খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১০ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে বিএনপির তিন নেতা বহিষ্কার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৫ এএম
ফরিদপুরে বিএনপির তিন নেতা বহিষ্কার

দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ফরিদপুর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা ও সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযোগ যাচাই–বাছাইয়ে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বহিষ্কারাদেশ ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

বহিষ্কৃত নেতারা হলেন—বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান বাবু এবং উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি বিশ্বজিৎ রাজবংশী।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক যোগাযোগ না রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়।

জানা গেছে,ফরিদপুর-(বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের নির্বাচনী কার্যক্রমে অসহযোগিতা করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ না করে ভিন্ন অবস্থান নেন। বহিষ্কৃতদের একজন শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু ওই আসনে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে সংগঠন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যাচাই–বাছাই শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সবাইকে নির্দেশনা মানার আহ্বান জানান তিনি।

‘যক্ষ্মা মুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারে ফরিদপুরে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
‘যক্ষ্মা মুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারে ফরিদপুরে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত

ফরিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। “দেশের নেতৃত্বে ও জনগণের শক্তিতে আমরা যক্ষ্মা নির্মূল করতে পারি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

র‍্যালি শেষে কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান। সভায় বক্তারা যক্ষ্মা প্রতিরোধ, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং নিয়মিত চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বক্তারা জানান, ১৮৮২ সালের ২৪ মার্চ জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কখ যক্ষ্মার জীবাণু মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস আবিষ্কার করেন। এ আবিষ্কারের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ১৯৮২ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে যক্ষ্মা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগটি নির্মূলে সবাইকে সম্পৃক্ত করা।

আলোচনা সভায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে যক্ষ্মা এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মাধ্যমে রোগটি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। দেশের প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে যক্ষ্মা পরীক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, যক্ষ্মা একটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ। তবে রোগটি সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা ও সামাজিক কুসংস্কার দূর না হলে নির্মূল সম্ভব নয়। এজন্য জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানে যক্ষ্মা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে রোগমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

হোটেলের আড়ালে অনৈতিক বাণিজ্য! ফরিদপুরে চলছে রমরমা দেহব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৩:৩১ পিএম
হোটেলের আড়ালে অনৈতিক বাণিজ্য! ফরিদপুরে চলছে রমরমা দেহব্যবসা

ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে দেহব্যবসা চলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শহরের একাধিক হোটেলে বাইরে থেকে নারী এনে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, যদিও প্রশাসন এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত কিছু আবাসিক হোটেলে প্রতিদিনই এই ধরনের কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া পুরো রাতের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে শহরের হেলিপোর্ট বাজার এলাকার একটি আবাসিক হোটেল, ব্রেইলি ব্রিজ সংলগ্ন কয়েকটি হোটেল এবং হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার এলাকার কয়েকটি হোটেলসহ অন্তত ৮ থেকে ১০টি স্থানে সন্দেহজনক কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব হোটেলের আশপাশে কিছু নারীকে প্রকাশ্যে ক্রেতা ডাকতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় এই অবৈধ ব্যবসা টিকে আছে। তাদের দাবি, অনেক সময় অভিযানের আগেই সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলোকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। ফলে অভিযান পরিচালনার সময় কাউকে পাওয়া যায় না, এবং অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে, প্রশাসন সেটা অস্বীকার করেছে।

এদিকে, অনুসন্ধানে কিছু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। গোয়ালচামট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে গিয়ে একজন ম্যানেজার নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেন এবং একটি ভিজিটিং কার্ড প্রদর্শন করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো. শামছুল আজম বলেন, “দেহব্যবসার মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করছি। কেউ যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য দেন, তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারব। কোনো অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের নাম ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিন্টু বিশ্বাস বলেন, “প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমন অভিযোগ সত্য নয়। বরং কিছু অসাধু চক্র প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি এবং যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, “আইনের বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে যেই হোক না কেন। মাদক ও নারী আর হোটেলে দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে।”

সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর সঠিক তদন্ত এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

ঈদের সাত দিনের ছুটি শেষে খুলেছে অফিস-আদালত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
ঈদের সাত দিনের ছুটি শেষে খুলেছে অফিস-আদালত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষ হয়েছে সোমবার (২৩ মার্চ)। গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এ থেকে ছুটি শুরু হয়।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে অফিস-আদালত খুলেছে। অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত।

ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষ বাস, ট্রেন, লঞ্চে এবং ব্যক্তিগত বাহনে বাড়ি থেকে ফিরেছেন।

গত ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের পাঁচ দিন ছুটি নির্ধারণ করা ছিল। পূর্ব ঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চও ছুটির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর ফলে ঈদের ছুটি ছিল মোট সাত দিন।

গত ৫ মার্চ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে শবে কদরের একদিনের ছুটির পর ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করা হয়।

রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ায় ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা ছিল।

আর গণমাধ্যমকর্মীরা ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি পেয়েছিলেন পাঁচ দিন।