খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে রাস্তার ওপর ভেঙে পড়ল মেহগনি গাছ, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাস্তার ওপর ভেঙে পড়ল মেহগনি গাছ, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

ফরিদপুর শহরের ব্যস্ত সড়কে হঠাৎ একটি বড় মেহগনি গাছ ভেঙে পড়ে তিনটি অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের জেনারেল হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে প্রতিদিনের মতোই ওই সড়কে যানবাহনের চাপ ছিল। এ সময় হঠাৎ করেই একটি পুরোনো মেহগনি গাছ বিকট শব্দে রাস্তার ওপর ভেঙে পড়ে। গাছটি পড়ে সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তার ওপর থাকা তিনটি অটোরিকশা চাপা পড়ে যায়। এতে অটোরিকশাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চালক ও যাত্রীরা অলৌকিকভাবে অক্ষত থাকেন।

ঘটনার শিকার অটোরিকশা চালক তুষার বেপারী, চুন্নু বেপারী ও মামুন মিয়া জানান, তারা যাত্রী নিয়ে সড়কটি অতিক্রম করার সময় হঠাৎ কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই গাছটি ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলেও তারা প্রাণে বেঁচে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে একটি পুরোনো দেয়াল সম্প্রতি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং সেখানে নতুন করে দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছিল। নির্মাণকাজের জন্য গাছের গোড়ার চারপাশ থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়ায় গাছটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এ ছাড়া কাজ চলাকালীন কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সতর্কতামূলক ব্যারিকেড না থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

ঘটনার পরপরই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছটি কেটে সরিয়ে ফেলেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অনেক পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় না। সামান্য অসতর্কতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ গাছ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্মাণকাজের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এসএসসি-সমমানের পরীক্ষায় বসছে ১৮ লাখ পরীক্ষার্থী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
এসএসসি-সমমানের পরীক্ষায় বসছে ১৮ লাখ পরীক্ষার্থী

সারাদেশে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল)।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সারাদেশে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে।

প্রথম দিন সকাল ১০টা থেকে বাংলা প্রথম পত্র বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের নির্ভয়ে পরীক্ষা দিতে আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি আশা করেন, পরীক্ষার্থীরা হাসিমুখে কেন্দ্রে আসবে এবং হাসিমুখেই ফিরবে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে সোমবার (২০ এপ্রিল) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষা-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।

সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডের অধীনে, যার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ জন।

এছাড়া অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে রাজশাহীতে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৯ জন, কুমিল্লায় ১ লাখ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৭ জন, যশোরে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯ জন, চট্টগ্রামে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন, বরিশালে ৮১ হাজার ৮৩১ জন, সিলেটে ৮৯ হাজার ৪২১ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৫৪ জন এবং ময়মনসিংহে ১ লাখ ৮ হাজার ৩৫৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে ছাত্রী ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন এবং ছাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন।

অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসবে। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জন এবং ছাত্রী ৩৩ হাজার ১৫১ জন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সারাদেশে মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

সাতসকালে দেশে ভূমিকম্প অনুভূত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
সাতসকালে দেশে ভূমিকম্প অনুভূত

ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে আঘাত হেনেছে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। এতে রাজধানী ঢাকায় অনুভূত হয়েছে মৃদু কম্পন।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে এ ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।

আর্থকোয়াক ট্র্যাক-এর তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ১ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের হোমালিন এলাকায়, যা ভারতের মণিপুর সীমান্তের কাছাকাছি।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার গভীরে। অধিক গভীরতার কারণে ভূপৃষ্ঠে এর তীব্রতা কিছুটা কম ছিল, ফলে মাঝারি মাত্রার হওয়া সত্ত্বেও মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে।

এর ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা কয়েক সেকেন্ডের হালকা কম্পন অনুভূত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরাসরি কোনো প্রধান চ্যুতিরেখার ওপর অবস্থিত না হলেও, মিয়ানমার ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সক্রিয় টেকটনিক প্লেটের কারণে মাঝেমধ্যেই এই অঞ্চলের ভূমিকম্পের প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হয়।

চিনি খাওয়ার ৩০ মিনিট পর আপনার শরীরে আসলে কী ঘটে?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ
চিনি খাওয়ার ৩০ মিনিট পর আপনার শরীরে আসলে কী ঘটে?

এক টুকরো মিষ্টি, দুপুরে এক গ্লাস কোমল পানীয় কিংবা ভাত-রুটি ভরা একটি প্লেট; দেখতে খুবই সাধারণ খাদ্যাভ্যাস। অনেকের কাছে এগুলো নিছক স্বাদের ব্যাপার। কিন্তু শরীরের ভেতরে এই ‘সাধারণ’ খাবারগুলোই শুরু করে এক জটিল প্রতিক্রিয়া। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই রক্তে শর্করার ওঠানামা, শক্তির পরিবর্তন, এমনকি মনের অবস্থাতেও প্রভাব পড়ে।

এই ছোট সময়ের ভেতরে শরীরে ঠিক কী ঘটে, তা জানা থাকলে প্রতিদিনের খাবার নির্বাচনে বদল আনাও সহজ হতে পারে।

প্রথম ৩০ মিনিট: হঠাৎ বাড়ে রক্তে শর্করা

চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার মুখে দেওয়ার পরই হজম প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়। অন্ত্র থেকে গ্লুকোজ শোষিত হয়ে সরাসরি রক্তে চলে যায়। ফলে খুব অল্প সময়েই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে পরিশোধিত চিনি বা প্রসেসড খাবার খেলে এই বৃদ্ধি খুব দ্রুত ও তীব্র হয়। অর্থাৎ, শরীরের জন্য এটি এক ধরনের ‘হঠাৎ ধাক্কা’।

ইনসুলিনের কাজ: শরীরের ভারসাম্য রক্ষা

রক্তে শর্করা বেড়ে গেলে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন রক্ত থেকে গ্লুকোজ কোষে পৌঁছে দিয়ে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। স্বাভাবিক অবস্থায় এটি শরীরকে ভারসাম্যে রাখে। তবে নিয়মিত বেশি চিনি খেলে শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। দীর্ঘমেয়াদে এতে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

ডোপামিনের প্রভাব: কেন মিষ্টি এত ভালো লাগে

চিনি শুধু শরীরেই নয়, মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলে। মিষ্টি খাবার খেলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক ‘ফিল-গুড’ হরমোন সক্রিয় হয়।

এ কারণে মিষ্টি খাওয়ার পর ভালো লাগে, মনটা হালকা হয়। কিন্তু এই অনুভূতিই বারবার মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি করে, যা এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।

শক্তি হ্রাস: হঠাৎ ক্লান্তি কেন আসে

শুরুতে শক্তি বাড়লেও তা বেশিক্ষণ থাকে না। ইনসুলিন গ্লুকোজ কোষে নিয়ে যাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে।

ফলে দেখা দেয় ক্লান্তি, দুর্বলতা বা ঝিমুনি। অনেকেই এই সময় আবার চা বা মিষ্টি কিছু খেতে চান, এভাবেই শুরু হয় এক চক্র।

শুধু মিষ্টি নয়, লুকানো চিনি

আমরা অনেক সময় ভাবি শুধু মিষ্টি খেলেই সমস্যা হয়। কিন্তু সাদা ভাত, ময়দার রুটি, পাউরুটি, আলু বা বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবারও শরীরে প্রায় একই প্রভাব ফেলে।

অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণও রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামা ঘটায়, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

কী করবেন?

চিনি একেবারে বাদ দেওয়া নয়, বরং নিয়ন্ত্রণই মূল কথা-

১. কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত মিষ্টি যতটা সম্ভব কমানো

২. কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার (ডাল, শাকসবজি, বাদাম) যোগ করা

৩. খাবারের পর ১০-১৫ মিনিট হাঁটা

বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাবারের পর অল্প হাঁটাহাঁটি করলে পেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ছোট সময়, বড় প্রভাব

মাত্র ৩০ মিনিট, শুনতে খুব কম সময়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই শরীরে ঘটে যায় বড় পরিবর্তন। রক্তে শর্করার ওঠানামা, শক্তির পরিবর্তন, এমনকি মুডেও প্রভাব পড়ে।

এই চক্র যদি প্রতিদিন চলতে থাকে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই চিনি নিয়ে ভয় নয়, বরং সচেতনতা জরুরি। কারণ, শরীরের ভেতরের এই পরিবর্তনগুলো বোঝা গেলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হয়ে যায়।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া