খুঁজুন
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুরের সোনালী হরিণের গল্প: শখ থেকে স্বপ্নের পথে

তামিম ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সোনালী হরিণের গল্প: শখ থেকে স্বপ্নের পথে

ফরিদপুর শহরতলীর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের শ্যামসুন্দরপুর গ্রামে এক অনন্য উদ্যোগের জন্ম হয়েছে, যা এখন সারা জেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন মো. ফরিদ শেখ, একজন মাদ্রাসা পরিচালক, যিনি শখের বশে শুরু করা হরিণ পালনকে একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক উদ্যোগে রূপান্তর করেছেন। তার এই প্রচেষ্টা শুধু আয়ের নতুন পথই খুলেনি, বরং এতিম শিশুদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল গড়ে তুলেছে। “ফরিদাবাদ শেখ ফেলু দাখিল মাদ্রাসা ও এতিমখানা”র পাশে অবস্থিত ফরিদ শেখের হরিণের খামার এখন ফরিদপুরের গর্ব।

শখ থেকে বাণিজ্যিক সাফল্য:

২০১৭ সালে মাত্র দেড় লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ফরিদ শেখ ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে দুটি হরিণ কিনে আনেন। শুরুটা ছিল কেবল শখ। কিন্তু আড়াই মাসের মধ্যেই হরিণ দুটি থেকে জন্ম নেয় একটি শাবক। ধীরে ধীরে তার খামারে হরিণের সংখ্যা বাড়তে থাকে। যখন হরিণের সংখ্যা ১২-এ পৌঁছায়, তিনি শৌখিন লাইসেন্সকে বাণিজ্যিক লাইসেন্সে রূপান্তর করেন। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫০টি হরিণ বিক্রি করেছেন, যার প্রতিটির দাম এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা। এই আয় সরাসরি মাদ্রাসার তহবিলে যোগ হয়, যা দিয়ে এতিম শিশুদের পড়াশোনা, থাকা-খাওয়ার খরচ মেটানো হয়।

হরিণ পালন: সহজ ও লাভজনক

হরিণ পালনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর স্বল্প খরচ ও ন্যূনতম রোগব্যাধি। মো. ফরিদ শেখ জানান, “হরিণ তৃণভোজী প্রাণী। নেপিয়ার ঘাস, কলমি ঘাস, ছোলা, ভুসি, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়া, লাউ দিয়েই আমি হরিণ পালন করি। প্রতিটি হরিণের পেছনে দৈনিক খরচ মাত্র ১০০-১৫০ টাকা। অন্যান্য পশুদের তুলনায় হরিণের রোগবালাই কম, তাই ওষুধ বা ভ্যাকসিনের খরচও প্রায় নেই।” এই সহজ পদ্ধতি এবং কম খরচই তার উদ্যোগকে লাভজনক করে তুলেছে।

বন অধিদপ্তরের নিয়মকানুন:

হরিণ পালনের জন্য বন অধিদপ্তর থেকে শৌখিন এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্স দেওয়া হয়। শৌখিন লাইসেন্সের জন্য বিভাগীয় বন অফিসে আবেদন করতে হয়। বন বিভাগ সরেজমিনে পরিদর্শন করে জায়গার উপযুক্ততা যাচাই করে অনুমতি দেয়। হরিণের সংখ্যা ১১-এর বেশি হলে বাণিজ্যিক লাইসেন্স প্রয়োজন, যার জন্য আগারগাঁও বন অফিসে আবেদন করতে হয়। এই লাইসেন্সে প্রতিটি হরিণের জন্য বছরে ১২০০ টাকা ভ্যাট দিতে হয়।

শুধু হরিণ নয়, আরও বৈচিত্র্য:

ফরিদ শেখের উদ্যোগ শুধু হরিণ পালনেই সীমাবদ্ধ নয়। তার গরু, দুম্বা এবং বিশাল মাছের খামারও রয়েছে, যেখান থেকে তিনি প্রতি বছর মোটা অঙ্কের আয় করেন। এই খামারগুলোতে ৩০ জনেরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন, যা স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।

পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত খামার:

ফরিদপুরে হরিণ পালনের এমন উদ্যোগ আর কোথাও নেই। ফরিদ শেখের খামার এখন শুধু ব্যবসা নয়, একটি পর্যটন কেন্দ্রও। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন এই সোনালী হরিণগুলো দেখতে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা হরিণদের লাফালাফি দেখে আনন্দ পায় এবং সময় পেলে তাদের খাবার দেয়, খেলে। মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, এই খামার মাদ্রাসার পরিচিতি বাড়িয়েছে। দর্শনার্থীরা হরিণ দেখতে এসে ছবি তুলেন, খেলেন এবং এতিম শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান। এই খামার মাদ্রাসাটিকে ফরিদপুরের একটি অনন্য স্থানে পরিণত করেছে।

ফরিদ শেখের বক্তব্য:

মো. ফরিদ শেখ বলেন, “আমার শখের শুরু ছিল এই হরিণ পালন। কিন্তু এটি এখন আমার জীবনের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই খামার থেকে আয় দিয়ে আমি এতিম শিশুদের শিক্ষা ও জীবিকার ব্যবস্থা করছি। আমি বিশ্বাস করি, দৃঢ় ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো শখকেও সফল ব্যবসায় রূপান্তর করা সম্ভব। আমি চাই, আমার এই উদ্যোগ অন্য তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করুক।”

একটি মহৎ উদ্যোগ:

ফরিদ শেখের এই উদ্যোগ শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্প নয়, এটি একটি মানবিক মিশন। তার হরিণের খামার থেকে আয় দিয়ে তিনি “ফরিদাবাদ শেখ ফেলু দাখিল মাদ্রাসা ও এতিমখানা” পরিচালনা করছেন, যেখানে এতিম শিশুরা শিক্ষা ও আশ্রয় পাচ্ছে। এই উদ্যোগ তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা, যারা স্বপ্ন দেখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে। ফরিদপুরের এই সোনালী হরিণের খামার এখন শুধু একটি খামার নয়, এটি আশা, স্বপ্ন আর সম্ভাবনার প্রতীক।

৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ফরিদপুর মেডিকেলের ইন্টার্ন ডাক্তারদের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ফরিদপুর মেডিকেলের ইন্টার্ন ডাক্তারদের

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অযৌক্তিক ও চিকিৎসা বিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং চিকিৎসক সমাজ ঘোষিত ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্ম বিরতি শুরু করেছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের, ইন্টার্ন  ও ট্রেইনি ডাক্তার সহ মেডিক্যাল শিক্ষার্থীবৃন্দ।

 রবিবার (০৭ জুন) সকালে ছয় দফা দাবি নিয়ে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ  মিছিল করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল  ক্যাম্পাসে। দাবি না মানা পর্যন্ত তাদের এই কর্মবিরতি চলবে বলে জানান ইন্টার্নাল ডাক্তার নেতৃবৃন্দ।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস কাউন্সিলের সভাপতি ডা. সাকিব হাসান লস্কর জানান, হাসপাতালের সকল ইন্টার্ন চিকিৎসকগণ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সাথে সংহতি প্রকাশ করে ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা করেছেন।

আজ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে বেলা সাড়ে ১১ টায় সকল ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ এক যোগে দাবি আদায়ের লক্ষে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন।  মানববন্ধনে সকল মিডলেভেল চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করেন।

তাদের ৬ দফা দাবি সমূহ হলো ১. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল করতে হবে। ২. বিএমইউ ও বিসিপিএস-এর ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০-১০০০ টাকার মধ্যে আনতে হবে। ৩. নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন নুনতম ৩০,০০০ টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন আনুষঙ্গিক ভাতাসহ ৯ম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ করে প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসেই পরিশোধ করতে হবে। ৪. স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। ৫. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পূর্বের ন্যায় সাধারণ প্রার্থীদের তুলনায় ২ বছর বেশি অর্থাৎ ৩৪ বছর করতে হবে। ৬. বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে (শ্রম আইন ২০০৬-এর যথাযথ প্রয়োগ এবং পে-স্কেলের আদর্শ অনুসরণ করে)।

ফরিদপুরে সাংবাদিকতার আড়ালে মাদক ব্যবসা, ফের ইয়াবাসহ র‍্যাবের জালে সামাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাংবাদিকতার আড়ালে মাদক ব্যবসা, ফের ইয়াবাসহ র‍্যাবের জালে সামাদ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ১৮৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া মো. সামাদ খান (৪১) কেবল একজন মাদক ব্যবসায়ীই নন, তার বিরুদ্ধে রয়েছে দীর্ঘদিনের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ। স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, সাংবাদিকতার পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তারের পর আবারও আলোচনায় এসেছে তার অতীত কর্মকাণ্ড।

রবিবার (৭ জুন) র‍্যাব-১০ এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শনিবার (৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মধুখালী উপজেলার মধুপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ১৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. সামাদ খানকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা।

র‍্যাব জানিয়েছে, সামাদ খান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে মধুখালী থানায় আগে থেকেই দুটি মাদক মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।

র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার তপন কর্মকার বলেন, সামাদের কাছে সাংবাদিকতার আইডি কার্ড পাওয়া গেছে। সে বলেছে (সামাদ) তিনি একটি পত্রিকার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা করেন। তবে তার কথাবার্তায় বুঝেছি তিনি পেশাদার সাংবাদিক নন। তিনি মাদকসহ ৬টি মামলার আসামি।

তিনি আরও বলেন, একজন মাদক কারবারি কোন পেশার সেটা বিবেচ্য নয়, আমরা অপরাধীকে অপরাধের ধরণ হিসেবে বিবেচনা করি।

এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “র‍্যাব আটককৃত ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ থানায় হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

তবে স্থানীয়দের কাছে সামাদের পরিচয় শুধু একজন মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে নয়। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট ফরিদপুর জেলা পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে তার অপরাধ জগতের নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। তখন জানানো হয়, ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট র‍্যাব-৮ ফরিদপুর অভিযান চালিয়ে তার কাছ থেকে ৩ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবা, এক বোতল ফেন্সিডিল, দুই বোতল বিদেশি মদ এবং ৬৯০টি যৌন উত্তেজক বড়ি উদ্ধার করে।

ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটি ছিল প্রতারণার মামলা। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত ব্যারেট ক্যাপ ও কালো বুট জুতা উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রতারণা করতেন।

শুধু মাদক নয়, নারী নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে নিজের শ্যালিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। পরে পুলিশ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, এক সময় মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিজের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন সামাদ। তিনি ঢাকাভিত্তিক একটি পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়।

মধুখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুজ্জামান মুন্নু বলেন, “সাংবাদিকতা পেশাকে ব্যবহার করে কেউ যদি অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করে, সেটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। সামাদ কোনো প্রেসক্লাবের সদস্য নন। পরে তিনি নিজেই একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করেন। এ ধরনের লোকদের কারণে সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “সাংবাদিকতা কোনো অপরাধীর আশ্রয়স্থল হতে পারে না। কেউ যদি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদকদেরও যাচাই-বাছাই করে পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”

ফরিদপুরে কর্মরত একাধিক সাংবাদিক জানান, সামাদের মতো ব্যক্তিরা সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে সমাজে প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনের নজর এড়ানো এবং নিজেদের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করেন। ফলে প্রকৃত সাংবাদিকদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে র‍্যাব-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার জানিয়েছেন, মাদক, সন্ত্রাস, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, হত্যার আগে ধর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় বোঝা যায়, সোহেল স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছে। স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না।

এর আগে রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর তাদের দুজনকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।এর আগে ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করা হয়। মাত্র চার কার্যদিবসে মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হয়। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান।পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।