খুঁজুন
, ,

‘দেশে প্রচুর পরিমান তেল মজুদ আছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই’: ইসমাইল জবিউল্লাহ

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
‘দেশে প্রচুর পরিমান তেল মজুদ আছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই’: ইসমাইল জবিউল্লাহ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, দেশে প্রচুর পরিমান তেল মজুদ আছে। জালানি তেলের কোন সমস্যা নেই। যে সমস্যা আছে শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা বিশ্বে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী জালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কিছু নেই।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল ) সকাল ১০ টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের রশিবপুরা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচীতে কেউ অনিয়ম বা দূর্নীতি করলে সে যেই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের সরকার জনবান্ধব সরকার, এখন পর্যন্ত কোনো তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। এপ্রিল মাসেও জালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হবে না। প্রচুর পরিমান তেল মজুদ আছে এবং প্রচুর পরিমান তেল পাইপ লাইনে রয়েছে। সুতরাং আমরা মনে করি আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারন নেই।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী জালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কিছু নেই। কেউ তেল নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির করবে বা অপচেষ্টা করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি পাম্পে খোঁজ রাখার জন্য। কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণের ভোগান্তি যাতে কেউ না করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা করে তাহলে কঠোর হাতে দমন করা হবে। সরকার ভর্তুকি দিয়ে আমরা এটা চালিয়ে যাবো, যাতে জনগণের কোনো সমস্যা না হয়।

এর আগে রশিবপুরা দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে খাল খনন কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ). মিজানুর রহমান, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা সহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদরুল আলম।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ সহ বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

পেঁয়াজের দামে হাহাকার, কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দ্বারস্থ ফরিদপুরের সালথার ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
পেঁয়াজের দামে হাহাকার, কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দ্বারস্থ ফরিদপুরের সালথার ইউএনও

ফরিদপুরের সর্বাধিক পেঁয়াজ উৎপাদনকারী উপজেলা সালথার পেঁয়াজ চাষিদের দীর্ঘদিনের লোকসান, ন্যায্যমূল্য সংকট ও সংরক্ষণ সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়, বাজারে মূল্য পতন, সংরক্ষণ সংকট এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি বিস্তারিত লিখিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

এর আগে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে সালথার কয়েকজন কৃষক ক্ষোভে উৎপাদিত পেঁয়াজ ডোবা ও পানিতে ফেলে দেন। সেই ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কৃষকদের দুর্দশার বাস্তব চিত্র সামনে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, সালথার অর্থনীতির একটি বড় অংশই পেঁয়াজ চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তাই বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে কৃষকদের জন্য কার্যকর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

তিনি জানান, প্রতিবেদনের সঙ্গে বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি, জমির লিজ, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয়সহ পেঁয়াজ উৎপাদনের পূর্ণাঙ্গ ব্যয় বিবরণী সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ, আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ ও সংরক্ষণাগার নির্মাণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্র সরবরাহের সুপারিশ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সালথা উপজেলার প্রায় ১৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর আবাদযোগ্য জমির মধ্যে ১২ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে গড়ে ২২ থেকে ২৩ টাকা দরে, যেখানে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২৫ টাকা ১৫ পয়সা। ফলে প্রতি কেজিতে কৃষকদের প্রায় ২ টাকা ৬৫ পয়সা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ভালো হলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমেই কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। ফলে উৎপাদন খরচও তুলতে না পেরে ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাদের দাবি, সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহ, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সালথার মতো সম্ভাবনাময় এলাকায় কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে শুধু তাদের জীবনমানই উন্নত হবে না, দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনও আরও বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে পেঁয়াজ চাষে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হবে।

ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে। তাই তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এতে সালথার হাজার হাজার পেঁয়াজ চাষি উপকৃত হবেন।”

জ্বর থাকলে কি গোসল করা ক্ষতিকর? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
জ্বর থাকলে কি গোসল করা ক্ষতিকর? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

জ্বর আসলে শরীরে অস্বস্তি, ক্লান্তি এবং ঘাম হওয়া খুব স্বাভাবিক। এই অবস্থায় গোসল করা নিয়ে আমাদের সমাজে নানা রকম মত প্রচলিত আছে। কেউ বলেন জ্বর থাকলে একদমই গোসল করা যাবে না, আবার কেউ বলেন ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে জ্বর কমে যাবে।

এই নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সঠিক পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের ফরিদাবাদের অমৃতা হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সঞ্জয় রায়না।

ভ্রান্ত ধারণা ও বাস্তবতা

সাধারণত মনে করা হয় যে জ্বরের সময় গোসল করলে শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। কিন্তু চিকিৎসকের মতে, এটি একটি ভুল ধারণা। প্রকৃতপক্ষে, হালকা গরম বা কুসুম কুসুম গরম পানিতে গোসল করা অধিকাংশ মানুষের জন্য নিরাপদ এবং এটি জ্বর নিরাময়ে সাহায্য না করলেও রোগীকে অনেকটা সতেজ ও আরামদায়ক অনুভব করতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীর থেকে ঘাম পরিষ্কার হয় এবং শরীর প্রাকৃতিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

কেন ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলবেন?

অনেকেই মনে করেন বরফ-ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমবে। কিন্তু চিকিৎসকরা এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন। ডা. রায়নার মতে, খুব ঠান্ডা পানি শরীরে কাঁপুনি সৃষ্টি করতে পারে, যা পেশিতে তাপ তৈরি করে এবং শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া ঠান্ডা পানি অস্বস্তি এবং কাঁপুনি বাড়িয়ে দেয়।

অতিরিক্ত গরম পানিও ক্ষতিকর

ঠান্ডা পানির মতো অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করাও ঠিক নয়। কারণ অতিরিক্ত গরম পানি:

ঘামের মাধ্যমে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে।

মাথা ঘোরার সমস্যা বাড়াতে পারে।

শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং শারীরিক অস্বস্তি তৈরি করে।

তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, হালকা গরম পানি ব্যবহার করা, যা শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে না।

কখন গোসল করা থেকে বিরত থাকবেন?

জ্বর থাকলেও গোসল করা নিরাপদ হলেও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। যদি রোগী:

প্রচণ্ড দুর্বল অনুভব করেন।

মাথা ঘোরে বা জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা হয়।

বিভ্রান্তি বা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকেন।

নিজে নিরাপদভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে না পারেন।

খুব বেশি জ্বরের সাথে গুরুতর অসুস্থতা থাকে। এমন অবস্থায় গোসলের চেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বিশ্রাম নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

সুস্থ হতে আরও যা প্রয়োজন

মনে রাখতে হবে, জ্বর কোনো রোগ নয় বরং এটি শরীরে অন্য কোনো সংক্রমণের উপসর্গ। তাই শুধু শরীরের তাপমাত্রা কমানোর দিকে নজর না দিয়ে চিকিৎসকরা আরও কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলেছেন:

প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও পানি পান করে শরীর হাইড্রেটেড রাখা।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া।

পুষ্টিকর ও হালকা খাবার খাওয়া।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি জ্বর দুই থেকে তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে, শ্বাসকষ্ট হয়, তীব্র মাথাব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, বারবার বমি হয় কিংবা রোগী বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।শিশু, বয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জ্বরের বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।

পরিশেষে বলা যায়, জ্বর মানেই গোসল বন্ধ নয়। নিয়ম মেনে হালকা গরম পানিতে গোসল করলে আপনার শরীর পরিষ্কার থাকবে এবং আপনি মানসিকভাবেও স্বস্তি বোধ করবেন, যা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

ক্ষুধা লাগলে মেজাজ ঠিক থাকে না, এটা কি কোনও রোগের লক্ষণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
ক্ষুধা লাগলে মেজাজ ঠিক থাকে না, এটা কি কোনও রোগের লক্ষণ?

ব্যস্ত জীবনের চাপে অনেক সময়ই আমাদের দুপুর বা রাতের খাবার খেতে দেরি হয়ে যায়। আর তখনই দেখা যায় অদ্ভুত এক সমস্যা—সামান্য কারণেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে উঠছে, ধৈর্য হারিয়ে ফেলছি আমরা। ইংরেজিতে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘হ্যাঙ্গরি’ (Hangry), যা মূলত ‘হাঙ্গার’ (Hunger) এবং ‘অ্যাংরি’ (Angry) শব্দের সমন্বয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ক্ষুধা লাগলে কেন এমন হয়? এটি কি কোনো শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ, নাকি কেবলই মনের খেয়াল?

গবেষণা কী বলছে?

সম্প্রতি জার্মানির টুবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয় ও বন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিলস ক্রোমার এবং তার গবেষক দল ৯০ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর এক মাসব্যাপী একটি গবেষণা চালান। তাদের প্রত্যেকের শরীরে গ্লুকোজ মনিটর বসানো হয়েছিল এবং দিনে দুবার স্মার্টফোনের মাধ্যমে তাদের মেজাজ ও ক্ষুধার মাত্রা রেকর্ড করা হতো। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্ষুধা লাগলে মেজাজ বিগড়ে যাওয়াটা কেবল রক্তে শর্করার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। বরং যারা তাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ সংকেতগুলো দ্রুত বুঝতে পারেন না, তারাই বেশি মেজাজ হারা।

মস্তিষ্কের খেলা

মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশটি যখন শরীরে শক্তির ঘাটতি শনাক্ত করে, তখন ক্ষুধার সংকেত পাঠায়। অন্যদিকে, আমাদের মস্তিষ্কের ‘ইনসুলা’ নামক অংশটি স্বাদ এবং আবেগ উভয়টিই নিয়ন্ত্রণ করে। ক্ষুধা এবং মেজাজের এই মেলবন্ধন আসলে আমাদের বিবর্তনেরই অংশ। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলেই মানুষের মেজাজ খারাপ হয় না; বরং যখন মানুষ সচেতনভাবে বুঝতে পারে যে সে ক্ষুধার্ত, তখনই তার মেজাজ বিগড়াতে শুরু করে।

ইন্টারোসেপশন : সুস্থতার চাবিকাঠি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় শরীর যখন তার অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনগুলো (যেমন- ক্ষুধা, তৃষ্ণা বা ক্লান্তি) শনাক্ত করতে পারে, তখন তাকে বলা হয় ‘ইন্টারোসেপশন’। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ইন্টারোসেপ্টিভ ক্ষমতা বা শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা বোঝার ক্ষমতা বেশি, তারা ক্ষুধার্ত থাকলেও নিজেদের মেজাজ তুলনামূলক বেশি স্থিতিশীল রাখতে পারেন। অন্যদিকে, যারা এই সংকেতগুলো বুঝতে দেরি করেন, তারা হুট করে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন।

এটি কি কোনো রোগ?

ক্ষুধা লাগলে মেজাজ খিটখিটে হওয়া সরাসরি কোনো রোগ নয়, তবে এটি শরীরের একটি সতর্কবার্তা। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরের এই সংকেতগুলোকে উপেক্ষা করলে তা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি পারিবারিক বা কর্মক্ষেত্রে সম্পর্কের অবনতি ঘটায় এবং অনেক সময় মানুষকে আবেগপ্রবণ হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে বাধ্য করে।

কেন কেউ কেউ দ্রুত ‘হ্যাঙ্গরি’ হয়ে পড়েন?

১. সচেতনতার অভাব: অনেক সময় কাজে বা ডিজিটাল ডিভাইসে এত বেশি মগ্ন থাকা হয় যে, ক্ষুধার প্রাথমিক সংকেতগুলো আমরা খেয়াল করি না। ফলে হঠাৎ করেই শক্তির মাত্রা কমে যায় এবং মেজাজ বিগড়ে যায়।

২. শিশুদের ক্ষেত্রে: শিশুদের শরীর ও মস্তিষ্ক দ্রুত বিকশিত হয়, তাই তারা তাদের শরীরের সংকেতগুলো বড়দের মতো বুঝতে পারে না। এ কারণেই খাবার খেতে দেরি হলে শিশুরা হঠাৎ করে কান্নাকাটি বা জেদ শুরু করে।

মেজাজ ঠিক রাখার উপায়

খাবারের নির্দিষ্ট সময় বজায় রাখা: যখনই আমরা খাবার এড়িয়ে যাই বা দেরি করি, তখনই মেজাজ বিগড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই নিয়মিত বিরতিতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা জরুরি।

ব্যায়াম ও শারীরিক সক্রিয়তা: নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর তার ক্ষুধার সংকেতগুলো আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে এবং বিপাক প্রক্রিয়া উন্নত হয়।

শরীরের কথা শোনা: নিজের শরীরের চাহিদা সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। মেজাজ বিগড়ানোর আগে যখনই সামান্য ক্ষুধা অনুভব করবেন, তখনই হালকা কিছু খেয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

পরিশেষে বলা যায়, ‘হ্যাঙ্গরি’ হওয়া কোনো রোগ নয়, বরং শরীর যখন জ্বালানি বা শক্তি চায়, তখন মস্তিষ্ক আমাদের এই মেজাজ পরিবর্তনের মাধ্যমে সতর্ক করে দেয়। তাই নিজেকে এবং পরিবারকে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে বাঁচাতে ক্ষুধার লক্ষণগুলো সময়মতো চিনে নেওয়া এবং নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি