খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর-৪: ৩০ বছরের আওয়ামী দুর্গ ভেঙে দিলেন বাবুল, গড়লেন রেকর্ড

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর-৪: ৩০ বছরের আওয়ামী দুর্গ ভেঙে দিলেন বাবুল, গড়লেন রেকর্ড

রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে প্রায় তিন দশক পর জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, বাবুল পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট। ফলে ৫১ হাজার ৬৮৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন বাবুল। ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ ভোট ব্যবধানে জয়।

এই আসনে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সরোয়ারজান মিয়া বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর টানা চারটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা শুধু পরাজিতই হননি, বরং জামানতও হারিয়েছেন। দীর্ঘদিনের সেই পরাজয়ের ধারাকে ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন শহিদুল ইসলাম বাবুল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় কেবল একটি আসনের ফলাফল নয়; বরং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকায় বিএনপির এমন জয় দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিকভাবে নতুন এলাকা হওয়া সত্ত্বেও অল্প সময়ের মধ্যে বাবুল নিজেকে একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। তিনি দলীয় কোন্দল নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন। পাশাপাশি ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের নেতাদের সঙ্গেও তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেন, যা তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় একাধিক জনসভায় বাবুল বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে তিনি এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন। নিজের রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি এলাকাবাসীর কাছে ভোট ও সমর্থন চান। তার সরলতা, নম্র আচরণ এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখে।

বিজয়ের পরদিন (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভাঙ্গায় এসে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বাবুল বলেন, “আমি কৃষক পরিবারের সন্তান। শূন্য হাতে আপনাদের কাছে এসেছিলাম। আপনারা আমাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। আপনাদের সঙ্গে আমার আত্মার বন্ধন তৈরি হয়েছে। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আপনাদের পাশে থাকব।”

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন ও শান্তির স্বার্থে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি এলাকায় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এই বিজয় শুধুমাত্র একজন প্রার্থীর নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আগামী দিনে এই পরিবর্তন ফরিদপুরের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উল্টে থাকা ডিমবোঝাই ট্রাকে বাসের ভয়াবহ ধাক্কা, নিহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উল্টে থাকা ডিমবোঝাই ট্রাকে বাসের ভয়াবহ ধাক্কা, নিহত ৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে উল্টে থাকা একটি ডিমবোঝাই ট্রাকে যাত্রীবাহী বাসের সজোরে ধাক্কায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৭টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী এলাকায় এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, একটি ডিমবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ডিম ও মালামাল সরিয়ে নিতে এবং ট্রাকটি উদ্ধারে সহযোগিতা করছিলেন। এ সময় ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছিল।

এমন সময় খুলনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে উল্টে থাকা ট্রাক ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত লোকজনকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’কে বলেন, “আমাদের হাসপাতালে আনার পর একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “এ পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলে এবং একজন হাসপাতালে মারা গেছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।”

তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।

ফরিদপুরে কমেছে হামের গতি, ২৪ ঘণ্টায় নেই নতুন রোগী

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কমেছে হামের গতি, ২৪ ঘণ্টায় নেই নতুন রোগী

ফরিদপুর জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় (১০ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ১১ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন কোনো সন্দেহভাজন হাম (মিজলস) রোগী শনাক্ত হয়নি। একই সময়ে হামে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। দীর্ঘদিন ধরে চলমান হাম পরিস্থিতির মধ্যে এটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলেও শিশুদের টিকাদান ও সতর্কতা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত ফরিদপুরে মোট ৩ হাজার ৫২৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১০ জনের শরীরে হাম রোগের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

এছাড়া চিকিৎসাসেবা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৯৯৭ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ হাজার ৪০৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে, বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২৭ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৪ জনসহ মোট ৭১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো নতুন রোগী ভর্তি হননি এবং কোনো রোগীকে ছাড়পত্রও দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

চিকিৎসারা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারেন। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে র‌্যাশ হামের প্রধান উপসর্গ। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত না হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক দিক। তবে এতে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। অভিভাবকদের অবশ্যই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বর, শরীরে লালচে র‌্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।”

ফরিদপুরের মধুখালী প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি এমপি হেলেন জেরিন খানের

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালী প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি এমপি হেলেন জেরিন খানের

ফরিদপুরের মধুখালী প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৮টায় মধুখালী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনিরুজ্জামান মৃধা (মন্নু)।

সভা সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হোসেন পলাশ এবং সহ-সভাপতি মো. মতিয়ার রহমান মিয়া।

সভার শুরুতে প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হোসেন পলাশ। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রেস ক্লাবে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ এবং প্রেস ক্লাবের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান বলেন, “আমি নিজে রাস্তার অবস্থা দেখেছি। রাস্তা নির্মাণে যা যা প্রয়োজন, তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। পাশাপাশি মধুখালী প্রেস ক্লাবের উন্নয়নেও আমি কাজ করব।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মধুখালী প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ সতেজ, মো. হায়দার আলী মোল্লা, মো. আব্দুল আলিম মানিক, মো. ইয়াসিন বিশ্বাস, মো. মোক্তার হোসেন, মো. তারিকুল ইসলাম এনামুল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রাকিবুল ইসলাম রিপনসহ প্রেস ক্লাবের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।