খুঁজুন
বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে স্টাফ নার্সের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, রহস্য ঘিরে তদন্ত শুরু

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্টাফ নার্সের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, রহস্য ঘিরে তদন্ত শুরু

ফরিদপুরে এক নারী সিনিয়র স্টাফ নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের কোতোয়ালী থানার পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত নারীর নাম সাদিয়া আফরিন (৪০)। তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় আফরোজা নামের এক নারীর বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার দুপুর আনুমানিক ২টার পর থেকে সাদিয়া আফরিন নিজ বাসায় একাই অবস্থান করছিলেন। এরপর সন্ধ্যার দিকে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে তার ভাই আশরাফ স্মরণ বাসায় এসে দরজায় ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাত প্রায় পৌনে ৮টার দিকে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। ঘরে ঢুকে শোবার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সাদিয়া আফরিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা।

এ সময় বিষয়টি দ্রুত আশপাশের লোকজনকে জানানো হয় এবং পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সহকর্মীরা জানান, সাদিয়া আফরিন দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী একজন নার্স ছিলেন। হঠাৎ তার এমন মৃত্যুর ঘটনায় তারা হতবাক। পরিবারের পক্ষ থেকেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরে জাকাত ফান্ডে গড়ে উঠলো লুৎফরের মুদি দোকান, বদলে যাচ্ছে জীবন

মাহবুব হোসেন পিয়াল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জাকাত ফান্ডে গড়ে উঠলো লুৎফরের মুদি দোকান, বদলে যাচ্ছে জীবন

ফরিদপুর শহরতলীর ভাজনডাঙ্গা এলাকায় ভুবনেশ্বর নদীর তীরে এক অসহায় মানুষের স্বপ্ন পূরণের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সামাজিক সংগঠন “আমরা করবো জয়”। সংগঠনটির জাকাত ফান্ডের অর্থায়নে লুৎফর রহমান নামে এক অস্বচ্ছল ব্যক্তির জন্য একটি মুদি দোকান নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে, যা তার জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দোকানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে দোকানটির কার্যক্রমের সূচনা করেন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন পিয়াল। উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন আবুল খায়ের বাউল।

জানা গেছে, প্রায় ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই দোকানটি সম্পূর্ণভাবে জাকাত ফান্ডের অর্থ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার সন্ধানে সংগ্রামরত লুৎফর রহমান ভুবনেশ্বর নদীর তীরে একটি ছোট দোকান গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছিল না। পরে স্থানীয় সমাজসেবী আহমেদ সৌরভের উদ্যোগে “আমরা করবো জয়” সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মাহাবুব হোসেন পিয়াল বলেন, “সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের নৈতিক কর্তব্যও। লুৎফরের মতো একজন মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলার মাধ্যমে আমরা একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারছি—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

ডা. আহমেদ সৌরভ বলেন, “জাকাত শুধু দান নয়, এটি একটি সামাজিক বিনিয়োগ। আমরা চেষ্টা করছি এমনভাবে সহায়তা করতে, যাতে মানুষ দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হতে পারে। লুৎফরের এই দোকান তার জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন আনবে বলে আমরা আশাবাদী।”

উদ্যোক্তারা জানান, তারা চান সমাজে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠুক যেখানে মানুষ ভিক্ষাবৃত্তির পরিবর্তে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস।

স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের মানবিক ও বাস্তবমুখী সহায়তা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং অন্যদেরও এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফয়সাল কবির পাভেল, সোহরাবুল ইসলাম ডালিম, মো. রুপম হোসেন, সাইমুর রহমান সিয়াম, জাকিব আহাম্মেদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সালথায় হামলার অভিযোগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন: ‘মিথ্যা অপপ্রচার’ দাবি বিএনপি নেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
সালথায় হামলার অভিযোগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন: ‘মিথ্যা অপপ্রচার’ দাবি বিএনপি নেতার

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একদিকে ভুক্তভোগীরা হামলার বিচার দাবি করেছেন, অন্যদিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড়গ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মুরাদুর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, “আমি ও আমার সহকর্মীরা কোনো ধরনের হামলার সঙ্গে জড়িত নই। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।”

এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে গোয়ালপাড়া গ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত তাদের গ্রামে হামলা চালায়। তারা বিএনপি নেতা মুরাদ মাতুব্বর ও যুবদল নেতা শাফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। হামলায় একাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর, আতঙ্ক সৃষ্টি এবং কয়েকটি পরিবার এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মুরাদুর রহমান বলেন, আটঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল খান, আওয়ামী লীগ নেতা কাওছার মাতুব্বর, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রব্বান মাতুব্বরসহ একটি পক্ষ রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এ অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক ইউপি সদস্য হাসান আশরাফের মদদে এসব ঘটনা সাজানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “আমরা ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের নেতৃত্বে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে চলছি। কিন্তু একটি চক্র এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ও সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেন, যাতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আটঘর ইউনিয়নে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

‘পাহাড় সমান বোঝা নেমে গেছে’, মেয়েদের কাছে পেয়ে সালমা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ
‘পাহাড় সমান বোঝা নেমে গেছে’, মেয়েদের কাছে পেয়ে সালমা

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমা। গানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন নিজের মত করেই আছেন তিনি।

সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুই মেয়ের সঙ্গে নিজের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে হৃদয়ের কথা শেয়ার করেছেন এই সংগীতশিল্পী। জানিয়েছেন, ব্যক্তি জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দুই সন্তান নিয়ে অনেক ভালো আছেন তিনি।

দুই মেয়ের সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করে সালমা লেখেন, ‘আমার দুনিয়াতে আমার সন্তানদের নিয়ে ভালো আছি। আমি মা- এটাই এখন আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়।

পোস্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তার বড় মেয়ে স্নেহার কথা, যাকে তিনি নিজের কাছে ফিরে পাওয়াকে জীবনের বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন।

তিনি লেখেন, ‘আল্লাহ পাক তার বান্দাকে বেশি দিন কষ্টে রাখেন না।

আমার পাহাড় সমান বোঝা নেমে গেছে হৃদয় থেকে। আমার স্নেহা আমার কাছে চলে এসেছে।’
বাকি জীবন দুই মেয়ের সঙ্গে কাটিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে শেষে সালমা লেখেন, ‘কাজে মনোযোগ নেই। আমি সন্তানকে পেয়ে সব ভুলে গেছি। বাকি জীবনটা তোদের জন্য উৎসর্গ করলাম। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। ’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সালমার। তাদের সংসারে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান স্নেহা। তবে ২০১৬ সালে দাম্পত্য জীবনের ইতি টানেন এই দম্পতি।

প্রথম সংসারের বিচ্ছেদের সাড়ে তিন বছর পর ২০১৮ সালের শেষ দিনে আইনজীবী সানাউল্লাহ নূরেকে বিয়ে করেন সালমা। কিন্তু সাত বছরের মাথায় এই সংসারও ভেঙে যায়। সালমা-সানাউল্লাহ দম্পতির সাইফা নামে এক মেয়ে রয়েছে।