খুঁজুন
, ,

আধুনিক জীবনে রোজা: জরুরি ৩০টি মাসআলার সহজ ব্যাখ্যা

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
আধুনিক জীবনে রোজা: জরুরি ৩০টি মাসআলার সহজ ব্যাখ্যা

রমজান মাসে রোজা পালন করতে গিয়ে আধুনিক চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয়কে ঘিরে মানুষের মনে বহু প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে চিকিৎসা পদ্ধতি ও পরীক্ষানিরীক্ষার ধরন বদলে যাওয়ায় ইনজেকশন, ইনহেলার, বিভিন্ন মেডিকেল টেস্ট, অপারেশন কিংবা ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোজা ভঙ্গ হবে কি না—এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

ফিকহের কিতাব ও সমসাময়িক আলেমদের গবেষণায় দেখা যায়, রোজা ভঙ্গ হওয়ার মূলনীতি হলো, শরীরের স্বাভাবিক গ্রহণপথ দিয়ে কোনো বস্তু ভেতরে প্রবেশ করে পাকস্থলী বা অভ্যন্তরীণ খালি স্থানে পৌঁছানো। এ নীতির আলোকে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলেমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং সেসব মাসআলার সমাধান দিয়েছেন।

নিচে রোজা সম্পর্কিত ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক মাসআলা একনজরে তুলে ধরা হলো—

১. ইনজেকশন (Injection)

ইনজেকশন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

২. ইনহেলার (Inhaler)

শ্বাসকষ্ট দূর করার লক্ষ্যে তরলজাতীয় একটি ওষুধ স্প্রে করে মুখের ভিতর দিয়ে গলায় প্রবেশ করানো হয়। এভাবে ইনহেলার স্প্রে করার দ্বারা রোজা ভেঙ্গে যাবে।

৩. এনজিও গ্রাম (Angio Gram)

হার্ট ব্লক হয়ে গেলে উরুর গোড়া দিয়ে কেটে বিশেষ রগের ভিতর দিয়ে হার্ট পর্যন্ত যে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয়, তার নাম এনজিও গ্রাম। এ যন্ত্রটিতে কোনো ধরনের ওষুধ লাগানো থাকলেও রোজা ভঙ্গ হবে না।

৪. এন্ডোস কপি (Endos Copy)

চিকন একটি পাইপ ; যার মাথায় বাল্ব জাতীয় একটি বস্তু থাকে। পাইপটি পাকস্থলিতে ঢুকানো হয় এবং বাইরে থাকা মনিটরের মাধ্যমে রোগীর পেটের অবস্থা নির্নয় করা হয়। এ নলে যদি কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হয় বা পাইপের ভিতর দিয়ে পানি/ওষুধ ছিটানো হয়ে থাকে, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। আর যদি কোনো ওষুধ লাগানো না থাকে তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

৫. নাইট্রোগ্লিসারিন (Nitro Glycerin)

এরোসলজাতীয় ওষুধ, যা হার্টের জন্য দুই-তিন ফোটা জিহ্বার নিচে দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়। ওষুধটি শিরার মাধ্যমে রক্তের সাথে মিশে যায়। এ ওষুধের কিছু অংশ গলায় প্রবেশ করার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে। অতএব- এতে রোজা ভেঙে যাবে।

৬. লেপারোস কপি (Laparoscopy)

শিক্জাতীয় একটি যন্ত্র দ্বারা পেট ছিদ্র করে পেটের ভিতরের কোনো অংশ বা গোশত ইত্যাদি পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে বের করে নিয়ে আসার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র। এতে যদি ঔষধ লাগানো থাকে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। অন্যথায় রোজা ভঙ্গ হবে না।

৭.অক্সিজেন (Oxygen)

রোজা অবস্থায় ওষুধ ব্যবহৃত অক্সিজেন ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। তবে শুধু বাতাসের অক্সিজেন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

৮. মস্তিস্ক অপারেশন (Brain Operation)

রোজা অবস্থায় মস্তিস্ক অপারেশন করলে (ওষুধ ব্যবহার করা হোক বা না হোক) রোজা ভঙ্গ হবে না।

৯. রক্ত নেওয়া বা দেওয়া

রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে রোযা ভাঙ্গে না। তাই টেস্ট বা পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া যাবে। তবে এ পরিমাণ রক্ত দেওয়া মাকরুহ যার কারণে শরীর অধিক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যায়। তাই দুর্বল লোকদের জন্য (বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া) রোজা অবস্থায় অন্য রোগীকে রক্ত না দেওয়া উচিত। আর এমন সবল ব্যক্তি যে রোজা অবস্থায় অন্যকে রক্ত দিলে রোজা রাখা তার জন্য কষ্টকর হবে না, সে রক্ত দিতে পারবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই।

১০. সিস্টোসকপি (cystoscopy)

প্রসাবের রাস্তা দিয়ে ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে যে পরীক্ষা করা হয়, এর দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না।

১১. প্রক্টোসকপি (proctoscopy)

পাইলস, পিসার, অর্শ, হারিশ, বুটি ও ফিস্টুলা ইত্যাদি রোগের পরীক্ষাকে প্রক্টোসকপি বলে। মলদ্বার দিয়ে নল প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষাটি করা হয়। রোগী যাতে ব্যথা না পায়, সে জন্য নলের মধ্যে গ্লিসারিন জাতীয় পিচ্ছিল বস্তু ব্যবহার করা হয়। নলটি পুরোপুরী ভিতরে প্রবেশ করে না। চিকিৎসকদের মতানুসারে ওই পিচ্ছিল বস্তুটি নলের সাথে মিশে থাকে এবং নলের সাথেই বেরিয়ে আসে, ভেতরে থাকে না। আর থাকলেও তা পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে। যদিও শরীর তা চোষে না কিন্তু ঐ বস্তুটি ভিজা হওয়ার কারণে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

১২. কপার-টি (Coper-T)

যোনিদ্বারে প্লাস্টিক লাগানোকে কপার-টি বলা হয়। সহবাসের সময় বীর্যপাত হলে যেন বীর্য জরায়ুতে পৌঁছতে না পারে এজন্য এটি লাগানো হয়। এ কপার-টি লাগিয়েও সহবাস করলে রোজা ভেঙে যাবে। কাজা কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে।

১৩.সিরোদকার অপারেশন (Shirodkar Operation)

সিরোদকার অপারেশন হলো, অকাল গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জরায়ুর মুখের চতুর্পার্শ্বে সেলাই করে মুখকে খিচিয়ে রাখা। এতে অকাল গর্ভপাত রোধ হয়। যেহেতু এতে কোনো ঔষধ বা বস্তু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য খালি স্থানে পৌঁছে না, তাই এর দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না।

১৪. ডি এন্ড সি (Dilatation and Curettage)

ডি এন্ড সি হলো, আট থেকে দশ সপ্তাহের মধ্য Dilator এর মাধ্যমে জীবত কিংবা মৃত বাচ্চাকে মায়ের গর্ভ থেকে বের করে নিয়ে আসা। এতে রোজা ভেঙ্গে যাবে। অযথা এমন করলে কাজা ও কাফফারা উভয়টি দিতে হবে এবং তওবা করতে হবে।

১৫. এম.আর (M.R)

এম আর হলো, গর্ভ ধারণের পাঁচ থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে যোনিদ্বার দিয়ে জরায়ুতে এম আর সিরঞ্জ প্রবেশ করিয়ে জীবত কিংবা মৃত ব্রুণ নিয়ে আসা। যারপর ঋতুস্রাব পুনরায় হয়। অতএব ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার কারণে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং কাজা করতে হবে।

১৬. আলট্রাসনোগ্রাম (Ultrasongram)

আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় যে ওষুধ বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, সবই চামড়ার উপরে থাকে। তাই আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

১৭. স্যালাইন (Saline)

স্যালাইন নেওয়া হয় রগে, আর রগ যেহেতু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা নয়, তাই স্যালাইন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে রোজার কষ্ট লাঘবের জন্য স্যালাইন নেওয়া মাকরূহ।

১৮. টিকা নেওয়া (Vaccine)

টিকা নিলে রোজা ভাঙবে না। কারণ, টিকা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তায় দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে না।

১৯. ঢুস লাগানো (Douche)

ঢুস মলদ্বারের মাধ্যমে দেহের ভেতরে প্রবেশ করে, তাই ঢুস নিলে রোজা ভেঙে যাবে।

২০. ইনসুলিন গ্রহণ করা (Insulin)

ইনসুলিন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ, ইনসুলিন রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে না এবং গ্রহণযোগ্য খালি জায়গায়ও ( পাকস্থলি) প্রবেশ করে না।

২১. দাঁত তোলা

রোজা অবস্থায় একান্ত প্রয়োজন হলে দাঁত তোলা জায়েজ আছে। তবে অতি প্রয়োজন না হলে এমনটা করা মাকরূহ। দাঁত তোলার সময় ওষুধ যদি গলায় চলে যায় অথবা থুথু থেকে বেশি অথবা সমপরিমাণ রক্ত গলাধঃকরণ হয়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

২২. পেস্ট, টুথ পাউডার ব্যবহার করা

রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় টুথ পাউডার, পেস্ট, মাজন ইত্যাদি ব্যবহার করা মাকরূহ। কিন্তু গলাধঃকরণ হলে রোজা ভেঙে যাবে।

২৩. মিসওয়াক করা

শুকনা বা কাঁচা মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজার দ্বারা রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

২৪. মুখে ওষুধ ব্যবহার করা

মুখে ওষুধ ব্যবহার করে তা গিলে ফেললে বা ওষুধের অংশ বিশেষ গলাধঃকরণ হলে রোজা ভেঙে যাবে। গলায় প্রবেশ না করলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

২৫. রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া

রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে খুব বেশি পরিমাণে রক্ত দেওয়া, যার দ্বারা শরীরে দুর্বলতা আসে, মাকরূহ।

২৬. ডায়াবেটিসের সুগার মাপা

ডায়াবেটিসের সুগার মাপার জন্য সুচ ঢুকিয়ে যে একফোটা রক্ত নেওয়া হয়, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।

২৭. নাকে ওষুধ দেওয়া

নাকে পানি বা ওষুধ দিলে যদি তা খাদ্য নালীতে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে।

২৮. চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা

চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করার দ্বারা রোজা ভাঙবে না। যদিও এগুলোর স্বাদ গলায় অনুভব হয়।

২৯. কানে ওষুধ প্রদান করা

কানে ওষুধ, তেল ইত্যাদি ঢুকালে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে কারো কানের পর্দা ছিদ্র হলে ভিন্ন কথা।

৩০. নকল দাঁত মুখে রাখা

রোজা রেখে নকল দাঁত মুখে স্থাপন করে রাখলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

বিস্তারিত জানতে দেখুন

الإسلام والطب الحديث لفقيه الإسلا الشيخ العلامة دلاور حسين ، ضابط المفطرات من الأدوية ونحوها في الصيام للفقيه العلامة رفيع العثماني ، جديد فقهي مسائل للفقيه العلامة خالد سيف الله الرحماني.

সমাধান জানিয়েছেন

মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী

উস্তাজুল ফিকহ, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম, মিরপুর, ঢাকা

চরভদ্রাসনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।

​উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ হলরুমে শিক্ষকদের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চরভদ্রাসন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর চন্দ্রমোহন হালদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. মাকসুদুর রহমান, থানা কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী, কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান খান, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এবং প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম।

​আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষক সমাজকে সম্মানের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেন।

​অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং উপজেলার নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলী উপস্থিত ছিলেন।

সদরপুরে স্কুল ভবনের উদ্বোধন ঘিরে বিরোধ, ৬ দিন ধরে ক্লাসে আসছে না ৩০ শিক্ষার্থী

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
সদরপুরে স্কুল ভবনের উদ্বোধন ঘিরে বিরোধ, ৬ দিন ধরে ক্লাসে আসছে না ৩০ শিক্ষার্থী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধের জেরে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নির্দেশে গত ছয় দিন ধরে অভিভাবকেরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

​বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করে উদ্বোধনের তারিখ জানানোয় কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াত দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

​তবে অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় প্রভাবশালী কামরুল হাসান। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তিনি স্থানীয় অভিভাবকদের নিয়ে সভা করে শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করার নির্দেশ দেন। তার প্রভাবেই অনেকে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য স্কুলে সন্তানদের ভর্তির চেষ্টা করছেন।

​১০৭ জন শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে আগে নিয়মিত ৬৫ থেকে ৭০ জন উপস্থিত থাকলেও, গত ছয় দিন ধরে উপস্থিতি নেমে এসেছে ২৫ থেকে ৩০ জনে। ফলে স্বাভাবিক পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, “হঠাৎ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী না আসায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

​প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান জানান, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ উদ্বোধনের কথা জানানোয় কাউকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ পাইনি। বিষয় টি কামরুল হাসানকে বুঝিয়ে বললেও তিনি কর্ণপাত করেননি।”

​তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুল হাসান দাবি করেন, “অভিভাবকেরা নিজ ইচ্ছায় সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। সেখানে ঠিকমতো পড়াশোনা হয় না এবং শিক্ষকেরা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।” পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তোলেন তিনি।

​এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৭ বছর ধরে ঘরের খুঁটিতে বাঁধা লিমনের জীবন

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
১৭ বছর ধরে ঘরের খুঁটিতে বাঁধা লিমনের জীবন

বয়সের হিসাবে ২০ ছুঁয়েছেন, কিন্তু জীবনের গতি থেমে গেছে মাত্র তিন বছর বয়সেই। এরপর থেকেই এক পায়ে লোহার শিকল পেঁচিয়ে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে তাঁকে। এভাবেই শিকলবন্দি অবস্থায় কেটে গেছে জীবনের দীর্ঘ ১৭টি বছর।

​করুণ এই গল্পটি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের। দিনমজুর মো. হাফেজ শরিফের ছেলে লিমন শরিফের সারাদিনের জীবন এখন কাটছে মাত্র কয়েক ফুট লোহার শিকলের পরিধিতে।

​পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাত্র তিন বছর বয়সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে লিমনের জীবন অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে কমে যায় কথা বলার সক্ষমতা। বর্তমানে বাবা-মা ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে তেমন কথা বলতে পারেন না তিনি, চলাফেরাও করতে পারেন না স্বাভাবিক মানুষের মতো।

​শিকলবন্দি রাখার কারণ জানাতে গিয়ে বাবা হাফেজ শরিফ বলেন, “কোনো বাবা-মা চায় না নিজের সন্তানকে এভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে। কিন্তু ওকে মুক্ত রাখলে বাড়ি থেকে দূরে চলে যায়—কখনো উঁচু গাছে উঠে পড়ে, আবার কখনো পুকুরে নেমে যায়। নিজের নিরাপত্তার বোধটুকুও তার নেই। গ্রাম ঘুরে তাকে খুঁজে আনতে হয়। বাধ্য হয়েই নিরাপত্তার স্বার্থে গত ১৭ বছর ধরে ওকে এভাবে শিকলে আটকে রাখতে হচ্ছে।”

​তিন শতক জমির ওপর পলিথিন ও প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে ঘেরা জরাজীর্ণ এক টিনের ঘরে বাস পরিবারটির। দিনমজুরির সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে দায়, সেখানে লিমনের মতো একজন মানসিক ভারসাম্যহীন সন্তানের উন্নত চিকিৎসা চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ইতিপূর্বে সাধ্যমতো চিকিৎসা করালেও অর্থের অভাবে তা আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

​স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ওয়াহিদুল আলী বলেন, “লিমন মানসিকভাবে অসুস্থ এবং তার একটি সরকারি প্রতিবন্ধী কার্ড রয়েছে। পরিবারটি মারাত্মক আর্থিক সংকটে রয়েছে, তাদের থাকার ঘরটির অবস্থাও করুণ। লিমনের সুচিকিৎসা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করতে সরকারি ও সামাজিক সহায়তা প্রয়োজন।”

​বিষয়টি জানতে পেরে পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন। তিনি জানান, দ্রুতই পরিবারটিকে ঘরের জন্য টিনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি লিমনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সরকারি সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে উপজেলা প্রশাসন।