খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুর-৩: নায়বা ইউসুফের হলফনামায় নগদ ৩৭ লাখ, কৃষিজমি ২৫০ শতাংশ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৬ এএম
ফরিদপুর-৩: নায়বা ইউসুফের হলফনামায় নগদ ৩৭ লাখ, কৃষিজমি ২৫০ শতাংশ

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়বা ইউসুফ আহমেদ। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তাঁর হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত তথ্য, আয়-ব্যয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক।

হলফনামা অনুযায়ী, নায়বা ইউসুফ আহমেদ ১৯৭০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও শাইলা কামালের কন্যা। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তালাকপ্রাপ্ত। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ফরিদপুর পৌরসভার কুঠিবাড়ী কমলাপুর এলাকায় অবস্থিত ‘ময়েজ মঞ্জিল’।

শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে নায়বা ইউসুফ আহমেদ বি.কম (পাস) ডিগ্রিধারী। পেশা হিসেবে তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবে হলফনামায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম বা বিবরণ দেননি। তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৮ লক্ষ ৯৫ হাজার ১৫১ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, নায়বা ইউসুফ আহমেদের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩৭ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা। বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁর জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৬ লক্ষ ২০ হাজার ৩৯৬ টাকা। পাশাপাশি তাঁর নামে ১ লক্ষ ২৭ হাজার ১০ টাকার বন্ড রয়েছে। স্বর্ণালংকার হিসেবে তিনি ২৫ ভরি স্বর্ণের মালিক বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্য ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। তবে সঞ্চয়পত্র কিংবা কোনো ফিক্সড ডিপোজিট নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রেও নায়বা ইউসুফ আহমেদের উল্লেখযোগ্য মালিকানা রয়েছে। তাঁর নামে কৃষিজমি রয়েছে মোট ২৫০ শতাংশ এবং অকৃষি জমির পরিমাণ ১২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। পাশাপাশি তিনি একটি ৫০০ বর্গফুট আয়তনের দোকানের এক চতুর্থাংশের মালিক। আবাসিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে তিনি সাড়ে ৫ তলা বিশিষ্ট একটি ভবনের এক চতুর্থাংশ অংশের মালিকানা দেখিয়েছেন।

আয়কর সংক্রান্ত তথ্যেও তাঁর হলফনামায় বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। আয়কর বিবরণীতে তিনি মোট ৪৭ লক্ষ ৯৩ হাজার ৪০৬ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। এর বিপরীতে প্রদত্ত আয়কর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৭৪৬ টাকা। হলফনামায় তাঁর বা তাঁর ওপর নির্ভরশীল কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা দণ্ডাদেশের তথ্য নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক পরিচয়ে নায়বা ইউসুফ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা জানান দলীয় নেতারা।

ফরিদপুর সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর মনোনয়ন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নারী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে তাঁর উপস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মামলা না থাকা, তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ সম্পদ বিবরণী এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা তাঁকে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

এদিকে নায়বা ইউসুফ আহমেদ হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, নির্বাচিত হলে তিনি ফরিদপুর সদর এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে চান। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও স্থানীয় সমস্যা জাতীয় সংসদে তুলে ধরার অঙ্গীকারও রয়েছে তাঁর নির্বাচনী ভাবনায়।

সব মিলিয়ে ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির এই নারী প্রার্থীর নির্বাচনী হলফনামা থেকে পাওয়া তথ্য ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। স্বচ্ছতা, মামলা-মুক্ত রাজনৈতিক পরিচয় ও উল্লেখযোগ্য সম্পদের তথ্য নিয়ে নায়বা ইউসুফ আহমেদ কতটা আস্থা অর্জন করতে পারেন—সেই দিকেই এখন তাকিয়ে ফরিদপুর সদরের ভোটাররা।

 

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।