খুঁজুন
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

সংবাদ প্রকাশের পর চিঠি, তবুও বন্ধ হয়নি নির্মাণ—প্রশ্নে ফরিদপুর পৌরসভার কার্যকারিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের পর চিঠি, তবুও বন্ধ হয়নি নির্মাণ—প্রশ্নে ফরিদপুর পৌরসভার কার্যকারিতা

ফরিদপুর শহরের কাঠপট্টি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ওপর অবৈধভাবে তিনতলা নির্মাণের ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফরিদপুর প্রতিদিন-এ সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে লিখিতভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ফরিদপুর পৌরসভা। তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্দেশনার পরও কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে পৌরসভার প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কোতয়ালী থানার উত্তর পাশে অবস্থিত মার্কেটের তৃতীয় তলার নির্মাণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্মাণাধীন স্থাপনার ভিত্তি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের কাজ করা যাবে না।

এর আগে একই দিন সকালে পৌরসভার পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরেজমিনে দেখা যায়, কিছু সময় বন্ধ থাকার পর আবারও শ্রমিকরা কাজ শুরু করে।

স্থানীয়দের দাবি, ঈদের ছুটির সুযোগ নিয়ে গোপনে এই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর কোনো প্রকৌশল অনুমোদন ছাড়াই একের পর এক তলা তোলা হচ্ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

মার্কেটের ব্যবসায়ী ও আশপাশের বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে দোকান বরাদ্দ ও জায়গা ভাগাভাগির নামে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।

আইনজীবী ও স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শুধু মৌখিক নির্দেশ নয়, এখন লিখিত নির্দেশনাও উপেক্ষিত হলে তা প্রশাসনিক দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

পৌরসভার চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও পাঠানো হয়েছে। এতে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—লিখিত নির্দেশনার পরও যদি কাজ বন্ধ না হয়, তাহলে আইন প্রয়োগ কোথায়? তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ বন্ধ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সালথায় লিচু খাওয়ার প্রতিবাদ : বাগান মালিককে পিটিয়ে হত্যা

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
সালথায় লিচু খাওয়ার প্রতিবাদ : বাগান মালিককে পিটিয়ে হত্যা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় লিচু পাড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আজিজুর রহমান মোল্যা (৬৫) নামে এক বাগান মালিক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বল্লভদি ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আজিজুল মোল্যা উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের গুপিনগর পাড়ার মৃত মান্নান মোল্যার ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, আজিজুল মোল্যার লিচুর বাগান থেকে পার্শ্ববর্তী সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সীর দুই ছেলে সাকিল মুন্সী ও তুষার মুন্সী লিচু পেড়ে খায়। বিষয়টি দেখে আজিজুলের ছেলে আকরাম মোল্যা তাদের বাধা দেন।

এর জেরে বিকেলে ফুলবাড়িয়া বাজারে গেলে আকরাম মোল্যার ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। ছেলেকে মারধরের খবর পেয়ে সন্ধ্যায় বাজারে যান আজিজুল মোল্যা। সেখানে তিনি ঘটনার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, সাকিল ও তুষার মুন্সীসহ কয়েকজন তাকে বাঁশ দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ জানান, লিচু পাড়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে বড় ভাইয়ের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রী-মেয়ে গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বড় ভাইয়ের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রী-মেয়ে গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বাবার সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. ছলেমান বিশ্বাস (৫৫) নামে এক কৃষকের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ার ঘটনায় তারই ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে গ্রেপ্তার মা-মেয়েকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে উপজেলার ফুলসুতী ইউনিয়নের কাজীকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মামলার প্রধান আসামি আমির আলী বিশ্বাসের স্ত্রী প্রেমা বেগম (৪২) ও মেয়ে শম্পা আক্তার (২২)।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দা দিয়ে কুপিয়ে বড় ভাই ছলেমানের বাঁম হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন ছোট ভাই আমির আলী বিশ্বাস। এ ঘটনায় কব্জি হারানো ছলেমানের স্ত্রী রাবিয়া বেগম (৪৮) বাদী হয়ে আমিরকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আমিরের স্ত্রী ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত- বাবার সম্পত্তি (জমিজমা) ভাগাভাগি নিয়ে নগরকান্দার ফুলসুতী ইউনিয়নের কাজীকান্দা গ্রামের মৃত তোতা বিশ্বাসের বড় ছেলে ছলেমান বিশ্বাসের সঙ্গে ছোট ছেলে আমির আলী বিশ্বাসের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বাড়ির সামনের সড়কে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আমির আলী ধারালো দা দিয়ে তার বড় ভাই ছলেমানের ওপর হামলা চালায়। এতে ছলেমানের বাঁম হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ফরিদপুরে গাঁজাসহ যুবক আটক: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাসের কারাদণ্ড

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গাঁজাসহ যুবক আটক: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাসের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় গাঁজা সেবন ও বহনের অভিযোগে হাবিবুর রহমান (১৯) নামে এক যুবককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান উপজেলার চাপুলিয়া গ্রামের আরিফুল মোল্লার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাজড়া মধুমতী নদীর খেয়াঘাট এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন হাবিবুর রহমান। এ সময় স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে তল্লাশি চালালে তার কাছ থেকে এক পুরিয়া গাঁজা ও গাঁজা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে বিষয়টি আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমানের নির্দেশনায় পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে। আদালত পরিচালনা করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম রায়হানুর রহমান।

ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। পরে বুধবার (১৩ মে) তাকে ফরিদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উপজেলাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের মাদক সংক্রান্ত তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি উপজেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।