খুঁজুন
সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১৬ চৈত্র, ১৪৩২

ভাঙ্গায় বিয়ের যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ও ইলিশ পরিবহনের সংঘর্ষে আহত ৫

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১:৩৪ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় বিয়ের যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ও ইলিশ পরিবহনের সংঘর্ষে আহত ৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গা বিয়ের যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ও ইলিশ পরিবহনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (২৯ মার্চ) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বেসুমপুরদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস মাদারীপুরে বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কয়েকজন যাত্রী ভাঙ্গা হয়ে ফেরার পথে ওই এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ইলিশ পরিবহনের একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে ইলিশ পরিবহনের গাড়ির চালক ও মাইক্রোবাসের যাত্রীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারাও হামলার শিকার হন। এতে ঘটনাস্থলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা কয়েক যাত্রী আহত হন কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই জন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।

তেল মজুদ রেখেও বিক্রি বন্ধ—ভাঙ্গায় ফিলিং স্টেশন মালিককে জরিমানা

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
তেল মজুদ রেখেও বিক্রি বন্ধ—ভাঙ্গায় ফিলিং স্টেশন মালিককে জরিমানা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর এলাকায় তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখার অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (২৯ মার্চ) রাতে আতাদী এলাকার সুগন্ধা ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদরুল আলম। এ সময় ভাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল তাকে সহায়তা করে। অভিযানে দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও ‘তেল নেই’ অজুহাতে পাম্পটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেননি। অনেকেই তেল না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে।

পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পাম্প মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং দ্রুত জ্বালানি বিক্রি স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।

এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদরুল আলম জানান, “সুগন্ধা ফিলিং স্টেশনে তেল মজুদ থাকার পরও বিক্রি বন্ধ রাখায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা হয়েছে এবং স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে একই রাতে পার্শ্ববর্তী কর্না ফিলিং স্টেশনেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে তেল সরবরাহ না থাকায় পাম্পটি বন্ধ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তেল প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের বাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থ রক্ষায় অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

ফরিদপুরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী রাশেদ মোল্লাকে (৩০) আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক ধারায় আরও তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে ভোগ করতে পারবেন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লাকে কঠোর পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লা ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদহ বাজার এলাকার বাসিন্দা। নিহত জোসনা বেগম (২১) একই উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সৈয়দ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের মেয়ে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পারিবারিকভাবে রাশেদ ও জোসনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রাশেদ মোল্লা যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার দাবির মুখে নগদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জোসনার স্বর্ণালংকার—চেইন ও কানের দুল বিক্রি করেও আরও টাকা তুলে দেওয়া হয়, যা রাশেদ মাদক সেবনে ব্যয় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপরও থেমে থাকেনি নির্যাতন। ২০২০ সালের ১৬ জুলাই পুনরায় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন রাশেদ। ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ঘরের ভেতর জোসনা বেগমের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ১৭ জুলাই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার দিনই নিহতের বড় ভাই জলিল শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় যৌতুকের দাবিতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাশেদ মোল্লার পাশাপাশি তার বড় ভাই হাসিব মোল্লাকেও আসামি করা হয়।

পরে মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৪ মার্চ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী রতন জানান, মামলার শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত প্রধান আসামি রাশেদ মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তার ভাই হাসিব মোল্লাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট এবং এটি সমাজে যৌতুকের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেবে।

জ্বালানি সংকট: বাড়তে পারে সাপ্তাহিক ছুটি, ফিরতে পারে অনলাইন ক্লাস ও হোম অফিস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি সংকট: বাড়তে পারে সাপ্তাহিক ছুটি, ফিরতে পারে অনলাইন ক্লাস ও হোম অফিস

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশের জ্বালানি খাতে তৈরি হওয়া চাপ সামাল দিতে একগুচ্ছ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ বা কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

এর মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ এবং অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সব সরকারি সংস্থাকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আপাতত তিন মাসের একটি স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশলে যাবে সরকার।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম, আমদানিতে বাড়তি খরচ ও ডলার সংকটের কারণে সরকার এই কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনায় থাকা অন্তত আটটি পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেওয়া। এছাড়া অফিসের কাজ দ্রুত শুরু করা অথবা কাজের মোট সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভায় ঠিক করা হবে কোন পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হবে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতেও বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার। অপ্রয়োজনীয় সরকারি ঋণ পরিহার করা ও কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাবও টেবিলে রয়েছে।

তবে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ছয় মাস বা এক বছর মেয়াদী পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে আমাদের স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের বাইরেও চিন্তা করতে হতে পারে। সূত্রগুলো জানায়, বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তাদের নিজস্ব কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থার খসড়া তৈরি শুরু করেছে।

জ্বালানি মজুত রোধে সরকার ইতোমধ্যে গত কয়েক দিনে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, চাপ কমাতে এখন চাহিদাপক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হতে পারে।

চাহিদাপক্ষ নিয়ন্ত্রণ বা ডিএসএম হলো ইউটিলিটি-চালিত এমন কিছু কৌশল, যার লক্ষ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরনকে প্রভাবিত করা, কমানো বা সরিয়ে নেওয়া। বিশেষ করে যখন বিদ্যুতের চাহিদা তুঙ্গে থাকে।

এই প্রতিবেদনের জন্য যোগাযোগ করা কর্মকর্তাদের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তি দেন যে, আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, কোভিড আমলের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। সিদ্ধান্তগুলো আরও আগেই নেওয়া যেত। প্রয়োজনে বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠক ডাকা যেতে পারে।

আরেকজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন যে, বর্তমান মন্ত্রিসভার অনেকেই সরকার পরিচালনায় নতুন, যা সংকটের সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে। তিনি অতীতের সংকট মোকাবিলা করেছেন এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন।

গতকাল রবিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা ফোন ধরেননি। জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গতকাল অফিসগুলোকে চলতি মাসের শুরুর দিকে দেওয়া জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।

এই নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে দিনের বেলা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখা এবং ব্যবহার না করলে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখা।

অফিসগুলোকে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার ও বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি অফিসে এই নিয়মগুলো তদারকি করতে সরকার একটি ‘ভিজিল্যান্স টিম’ বা নজরদারি দল গঠন করবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশও এর আঁচ পাচ্ছে, কারণ জ্বালানি ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালী, যা তেল ও এলএনজি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। সেখানে যেকোনো বিঘ্ন বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। কারণ এখানকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ব্যাপকভাবে বিদেশি গ্যাস ও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরবরাহ সংকটের কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় আমদানি কমিয়ে স্পট মার্কেট (খোলা বাজার) থেকে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হয়েছে, যেখানে দাম অনেক চড়া। যুদ্ধের কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

কর্মকর্তারা জানান, এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ খাত ফার্নেস অয়েলের মতো ব্যয়বহুল বিকল্পের ওপর নির্ভর করছে। পাশাপাশি দেশের সীমিত শোধন ক্ষমতার কারণে বেশি দামে পরিশোধিত জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, পেট্রোবাংলা সতর্ক করেছে যে আগামী মাসগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমতে পারে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি আরও যোগ করেন, তবে সম্প্রতি কেনা এলএনজি যদি সময়মতো পৌঁছায়, তাহলে এপ্রিল মাসে কোনো প্রভাব পড়বে না।

সূত্র: ডেইলি স্টার