খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরের চারটি আসনে কার ঝুলিতে কত ভোট? ২৮ প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এক নজরে

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চারটি আসনে কার ঝুলিতে কত ভোট? ২৮ প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এক নজরে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের ফলাফল রাতেই বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়। চার আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে ভোটযুদ্ধ ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নিচে আসনভিত্তিকভাবে প্রার্থীদের নাম, প্রতীক ও প্রাপ্ত ভোটের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—

🔹 ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫,১০,৫৪০ জন। আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বেসরকারি ফলাফলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লা বিজয়ী হয়েছেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– মো. ইলিয়াস মোল্লা (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) — দাঁড়িপাল্লা প্রতীক — ১,৫৪,১৪৫ ভোট (বিজয়ী)

– খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,২৬,৪৭৬ ভোট

– মো. আবুল বাসার খান (স্বতন্ত্র) — ফুটবল — ৩৪,৩৮৭ ভোট

– মো. গোলাম কবীর মিয়া (স্বতন্ত্র) — মোটরসাইকেল — ২,১৫৯ ভোট

– মৃন্ময় কান্তি দাস (বিএমজেপি) — রকেট — ৭৮৬ ভোট

– সুলতান আহম্মেদ খান (জাতীয় পার্টি) — লাঙ্গল — ৫০৬ ভোট

– মো. হাসিবুর রহমান (স্বতন্ত্র) — হরিণ — ৪৫৫ ভোট

– শেখ আব্দুর রহমান জিকো (স্বতন্ত্র) — উট — ৮৪ ভোট

এ আসনে মূল লড়াই হয় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান ইলিয়াস মোল্লা।

🔹 ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৩২,০৪১ জন। ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু জয়লাভ করেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,২১,৬৯৪ ভোট (বিজয়ী)

– মাওলানা মো. আকরাম আলী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) — রিক্সা — ৮৯,৩০৫ ভোট

– শাহ মো. জামাল উদ্দীন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা — ২,৩৬৮ ভোট

– ফারুক ফকির (গণঅধিকার পরিষদ) — ট্রাক — ৬৭৫ ভোট

-আকরামুজ্জামান (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ) — আপেল — ৬১৭ ভোট

– মো. নাজমুল হাসান (বাংলাদেশ কংগ্রেস) — ডাব — ২৫৭ ভোট

ধানের শীষ ও রিক্সা প্রতীকের মধ্যে জমজমাট লড়াই হয়। প্রায় ৩২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।

🔹 ফরিদপুর-৩ (সদর উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার ৪,৩২,৬২১ জন। ছয়জন প্রার্থী অংশ নেন। বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,৪৮,৫৪৫ ভোট (বিজয়ী)

– মো. আবদুত তাওয়াব (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) — দাঁড়িপাল্লা — ১,২৪,১১৫ ভোট

– কে এম ছরোয়ার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা — ৪,০২২ ভোট

– মোরশেদুল ইসলাম আসিফ (স্বতন্ত্র) — হরিণ — ১,২৫৩ ভোট

– মো. রফিকুজ্জামান মিয়া (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) — কাস্তে — ৯৫৭ ভোট

– আরিফা আক্তার বেবী (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) — তারা — ২৫১ ভোট

এ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। প্রায় ২৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন নায়াব ইউসুফ আহমেদ।

🔹 ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৯৬,৭০৬ জন। আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বিজয়ী হয়েছেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,২৭,৪৪৩ ভোট (বিজয়ী)

– মো. সরোয়ার হোসাইন (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) — দাঁড়িপাল্লা — ৭৫,৮০৫ ভোট

– এ.এম. মুজাহিদ বেগ (স্বতন্ত্র) — ফুটবল — ৫৬,১৬০ ভোট

– মো. ইসহাক চোকদার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা — ১১,৪৯৮ ভোট

– মুহাম্মদ মজিবুর হোসেইন (স্বতন্ত্র) — ঘোড়া — ১,৭০৪ ভোট

– মিজানুর রহমান (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) — রিক্সা — ১,১১৮ ভোট

– আতাউর রহমান (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) — কাস্তে — ৭১৪ ভোট

– মুফতি রায়হান জামিল (জাতীয় পার্টি) — লাঙ্গল — ৫৫০ ভোট

এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক বড় ব্যবধানে জয় পায়। প্রায় ৫১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন শহিদুল ইসলাম বাবুল।

সার্বিক চিত্র:

ফরিদপুরের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি এবং একটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জয় পেয়েছে। মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও কিছু কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন অভিযোগের খবর পাওয়া যায়। তবে সামগ্রিকভাবে নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশেই শেষ হয়েছে।

চার আসনে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। বিজয়ীদের মধ্যে ফরিদপুর-২, ৩ ও ৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীক জয়লাভ করেছে এবং ফরিদপুর-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হয়েছে।

নির্বাচনের এ ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিজয়ীরা উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থীরা ফলাফল মেনে নিয়ে ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিল—ভোটারদের রায়ে এবার বদলে গেছে কয়েকটি আসনের চিত্র, আবার কিছু আসনে আগের প্রভাবও বজায় রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কত দ্রুত তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেন।

চরভদ্রাসনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে বিএনপি

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে বিএনপি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক পরিবারকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

​বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিলারচর গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত শেখ আদেল উদ্দিনের হাতে এ অনুদান তুলে দেওয়া হয়। স্পেন প্রবাসী ও স্পেন বিএনপির সহ-সভাপতি ইউনুছ আলী প্রামাণিকের আর্থিক সহযোগিতায় এ সহায়তা দেওয়া হয়।

​জানা গেছে, গত রবিবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টিলারচর গ্রামের শেখ আদেল উদ্দিনের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১টি ছাপড়া ঘর ভস্মীভূত এবং রান্নাঘরের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া আগুনে পুড়ে মারা যায় গোয়ালঘরে থাকা ৭টি ছাগল। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের।

​সংবাদ পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার অংশ হিসেবে ফরিদপুর-৪ আসনের নেতা শহিদুল ইসলাম বাবুলের নির্দেশনায় নগদ আর্থিক অনুদান পৌঁছে দেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

​অনুদান প্রদানকালে চরভদ্রাসন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অহিদুজ্জামান মোল্লা, সদস্য সচিব আব্দুল কুদ্দুস (ভিপি বাদশা), উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোজাফফর হোসেন মোল্লা, চরভদ্রাসন বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য আরমান আলী শিকদার এবং ঢাকা উত্তর কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

​সহযোগিতা প্রসঙ্গে স্পেন প্রবাসী ইউনুছ আলী প্রামাণিক জানান, দুস্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ সামাজিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ফেরাতে সালথার আষাঢ়ের বিলে নৌকা বাইচ শুক্রবার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ফেরাতে সালথার আষাঢ়ের বিলে নৌকা বাইচ শুক্রবার

আবহমান গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য, উৎসব আর প্রাণের উচ্ছ্বাস ফিরিয়ে আনতে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামে আয়োজন করা হয়েছে জমজমাট নৌকা বাইচ। একই সঙ্গে বসবে গ্রামীণ মেলা। নৌকার বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের সুর আর দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে উঠবে মালঞ্চ নদীর মোহনা সংলগ্ন বটতলার আষাঢ়ের বিল।

আগামী শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে অনুষ্ঠিত হবে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। খোয়াড় গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা বাইচপ্রেমীরা এ প্রতিযোগিতা দেখতে আসবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম প্রাণবন্ত আয়োজন। একসময় বর্ষা মৌসুমে দেশের নদী-খাল ও বিলাঞ্চলে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে বসত মানুষের মিলনমেলা। কালের পরিবর্তনে এবং নৌপথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় এ আয়োজন এখন আর তেমন দেখা যায় না। সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই স্থানীয়দের এ উদ্যোগ।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে আয়োজিত গ্রামীণ মেলায়ও থাকবে উৎসবের আমেজ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হবে আনন্দের মিলনমেলায়। মেলায় বিভিন্ন গ্রামীণ পণ্য, খাবার ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর সমাহার ঘটবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল মতিন বাদশা মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিনের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান।

এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

নৌকা বাইচ উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধান করবেন। দর্শকদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং উৎসবস্থলে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

আয়োজকদের আশা, নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার খোয়াড় গ্রামের আষাঢ়ের বিল কয়েক হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে। নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর মাঝিদের প্রাণবন্ত স্লোগানে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে আবহমান বাংলার চিরচেনা গ্রামীণ ঐতিহ্য।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আরিফুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

মিয়া রাকিবুল
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আরিফুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং আলফাডাঙ্গা আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে।

​বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন।

​অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা উপস্থাপন করেন আলফাডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মুন্সি বিল্লাল হুসাইন। তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ব শান্তি, মানবকল্যাণ ও একটি নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

​পরবর্তীতে বেলা ১২টায় আলফাডাঙ্গা আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ছাত্রীদের অংশগ্রহণে হামদ-নাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

​প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায়ও মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন মুন্সি বিল্লাল হুসাইন।

নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও মহানবীর শিক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আমাদের জন্য মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও মানবতাবাদী শিক্ষা গ্রহণের শ্রেষ্ঠ উপলক্ষ। রাসুল (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী প্রতিটি নর-নারীর ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। তাই সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে আদর্শ জীবন গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।”

আলোচনা ও দোয়া মাহফিল শেষে হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথি মুন্সি বিল্লাল হুসাইন। অনুষ্ঠানে উভয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।