সব জল্পনার অবসান: ফরিদপুর-৩ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এ কে আজাদ
ফরিদপুর-৩ সংসদীয় আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনো মনোনয়নপত্র জমা না পড়ায় নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে চলমান সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় আইনগতভাবেও তিনি এবারের নির্বাচনের প্রতিযোগিতার বাইরে চলে গেলেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ফরিদপুর-৩ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, তফসিল ঘোষণার আগেই ফরিদপুর-৩ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন এ কে আজাদ। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তখন থেকেই তিনি এলাকায় বেশ সরব ছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক, সাধারণ মানুষের সঙ্গে গণসংযোগসহ নানা তৎপরতায় তাঁকে নিয়মিত দেখা গেছে। এতে করে ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়।
স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ কে আজাদ নির্বাচনে অংশ নিলে ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারত। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও নিরপেক্ষ ভোটারদের একটি বড় অংশ তাঁর দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে হঠাৎ করে মনোনয়ন দাখিল না করায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে এ কে আজাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নানা বাস্তবতা বিবেচনা করেই তিনি নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও এ সিদ্ধান্ত সাময়িক নাকি ভবিষ্যতের জন্য কোনো বড় রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
ফরিদপুর-৩ আসনের সাধারণ ভোটারদের একাংশ জানান, তারা এ কে আজাদের প্রার্থিতা নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। তাঁর সরে দাঁড়ানোর খবরে তারা হতাশ হলেও নির্বাচনী মাঠে এখন অন্য প্রার্থীদের দিকে নজর দিচ্ছেন।
এদিকে এ কে আজাদের প্রার্থিতা না থাকায় ফরিদপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কৌশল ও নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে নতুন করে পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এই আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন নতুন মোড় নিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন
Array