খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় মা ও শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় মা ও শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের চর বালুধুম এলাকায় মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় এক মা ও তার শিশু সন্তানের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকাল ৫টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চরাঞ্চলের একটি নির্জন পুকুর পাড়ে কুকুরে লাশ টানাটানি করার সময় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন সেখানে গিয়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় মরদেহের অংশবিশেষ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মাটি খুঁড়ে এক নারী ও একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহগুলো আংশিক গলিত ও বিকৃত অবস্থায় ছিল।

ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, কয়েকদিন আগে দুর্বৃত্তরা মা ও শিশুকে হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে মাটিচাপা দিয়ে রাখে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে, নিহতদের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।

জমি নিয়ে বিরোধে সালথায় চাচা-ভাতিজার সংঘর্ষ, আহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
জমি নিয়ে বিরোধে সালথায় চাচা-ভাতিজার সংঘর্ষ, আহত ৪

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন— উচমান (৬০), কবির শেখ (৪৫), মোরসালিন শেখ (২৮) ও হুমাই শেখ। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি-জমা নিয়ে চাচা-ভাতিজাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এসময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে চারজন আহত হন।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভাঙ্গায় দাঁড়িয়ে থাকা কভারভ্যানে পিকআপের ধাক্কা : চালক ও হেলপার নিহত

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় দাঁড়িয়ে থাকা কভারভ্যানে পিকআপের ধাক্কা : চালক ও হেলপার নিহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কভার ভ্যানের পেছনে পিকআপ ভ্যানের সজোর ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোর ৪টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের পুলিয়া ফ্লাইওভার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, পিকআপ চালক প্রবীর রায় চৌধুরী (৩৬) ও হেলপার জুয়েল (১৮)।

নিহত প্রবীর রায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার বৈরাগী কুমার এলাকার শিশির রায়ের ছেলে এবং হেলপার জুয়েল কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীজার গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেট্রো-ট ২০-২১৪০ নম্বরের একটি মালবাহী কভার ভ্যান মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় একই দিকে ঢাকাগামী ঢাকা মেট্রো-ন ১৫-৫৫০৯ নম্বরের একটি ছোট পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে কভার ভ্যানটির পেছনে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে কভার ভ্যানের নিচে ঢুকে যায়। ঘটনাস্থলেই চালক ও তার সহকারী নিহত হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার রাত্রিকালীন টহল দল, ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস এবং শিবচর হাইওয়ে থানার এসআই আব্দুস সালামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর পিকআপের ভেতর আটকে থাকা মরদেহ উদ্ধার করে ভোর ৫টার ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনে পর্যাপ্ত সতর্ক সংকেত না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে এক্সপ্রেসওয়েতে দ্রুতগতির যানবাহনের চালকদের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন স্থানে বিকল বা থেমে থাকা যানবাহনে অনেক সময় রিফ্লেক্টর, লাল বাতি কিংবা সতর্কতামূলক সংকেত ব্যবহার করা হয় না। ফলে রাতের অন্ধকারে দূর থেকে এসব যানবাহন শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। নিহতদের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন শিবচর হাইওয়ে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শিবচর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বলেন, দুর্ঘটনায় দুইজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নামাজে শয়তানের ‘কুমন্ত্রণা’ থেকে বাঁচার সহজ উপায়

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
নামাজে শয়তানের ‘কুমন্ত্রণা’ থেকে বাঁচার সহজ উপায়

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁর ইবাদতের জন্য। আর ইবাদতের শ্রেষ্ঠতম রূপ হলো নামাজ। প্রত্যেক মুসলমানের ওপর এই নামাজ ফরজ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা আমার স্মরণোদ্দেশ্যে নামাজ কায়েম করো।’ (সুরা ত্বহা : ১৪)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তুমি সূর্য হেলার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম করো এবং ফজরের নামাজ (কায়েম করো)। নিশ্চয়ই ফজরের নামাজে সমাবেশ ঘটে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল : ৭৮)

তবে, নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে মনোযোগ হারিয়ে ফেলা বা মনে আজেবাজে চিন্তা আসা অনেক মুমিনের জন্যই এক বড় সমস্যা। ইসলামি পরিভাষায় একে ‘ওয়াসওয়াসা’ বা শয়তানের কুমন্ত্রণা বলা হয়।

নামাজে একাগ্রতা বা খুশু-খুজু বজায় রাখা ইবাদতের প্রাণ। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কোরআন ও হাদিসে অত্যন্ত কার্যকর ও মনস্তাত্ত্বিক কিছু সমাধান দেওয়া হয়েছে।

ওয়াসওয়াসা কি ইমানের লক্ষণ

নামাজে কুচিন্তা আসলে অনেকে ভয়ে পেয়ে যান। ভাবেন, হয়তো তাদের ইমান নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু রাসুল (সা.) আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, এক সাহাবি নবীজি (সা.)-এর কাছে মনের কুমন্ত্রণা নিয়ে অভিযোগ করলে তিনি (সা.) বলেন, ‘এটিই হলো স্পষ্ট ইমান।’ (মুসলিম: ২৪০)

হাদিসটির ব্যাখ্যায় সিলেটের দারুল উলুম কানাইঘাট মাদ্রাসার নায়েবে শায়খুল হাদিস মাওলানা শামছুদ্দীন দুর্লভপুরি বলেন, কুমন্ত্রণা আসা ইমান নষ্ট হওয়ার প্রমাণ নয়, বরং ওই খারাপ চিন্তা নিয়ে আপনার মনে যে ভয় বা ঘৃণা তৈরি হচ্ছে, সেটিই আপনার খাঁটি ইমানের পরিচয়। চোর কখনো খালি ঘরে চুরি করতে যায় না, তেমনি শয়তানও ইমানহীন হৃদয়ে কুমন্ত্রণা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না।

বাঁচার উপায় কী

শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো মহান সৃষ্টিকর্তার সাহায্য চাওয়া। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।’ (সুরা আরাফ: ২০০)

আল-আজহার ফতোয়া কমিটির সাবেক প্রধান শেখ আতিয়্যাহ সাকার (রহ.) এই প্রসঙ্গে একটি সুন্দর উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আপনার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যদি কোনো পালের কুকুর আপনাকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়, তবে লাঠি দিয়ে তাকে ঠেকানো দীর্ঘ ও কষ্টকর কাজ। তার চেয়ে সহজ হলো কুকুরের মালিককে ডাকা, যেন সে কুকুরটিকে থামিয়ে দেয়। শয়তানের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাই, তাকে তাড়াতে সরাসরি লড়াই করার চেয়ে তার মালিক অর্থাৎ আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া বেশি কার্যকর। (আতিয়্যাহ সাকার, ফাতাওয়া আল-আজহার: ১০/১২০, দারুত তাইয়িবাহ, রিয়াদ: ১৯৯৯)

নামাজে মনোযোগ ফেরাতে করণীয়

নামাজে মনোযোগ ধরে রাখতে এবং শয়তানের প্ররোচনা রুখতে শায়খ শামছুদ্দীন কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:

ইস্তিগফার ও দোয়া: নামাজের আগে ও পরে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা যেন তিনি মনকে স্থির রাখেন। বিশেষ করে আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমা অন্তরে জাগ্রত করা যে, আপনি কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন।

দৃঢ় সংকল্প: শয়তান আসবেই—এটি মনে রেখে নিজের মনকে বারবার নামাজের দিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। একবার মনোযোগ চলে গেলে হতাশ না হয়ে পুনরায় সুরা বা জিকিরের অর্থের দিকে খেয়াল করা।

তীব্র অনীহা: কুমন্ত্রণা আসার সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে গুরুত্ব না দেওয়া। শয়তান যখন দেখবে আপনি তার চিন্তায় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না, তখন সে নিরাশ হয়ে পড়বে।

মনে রাখবেন, শয়তানের কোনো ক্ষমতা নেই তাদের ওপর যারা আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে (সুরা হিজর: ৪২)। তাই নামাজে কুমন্ত্রণা আসলে আল্লাহর অসীম দয়া এবং সঠিক কৌশলের মাধ্যমে শয়তানের এই প্রতিবন্ধকতা জয় করার চেষ্টা করতে হবে।

সূত্র : কালবেলা