খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন স্থগিত

আগামী ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির ২০২৬-২০২৯ মেয়াদের নির্বাচন। তবে আদালতের আদেশে আপাতত সেই নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুরের বিজ্ঞ সিভিল জজ আদালতের বিচারক রুমানা আক্তার এ সংক্রান্ত স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

বিষয়টি ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ মো. আবু জাফর।

জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলী নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ৩৯৪/২০২৬। মামলার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে আদালত আগামী ৪ জুলাই নির্ধারিত ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন।

তবে মামলার আবেদনে কী কী বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ কবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

এদিকে আদালতের এ আদেশের ফলে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ফ্রিজের আয়ু বাড়ানোর সহজ উপায়, এক পলকে দেখে নিন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রিজের আয়ু বাড়ানোর সহজ উপায়, এক পলকে দেখে নিন

একটা ভালো মানের ফ্রিজ সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত সার্ভিস দেয়। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক পরিবারে দেখা যায় সাত-আট বছরেই ফ্রিজ ঘন ঘন সমস্যা করতে শুরু করে। এর পেছনে যন্ত্রের দোষ কম, ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভ্যাসের দোষ বেশি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফ্রিজের বাড়তি চাপ:

ইউরোপ বা আমেরিকার তুলনায় বাংলাদেশে ফ্রিজের উপর চাপ অনেক বেশি। গরমের মাসগুলোতে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। বাইরের তাপমাত্রা বেশি হলে ফ্রিজের কম্প্রেসরকে বেশি কাজ করতে হয়। এর সাথে যোগ হয় লোডশেডিংয়ের সমস্যা। বিদ্যুৎ চলে গিয়ে ফিরে আসার সময় ভোল্টেজের ওঠানামা কম্প্রেসরের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ। এই চাপ কমাতে সহজ কিছু অভ্যাস মেনে চললে ফ্রিজের আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করুন:

লোডশেডিংয়ের পর বিদ্যুৎ ফিরলে প্রায়ই ভোল্টেজ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কম থাকে। এই অবস্থায় কম্প্রেসর চালু হলে মোটরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে ক্ষতি হয়। ভালো মানের ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না:

রান্নার পরপরই গরম খাবার ফ্রিজে রাখলে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরিয়ে আনতে কম্প্রেসরকে অনেক বেশি কাজ করতে হয়। খাবার ঘরের তাপমাত্রায় ঠান্ডা হওয়ার পর ফ্রিজে রাখুন।

পেছনের কয়েল পরিষ্কার রাখুন:

ফ্রিজের পেছনে বা নিচে কালো রঙের কুণ্ডলী পাকানো যে অংশটা থাকে সেটা কনডেন্সার কয়েল। এই কয়েলে ধুলো জমলে তাপ ছাড়তে পারে না, ফলে কম্প্রেসর বেশি চলতে হয়। প্রতি ছয় মাসে একবার নরম ব্রাশ দিয়ে এই কয়েল পরিষ্কার করুন।

দরজার রাবার সিল পরীক্ষা করুন:

ফ্রিজের দরজার চারপাশে রাবারের সিল থাকে যেটা ঠান্ডা বাতাস বের হতে দেয় না। এই সিল নষ্ট হলে বা আলগা হলে ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে যায় এবং কম্প্রেসর সারাক্ষণ চলতে থাকে। একটা সহজ পরীক্ষা হলো দরজায় একটা কাগজ রেখে বন্ধ করুন, সহজেই টেনে বের করতে পারলে সিল দুর্বল হয়ে গেছে।

ফ্রিজের চারপাশে বাতাস চলাচলের জায়গা রাখুন:

দেয়াল বা আসবাবপত্রের একদম সাথে লাগিয়ে ফ্রিজ রাখলে কনডেন্সারের তাপ বের হতে পারে না। ফ্রিজের পেছনে এবং দুই পাশে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার ফাঁকা রাখুন।

অতিরিক্ত ঠেসে ভরবেন না:

ফ্রিজের ভেতর বায়ু চলাচল না হলে সব জায়গায় সমান ঠান্ডা পৌঁছায় না। কম্প্রেসর তখন বেশি কাজ করে। খাবার গুছিয়ে রাখুন যাতে ঠান্ডা বাতাস সব দিকে ছড়াতে পারে।

কখন বুঝবেন মেরামত নয়, বদলানোর সময় হয়েছে:

ফ্রিজের বয়স ১০ বছরের বেশি হলে এবং ঘন ঘন কম্প্রেসর বা কুলিং সমস্যা হলে মেরামতে টাকা ঢালা সবসময় বুদ্ধিমানের কাজ নয়। পুরনো ফ্রিজ বিদ্যুৎও বেশি খরচ করে। সেক্ষেত্রে *বাজারে নতুন ফ্রিজের মডেল ও দাম* [https://www.bdstall.com/refrigerator/] অনলাইনে দেখে তুলনা করে নেওয়াটা সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচায়।

ফ্রিজ একটা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। একটু সচেতন থাকলে এবং সহজ কিছু অভ্যাস মেনে চললে একই ফ্রিজ অনেক বেশি সময় ধরে ভালো সার্ভিস দেবে।

দিনে ৩ বেলা খাওয়া ভালো, নাকি ঘন ঘন অল্প করে খাওয়া ভালো?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
দিনে ৩ বেলা খাওয়া ভালো, নাকি ঘন ঘন অল্প করে খাওয়া ভালো?

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে আমাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের শেষ নেই। দীর্ঘকাল ধরে আমরা দিনে তিনবেলা ভারী খাবার খাওয়ার প্রথা মেনে আসছি। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও ফিটনেস দুনিয়ায় এখন অন্য একটি ধারণাও বেশ জনপ্রিয়, তা হলো ‘মিল ফ্রিকোয়েন্সি’ বা সারা দিনে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া।

কেউ ওজন কমাতে চাচ্ছেন, কেউ বা চাচ্ছেন দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষম থাকতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শরীর আর মেটাবলিজমের জন্য আসলে কোনটি বেশি কার্যকর? প্রচলিত তিনবেলার রুটিন, নাকি আধুনিক ছয় বেলার অভ্যাস? এই বিতর্কের সমাধান পেতে এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস বেছে নিতে আমাদের বুঝতে হবে শরীরের নিজস্ব প্রয়োজন ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি।

পুষ্টিবিদদের মতে, সবার জন্য কার্যকর এমন কোনো নির্দিষ্ট ‘এক ছাঁচের’ নিয়ম নেই। আপনার প্রতিদিনের জীবনধারা, শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা, স্বাস্থ্যের লক্ষ্য এবং ক্ষুধার ধরনের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করতে হবে আপনার জন্য কোন পদ্ধতিটি সঠিক।

মেটাবলিজম বা বিপাক হার নিয়ে ভুল ধারণা

অনেকে বিশ্বাস করেন যে, ঘন ঘন খেলে মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। যদিও খাবার হজম করার সময় শরীর সাময়িকভাবে কিছু ক্যালরি পোড়ায় (যাকে ‘থার্মিক ইফেক্ট অফ ফুড’ বলা হয়), তবে এটি সারাদিনের মোট ক্যালরি ব্যয়ের ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলে না।

গবেষণায় দেখা গেছে, আপনি যদি সারা দিনে ২,০০০ ক্যালরি গ্রহণ করেন, তবে তা তিনবারে খান বা ছয়বারে, মেটাবলিজমের ওপর তার প্রভাব প্রায় একই থাকে। শরীরের মেটাবলিজম মূলত নির্ভর করে আপনার বয়স, শারীরিক গঠন, হরমোন, ব্যায়াম এবং ঘুমের মানের ওপর।

ওজন কমানোর রহস্য

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মোট ক্যালরি গ্রহণ ও ব্যয়ের ভারসাম্য। আপনি যে পদ্ধতিই বেছে নিন না কেন, ওজন কমাতে হলে শরীর যে পরিমাণ ক্যালরি খরচ করে, তার চেয়ে কম পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করতে হবে। কম ক্যালরি গ্রহণ করে এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো সম্ভব।

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও খাবারের গুণগত মান

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে কোন পদ্ধতিটি ভালো, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অনুভূতির ওপর নির্ভর করে। তবে এক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যার চেয়ে খাবারের উপাদান বা ‘কন্টেন্ট’ বেশি গুরুত্ব বহন করে।

প্রোটিন, ফ্যাট ও ফাইবার: এই উপাদান সমৃদ্ধ ভারসাম্যপূর্ণ খাবার ধীরে হজম হয়, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

চিনি ও রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট: চিনিযুক্ত খাবার বা ময়দা জাতীয় খাবার খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়। ফলে এগুলো খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবার ক্ষুধা লাগে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও রক্তে শর্করা

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যা রক্তে শর্করার ওপর বড় কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে যারা ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে ভুগছেন, তাদের জন্য ঘন ঘন অল্প করে খাওয়া বেশি উপকারী হতে পারে। এতে একবারে রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এবং দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও এড়ানো যায়।

আপনি কোন পদ্ধতি বেছে নেবেন?

তিনবেলা খাবার তাদের জন্য ভালো যারা নির্দিষ্ট ও সাধারণ রুটিন পছন্দ করেন, একবারে পেট ভরে খেলে বেশি সন্তুষ্ট বোধ করেন, অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকিং বা বারবার খাওয়ার অভ্যাস কমাতে চান, খুবই ব্যস্ত সময়সূচি মেনে চলেন এবং বারবার খাবারের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়।

ঘন ঘন অল্প খাওয়া তাদের জন্য ভালো যারা খাবারের মাঝখানের দীর্ঘ বিরতিতে খুব বেশি ক্ষুধার্ত অনুভব করেন, সারাদিন কাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন শক্তির প্রয়োজন বোধ করেন, অত্যধিক পরিশ্রমী জীবনযাপন করেন, যাদের বেশি ক্যালরির প্রয়োজন, হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন এবং একবারে বেশি খেলে অস্বস্তি অনুভব করেন।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

আপনি বিয়ের জন্য প্রস্তুত কি না জানিয়ে দেবে যে ১৪ লক্ষণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
আপনি বিয়ের জন্য প্রস্তুত কি না জানিয়ে দেবে যে ১৪ লক্ষণ?

বিয়ে মানেই কেবল উৎসবের আমেজ, নতুন পোশাক আর সুন্দর মুহূর্তের হাতছানি নয়; এটি জীবনের এক বিশাল বড় অঙ্গীকার। আমাদের সমাজে অনেকেই খুব দ্রুত বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চান, কিন্তু মানসিকভাবে এই দীর্ঘ যাত্রার জন্য তারা কতটুকু প্রস্তুত, তা নিয়ে খুব কমই ভাবেন।

মনে রাখা প্রয়োজন, বিয়ে কেবল একটি সমস্যার সমাধান নয়। বরং দুটি মানসিকভাবে সুস্থ ও সুখী মানুষ যখন একত্রিত হয়ে একটি সুন্দর পরিবার গড়ার স্বপ্ন দেখে, তখনই কেবল একটি সফল দাম্পত্য জীবন সম্ভব হয়।

আপনি বিয়ের জন্য সত্যিই প্রস্তুত কি না, তা যাচাই করার জন্য নিচের ১৪টি লক্ষণের দিকে নজর দিন:

১. নিজের যত্ন নিতে না শেখা: দাম্পত্য জীবনের চড়াই-উতরাই সামলাতে নিজের শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক যত্ন নেওয়া জরুরি। আপনি যদি প্রতিকূল সময়ে নিজের মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে না জানেন, তবে ছোটখাটো সমস্যাতেও আপনি ভেঙে পড়তে পারেন।

২. স্বামী ও স্ত্রীর দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা না থাকা: বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক ও ধর্মীয় ভূমিকা থাকে। এই দায়িত্বগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে সংসারের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

৩. বিয়ের মূল উদ্দেশ্য না বোঝা: বিয়ে কেবল একটি আইনি বা সামাজিক বন্ধন নয়, এটি একটি সুস্থ সমাজ গড়ার মূল ভিত্তি। একটি সুখী পরিবার যেমন সমাজকে সুন্দর করে, তেমনি একটি অসুখী বা ভেঙে যাওয়া পরিবার সন্তানদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৪. সৃষ্টিকর্তার ওপর নির্ভরশীলতার অভাব: সঙ্গীর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা অনেক সময় কষ্টের কারণ হয়। আধ্যাত্মিকভাবে নিজেকে শক্তিশালী করলে সঙ্গীর ছোটখাটো ভুলগুলো ক্ষমা করা সহজ হয় এবং প্রতিকূল সময়ে ধৈর্য ধারণ করা যায়।

৫. অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকা: সম্মান হলো সুখী দাম্পত্যের অন্যতম প্রধান উপাদান। যদি আপনি বর্তমান জীবনে আপনার চারপাশের মানুষকে সম্মান করতে না পারেন, তবে বিয়ের পর আপনার সঙ্গীর মর্যাদা রক্ষা করাও আপনার জন্য কঠিন হবে।

৬. নিজস্ব সত্তাকে খুঁজে না পাওয়া: আপনি কে, আপনার জীবনের লক্ষ্য কী—এই বিষয়গুলো বিয়ের আগে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নিজের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী না হলে অন্যের চাপে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলার ভয় থাকে।

৭. গঠনমূলকভাবে মতভেদ প্রকাশ করতে না পারা: সুখী দম্পতিদের মধ্যেও ঝগড়া হয়, কিন্তু তারা জানে কীভাবে সেই ঝগড়া মেটাতে হয়। চিৎকার বা জেদ ধরে রাখার বদলে শান্তভাবে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করা বিয়ের জন্য অপরিহার্য।

৮. সমস্যা এড়িয়ে চলার প্রবণতা: যেকোনো সমস্যা কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখলে তা কেবল তিক্ততাই বাড়ায়। দাম্পত্য জীবনে কোনো কিছু অপছন্দ হলে তা সরাসরি কিন্তু নম্রভাবে প্রকাশ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

৯. নিজের জীবনে সুখী না হওয়া: আপনি যদি ভাবেন বিয়ে করলেই আপনার সব অপূর্ণতা ঘুচে যাবে, তবে আপনি ভুল ভাবছেন। আগে নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে সুখী হতে শিখুন; তখনই কেবল আপনি অন্যকে সুখী করতে পারবেন।

১০. ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বুঝতে না পারা: জীবনের কিছু নির্দিষ্ট আদর্শ বা নিয়ম থাকা উচিত যা আপনি কখনোই বিসর্জন দেবেন না। নিজের মূল্যবোধ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে একজন আদর্শ সঙ্গী আপনাকে সেই গুণের জন্যই সম্মান করবে।

১১. নিজের জন্য রুখে দাঁড়াতে না পারা: আপনি যদি সহজেই অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হন বা নিজের অধিকারের কথা বলতে দ্বিধা বোধ করেন, তবে দাম্পত্যের কঠিন পরিস্থিতিতে আপনি অসহায় বোধ করতে পারেন।

১২. নিজের মূল্য বুঝতে না পারা: নিজেকে মূল্যবান মনে করা অহংকার নয়, বরং আত্মমর্যাদা। আপনি যদি নিজেকে গুরুত্ব না দেন, তবে অন্য কেউ আপনাকে মূল্যায়ন করবে এমনটা আশা করা কঠিন।

১৩. বাহ্যিক চাকচিক্যে নিজের সার্থকতা বিচার করা: গায়ের রং, চাকরি বা সামাজিক মর্যাদা দিয়ে নিজের মূল্য নির্ধারণ করবেন না। এই বাহ্যিক বিষয়গুলো পরিবর্তনশীল, কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্ব ও কর্মই স্থায়ী সম্পদ।

১৪. ‘লোকে কী বলবে’ তা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবা: অন্যের চোখে নিজেকে নিখুঁত দেখানোর চেষ্টা না করে নিজের প্রতি সৎ থাকুন। বিয়ের আগে নিজের আসল রূপটি আড়াল করলে বিয়ের পর সঙ্গী যখন সত্যটি জানবেন, তখন বিশ্বাসভঙ্গ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিয়ে একটি দীর্ঘ ও সুন্দর পথচলা। উল্লিখিত ১৪টি লক্ষণের আলোকে নিজেকে মূল্যায়ন করুন। যদি আপনার মাঝে এই লক্ষণগুলো থাকে, তবে এখনই বিয়ে করা উচিত নয়; বরং পর্যাপ্ত মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন জীবনের দিকে পা বাড়ান।

তথ্যসূত্র: দ্য মুসলিম ভাইব