খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরে নকল ওরস্যালাইন ও ভেজাল গুড় কারখানায় অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩১ এএম
ফরিদপুরে নকল ওরস্যালাইন ও ভেজাল গুড় কারখানায় অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজারে ভেজাল ও অননুমোদিত খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নকল ওরস্যালাইন, ভেজাল চিপস, ভেজাল গুড় এবং বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই সয়াবিন তেল বোতলজাতকরণের মতো নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে বাজারের বিভিন্ন দোকান ও খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খাদ্যপণ্যের মান, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাগজপত্র যাচাই করেন।

অভিযানে দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর অনুমোদন ছাড়াই সয়াবিন তেল বোতলজাত করে বাজারজাত করছে। এছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অনুমোদনহীনভাবে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করা হচ্ছিল। বিশেষ করে “রুপা ফুড প্রোডাক্টস” নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি ও বাজারজাত করার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় চারজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে মেসার্স নিমলেন্দ সাহা এন্ড সন্সের প্রোপাইটর নিরঞ্জন সাহাকে ২ হাজার টাকা, রুপা ফুড প্রোডাক্টসের মালিক মো. জাফর মোল্লাকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া কানাইপুর বাজারে ভেজাল গুড় বিক্রির দায়ে মো. সেকেন্দারকে ৫ হাজার টাকা এবং নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযান শেষে জরিমানাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেউ যদি পুনরায় ভেজাল বা অননুমোদিত খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ফরিদপুরে বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ ১৫–১৭ এপ্রিল, আবেদন অনলাইনে

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪০ এএম
ফরিদপুরে বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ ১৫–১৭ এপ্রিল, আবেদন অনলাইনে

বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ফরিদপুর জেলার প্রার্থীদের জন্য আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে এবং নির্ধারিত কয়েকটি ধাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে। অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে ৫ মার্চ, শেষ হবে ৩১ মার্চ ২০২৬।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এ বিষয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ফরিদপুর জেলা পুলিশ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে প্রার্থীদের প্রথমে Physical Endurance Test (PET) বা শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এ পরীক্ষায় মোট সাতটি ইভেন্ট থাকবে। এগুলো হলো—২০০ মিটার দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, পুশআপ, ১৬০০/১০০০ মিটার দৌড়, ড্রাগিং এবং রোপ ক্লাইম্বিং। এসব ধাপে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা পরবর্তীতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্নকারী প্রার্থীদের মধ্য থেকেই চূড়ান্তভাবে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা একটি বিশেষ নির্দেশনামূলক ভিডিও তৈরি করেছে। সেখানে PET পরীক্ষার প্রতিটি ইভেন্টের নিয়ম-কানুন, প্রস্তুতির পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওটি বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে “নতুন নিয়মে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষা” শিরোনামে প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়োগে আগ্রহীদের ভিডিওটি দেখে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হবে। কোনো ধরনের তদবির, অবৈধ প্রভাব বা দুর্নীতির সুযোগ নেই। শুধুমাত্র যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে।

এ ছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আগ্রহী প্রার্থী ও অভিভাবকদের প্রতারকচক্র বা দালালের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। কেউ যদি নিয়োগের নামে প্রতারণার চেষ্টা করে, তবে সে বিষয়ে দ্রুত নিকটস্থ থানায় অভিযোগ জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ফরিদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষ, সৎ ও যোগ্য তরুণদের বাংলাদেশ পুলিশের এই গৌরবময় বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৮:১০ এএম
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) থেকে শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন আজ সকাল ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং পরে সংসদ সদস্যরা তা নিয়ে আলোচনা করবেন।

এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন। এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালী নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও অ্যাজেন্ডা নির্ধারণ করা হবে।

প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান কাজ হবে সরকার যে সব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদকালে মোট ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ অধিবেশন আহ্বান করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়।

১৩তম জাতীয় সংসদে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।

দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় প্রথম অধিবেশনে একজন জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা সভাপতিত্ব করবেন বলে সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার পরপরই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদের শপথপাঠ করাবেন। তাদের নির্বাচনের পর শপথগ্রহণের জন্য অধিবেশন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হতে পারে। এরপর নবনির্বাচিত স্পিকার অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

প্রথম বৈঠকেই নতুন সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে, যার প্রধান থাকবেন নতুন স্পিকার। এই কমিটিই উদ্বোধনী অধিবেশনের মেয়াদ এবং সংসদের অন্যান্য কার্যসূচি নির্ধারণ করবেন।

এ অধিবেশনেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন করা হতে পারে। প্রথম বৈঠকে সংসদে শোক প্রস্তাবও গৃহীত হবে।

বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে, যার মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন।

তথ্য সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

 

ঈদের নামাজের নিয়ম-নিয়ত, এক নজরে দেখে নিন

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৭ এএম
ঈদের নামাজের নিয়ম-নিয়ত, এক নজরে দেখে নিন

রমজান মাসের দীর্ঘ সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে আনন্দময় ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি হলো ঈদের সকাল। সারা মাস সংযম, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির অনুশীলনের পর ঈদের দিনটি আসে খুশি, কৃতজ্ঞতা ও আল্লাহর দরবারে মাথা নত করার এক অনন্য বার্তা নিয়ে।

এই দিনের সূচনা হয় পবিত্র ঈদের নামাজের মাধ্যমে। ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ঢল, তাকবিরের ধ্বনি, পরস্পরের কোলাকুলি; সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও আনন্দের প্রতীক।

তবে অনেকের মধ্যেই ঈদের নামাজের নিয়ত ও নিয়ম নিয়ে কিছুটা সংশয় বা প্রশ্ন দেখা যায়। ঈদের নামাজে অতিরিক্ত তাকবির থাকার কারণে এর পদ্ধতিও সাধারণ ফরজ নামাজের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। তাই সঠিকভাবে নামাজ আদায়ের জন্য নিয়ত, তাকবির, কেরাত ও অন্যান্য বিধান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামি শরিয়তে ঈদুল ফিতরের নামাজ ওয়াজিব। এই নামাজে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবির বলা হয় এবং তা জামাতে আদায় করা হয়। নিয়ত করার পদ্ধতি, নামাজের ধাপগুলো কীভাবে সম্পন্ন করতে হয়, কোন সুরা পড়া সুন্নত এবং কেরাত কীভাবে আদায় করতে হয়—এসব বিষয় জানা থাকলে ঈদের নামাজ আরও সুন্দর ও শুদ্ধভাবে আদায় করা সম্ভব হয়।

নিচে ঈদের নামাজের নিয়ত, নিয়ম, কেরাত এবং এ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় বিধানগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো

ঈদের নামাজের নিয়ত

মনের ইচ্ছাই নিয়ত। ঈদুল ফিতরের নামাজে দাঁড়ানোর সময় আমাদের স্মরণে থাকে, আমরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছি, এই স্মরণটাই মূলত নিয়ত। এই নিয়তের সঙ্গে মনে রাখতে হবে, ‘ঈদের নামাজ ওয়াজিব এবং এ নামাজে ছয় তাকবির আছে।’

এভাবে নিয়ত করা যায়, ‘আমি কেবলামুখী হয়ে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায়ের নিয়ত করছি।’ তারপর আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করা। যারা বিশুদ্ধভাবে আরবি বলতে পারেন, তারা আরবিতেও নিয়ত করতে পারেন। আরবি নিয়ত করা বা মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যকীয় নয়।

প্রচলিত আরবি নিয়তটি হলো, نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ تَعَالىَ رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ الْعِيْدِ الْفِطْرِ مَعَ سِتِّ التَكْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকাআতাইন সালাতিল ঈদিল ফিতরি মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তাআলা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।

বাংলা অর্থ : আমি ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি আল্লাহু আকবার।

ঈদের নামাজের নিয়ম

ঈদের নামাজ দুই রাকাত। নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু করে ছানা পড়বে। ছানা পড়ার পর ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আরও তিনটি তাকবির বলবে।

প্রথম দুই তাকবির বলার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। তৃতীয় তাকবির বলার সময় কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠিয়ে বেঁধে নেবে। অতঃপর সুরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাবে এবং প্রথম রাকাত শেষ করবে।

দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে সুরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে আগের নিয়মে তিনটি তাকবির বলবে। তবে দ্বিতীয় রাকাতে তৃতীয় তাকবির বলার সময়ও হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। অতঃপর চতুর্থ তাকবির বলে রুকু করবে। এরপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় যথারীতি নামাজ শেষ করবে। (কিতাবুল আছল : ১/৩১৯, আলহাবীল কুদসী : ১/২৪৩)

কেরাত

ঈদের নামাজে প্রথম রাকাতে ‘সুরা আ‘লা’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘সুরা গাশিয়াহ’ বা প্রথম রাকাতে ‘সুরা কফ’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘সুরা কমার’ পড়া সুন্নত। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাজে এ সুরাগুলো পড়তেন। তবে অন্য যে কোনো সুরাও পড়া যেতে পারে। (মুসলিম : ৮৭৮, সুনানে নাসায়ী : ১৫৬৭, কিতাবুল আছল : ১/৩২১, আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৫০০)

কেরাত কীভাবে পড়বে?

জুমার নামাজের ন্যায় ঈদের নামাজের কেরাতও উচ্চৈঃস্বরে পড়া ওয়াজিব। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদ ও ইস্তেসকার নামাজে কেরাত উচ্চৈঃস্বরে পড়তেন (সুনানে দারাকুতনী : ১৮০৩, জামে সগীর : পৃ. ১১৪)। তাই ইমাম সাহেব উভয় রাকাতেই কেরাত উচ্চৈঃস্বরে পড়বেন।

সূত্র : কালবেলা