খুঁজুন
, ,

সংবাদ প্রকাশের পর চিঠি, তবুও বন্ধ হয়নি নির্মাণ—প্রশ্নে ফরিদপুর পৌরসভার কার্যকারিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের পর চিঠি, তবুও বন্ধ হয়নি নির্মাণ—প্রশ্নে ফরিদপুর পৌরসভার কার্যকারিতা

ফরিদপুর শহরের কাঠপট্টি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ওপর অবৈধভাবে তিনতলা নির্মাণের ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফরিদপুর প্রতিদিন-এ সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে লিখিতভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ফরিদপুর পৌরসভা। তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্দেশনার পরও কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে পৌরসভার প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কোতয়ালী থানার উত্তর পাশে অবস্থিত মার্কেটের তৃতীয় তলার নির্মাণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্মাণাধীন স্থাপনার ভিত্তি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের কাজ করা যাবে না।

এর আগে একই দিন সকালে পৌরসভার পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরেজমিনে দেখা যায়, কিছু সময় বন্ধ থাকার পর আবারও শ্রমিকরা কাজ শুরু করে।

স্থানীয়দের দাবি, ঈদের ছুটির সুযোগ নিয়ে গোপনে এই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর কোনো প্রকৌশল অনুমোদন ছাড়াই একের পর এক তলা তোলা হচ্ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

মার্কেটের ব্যবসায়ী ও আশপাশের বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে দোকান বরাদ্দ ও জায়গা ভাগাভাগির নামে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।

আইনজীবী ও স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শুধু মৌখিক নির্দেশ নয়, এখন লিখিত নির্দেশনাও উপেক্ষিত হলে তা প্রশাসনিক দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

পৌরসভার চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও পাঠানো হয়েছে। এতে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—লিখিত নির্দেশনার পরও যদি কাজ বন্ধ না হয়, তাহলে আইন প্রয়োগ কোথায়? তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ বন্ধ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে রাজু শেখ নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার সময় আসামি রাজু শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজু শেখের বিরুদ্ধে চরভদ্রাসন থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। বিচারকাজ চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ প্রয়োজনীয় সাক্ষী, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করে।

​দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

​রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রাব্বানী রতন বলেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ফরিদপুরে দোকানঘরের দেয়াল চাপা পড়ে যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে দোকানঘরের দেয়াল চাপা পড়ে যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের নগরকান্দায় একটি পুরাতন দোকানঘরের দেয়াল ভাঙার সময় চাপা পড়ে শাহিন (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঢাকার ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরকান্দা উপজেলা অডিটোরিয়ামের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত শাহিন নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের শশা গ্রামের কামাল শেখের ছেলে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে আবু জাফর (৬৫) নামে এক ব্যক্তির পুরাতন দোকানঘরের সাইড ওয়াল ভাঙার কাজ করছিলেন শাহিন। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত দেয়ালটি হঠাৎ করে তার ওপর ভেঙে পড়ে। এতে শাহিনের বুক ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে।

​ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে সেখান থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ।

আলফাডাঙ্গায় ছাত্রদলের ডেঙ্গু বিরোধী মশক নিধন ও জনসচেতনতা অভিযান

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় ছাত্রদলের ডেঙ্গু বিরোধী মশক নিধন ও জনসচেতনতা অভিযান

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ডেঙ্গুর স্থানীয় প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে এই সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে আলফাডাঙ্গা থানা চত্বরে ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো এবং সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরবর্তীতে আলফাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, উপজেলা পরিষদ চত্বর এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে মশার ওষুধ ছিটান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘরবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।

​অভিযানের সূচনা পর্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু, আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নেয়ামত হোসেন পারভেজ এবং উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আরব আলীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

​উপজেলা ছাত্রদল নেতা জিসান মিয়ার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করেন ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমান সোহান, ইমন তালুকদার, আলামিন শেখ, ফাহিম আহমেদ ও আব্দুল্লাহ আল ফয়সালসহ অন্যান্য তরুণ নেতাকর্মীরা।

​কর্মসূচির বিষয়ে ছাত্রদল নেতা জিসান মিয়া জানান, ফরিদপুর-১ আসনের বিএনপি নেতা খন্দকার নাসিরুল ইসলামের নির্দেশনায় জনস্বার্থে এ সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ডেঙ্গুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগামীতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।