খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে এনসিপি নেতার কারাদন্ড

নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে এনসিপি নেতার কারাদন্ড

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে মো. মিলন (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

তবে আদালতের কার্যক্রম চলাকালে উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক আব্দুল জলিল অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার কথিত ‘ঠিক আছে, এমপি স্যারকে বলি’ মন্তব্যটি উপস্থিতদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। যদিও আব্দুল জলিল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইন অনুযায়ী ওই ব্যক্তিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন মহল থেকে আমাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তিনি। মিলন এনসিপির আলফাডাঙ্গা উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব বলে জানা গেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন দীর্ঘদিন ধরে আলফাডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের বাইরে একটি কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করে ভূমি অফিসের বিভিন্ন সেবা, নামজারি, খাজনা ও অন্যান্য কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। এসব কাজে তিনি নিয়মিত উপজেলা ও পৌর ভূমি অফিসে যাতায়াত করতেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করে একই কার্যক্রম চালিয়ে যান।

অভিযানের সময় মিলন অভিযোগ স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানে সেবামূল্যের তালিকা না থাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৯ ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আদালতের কার্যক্রম চলাকালে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করে বলেন, ‘মিলন আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। তাকে একবার শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিন।’ কিন্তু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনের বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে এতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর আব্দুল জলিলকে বলতে শোনা যায়, ‘ঠিক আছে, এমপি স্যারকে বলি।’ এ মন্তব্যের পর ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে ভূমি অফিসে নিয়মিত দালালির কার্যক্রমের একাধিক তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। তাকে অনেকবার সতর্ক করেও তিনি তা কর্ণপাত করেননি। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠানে সেবামূল্যের তালিকাও ছিল না। ভোক্তাধিকার আইন অনুযায়ী তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আপনাকে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা ফোন করেছিলেন কিনা জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, এনসিপির আলফাডাঙ্গা উপজেলা আহ্বায়ক আব্দুল জলিল নামে এক ব্যক্তি অভিযুক্তের ব্যাপারে ফোন দিয়েছিলেন। বিচারিক কার্যক্রমে কোনো সুপারিশ বা তদবিরের সুযোগ নেই।

তবে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল বলেন, আমি ঢাকায় থাকি। মিলন নামে এনসিপির কোনো সদস্য আমার কমিটিতে আছে কি না, সেটাও আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে আপনাকে জানাব। তবে এসিল্যান্ড স্যারকে আমি ফোন করিনি।

ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর বলেন, কোনো অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করা দলের নীতিমালার পরিপন্থী। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বহিষ্কারও করা হবে।

ফরিদপুরে শিশু ধর্ষণচেষ্টায় বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশু ধর্ষণচেষ্টায় বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের মধুখালীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় জামাল মোল্লা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​সোমবার (১৭ আগস্ট) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কড়া পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত জামাল মোল্লা মধুখালী উপজেলার মাবকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মোমিন মোল্লার ছেলে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ি রাজবাড়ী সদর থানার বানিয়াবহু হুগলাডাঙ্গী গ্রামে।

​মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের ৩ মে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে শিশুটি দর্জির বাড়ি থেকে জামা আনতে গিয়ে তা না পেয়ে আসামির বাড়ির উঠানে তার নাতনিসহ অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এ সময় জামাল মোল্লা শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

​একপর্যায়ে শিশুটি কোনোমতে নিজেকে ছাড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সিঁড়ির ওপর পড়ে চিৎকার করতে থাকে। আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর আসামি জামাল মোল্লা এলাকা থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

​আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানির পর আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই দণ্ডাদেশ দেন।

​রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সঠিক রায় দিয়েছেন। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমবে বলে আমরা আশা করি।”

সদরপুরে ইজিবাইকের ধাক্কায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
সদরপুরে ইজিবাইকের ধাক্কায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ফরিদপুরের সদরপুরে ইজিবাইকের ধাক্কায় ফারদিন (৭) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

​সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের কারীরহাট মধু মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকার পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত ফারদিন একই এলাকার বাচ্চু মাতুব্বরের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কারীরহাট মধু মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি চলন্ত ইজিবাইক ফারদিনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত পায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডিনঃ সুমাইয়া পারভেজ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ্ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহতের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরের নগরকান্দায় কালী মন্দিরের তালা ভেঙে দুই পিতলের মূর্তি চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় কালী মন্দিরের তালা ভেঙে দুই পিতলের মূর্তি চুরি

ফরিদপুরের নগরকান্দা বাজারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের তালা ভেঙে দুটি পিতলের মূর্তি চুরির অভিযোগ উঠেছে। চুরি হওয়া মূর্তি দুটির আনুমানিক ওজন ২২ কেজি বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পর তদন্তে নেমেছে নগরকান্দা থানা পুলিশ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে মূর্তি চুরির বিষয়টি দেখতে পান মন্দিরের সেবায়েত রমা চক্রবর্তী (৩০)। পরে মন্দির কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে তিনি নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মন্দিরের দরজায় তালা লাগিয়ে পাশের বাসায় চলে যান সেবায়েত রমা চক্রবর্তী। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মন্দিরটি একবার পরিদর্শন করে পুনরায় বাসায় ফিরে যান।

এরপর সোমবার ভোর ৬টার দিকে পূজা দিতে মন্দিরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ভেতরে রাখা দুটি পিতলের মূর্তি নেই। পরে মন্দিরের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

সেবায়েতের ধারণা, রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা মন্দিরের তালা ভেঙে মূর্তি দুটি চুরি করে নিয়ে যায়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নগরকান্দা উপজেলা সভাপতি শ্রী রণদা প্রসাদ সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।