খুঁজুন
, ,

খালি পায়ের ভবঘুরে, কণ্ঠে নজরুলের গান—ভাইরাল ফরিদপুরের লাইলি খালা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
খালি পায়ের ভবঘুরে, কণ্ঠে নজরুলের গান—ভাইরাল ফরিদপুরের লাইলি খালা

খালি পায়ে শহরের অলিগলি, হাট-বাজার আর জনসমাগমের ভিড়ে ঘুরে বেড়ানো এক নারী। জীর্ণ শাড়ি, কাঁধে ছোট্ট ব্যাগ, এলোমেলো চুল—দেখলে অনেকেই তাকে ভবঘুরে ভাবেন। কিন্তু সেই নারীই যখন মঞ্চে উঠে গেয়ে ওঠেন নজরুলের গান, তখন মুহূর্তেই থমকে যায় পুরো আয়োজন। কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ হন উপস্থিত অতিথি, সংস্কৃতিকর্মী, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাখো দর্শকও।

ফরিদপুর শহরে তিনি পরিচিত ‘লাইলি খালা’ নামে। রবিবার (২৫ মে) বিকেলে নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই মঞ্চে উঠে গান পরিবেশন করেন তিনি। আমন্ত্রিত শিল্পীদের বাইরেও তার গান যেন হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত অংশ।

জীর্ণ পোশাকে, বিন্দুমাত্র জড়তা ছাড়া তিনি গেয়ে ওঠেন কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গান—
“নয়নভরা জল গো তোমার…”
তার কণ্ঠে ছিল না কোনো কৃত্রিমতা, ছিল না মঞ্চসুলভ চাকচিক্য। কিন্তু ছিল এক ধরনের গভীর আবেগ, যা মুহূর্তেই ছুঁয়ে যায় দর্শকদের হৃদয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে মোবাইল ফোনে তার গান ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এরপর থেকেই ফেসবুকজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। অসংখ্য মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন নিজেদের মুগ্ধতার কথা। কেউ বলেছেন, “এমন কণ্ঠ অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে।” আবার কেউ লিখেছেন, “এই নারী প্রমাণ করে দিলেন, শিল্প কখনও পোশাক বা পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।”

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলন জানান, লাইলি খালার সঙ্গে তার পরিচয় আজকের নয়। ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি যখন শিল্পকলা একাডেমির সেক্রেটারি ছিলেন, তখন প্রায়ই এই নারীকে সেখানে আসতে দেখতেন।

তিনি বলেন, “লাইলি খালা সাহায্যের জন্য আসতেন। কিন্তু একদিন তার গান শুনে আমি অবাক হয়ে যাই। অসাধারণ সুর আর কণ্ঠ ছিল তার মধ্যে। পরে শিল্পকলায় যারা গান শেখাতেন, তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। তিনি খুব অল্প সময়েই হারমোনিয়াম বাজানোও শিখে ফেলেন।”

মফিজ ইমাম মিলন আরও বলেন, “তিনি নিয়মিত শিল্পকলায় এসে চুপচাপ বসে থাকতেন। গান শুনতেন। কখনও কখনও নিজেও গাইতেন। নূরজাহান, লতা মঙ্গেশকর কিংবা মেহেদী হাসানের গান এমন আবেগ দিয়ে গাইতেন যে, না শুনলে বিশ্বাস করা কঠিন।”

লাইলি খালার জীবন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে নানা গল্প। জানা যায়, এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী হলেও বহু বছর আগে সংসার ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। সন্তানদের সংসার হয়েছে, তারা নিজেদের মতো জীবনযাপন করছেন। কিন্তু লাইলি আর ফেরেননি সংসারে।

ফরিদপুর শহরের মানুষ জানান, তাকে প্রায়ই দেখা যায় একা একা হাঁটতে। কখনও রেলস্টেশন, কখনও বাজার, কখনও নদীর ঘাট—যেখানে মানুষ, সেখানেই যেন তার গন্তব্য।

কেন এভাবে ঘুরে বেড়ান—এ প্রশ্নের জবাবে একদিন মফিজ ইমাম মিলনকে লাইলি খালা বলেছিলেন, “আমি মানুষ দেখি। দুনিয়ায় কত রকমের মানুষ। কারও সঙ্গে কারও মিল নাই। মানুষ দেখতে আমার খুব ভাল্লাগে।”

স্থানীয়দের দাবি, লাইলি খালার জীবনযাপন রহস্যে ঘেরা। অনেকে বলেন, তিনি মাঝেমধ্যেই হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান। পরে আবার ফিরে আসেন। এমনও কথিত আছে, কোনো পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই তিনি নাকি হেঁটে হেঁটে আজমীর শরীফ পর্যন্ত চলে যান। যদিও এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি, তবুও তার জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই।

সম্প্রতি ফরিদপুরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে তাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের ২ এপ্রিল “ফরিদপুর হেরিটেজ” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে গান গেয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান তিনি। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সেদিনও তার গানের আবেগে মুগ্ধ হয়েছিলেন অতিথিরা।

এর ধারাবাহিকতায় নজরুল জয়ন্তীর আয়োজনেও বিশেষভাবে ডাক পান তিনি।

অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ফরিদপুরের ঐতিহাসিক “ময়েজ মঞ্জিল”-এ। উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই ভবনে একসময় এসেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামও। সেই ঐতিহাসিক পরিবেশেই নজরুলের দুটি গান পরিবেশন করেন লাইলি খালা। তার কণ্ঠে যেন ফিরে আসে পুরনো বাংলার আবেগ আর হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতির গন্ধ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর নিচে শত শত মন্তব্য জমা পড়েছে। একজন লিখেছেন, “দারিদ্র্য মানুষকে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে, কিন্তু প্রতিভাকে মুছে দিতে পারেনি।”

আরেকজন লিখেছেন, “এই কণ্ঠে শুধু গান নেই, আছে জীবনবোধ, আছে দীর্ঘ কষ্টের ইতিহাস।”

সংস্কৃতিকর্মীদের অনেকে মনে করছেন, সমাজের অগোচরে এমন বহু প্রতিভা ছড়িয়ে আছে, যাদের সামনে আনার উদ্যোগ খুব কম। লাইলি খালার ভাইরাল হওয়া ঘটনা হয়তো সেই অবহেলিত শিল্পীদের নতুনভাবে ভাবতে শেখাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, নাট্যকার ও শিক্ষক ড. অনুপম হায়াৎ, প্রবীণ সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদ বদিউজ্জামান চৌধুরী, ফরিদপুর ফাউন্ডেশনের গোলাম মহিউদ্দিন মুন্না এবং জেলা জিয়ামঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক প্রফেসর এম এ সামাদ।

ফরিদপুরবাসীর কাছে লাইলি খালা নতুন কেউ নন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে সারা দেশের মানুষের কাছে। জীবনের সমস্ত অভাব, অবহেলা আর অগোছালো বাস্তবতার মাঝেও তিনি যেন প্রমাণ করলেন—শিল্প কখনও হারিয়ে যায় না। সুযোগ না পেলেও সত্যিকারের প্রতিভা একদিন না একদিন ঠিকই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।

সালথায় বরাদ্দকৃত সার অন্যত্র বিক্রি, ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
সালথায় বরাদ্দকৃত সার অন্যত্র বিক্রি, ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

ফরিদপুরের সালথায় কৃষকদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার গুদামে মজুত না রেখে অন্যত্র বিক্রির দায়ে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জরিমানাপ্রাপ্ত ডিলার হলেন মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোমরেজ খান।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে সার সরবরাহের আগমনী বার্তা (অ্যারাইভাল রিপোর্ট) পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ডিলারের গুদাম পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। এ সময় দেখা যায়, অক্টোবর মাসে ডিলারের অনুকূলে বরাদ্দ করা ৪০০ বস্তা ইউরিয়া সার গুদামে মজুত রাখার কথা থাকলেও সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ২০০ বস্তা। বাকি ২০০ বস্তা সার অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে বলে যাচাইয়ে উঠে আসে।

পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিজভী আহমেদ সবুজের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় ডিলার মোমরেজ খান বরাদ্দের ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার অন্যত্র বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী তাঁকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে সার বিক্রি করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা কৃষকদের ভোগান্তিতে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার যথাযথভাবে বিতরণ নিশ্চিত করা এবং সারের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের নজরদারি ও তদারকিমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিজভী আহমেদ সবুজ বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার নির্ধারিত নিয়মে গুদামে মজুত রাখা ও কৃষকদের কাছে সরবরাহ করা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। বরাদ্দের সার অন্যত্র বিক্রি করে অনিয়মের আশ্রয় নিলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে ফরিদপুরের মাঠে নন্দিতা সুরক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে ফরিদপুরের মাঠে নন্দিতা সুরক্ষা

সাম্প্রতিক সময়ে ১৩ বছর বয়সী কন্যা শিশু তাজনিমের হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা কন্যা শিশুর নিরাপত্তা, অধিকার এবং সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও কন্যা শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে নারী উন্নয়ন সংস্থা- নন্দিতা সুরক্ষা।

রবিবার (১১ অক্টোবর) ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের মোতলেব হোসেন হাই স্কুলে  আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে ১০০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। গ্লোবাল এফেয়ার্স কানাডা ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর সহায়তায় নন্দিতা সুরক্ষার RWVL-B প্রকল্পের আওতায় করা হয় ওই আয়োজন।

আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীরা হাতে সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড নিয়ে র‍্যালিতে অংশ নেয়। “বাল্যবিবাহ বন্ধ করো! শিশুর অধিকার রক্ষা করো!”—এমন স্লোগান দিতে দিতে তারা ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ভাঙ্গী ডাঙ্গী ও কাজেম মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এবং বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

নন্দিতা সুরক্ষা বিশ্বাস করে, কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু পরিবার নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং তাদের মতামত ও স্বাধীনতাকে সম্মান করার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

আলোচনা সভায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, কন্যাশিশুর শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বাল্যবিবাহ কীভাবে কন্যাশিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, শিক্ষাজীবন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে, সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করা হয়। পাশাপাশি কিশোরীদের নিরাপদ চলাচল, তাদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং কন্যা শিশুর সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আয়োজক প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার জান্নাতুল ফেরদৌসী জানান, বাল্যবিবাহ ও সহিংসতা মুক্ত সমাজ গড়ে উঠুক – এই প্রত্যয়ে নন্দিতা সুরক্ষা সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নন্দিতা সুরক্ষার নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, “প্রতিটি কন্যাশিশুর নিরাপদে বেঁচে থাকা, শিক্ষা গ্রহণ এবং মর্যাদার সঙ্গে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি । তাজমিনের মতো শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও কমেন্ট দেখলেই বোঝা যায়, কীভাবে ভুক্তভোগী শিশুর প্রতি সহিংসতাকে স্বাভাবিক করার এবং অপরাধের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। একটি শিশুর পোশাক, চলাফেরা, আচরণ কিংবা বয়স- কোনোটিই তার প্রতি যৌন সহিংসতা বা হত্যাকে ন্যায্যতা দিতে পারে না। তাই আমরাও এই মানসিকতার পরিবর্তন ও কন্যাশিশুর অধিকার ও নিরাপত্তার দাবি আদায়ে কাজ করে যাচ্ছি।”

ফরিদপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বাতিলের দাবি

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বাতিলের দাবি

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতারা।

​রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বাশারুল বারী ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শাহিন মোল্লা।

​লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, বিসিআইসি ও খুচরা সার ডিলারশিপ বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং অনৈতিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের নতুন করে ডিলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

​তারা বলেন, ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা না থাকলে সাধারণ কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে অনিয়মে জড়িতদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

​সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—

১. অভিযোগ তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করা।

২. সরকারি বিধি অনুযায়ী স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ডিলার নিয়োগ দেওয়া।

৩. অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া।

৪. কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা।

​সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। প্রতিকার না পেলে কৃষক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।

​এ সময় পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি কাইয়ুম সিকদার ও সাবেক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

​এদিকে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা জানান, নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রতি ইউনিয়নে তিনজন যোগ্য আবেদনকারীর তালিকা জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে চূড়ান্ত নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়।

​অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সরকারি বিধি-বিধান মেনেই সারের ডিলারদের তালিকা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।”