খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে রেললাইনের পাশে পড়েছিল শিশুর বিবস্ত্র মরদেহ

মিজান বাবু, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রেললাইনের পাশে পড়েছিল শিশুর বিবস্ত্র মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর মাহমুদা আক্তার (৯) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর ভাসমান ও বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানাচ্ছে, খেলার সময় আঘাতের ঘটনা নাকি অন্য কোনো অপরাধমূলক কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

​শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের রেললাইনের পাশে পারিবারিক কবরস্থানের কাছ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মাহমুদা ওই গ্রামের ইদ্রিস মোল্ল্যার চার সন্তান-সন্ততির মধ্যে সবার ছোট।

​পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে মাহমুদা হঠাৎ নিখোঁজ হয়। স্বজনরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে প্রতিবেশীদের সংবাদের ভিত্তিতে নগরকান্দা থানা পুলিশ এলাকায় অনুসন্ধানে নামে। তল্লাশির একপর্যায়ে রেললাইনের পাশের কবরস্থানের ঝোপঝাড়ের কাছে শিশুটির বিবস্ত্র মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করা হয়।

​ঘটনায় শোকস্তব্ধ নিহতের ভাবি শাহনাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন, ​”আমরা মাহমুদাকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায় পেয়েছি। তার গায়ে থাকা পোশাকটিও গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। সূর্য নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে নির্যাতন ও ধর্ষণের পর হত্যা করেছে বলে আমাদের প্রবল সন্দেহ। আমরা অবিলম্বে এই পৈশাচিক ঘটনার বিচার চাই।”

​স্বজনদের একাংশের অভিযোগ, খেলার ছলে সামান্য ১০ টাকা নিয়ে তৈরি বিরোধের জের ধরে অথবা পাশবিক নির্যাতনের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

​নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ আল ফাহাদ জানান, “প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যেই দুজনকে আটক করা হয়েছে। সমবয়সী অন্য একটি শিশুর সঙ্গে খেলার সময় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে নাকি ধর্ষণের মতো কোনো ঘৃণ্য অপরাধ ঘটেছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।”

সদরপুরে দুটি ভাঙা সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
সদরপুরে দুটি ভাঙা সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার গাবতলা ও সতের রশি এলাকার পৃথক দুটি ভাঙা সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

রবিবার (০২ আগস্ট) নির্মাণাধীন সড়ক দুটি পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ও এলাকাবাসীর ‌সঙ্গে কথা বলেন।

এসময় ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, দ্রুত এবং টেকসই ভাবে শুধু এই দুটি নয় সকল রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর আগামীতে এরচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করা হবে । এই এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের জনভোগান্তি দূর করতে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হবে।

এছাড়া,জনগণের দুর্ভোগ লাঘব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে তদারকি ও কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এমনটি প্রত্যাশা করেন তিনি।

পরিদর্শন কালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সদরপুর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ভাঙ্গায় বৃষ্টিভেজা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ২০

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় বৃষ্টিভেজা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ২০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বৃষ্টিভেজা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেলে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশু ও নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার বাবলাতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত যাত্রীদের ভাষ্য, বাসটি ঢাকা ধোলাইপাড় থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। যাত্রাপথের শুরু থেকেই চালক দ্রুতগতিতে বাস চালাচ্ছিলেন। ভাঙ্গার বাবলাতলা এলাকায় পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে বাসের ভেতরে থাকা একাধিক যাত্রী চালককে ধীরগতিতে গাড়ি চালানোর জন্য অনুরোধ করেন। তবে তিনি সেই অনুরোধ উপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।

আহত যাত্রী দেবাশীষ ও খালেকসহ কয়েকজন জানান, টানা বৃষ্টিতে মহাসড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়েছিল। এর মধ্যেই অতিরিক্ত গতিতে চলার কারণে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে বাসটি সড়ক ছেড়ে পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় বাসের ভেতরে চিৎকার-আর্তনাদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে জানালার কাচ ভেঙে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন।

ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে ৮ থেকে ১০ জনকে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করলেও স্থানীয়দের সহায়তায় আরও বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম শেষে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে বৃষ্টির কারণে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া এবং দ্রুতগতিকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সালথায় পাটকল স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
সালথায় পাটকল স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একটি আধুনিক পাটকল (জুট মিল) স্থাপনের দীর্ঘদিনের দাবিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের ২০ জুলাই পাঠানো আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের আলোকে সালথায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। স্থানীয়ভাবে পাটভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠলে কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী—সবাই উপকৃত হবেন।”

সালথা দেশের অন্যতম পাট উৎপাদনকারী এলাকা। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ফরিদপুর জেলায় বছরে দুই লাখ টনের বেশি পাট উৎপাদিত হয় এবং এর বড় একটি অংশ আসে সালথা উপজেলা থেকে। কিন্তু এলাকায় কোনো পাটকল না থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত পাট অন্য জেলায় পাঠাতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি অনেক সময় তারা ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হন।

স্থানীয়দের মতে, সালথায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপিত হলে কৃষকরা সরাসরি পাট বিক্রির সুযোগ পাবেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।

এর আগে এ বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং নাগরিকদের দাবির পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার মাধ্যমে পাটকল স্থাপনের দাবি এখন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের বিশ্বাস, সালথায় একটি আধুনিক পাটকল প্রতিষ্ঠিত হলে এটি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানই হবে না, বরং পুরো অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন গতি এনে দেবে এবং দীর্ঘদিনের বেকারত্ব সমস্যা নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।