খুঁজুন
, ,

“চেনা কেউ আসবে কি?” ফরিদপুরের বৃদ্ধাশ্রমে নুরজাহান বেগমের অপেক্ষার জীবন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
“চেনা কেউ আসবে কি?” ফরিদপুরের বৃদ্ধাশ্রমে নুরজাহান বেগমের অপেক্ষার জীবন

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া থাকে একটু স্নেহ, একটু খোঁজখবর আর প্রিয়জনের পাশে থাকার সুযোগ। কিন্তু সব মানুষের ভাগ্যে তা জোটে না। ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার ‘শান্তি নিবাস’—যা স্থানীয়দের কাছে বৃদ্ধাশ্রম হিসেবেই বেশি পরিচিত—সেখানে এমনই এক নীরব জীবনের গল্প বয়ে বেড়াচ্ছেন নুরজাহান বেগম।

বয়স তার ৬০ পেরিয়েছে বহু আগেই। জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে সংগ্রাম আর একাকীত্বে। পৃথিবীতে নিজের বলতে তেমন কেউ নেই বলেই শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিতে হয়েছে এই বৃদ্ধাশ্রমে। এখানে এখন তার দিন কাটে অপেক্ষায়, স্মৃতির ভেতর ঘুরে বেড়ানো আর মৃত্যুর প্রহর গোনায়।

নুরজাহান বেগমের জন্ম ফরিদপুর জেলা সদরের হারোকান্দিতে। ছোটবেলাতেই জীবনে নেমে আসে দুঃখের ছায়া। যখন তার বয়স মাত্র নয় বছর, তখনই মারা যান তার বাবা আইনউদ্দিন শেখ। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই কিছুদিনের মধ্যে হারান মাকেও। এত অল্প বয়সে এত বড় শূন্যতা তাকে একেবারেই অসহায় করে তোলে।

এরপর আশ্রয় মেলে বড় বোনের সংসারে। বোনের বাসাতেই ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা তার জীবনের স্বাভাবিক পথকে বদলে দেয়। ছোটবেলা থেকেই তার দুই পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে এবং তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। স্থানীয় ভাষায় যাকে অনেকে “পা ফোলা রোগ” বলে উল্লেখ করেন। এই অসুস্থতার কারণেই তিনি কখনো স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা বা ভারী কাজ করতে পারেননি।

নুরজাহান বেগম নিজেই বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই পায়ের সমস্যায় ভুগছি। হাঁটতে কষ্ট হয়, ব্যথা করে। তাই ভাবতাম, যদি বিয়ে করি তাহলে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে কাজ করতে পারব না। কারও বোঝা হয়ে থাকতে চাইনি। তাই জীবনে বিয়ে করিনি।”

সময়ের সাথে সাথে বোনের জীবনেও পরিবর্তন আসে। বোনের বিয়ে হয়, সংসার গড়ে ওঠে, সন্তান হয়। পরিবারের সদস্য বাড়তে থাকে। সেই সংসারে ধীরে ধীরে নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে হতে শুরু করে নুরজাহানের।

তিনি বলেন, “বোনের সংসার হলো, ছেলে-মেয়ে হলো। তখন বুঝলাম আমি যেন ওদের জন্য বোঝা হয়ে যাচ্ছি। কারও ওপর চাপ হয়ে থাকতে ভালো লাগে না। এক সময় আমাকে এই বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে আসা হয়।”

ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার শান্তি নিবাস বহু বছর ধরে অসহায় ও নিঃস্ব বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। এখানে থাকা অনেকের মতো নুরজাহান বেগমের জীবনেও রয়েছে না বলা অনেক গল্প, কষ্ট আর স্মৃতি।

বৃদ্ধাশ্রমের ছোট্ট একটি কক্ষে তার এখনকার বাস। সেখানে একটি খাট, কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আর দেয়ালে ঝুলে থাকা পুরোনো স্মৃতিই তার সঙ্গী।

তবে পুরোপুরি ভুলে যাননি তার আপনজনরা—এমনটাও নয়। মাঝে মাঝে বোনের পরিবারের কেউ কেউ তাকে দেখতে আসে। কখনো ফোন করে খোঁজখবর নেয়। এই সামান্য যোগাযোগই তার কাছে বড় সান্ত্বনা হয়ে আসে।

নুরজাহান বেগম বলেন, “অনেকদিন পর পর ওরা আসে। কখনো মোবাইলে কথা বলে। তখন মনে হয়, এখনও কেউ আছে আমার খোঁজ নেওয়ার।”

বৃদ্ধাশ্রমের বারান্দায় বসে প্রায়ই তিনি রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। হয়তো মনে মনে আশা করেন—হঠাৎ করেই কোনো পরিচিত মুখ সামনে এসে দাঁড়াবে।

“এই বৃদ্ধাশ্রমই এখন আমার ঘর। এখানেই মাথা ঠুকে বেঁচে আছি। মাঝে মাঝে বসে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকি। যদি চেনা কেউ আসে,”—কথাগুলো বলতে বলতে তার চোখে ভেসে ওঠে এক অদৃশ্য শূন্যতা।

এভাবেই দিন যায়, রাত আসে। আর তিনি ধীরে ধীরে গুনতে থাকেন জীবনের শেষ সময়ের অপেক্ষা।

“স্বপ্ন বলতে এখন আর কিছু নেই,”—শান্ত কণ্ঠে বলেন নুরজাহান বেগম। “দিন আসে, রাত যায়। মনে হয় শুধু মৃত্যুর প্রহর গুনছি।”

বৃদ্ধাশ্রমের দায়িত্বশীলরা জানান, এখানে থাকা অনেক মানুষের মতো নুরজাহান বেগমও অত্যন্ত শান্ত ও নিরহংকার একজন মানুষ। নিজের কষ্টের কথা খুব কমই বলেন। বেশিরভাগ সময় চুপচাপ থাকেন।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবারভিত্তিক সামাজিক কাঠামো এখনও শক্তিশালী হলেও অনেক ক্ষেত্রে অসহায় ও বয়স্ক মানুষেরা পরিবারের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের শারীরিক অসুস্থতা বা আর্থিক সংকট রয়েছে, তাদের জীবনে এই বাস্তবতা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

নুরজাহান বেগমের জীবনও যেন সেই বাস্তবতারই একটি প্রতিচ্ছবি।

তবুও তার চোখে মাঝে মাঝে একটুখানি আশা জ্বলে ওঠে—হয়তো কোনোদিন আবার কেউ এসে বলবে, “চলো, তোমাকে নিয়ে যাই নিজের ঘরে।”

ততদিন পর্যন্ত ফরিদপুরের টেপাখোলার এই শান্তি নিবাসই তার আশ্রয়, সঙ্গী আর জীবনের শেষ ঠিকানা।

সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব (মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল) মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া জনপদের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৮৮ সালে নগরকান্দায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।

ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জব্দ করা হাতিটি এখনো সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই রয়েছে। হাতিটির মালিকানা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, নাকি বন বিভাগের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে -তা নির্ধারণ হবে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাতিটি সদরপুর থানা চত্বরে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিক পক্ষ থেকে দুইজন মাহুতকে থানায় পাঠানো হয়েছে। তারাই নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে প্রতিদিন একটি হাতির জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। কলাগাছ, ঘাসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার সংগ্রহ করতে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশ ও মাহুতদের। থানা প্রাঙ্গণে হাতির জন্য স্থায়ীভাবে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

থানায় অবস্থানকালে হাতিটি প্রায়ই মাহুতদের সঙ্গে থানা চত্বরে হেঁটে বেড়ায়। বিশাল আকৃতির প্রাণীটিকে দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে থানায় এসে হাতিটিকে দেখছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন অপ্রত্যাশিত এক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সদরপুর থানার পলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকলেসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত হাতিটি থানার হেফাজতেই থাকবে। আদালত যদি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা হস্তান্তর করা হবে। আর বন বিভাগের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, হাতিটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, পুলিশ সেটিই বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে সড়কে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুত বকুল মিয়াকে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে আটক এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে হাতিটি থানার হেফাজতেই রয়েছে।

সালথায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল দুই সন্তানের জননীর

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
সালথায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল দুই সন্তানের জননীর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পিসনাইল গ্রামে টয়লেট থেকে ফেরার পথে সাপের কামড়ে সরস্বতী মণ্ডল (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সরস্বতী মণ্ডল ওই গ্রামের প্রেমানন্দ মণ্ডলের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে বাড়ির পাশের টয়লেট থেকে ফেরার সময় সরস্বতী মণ্ডল অসাবধানতাবশত একটি ইঁদুরের গর্তে পা দেন। এ সময় গর্তে থাকা একটি সাপ তাঁকে দংশন করে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। সকাল আটটার দিকে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন।

হঠাৎ এ মৃত্যুর ঘটনায় পিসনাইল গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।