দুই বছরেও ঝুলে আছে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যা প্রকল্প, সেবা বঞ্চিত লাখো মানুষ
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ২৫০ শয্যা উন্নীতকরণ প্রস্তাব দুই বছর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনো তা অনুমোদনের মুখ দেখেনি। ফলে বাড়তে থাকা রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, আর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলার লাখও মানুষ।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান এ বিষয়ে নিশ্চিত করে জানান, ‘জেলার জনসংখ্যা ও রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাবনা প্রায় দুই বছর আগে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো সেই প্রস্তাবের কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে হাসপাতালটি আগের সীমিত শয্যা ও জনবল দিয়েই বাড়তি রোগীর সেবা দিতে বাধ্য হচ্ছে।’
বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে কয়েকশ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অনেক রোগীকে মেঝেতে কিংবা বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে রোগীদের যেমন ভোগান্তি বাড়ছে, তেমনি চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আবার কেউ কেউ কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করেন, ‘শয্যা সংকটের কারণে অনেক সময় রোগী ভর্তি করা সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা দূরের ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে গুরুতর রোগীদের, যা সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফরিদপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর হওয়ায় এখানকার জেনারেল হাসপাতালটি শুধু জেলার নয়, আশপাশের রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলার রোগীরাও নির্ভর করেন। তাই দ্রুত ২৫০ শয্যার অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ জরুরি।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে বলেন, “আমরা বারবার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। দ্রুত অনুমোদন পেলে হাসপাতালের সেবার মান অনেকটাই বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।”
ফরিদপুরবাসীর দাবি, ‘দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যার অনুমোদন দেওয়া হোক, যাতে জেলার মানুষ ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকে আর বঞ্চিত না হয়।’

আপনার মতামত লিখুন
Array