খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে গলা ও পায়ের রগ কেটে যুবককে হত্যাচেষ্টা, অভিযুক্তকে গণপিটুনি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গলা ও পায়ের রগ কেটে যুবককে হত্যাচেষ্টা, অভিযুক্তকে গণপিটুনি

ফরিদপুরের সদর উপজেলায় মো. ইকবাল শেখ (৪৭) নামে এক যুবককে গলা ও দুই পায়ের রগ কেটে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে জিয়া মন্ডল (৫০) নামে অভিযুক্ত একজনকে ধরে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয় জনতা।

বুধবার (০৪ মার্চ) দিনগত রাতে সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের আফজাল মন্ডলের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত ইকবাল শেখকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ইকবাল শেখ ওই ইউনিয়নের ওয়েজউদ্দীন ফকিরের ডাঙ্গী গ্রামের মৃত রশিদ শেখের ছেলে। গণপিটুনির শিকার অভিযুক্ত জিয়া মন্ডল পার্শ্ববর্তী আলিমউদ্দিনের ডাঙ্গী গ্রামের ওয়াহিদ মন্ডলের ছেলে। তাকে পুলিশি পাহারায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিয়া মন্ডল এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। মাদক কারবার নিয়ে ইকবাল শেখের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত কয়েকদিন ধরে ইকবালকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। এরই জেরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে আফজাল মন্ডলের হাটের অদূরে একটি বাগানের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পান কয়েকজন। তারা সেখানে ছুটে গিয়ে ইকবাল শেখকে গলা ও পায়ের রগ কাটা অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তাদের চিৎকারে জিয়া মন্ডলসহ দুজন মোটরসাইকেলে করে পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা ধাওয়া দিলে মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে জিয়া মন্ডলের পা ভেঙে যায়। তখন ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তি পালিয়ে যান।

আহত মো. ইকবাল শেখের ভাই মো. রফিক শেখ বলেন, আমার ভাইয়ের অবস্থা ভালো নয়, প্রচুর রক্ত দেয়া লাগছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে ও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা যাবে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ফরিদপুরে একদিনে আরও ৩০ জনের হাম শনাক্ত

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে একদিনে আরও ৩০ জনের হাম শনাক্ত

ফরিদপুরে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩০ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া হালনাগাদ তথ্য থেকে এসব কথা জানা গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭২৩ জনে। এই সময়ে প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে এই দুটি হাসপাতালে মোট ৭৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন। যার মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ২২ জন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫১ জন ভর্তি রয়েছেন।

​অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দুই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫০ জন রোগী। এ নিয়ে জেলাটিতে মোট ৫ হাজার ৪৯৭ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

​উপজেলাভিত্তিক হাম আক্রান্তের তালিকায় আলফাডাঙ্গায় ২৮, বোয়ালমারীতে ২৫, সালথায় ২৩, চরভদ্রাসনে ১৭, সদরপুরে ১৪, ভাঙ্গায় ১২, মধুখালীতে ৬, ফরিদপুর সদরে ৫ এবং নগরকান্দায় ২ জন নথিভুক্ত রয়েছেন।

​প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে আসা সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে ২৩ জন ফরিদপুর জেলার এবং বাকি ৭ জন পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলার বাসিন্দা।

ফরিদপুরে স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হাসান শেখ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় স্ত্রীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​এছাড়া লাশ গুম করার অভিযোগে তাদের প্রত্যেককে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে ভোগ করতে হবে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। তবে বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে এবং আসামিদের পূর্বের হাজতবাস সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।

​দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৩৮), ঝাউখোলা গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বর (৪৪), ফারুক বিশ্বাস (৪৩) ও চান্দু শেখ (৩০)। রায় ঘোষণার সময় আসামি ফরিদা বেগম পলাতক ছিলেন। বাকি তিন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকায় রায় শেষে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৯ মে রাতে শাহজাহান মাতুব্বরের ফোন পেয়ে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বাড়ি থেকে বের হন হাসান শেখ। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ী চাকরি করতেন। রাতে আর বাড়ি না ফেরায় তিনি নিখোঁজ থাকেন।

​নিখোঁজের চার দিন পর ১৩ মে বিকেলে স্থানীয় এক ব্যক্তির আখখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৪ মে নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন শেখ বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

​তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিরাজুর রহমান।

​মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস এম আজিজুর রহমান বিকু জানান, পারিবারিক বিরোধ ও স্ত্রীর আয়সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে হাসানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

ফরিদপুরে বাথরুমের ছাদ ধসে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাথরুমের ছাদ ধসে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

ফরিদপুর সদর উপজেলায় নির্মাণাধীন বাথরুমের সেন্টারিং খুলতে গিয়ে ছাদ ধসে মো. শাওন (১৭) নামে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের বাখুন্ডা গ্রামের মঙ্গলকোট বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত শাওন ওই গ্রামের রুহুল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাখুন্ডা গ্রামের কাওছার মিয়ার বাড়িতে দুই দিন আগে বাথরুমের একটি নতুন ট্যাংকি নির্মাণ করা হয়। বুধবার সকালে শাওন ট্যাংকির ভেতরে ঢুকে সেন্টারিং ও বাঁশ খোলার কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ ওপরের পাকা ছাদ ধসে তার ওপর পড়ে। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন।

​পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।