খুঁজুন
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বালুবাহী একটি ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মিন্টু পাট্টাদার (৪২) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের বাবলাতলা এলাকায় এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মিন্টু পাট্টাদার গাজীরটেক ইউনিয়নের পাট্টাদার গ্রামের জামিল পাট্টাদারের ছেলে। তিনি পেশায় নছিমন চালক ছিলেন। পাশাপাশি চরভদ্রাসন বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে ডিম সরবরাহের কাজ করতেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর-চরভদ্রাসন সড়কের বাবলাতলা এলাকার একটি মাদরাসার পাশে কয়েকটি বালুবাহী ট্রাক বালু আনলোড করে ফিরছিল। এ সময় একটি নম্বরবিহীন বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে মিন্টুর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কের পাশের ঢালে পড়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা ট্রাকটি আটক করে এবং চালক আবির হোসেন (২১)-কে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আবির ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের বড় মাধবপুর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটিতে বালুবাহী ট্রাকগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। অনেক ট্রাকেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বৈধ কাগজপত্র নেই। এসব কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তারা সড়কে ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জানান।

চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বালুবাহী একটি ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মিন্টু নামে এক মোটরসাইকেল চালক ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ট্রাকের চালককে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ধর্ষণ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান, ফরিদপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ণ
ধর্ষণ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান, ফরিদপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের মতবিনিময় সভা

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে ফরিদপুরে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। ‘ধর্ষণ বিরোধী ও প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এ সভায় বক্তারা পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ফরিদপুর শহরের কুঠিবাড়ী কমলাপুর এলাকার রঙিন সুতা যুব উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বসুন্ধরা শুভসংঘ ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি তন্ময় রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া সুলতানার সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বসুন্ধরা শুভসংঘের ফরিদপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা ও বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি হারুন-অর-রশীদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হারুন-অর-রশীদ বলেন, “ধর্ষণ শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানবতা ও সভ্যতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধ। এই অপরাধ প্রতিরোধে কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করলে হবে না; পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং তরুণ সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিশুদের নৈতিক শিক্ষা, নারীর প্রতি সম্মানবোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ চর্চা বাড়াতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, মাদকাসক্তি, নৈতিক অবক্ষয় এবং পারিবারিক নজরদারির অভাব অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আইনি ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা জরুরি।”

সভায় বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে অপরাধপ্রবণতা কমানো সম্ভব বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের দপ্তর সম্পাদক তিহানুর রহমান তিহান, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব বিশ্বাস, মেহরাব হোসেন ইমন, সানজিদা ইসলাম, তামান্না আফরোজা, সাহেলা আক্তার, আয়শা সিদ্দিকা, লতিফুল খাবীর, সামিয়া আক্তারসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

সভা শেষে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।

ফরিদপুরে বেকারত্ব থেকে স্বাবলম্বী জাকির, আমবাগানেই কর্মসংস্থান ৭ যুবকের

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বেকারত্ব থেকে স্বাবলম্বী জাকির, আমবাগানেই কর্মসংস্থান ৭ যুবকের

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কুঞ্জনগর গ্রামে এক ব্যতিক্রমী আমবাগান ঘিরে জমে উঠেছে মৌসুমি ব্যবসা। বেকারত্বের গণ্ডি পেরিয়ে আম বিক্রিকে কেন্দ্র করে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আরও কয়েকজন যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন স্থানীয় যুবক জাকির হোসেন। জাকির একই উপজেলার রামনগর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। সে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে সমাজকর্ম বিভাগে মাস্টার্স করছেন।

কুঞ্জনগর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ শেখের প্রায় সাড়ে ৭ বিঘা জমির প্রকল্পের মধ্যে সাড়ে ৪ বিঘাজুড়ে রয়েছে আমবাগান। বাগানটিতে রয়েছে প্রায় ৩৯০টি আমগাছ। চলতি মৌসুমে পুরো বাগানের আম কিনে নিয়েছেন জাকির হোসেন। এরপর সরাসরি বাগান থেকেই ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন বিভিন্ন জাতের টাটকা আম।

বাগানটিতে হারিভাঙা, হিমসাগর, রুপালি, ল্যাংড়া, বারি-৪, মল্লিকা, রাজভোগ, গোবিন্দভোগ, আশ্বিনা-সহ প্রায় ১৩ জাতের আম রয়েছে। অনলাইনে প্রতি কেজি আম ৬০ টাকা এবং বাগানে সরাসরি এসে কিনলে ৭০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যা স্থানীয় বাজারদরের তুলনায় কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কম।

জাকির জানান, প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ মণ আম বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ মণ আম বিক্রি করেছেন তিনি। প্রতিদিন অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা বাগানে আসছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে এসে গাছ থেকে আম পেড়ে খেয়ে স্বাদ পরীক্ষা করে তারপর কিনে নিচ্ছেন।

স্থানীয় চাকরিজীবী রতন শেখ বলেন, “বাজারে অনেক সময় কতদিন আগে পাড়া আম বিক্রি হয় তা জানা যায় না। কিন্তু এখানে সরাসরি গাছ থেকে পাড়া টাটকা আম পাওয়া যায়। দামও বাজারের তুলনায় কম। তাই আমরা পরিবার নিয়ে এসে আম কিনছি।”

জাকির হোসেন বলেন, “পড়াশোনা করেও দীর্ঘদিন ধরে চাকরি পাচ্ছিনা। তখন চিন্তা করলাম মৌসুমি ফলের ব্যবসা করা যায় কি না। সেই ভাবনা থেকেই আমবাগানের আম কিনে নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। এখন ভালো সাড়া পাচ্ছি। নিজের আয় যেমন হচ্ছে, তেমনি আমার সঙ্গে আরও ৫ থেকে ৭ জন যুবক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জাকিরের উদ্যোগে এলাকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও ফরমালিনমুক্ত ও টাটকা আম সহজে কিনতে পারছেন। ফলে বাগানটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে একটি জনপ্রিয় আম বিক্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আধুনিক কৃষি ও ফলভিত্তিক উদ্যোক্তা কার্যক্রম গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। জাকির হোসেনের মতো তরুণদের এমন উদ্যোগ বেকারত্ব দূরীকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে এবং অন্য যুবকদেরও কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় আগ্রহী করে তুলছে।

নগরকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রেজাউল করিম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আম চাষ ও ফলভিত্তিক উদ্যোক্তা কার্যক্রম বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাকির হোসেনের মতো তরুণরা কৃষিকে ব্যবসায়িকভাবে গ্রহণ করায় একদিকে যেমন নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাগান থেকে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে আম বিক্রি করায় ভোক্তারা টাটকা ও নিরাপদ ফল পাচ্ছেন। কৃষিতে শিক্ষিত যুবকদের অংশগ্রহণ বাড়লে দেশের কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।”

স্বাস্থ্যসেবার আলো পৌঁছালো গ্রামে, মধুখালীতে Patient Point-এর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
স্বাস্থ্যসেবার আলো পৌঁছালো গ্রামে, মধুখালীতে Patient Point-এর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করেছে Patient Point Ltd.।

শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে শতাধিক অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতন করা হয় উপস্থিতদের।

ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জ্যোতিষ চন্দ্র মন্ডল (এমবিবিএস, পিজিটি, এমপিএইচ-রোগতত্ত্ব)। তিনি রোগীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শুনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন এবং সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন Patient Point Ltd.-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম (বাবু)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. বাচ্চু শেখ। সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির হেলথ কার্ড সেক্টরের প্রধান মো. আনিসুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের বহু মানুষ এখনও সঠিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত তথ্যের অভাবে প্রতারকচক্র ও দালালদের খপ্পরে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। Patient Point Ltd. মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য তথ্য, সঠিক চিকিৎসা পরামর্শ এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সেই অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জ্যোতিষ চন্দ্র মন্ডল বলেন, Patient Point Ltd. সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষায় বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে, যা দরিদ্র রোগীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে অনেক জটিল রোগ সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটির সদস্য হওয়ার পর তারা স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারছেন। তারা Patient Point Ltd.-এর রোগীবান্ধব কার্যক্রম ও আন্তরিক সেবার প্রশংসা করেন।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী সকল রোগীর জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।