খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ঈদে সড়কে ঝরল ৬ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ঈদে সড়কে ঝরল ৬ প্রাণ

ফরিদপুরে পবিত্র ঈদুল আযহায় ঘুরতে বেরিয়ে ও বাড়ি ফেরার পথে পৃথক চারটি দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়েছেন৷ নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই তরুণ বয়সের। ঈদের আগের দিন (২৭ মে) বিকাল থেকে ঈদের দিন (২৮ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশ জানিয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়ে আরও আটজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানা যায়, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার সুয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী আলিমুজ্জামান মাতুব্বর (৫৫) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নিহত হয়েছেন।
নিহত আলিমুজ্জামান জেলার নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের উত্তর কান্দি গ্ৰামের হোসেন মাতুব্বরের ছেলে।

ঘুরতে বেরিয়ে প্রাণ গেল দুই বন্ধুর:

এদিকে বিকাল ৫ টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের জেলার নগরকান্দা উপজেলার নারানখালী ব্রীজ এলাকায় প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী রাজন (১৮) নামের এক যুবক নিহত হয়। এ সময় আহত হয় সাথে থাকা আরেক আরোহী ইব্রাহিম ফকির (১৭)।
গুরুতর আহত অবস্থায় ইব্রাহিম ফকিরকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতরা দুই জনই জেলার মধুখালী উপজেলার নওয়াবাড়ী ঘোষকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। নিহত রাজন শেখ (১৮) হামিদ শেখের ছেলে এবং একই গ্রামের ওয়াসিম ফকিরের ছেলে ইব্রাহিম ফকির (১৭)। ঈদের দিনে তারা বাড়ি থেকে ভাঙ্গা গোল চত্তরে ঘুরতে বের হয়েছিলেন।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মামুন জানান, যুবক রাজন ও ইব্রাহিম মোটরসাইকেল চালিয়ে ভাঙ্গা গোল চত্বরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মহাসড়কের নারাণখালি ব্রীজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্রাইভেটকারটির সামনে অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মোটরসাইকেলটি ছিটকে খাদে পড়ে যায়।

অপরদিকে ঈদের আগের রাত বুধবার (২৭ মে) রাত ১১ টার দিকে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত নিহত হয় দুই যুবক। এ সময় আহত হয় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পূর্ব সদরদী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদী এলাকার কাঞ্চন মোল্লার ছেলে মো. সাইফুল মোল্লা (২৩) ও বরিশাল জেলা সদরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর শরীফের ছেলে আলী ইমরান শরীফ (২৪)।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে বরিশালগামী বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেলের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চার যুবক মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। এ সময় তারা মারাত্মক আহত হন। পুলিশ ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমরান শরীফ ও সাইফুল মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, গত ২৪ ঘন্টায় দুটি মহাসড়কে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঈদের ছুটিতে এসে ঘুরতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের:

এদিকে মহাসড়ক দুটির বাইরে আরও একটি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে উমর শেখ (২১) নামে এক যুবকের। নিহত যুবক ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গড়ানিয়ার গ্রামের দেলোয়ার শেখের ছেলে।

আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ঈদের আগের দিন (২৭ মে) ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে বের হন উমর শেখ। পরে তারা আলফাডাঙ্গা উপজেলার মধুমতি নদী এলাকায় ঘুরতে যান এবং গোসলও করেন। আনন্দ শেষে ফেরার পথে বানা ইউনিয়নের আউষের হাট এলাকায় তাদের বহনকারী নসিমনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন উমর শেখ। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও ৪ থেকে ৫ জন আহত হয়েছেন।

ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা সদরে ভেজাল কালোজিরা বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কেনাবেচার সময় সন্দেহ হলে পরীক্ষা চালিয়ে ভেজালের প্রাথমিক প্রমাণ পান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হলে আনুমানিক চার মণ কালোজিরা ফেলেই সটকে পড়েন কথিত এক বিক্রেতা।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধুখালী বাজারের চার রাস্তার মোড় সংলগ্ন মন্দির প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ওই কালোজিরাগুলো বিনষ্ট করেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আকু বিশ্বাস, মনিরুল বিশ্বাস, ইমামুল বিশ্বাস ইমাম, ইমরান হোসেন ও তৌফিক বিশ্বাসসহ বাজার কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​ব্যবসায়ীরা জানান, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাটের দিনে কয়েকজন কথিত কৃষক কালোজিরা বিক্রি করতে মধুখালী বাজারে আসেন। তারা মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম লটাই বিশ্বাসের ভূষিমালের দোকানে এগুলো বিক্রি করতে নিয়ে যান। মান পরীক্ষা করতে গিয়ে এতে ভেজাল উপাদান মেলানোর সন্দেহ হয় লটাই বিশ্বাসের।

​তিনি কৌশলে ওই বিক্রেতাকে দোকানে বসিয়ে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানান। তবে পুলিশ আসার সুযোগ পেয়ে প্রায় চার মণ কালোজিরা রেখে চতুর বিক্রেতা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

​পরবর্তীতে ভেজাল কালোজিরা বিনষ্ট করার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী এবং মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব এলাহী জানান, দৃশ্যমান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কালোজিরায় ভেজাল উপাদান মেশানোর প্রমাণ মিলেছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনা মসলা গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং ল্যাব টেস্টের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে হাফিজার শেখ (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন হাফিজার শেখ। ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট সকালে কৌশলে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে তিনি প্রথমবার ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত করানো হয়। বিষয়টি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের জানালেও তারা কোনো সুরাহা না করায় বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি চলে যান ভুক্তভোগী।

​পরবর্তীতে ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি। তদন্ত শেষে মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তোফাজ্জল হোসেন আসামি হাফিজার শেখের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন।

​রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই সাজা দিয়েছেন। আদালতের এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে স্কুলমাঠে মাদক সেবন, তিন শ্রমিকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে স্কুলমাঠে মাদক সেবন, তিন শ্রমিকের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অপরাধে তিন নির্মাণশ্রমিককে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাজারপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৪০), একই উপজেলার কোদালকাঠি গ্রামের আশরাফুল (৪৫) এবং ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের বাবুল (৪৭)। তাঁরা সবাই এলাকায় বিভিন্ন নির্মাণকাজের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাথাভাঙ্গা ও মৌলভীরচর এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে মৌলভীরচর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে মাদক সেবনরত অবস্থায় ওই তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী অপরাধ স্বীকার করায় তাঁদের এই দণ্ড দেওয়া হয়।

​অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। জনস্বার্থে এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।