াগট্টি বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় নুরু মাতুব্বর ও জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র ঢাল, সরকি, ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। এসময় আরও কয়েক গ্রামের লোকজন এ সংঘর্ষে যোগ দেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০০ জন আহত হয়। আহতদের ফরিদপুরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এসময় বেশ কিছু বাড়ি-ঘর, দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ওসির দায়িত্বে থাকা সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মারুফ হাসান বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মিলে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবো।

ফরিদপুরে ১১ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়ন, প্রতিবেশীর ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ১১ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়ন, প্রতিবেশীর ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত হাফিজুর রহমান মোল্লা (৫৫) ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা।

আদালত সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ মে দুপুরে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১১ বছর বয়সী শিশুটি নিজ বাড়িতে একা ছিল। এ সুযোগে প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান বাড়িতে প্রবেশ করে শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে যৌন নিপীড়ন চালায়। এ সময় শিশুটি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পরে শিশুটির মা বাড়িতে ফিরে এলে মেয়েটি পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরদিন ১৬ মে শিশুটির মা বাদী হয়ে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হাফিজুর রহমানকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবির আহমেদ। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৭ জুন তিনি হাফিজুর রহমানকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, “আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে ন্যায়সঙ্গত রায় দিয়েছেন। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।”

ফরিদপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান, বন্ধ ৫ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান, বন্ধ ৫ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

ফরিদপুরে অব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন এবং অনুমোদন (লাইসেন্স) ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকা রোগীদের দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা অন্য উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান ও নাজমুন নাহার নাঈমসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকো হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লিলি প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হলিসিটি প্রাইভেট হাসপাতাল এবং মা-মনি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল এবং কোথাও কোথাও গুরুতর অব্যবস্থাপনা ও মানদণ্ড লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালটির নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে আসে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে অস্ত্রোপচার কক্ষের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, রোগীদের বেডে প্রয়োজনীয় মনিটরের অভাব, ৩০ শয্যার হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স না থাকা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ত্রুটি দেখতে পান কর্মকর্তারা।

এসব অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কার্যক্রমসহ পুরো হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি ওই অস্ত্রোপচারে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ডা. আতিকুল আহসানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান বলেন,“যেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান, তা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। তাই এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “যিনি অস্ত্রোপচার করেছেন তিনি একজন অভিজ্ঞ সার্জন ও সহকারী অধ্যাপক। তবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে অস্ত্রোপচার করা তাঁর উচিত হয়নি। বিষয়টি তদন্তের আলোকে তাঁর বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সালথায় পাটের গাইট মাথায় নিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
সালথায় পাটের গাইট মাথায় নিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পাটের গাইট মাথায় নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মিরাজ শেখ (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মিরাজ ওই গ্রামের বাবুল শেখের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশের জমিতে ধৌত করা পাটের গাইট মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরছিল মিরাজ। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম মোল্লা বজ্রপাতে মিরাজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে বা উন্মুক্ত স্থানে কাজ করার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।