খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী—যেভাবে শামা ওবায়েদের রাজনৈতিক উত্থান?

হারুন-অর-রশীদ ও মো. নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী—যেভাবে শামা ওবায়েদের রাজনৈতিক উত্থান?

ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে অবশেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম।

নতুন সরকারের ২৪ সদস্যের প্রতিমন্ত্রী তালিকায় তার নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির ঘটনা নয়; বরং তৃণমূল রাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

শপথ গ্রহণের এই মুহূর্তে শামা ওবায়েদ শুধু একজন সংসদ সদস্য বা দলের সাংগঠনিক নেতা নন, বরং দেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত একজন নীতিনির্ধারক। ফলে তার ওপর প্রত্যাশা যেমন বেড়েছে, তেমনি দায়িত্বও হয়েছে বহুগুণ বেশি।

উত্তরাধিকার থেকে নেতৃত্বে উত্তরণ:

শামা ওবায়েদ ইসলামের রাজনৈতিক পরিচয় শুরু হয় পারিবারিক ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে। তিনি বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও প্রভাবশালী রাজনীতিক কে এম ওবায়দুর রহমানের কন্যা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কে এম ওবায়দুর রহমান ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও দূরদর্শী নেতা হিসেবে পরিচিত। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্বগুণ এখনো দলীয় নেতাকর্মীদের অনুপ্রাণিত করে।

তবে শামা ওবায়েদের রাজনৈতিক পথচলা কেবল উত্তরাধিকার নির্ভর নয়। বাবার মৃত্যুর পর তিনি যে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন, তা তাকে নতুনভাবে রাজনীতির ময়দানে দাঁড়াতে বাধ্য করে। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম অংশগ্রহণ করে পরাজিত হলেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাননি। বরং পরাজয়কে শক্তিতে পরিণত করে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন।

তৃণমূল রাজনীতির শক্ত ভিত:

রাজনীতিতে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে শামা ওবায়েদ বেছে নেন তৃণমূলকেন্দ্রিক কৌশল। ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন পুনর্গঠন, কর্মীসংগ্রহ এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখেন। বিশেষ করে নারী ও তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ দলীয়ভাবে প্রশংসিত হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, তিনি মাঠে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন, কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেন এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করতেন। ফলে ধীরে ধীরে তিনি একজন ‘মাঠমুখী নেতা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তার সক্রিয় ভূমিকা দলের উচ্চপর্যায়ের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিপুল ভোটে জয়, জনসমর্থনের প্রতিফলন:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হন। এই জয় শুধু একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিশ্রম ও জনসংযোগের প্রতিফলন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, শামা ওবায়েদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং সংকটে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। ফলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হতে সক্ষম হন।

তার বিজয়ের পর থেকেই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শপথ গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।

মন্ত্রিসভায় নারী নেতৃত্বের প্রতীক:

নতুন মন্ত্রিসভায় তিনজন নারী প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে একজন শামা ওবায়েদ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের নারী নেতৃত্বের অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলে নারী নেতৃত্বের বিকাশে তার অন্তর্ভুক্তি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

সালথা উপজেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “শামা শুধু ওবায়দুর রহমানের কন্যা নন, তিনি নিজেই একজন দক্ষ সংগঠক। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তার এই পদোন্নতি প্রাপ্য।”

শিক্ষিত ও আধুনিক নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি:

শামা ওবায়েদ ইসলামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা। ১৯৭৩ সালের ১৪ মে ফরিদপুরের নগরকান্দায় লস্করদিয়ায় জন্মগ্রহণ করা শামা ওবায়েদ ঢাকার ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষে প্রায় ছয় বছর করপোরেট খাতে কাজ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে প্রশাসনিক দক্ষতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা তাকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে রাখবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক ভারসাম্য:

রাজনৈতিক ব্যস্ততার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও শামা ওবায়েদ একজন সফল নারী। তার স্বামী সোভন ইসলাম একজন ব্যবসায়ী। তিনি দুই সন্তানের জননী। পারিবারিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলার সক্ষমতা তাকে আরও দৃঢ় নেতৃত্বে পরিণত করেছে।

তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনেও তিনি পরিবারকে সময় দেন এবং সন্তানদের শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন। এই ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন তার ব্যক্তিত্বকে আরও পরিপূর্ণ করেছে।

অঙ্গীকার ও দায়িত্বের নতুন অধ্যায়:

নির্বাচনের আগে এক সাক্ষাৎকারে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছিলেন, “আমি রাজনীতিতে সুবিধা নিতে আসিনি; মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনই আমার লক্ষ্য।”

এখন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার সামনে রয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। দেশের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বৈদেশিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তাকে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রত্যাশাও পূরণ করতে হবে।

বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ:

সালথা উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আসাদ মাতুব্বর ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, শামা ওবায়েদের এই পদোন্নতি ভবিষ্যতে তাকে আরও বড় দায়িত্বের পথে নিয়ে যেতে পারে। তার সাংগঠনিক দক্ষতা, মাঠমুখী রাজনীতি এবং জনসংযোগের ক্ষমতা তাকে বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

অনেকে মনে করছেন, যদি তিনি সফলভাবে তার বর্তমান দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তবে ভবিষ্যতে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবেও তার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

ফরিদপুর থেকে জাতীয় মঞ্চে:

ফরিদপুরের আঞ্চলিক রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ—শামা ওবায়েদের এই যাত্রা অনেক তরুণ নেতার জন্য অনুপ্রেরণার গল্প। তার রাজনৈতিক জীবন প্রমাণ করে, শুধু পারিবারিক পরিচয় নয়, বরং অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগই একজন নেতাকে প্রতিষ্ঠিত করে।

শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তার সামনে এখন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই অধ্যায়ে তাকে প্রমাণ করতে হবে—তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী নন, বরং একজন দক্ষ নীতিনির্ধারক ও জননেত্রী।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চোখ শামা ওবায়েদের দিকে—তিনি কতটা সফলভাবে এই নতুন দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়।

বোয়ালমারীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষের ৩ দিন পর খাদে মিলল নিখোঁজ কলেজছাত্রের লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষের ৩ দিন পর খাদে মিলল নিখোঁজ কলেজছাত্রের লাশ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাস ও ইটবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের তিনদিন পর দুর্ঘটনাস্থলের পাশের খাদ থেকে হাফিজুর রহমান (২৪) নামে এক নিখোঁজ কলেজছাত্রের গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের পাইকহাটি এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।

​নিহত হাফিজুর রহমান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পিঙ্গুলিয়া গ্রামের সন্তান। তিনি তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। হাফিজুর বোয়ালমারী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৭ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাঝকান্দি-বোয়ালমারী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাইকহাটি এলাকায় ফরিদপুরগামী একটি লোকাল বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ইটবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে উল্টে পড়ে এবং ট্রাকটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে আটকে যায়। দুর্ঘটনায় উভয় যানের চালক ও হেলপারসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

​ঘটনার পর থেকে বাসের যাত্রী হাফিজুর রহমান নিখোঁজ ছিলেন। স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ না পেয়ে কাশিয়ানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

​বোয়ালমারী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ জাহিদুল হক জানান, সেদিন সকালে ব্যাসপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সেমিস্টার পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন হাফিজুর। উদ্ধারের সময়ও তার গলায় কলেজের পরিচয়পত্র ও ব্যাজ ঝুলছিল।

​বুধবার সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের পাশের বিলে লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশে খবর দেয়। বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

​বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের যে ৪ কারণ? এক পলকে দেখে নিন

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের যে ৪ কারণ? এক পলকে দেখে নিন

একটা সময় পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাককে ভাবা হতো বয়স্কদের সমস্যা। কিন্তু এখন তরুণ বয়সেই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এই কারণে প্রাণ হারানোর সংখ্যাও কম নয়।

তাই শুধু বয়স্করা নয়, হার্টের অসুখের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে অল্প বয়সীদেরও। এই যে অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক, এর পেছনে কারণ কী?

হার্ট অ্যাটাক যে কারণে হয়

কোনো কারণে আমাদের শরীরের শিরা-উপশিরায় রক্ত ​​চলাচল ঠিকমতো না হলে রক্ত ​​জমাট বাঁধার সমস্যা সৃষ্টি হয়। যে কারণে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক হয়। আমাদের হৃৎপিণ্ডে যখন রক্ত ​​ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না, তখন শিরায় চাপ পড়ে। এর ফলে তখন হার্ট অ্যাটাক হয়।

জীবনযাপনে অনিয়ম

আমাদের বেশিরভাগ অসুখ-বিসুখের কারণ হলো জীবনযাপনের বিভিন্ন অনিয়ম। বর্তমানে বাইরের খাবার বেশি খাওয়া, রাতে দীর্ঘ সময় জেগে থাকসহ নানা অনিয়মত করে থাকে তরুণেরা। জীবনযাপনের এসব বদ অভ্যাসের প্রভাব পড়ে শরীরে। বর্তমানে বিভিন্ন দিকে খেয়াল দিতে গিয়ে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখার কথা ভুলে যান বেশিরভাগই। যে কারণে ধীরে ধীরে তৈরি হয় হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্র।

ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ

অনেকে না বুঝেই সিগারেট এবং অ্যালকোহলের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের আসক্তি একবার পেয়ে বসলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু সিগারেট এবং অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। এ ধরনের অভ্যাস সরাসরি ধমনীতে প্রভাব ফেলে। হৃৎপিণ্ড দ্রুত পাম্প করার কারণে এটি পরিণত হয় আক্রমণে।

স্থূলতা

সঠিক খাদ্যাভ্যাস পারে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থতায় সাহায্য করতে। কিন্তু বর্তমানে ভুলভাল খাদ্যাভ্যাসের কারণে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন অনেকে। শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাক, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, ট্রিপল ভেসেল ডিজিজ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। যে কারণে বাড়ে বিপদ।

উত্তেজনা

আমাদের দেশে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায়ই অনেকে পাত্তা দিতে চান না, সেখানে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার কথা অনেকে চিন্তাও করতে চান না। এদিকে মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে মারাত্মক সব রোগের কারণ। বর্তমানে তরুণেরা পড়াশোনা, চাকরি, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ইত্যাদি নানা দুশ্চিন্তায় থাকে। যে কারণে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক।

সূত্র : ঢাকা পোস্ট

পেটের মেদ কমাতে যে ৪টি স্বাস্থ্যকর পানীয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ
পেটের মেদ কমাতে যে ৪টি স্বাস্থ্যকর পানীয়?

আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আর কায়িক শ্রমের অভাবে পেটের মেদ বা ‘বেলি ফ্যাট’ জমানো এখন অনেকের জন্যই নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পেটের এই বাড়তি মেদ কেবল আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যই নষ্ট করে না; বরং এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, পেটের মেদ মূলত দুই ধরনের হয়—চামড়ার নিচে থাকা ‘সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট’ এবং শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে জমে থাকা ‘ভিসারাল ফ্যাট’। এর মধ্যে ভিসারাল ফ্যাট অত্যন্ত বিপজ্জনক, যা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এমনকি ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সুস্থতার মাপকাঠি হিসেবে আমরা সাধারণত বিএমআই-এর ওপর নির্ভর করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোমর ও নিতম্বের অনুপাত জানা এখন অনেক বেশি জরুরি। যদি পুরুষদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত ০.৯ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ০.৮৫-এর বেশি হয়, তবে বুঝতে হবে আপনার পেটে ক্ষতিকর মেদ জমছে। এই জেদি মেদ ঝরানো বেশ কষ্টসাধ্য হলেও কিছু নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক পানীয় বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে মেদ কমানোর এই সংগ্রামকে সহজ করতে পারে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন এনডিটিভি ফুড-এর কনসালট্যান্ট নিউট্রিশনিস্ট ড. রূপালী দত্ত।

ড. রূপালী দত্তের পরামর্শ অনুযায়ী পেটের মেদ কমাতে কার্যকরী ৪টি পানীয় নিচে দেওয়া হলো:

১. গ্রিন টি

সামগ্রিক ওজন কমাতে গ্রিন টি-র কার্যকারিতা এখন বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ‘ক্যাটেচিন’ এবং বিশেষ করে ‘EGCG’ বিশ্রামের সময়ও শরীরের ফ্যাট অক্সিডেশনে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে তা সরাসরি পেটের ভেতরের ভিসারাল ফ্যাট কমাতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, যা বাড়তি ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে দেয়।

২. দারুচিনি চা

দারুচিনি কেবল মসলা হিসেবেই নয়; বরং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতেও অনন্য। উল্লেখ্য যে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স পেটের মেদ জমার অন্যতম প্রধান কারণ। দারুচিনি শরীরে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা কমিয়ে আনে, যা চিনিযুক্ত খাবার ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আসক্তি কমায়। এর বিপাক বৃদ্ধিকারী গুণাগুণ পেটের চর্বি পোড়াতে অত্যন্ত সহায়ক।

৩. ব্ল্যাক কফি

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে পরিমিত (২-৩ কাপ) ব্ল্যাক কফি পান করলে শরীরের সামগ্রিক মেদ, বিশেষ করে ভিসারাল ফ্যাট উল্লেখযোগ্য হারে কমে। কফিতে থাকা পলিফেনল এবং ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড পেটের চর্বি কমাতে কাজ করে। কফিতে থাকা ক্যাফেইন প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করলেও এটি চিনি ছাড়া পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. মধু মিশ্রিত পানীয়

পেটের মেদ বা ভিসারাল ওবেসিটি কমাতে মধু একটি চমৎকার উপাদান। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মধু শরীরের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি রোধ করতে এবং মেদ কমাতে সাহায্য করে। মধু একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা ভিসারাল ফ্যাট কোষের কারণে তৈরি হওয়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এটি শরীরে দ্রুত শক্তি যোগায় এবং বারবার খিদে পাওয়ার সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে।

সতর্কতা

যদিও এই পানীয়গুলো ওজন কমাতে এবং বিপাক প্রক্রিয়া বাড়াতে সহায়ক, তবে মনে রাখতে হবে মেদ কমানোর কোনো ‘শর্টকাট’ বা জাদুকরী উপায় নেই। পেটের মেদ পুরোপুরি ঝরাতে এই পানীয়গুলোর পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রাখা অপরিহার্য। যে কোনো ডায়েট শুরু করার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড