খুঁজুন
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৮ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে প্রাণ গেল দু’জনের, আহত ২০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৩২ পিএম
ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে প্রাণ গেল দু’জনের, আহত ২০

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সুয়াদি এলাকার সিসিপিএল পেট্রোল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা থেকে নড়াইলগামী নড়াইল এক্সপ্রেস নামের বাসটি পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে প্রবেশ করতে ছিল। এমন সময় সামনে থেকে আরেকটি গাড়ি চলে আসলে সেই গাড়ির সাইট দিতে গিয়ে বাসটি উল্টে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে দু’জনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের মধ্যে একজন বাসের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম। তাৎক্ষণিকভাবে অপর নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালান। ঘটনাস্থলে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ১০জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গাড়িটি উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা পক্রিয়াধীন।

নির্বাচনী প্রচারে গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা দেখায়নি: মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ 

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫১ পিএম
নির্বাচনী প্রচারে গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা দেখায়নি: মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ 

নির্বাচনী প্রচারণায় বেশিরভাগ গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা দেখাতে পারেনি এবং বিএনপিকে জামায়াতের চেয়ে কাভারেজ বেশি দিয়েছে বলে জানিয়েছে মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ নামের একটি প্লাটফর্ম।

বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সংবাদ প্রচারে কোনো কোনো গণমাধ্যম, কোনো কোনো সাংবাদিক পেশাদারী হওয়ার পরিবর্তে অ্যক্টিভিজম চর্চা করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্লাটফর্মটির প্রতিনিধি ও একতা বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের আহ্বায়ক প্লাবন তারিক বলেন, ‘অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে যা করার কথা ছিল, তা করা যায়নি। আজকে গণমাধ্যমের ওপর হামলা হচ্ছে। গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ থাকার কথা থাকলেও তা হয়নি। কোনো না কোনো দলের পক্ষে কাজ করছে গণমাধ্যমগুলো। নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না।’

‘গণমাধ্যমসহ সবার কাছে যে নিরপেক্ষতার প্রত্যাশা ছিল তা তারা পালন করতে পারেনি।’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্লাবন তারিক বলেন, ‘নির্বাচনের প্রচারণার ১৮ দিনের তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব তুলে ধরেছে মিডিয়া ওয়াচ।’

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে প্লাবন তারিক বলেন, ‘প্লাটফর্মটি কোনো মিডিয়া পুলিশিং করছে না।’

প্লাবন তারিক জানান, ‘১৯৭৫ সালে ২৯টি দৈনিক ও ১৩৮টি সাপ্তাহিক পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার আমলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো নিবর্তনমূলক আইন করে গণমাধ্যমকে, গণমাধ্যমকর্মীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো।’

মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশের প্রতিনিধি প্লাবন তারিক বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমলের পর গণমাধ্যম একটা বড় সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তার কিছুই হয়নি। মালিকানা পরিবর্তন হলেও এডিটোরিয়াল পলিসিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা ভয়ে আছে যদি বিএনপি আসে, যদি জামায়াত আসে এসব ভেবে। তারা পক্ষপাতমূলক সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছে।’

প্লাবন তারিক বলেন, ‘সবাইকে সমান কাভার দেওয়ার কথা বলা হলেও তা পরিলক্ষিত হয়নি। বিএনপি ও জামায়াতের সংবাদ প্রচারের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে দেখা যায়। মিডিয়াগুলো কীভাবে কাজ করছে তা তুলে ধরার জন্যই এ প্রতিবেদন, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২২ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি সময়ে দিনভিত্তিক ও প্রতিবেদনের সংখ্যাভিত্তিক বিএনপি ও জামাতকে কাভারেজ দেওয়ার তুলনামূলক চিত্রে ৫টি অনলাইন, ৫টি দৈনিক পত্রিকা ও ৫টি টেলিভিশনের প্রচারিত সংবাদ নিয়ে এ প্রতিবেদন। প্রতিবেদনের চিত্রে জামায়াতের থেকে বিএনপিকে গড়ে কাভারেজ বেশি দেওয়া হয়েছে বলে উঠে এসেছে।

প্লাবন তারিক বলেন, ‘বিটিভি বিএনপি ও জামায়াতকে সমান কাভারেজ দিয়েছে। তবে বাকি টেলিভিশনগুলো বিএনপিকে বেশি দিয়েছে।’

ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে এ প্রতিবেদনে রাখা হয়নি। সময়, যমুনা, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর ও বাংলা ভিশনকে রাখা হয়েছে। অন্যান্য সব গণমাধ্যমের খবর নেওয়া হলেও সময়ের বিবেচনায় প্রতিবেদনে রাখা হয়নি।

প্লাবন তারিক বলেন, ‘মিডিয়া ওয়াচ বলতে চায় গণমাধ্যম যেন নিরপেক্ষতা বজায় রাখে। ফ্যাক্ট চ্যাকিংকে গুজব প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকতার এথিক্স মেনে চলতে হবে। টকশোগুলোর চ্যাক অ্যান্ড ব্যালেন্স বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। গণমাধ্যমের মালিকদের সততার পরিচয় দিতে হবে। এসব প্রতিপালিত না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না, কর্তৃত্ববাদী শাসনই প্রতিষ্ঠিত হবে।’

সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন 

ফরিদপুর-২ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস, জটিল সমীকরণে ভোটের হিসাব

এহসানুল হক, ফরিদপুর ও মিজানুর রহমান বাবু, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৫৩ পিএম
ফরিদপুর-২ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস, জটিল সমীকরণে ভোটের হিসাব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনে জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্থানীয় ভোটারদের বিশ্লেষণ বলছে, চূড়ান্ত লড়াই মূলত দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণা, সংগঠনিক শক্তি ও ভোটের সম্ভাব্য সমীকরণ—সবকিছু মিলিয়ে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওয়ায়েদ ইসলাম রিংকু মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (১১ দলীয় জোট) মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আল্লামা শাহ মো. আকরাম আলী ধলা হুজুর। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক কাঠামো, ব্যক্তিগত প্রভাব এবং ভোটের সম্ভাব্য স্থানান্তর—এসব বিবেচনায় এই দুই প্রার্থীর মধ্য থেকেই আগামী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তবে কেবল এই দুই প্রার্থীই নন, আরও চারজন প্রার্থী রয়েছেন নির্বাচনী দৌড়ে। তারা হলেন—গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের ফারুক ফকির, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকের মো. নাজমুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের শাহ মো. জামাল উদ্দীন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল প্রতীকের মো. আকরামুজ্জামান মিয়া। যদিও স্থানীয়ভাবে তাদের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং সাংগঠনিক উপস্থিতিও কম চোখে পড়ছে।

ভোটার ও কেন্দ্রের পরিসংখ্যান:

ফরিদপুর-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯০৪ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৭ জন। আসনটিতে মোট ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৭টি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জটিল সমীকরণে ভোটের হিসাব:

স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে ভোটের সমীকরণ অত্যন্ত জটিল। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—এই দুই দলই এ আসনে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তাদের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশ বিএনপিসহ বিভিন্ন দলে সক্রিয় হয়েছেন। ফলে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট কোনদিকে যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নগরকান্দা উপজেলার এক ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগের ভোট এবার ছড়িয়ে যেতে পারে। কেউ বিএনপিতে গেছে, কেউ আবার নিরপেক্ষ আছে। শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।”

সালথা উপজেলার এক তরুণ ভোটার সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আমরা উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান চাই। শুধু দল নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাও এবার বড় ফ্যাক্টর।”

ধর্মভিত্তিক ভোটের প্রভাব:

ফরিদপুর-২ আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কওমি মাদরাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে আলেম-ওলামা ও ধর্মভিত্তিক ভোটারদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খেলাফত মজলিস প্রার্থীর পক্ষে ধর্মীয় নেতাদের একটি অংশ সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বিএনপিও স্থানীয় পর্যায়ে মসজিদ-মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেছে।

নগরকান্দার এক মাদরাসা শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক। প্রার্থীদের মধ্যে যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেবে, তাকেই সমর্থন দেব।”

প্রচারণায় কারা এগিয়ে?

মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, বিএনপি প্রার্থী শামা ওয়ায়েদ ইসলাম রিংকু দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার প্রচারণা বেশ সক্রিয়। অন্যদিকে খেলাফত মজলিস প্রার্থী আকরাম আলী ধলা হুজুরও ধর্মীয় সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিকভাবে বিএনপি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও ধর্মভিত্তিক ভোটের একীভূত সমর্থন খেলাফত মজলিস প্রার্থীর পক্ষে গেলে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে।

সংঘর্ষের আশঙ্কা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি:

স্থানীয়দের মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কাও রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এবারও প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
সালথার এক প্রবীণ ভোটার হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চাই। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।”

জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও মোবাইল টিম প্রস্তুত রাখা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে।

শেষ মুহূর্তের কৌশল:

ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই জোরদার হচ্ছে কৌশল নির্ধারণ। প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমর্থন চেয়েছেন। স্থানীয় ইস্যু যেমন—রাস্তা সংস্কার, কৃষি সহায়তা, বেকারত্ব, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন—এসব বিষয় নিয়ে প্রতিশ্রুতির ঝড় তুলেছিলেন তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন তা নির্ভর করবে—আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটের গতিপথ, ধর্মভিত্তিক ভোটের সংহতি এবং নির্বাচনের দিন ভোটার উপস্থিতির উপর।

সব মিলিয়ে ফরিদপুর-২ আসনে এবারের নির্বাচন কেবল সংখ্যার লড়াই নয়, বরং কৌশল, জনপ্রিয়তা ও জোট রাজনীতির এক জটিল সমীকরণ। এখন দেখার বিষয়, ৩ লাখের বেশি ভোটারের রায়ে কার কপালে জোটে সংসদ সদস্যের আসন।

চাঁদাবাজ ধরে ভাইরাল, ফরিদপুর-৩ আসনে আলোচনায় আসিফ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০৭ পিএম
চাঁদাবাজ ধরে ভাইরাল, ফরিদপুর-৩ আসনে আলোচনায় আসিফ

ফরিদপুর শহরকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে সম্প্রতি সময়ে ফের জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের সময় এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফ। ঘটনার পর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা রুজু হওয়া নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী জুলাই যোদ্ধা মো. জনি বিশ্বাস। অনেকে এখানে আসিফকে নিরাপত্তা বাহিনীর মতো জনতার রক্ষাকারী হিসেবে দেখছেন, যার কারণে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মাঠে থাকায় বিভিন্ন সময়ের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তার।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াই করছেন মোরশেদুল ইসলাম আসিফ। তিনি ফরিদপুর-৩ (ফরিদপুর সদর উপজেলা) থেকে অংশ নিয়েছেন এবং রাজনৈতিকভাবে কোনো বড় দল সমর্থন না থাকলেও জনমুখে জনপ্রিয়তার ক্রমবর্ধমান ছাপ ফেলেছেন।

চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সরাসরি ভূমিকা:

সাম্প্রতিক ঘটনায় জানা যায়, শহরের ব্যস্ত এলাকায় ফুটপাত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছিল ইব্রাহিম শেখ নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাকে বাধা দিলে আসিফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে যুবকটিকে আটক করেন এবং পুলিশকে হস্তান্তর করেন। পুলিশ পরে তাকে হেফাজতে নেয় এবং মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনাটি ফরিদপুরবাসীর মধ্যে তাৎক্ষণিক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি চাঁদাবাজি প্রতিরোধে প্রার্থী নিজেই সরাসরি মাঠে নামার এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

মানুষের পাশে জনসেবামূলক কাজ:

চাঁদাবাজিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি আসিফ জনসেবামূলক কাজকেও গুরুত্ব করে চলেছেন, যা দীর্ঘসময় ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। সম্প্রতি তিনি ফরিদপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় জরুরি ফগিং এবং মশা নিধন কার্যক্রম জোরদারের দাবি উঠিয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। এতে তিনি পৌর প্রশাসককে লিখিতভাবে দ্রুত ফগিং, লার্ভিসাইড স্প্রে, ড্রেন ক্লিনিং এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালুর অনুরোধ জানান, বিশেষ করে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার্থে।

এছাড়া, স্থানীয় গণমাধ্যমেও তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে আসিফ মানবসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী প্রবাসী হিসেবে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের দাতব্য সংস্থা “আসিফ ফাউন্ডেশন” এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম “কুরাইশ নিউজ” এর মাধ্যমে অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের পাশে কাজ করে যাচ্ছেন। এতে তার মানবিক ও স্থানীয় উন্নয়নমূলক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।

নির্বাচনী পরিবেশ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা:

ফরিদপুর-৩ আসনে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দলগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসিফের জনপ্রিয়তার ক্রমবিকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে ২৮ জন প্রার্থী লড়াইয়ে থাকলেও ভোটের প্রতীক বরাদ্দে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা প্রতীক পেয়েছেন, আর আসিফ নিজের প্রতীক হরিণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গত নির্বাচনী পর্যায়ে (আগের নির্বাচনে) ফরিদপুর-৩ কেন্দ্রটি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ ছিল—কয়েকজন প্রার্থীর অফিস বা কর্মসূচিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যদিও তখনকার পরিস্থিতিতে পুলিশ তদন্ত করেছিল।

স্থানীয় মানুষের প্রতিক্রিয়া:

ফরিদপুর শহরের ফুটপাত ব্যবসায়ীরা জনতার স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য মাঠে অবস্থান নেয়া প্রতি প্রার্থীর এই ধরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি সদস্যরা বারবার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ চাই—যা তারা মনে করেন কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়, বরং নেতৃত্বদাতা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত।

ভবিষ্যৎ শাসন ও ভোটের পরিশেষে প্রভাব:

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান, জনসেবামূলক যোগাযোগ এবং স্থানীয় সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের অনুরোধ—এসব পদক্ষেপ মোরশেদুল ইসলাম আসিফকে শুধুমাত্র ভাইরাল একজন প্রার্থী হিসেবে নয় বরং ‘জনগণের নেতা’ হিসেবে তুলে ধরছে। নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় আলোচনায় এই তথ্যগুলি সমর্থকদের মধ্যে সরবরাহ হলে নির্বাচনী মাঝে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

ফরিদপুর-৩ আসনে ভোটাররা এখন চাঁদাবাজি বিরোধী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকা প্রার্থীর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন, এবং এই পরিস্থিতি আসিফের নির্বাচনী অভিযানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এমপি প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফ বলেন— ফরিদপুর শহরকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত করাই আমার প্রথম অঙ্গীকার। সাধারণ ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষের ঘামঝরা আয় কেউ জোর করে নিতে পারবে না। আমি কোনো দলের শক্তিতে নয়, জনগণের শক্তিতে রাজনীতি করছি। যেখানে অন্যায় দেখবো, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবো—এটাই আমার অবস্থান। ডেঙ্গু, মশক নিধন, ড্রেনেজ ও পরিচ্ছন্নতা—এসব মৌলিক সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই।

তিনি বলেন, নিম্নআয়ের মানুষ যেন সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি আমি গুরুত্ব দিচ্ছি। ফরিদপুর-৩ আসনকে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবিক রাজনীতির মডেল করতে চাই। হরিণ প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণ যদি সুযোগ দেন, তাহলে সবার জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করবো।