খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অটো-অ্যাম্বুলেন্সের দখলে, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অটো-অ্যাম্বুলেন্সের দখলে, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

হাসপাতাল নাকি অটোস্ট্যান্ড—ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল চত্বরে প্রবেশ করলেই এমন প্রশ্ন উঠছে রোগী ও স্বজনদের মনে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনের ফাঁকা জায়গা দখল করে দাঁড়িয়ে থাকছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও অ্যাম্বুলেন্স। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চলাচলে তৈরি হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তি। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন গুরুতর অসুস্থ ও জরুরি রোগীরা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ও পুরোনো ভবনের নিচের ফাঁকা জায়গার বড় একটি অংশ বিভিন্ন যানবাহনের দখলে রয়েছে। রোগী নামানো বা ওঠানোর পরও অনেক চালক দীর্ঘসময় হাসপাতাল চত্বরেই অবস্থান করছেন। হাসপাতাল থেকে বের হওয়া রোগী কিংবা স্বজনদের যাত্রী হিসেবে পাওয়ার আশায় তারা সেখানে অপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জরুরি বিভাগের সামনের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সংকটাপন্ন রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের সময় সামনে থাকা রিকশা, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনের কারণে অনেক সময় যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে রোগীকে দ্রুত জরুরি বিভাগে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়ছেন স্বজনরা।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, যানবাহনের ভিড় এড়িয়ে কখনো কখনো রোগীকে স্ট্রেচারে করে কিংবা কোলে তুলে হাসপাতালের ভেতরে নিতে হচ্ছে। জরুরি মুহূর্তে কয়েক মিনিটের দেরিও যেখানে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে প্রবেশপথে যানবাহনের এমন অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ষাটোর্ধ্ব রফিকুল ইসলাম বলেন, “বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখানে এসে একটু শান্তিতে বিশ্রাম নেব, সেটাও পারছি না। দিন-রাত গাড়ির হর্ন বাজে, চালকেরা চিৎকার করে ডাকাডাকি করেন। এতে মাথা ধরে যায়, বুক আরও ধড়ফড় করে। হাসপাতাল নাকি বাসস্ট্যান্ড—বোঝার উপায় নেই এখানে।”

শুধু যানবাহনের জট নয়, হাসপাতাল চত্বরে অপ্রয়োজনীয় হর্ন, চালকদের উচ্চস্বরে ডাকাডাকি ও যাত্রী ডাকার কারণে চিকিৎসার পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য এই শব্দদূষণ বাড়তি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসাধীন রোগীদের বিশ্রাম ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা থাকলেও হাসপাতালের ভেতরে সারাক্ষণ যানবাহনের শব্দ থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্বজনরা।

এক রোগীর স্বজন কাকলি চৌধুরী বলেন, “আমাদের রোগীকে নিয়ে যখন হাসপাতালে আসি, তখন প্রথমেই গাড়ির জটের মুখে পড়তে হয়। রোগী যদি গুরুতর হয়, তখন কয়েক মিনিটও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়। অথচ হাসপাতালের গেট থেকে জরুরি বিভাগ পর্যন্ত যেতে যদি গাড়ির ভিড় সামলাতে হয়, তাহলে এর থেকে আর কষ্টদায়ক কী হতে পারে।”

অন্যদিকে হাসপাতাল চত্বরে শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদেরও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আনসার সদস্য বলেন, “রোগী নিয়ে আসার পর অনেক চালক গাড়ি নিয়ে আর বের হতে চান না। হাসপাতাল থেকে বের হওয়া রোগী বা স্বজনদের যাত্রী হিসেবে পাওয়ার আশায় তারা চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকেন। গাড়ি সরাতে বললে অনেক সময় বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। সীমিত জনবল দিয়ে এতগুলো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা বড়ই কঠিন।”

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের সীমানা ঘেঁষে অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকার পরও অনেক অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের মূল চত্বরেই অবস্থান করছে। ফলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও প্রবেশপথ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

রোগী ও স্বজনদের দাবি, জরুরি বিভাগের সামনে কোনো যানবাহন দাঁড়াতে না দেওয়া, হাসপাতালের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় রিকশা ও ইজিবাইকের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

তাদের মতে, একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল চত্বর হওয়া উচিত জরুরি রোগীর দ্রুত চলাচল, চিকিৎসকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং রোগীদের শান্তিপূর্ণ চিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করার জায়গা। সেখানে অটো-ইজিবাইক, অ্যাম্বুলেন্সের জট আর হর্ন-হাকডাক নিয়মিত চিত্র হয়ে উঠলে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তিও বাড়বে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে প্রতিবেদকের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

অন্যদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মানস কৃষ্ণ কুন্ডুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “হাসপাতালে বিষয়টি নিয়ে আমাদের পরিচালক স্যারের সঙ্গে কথা বললেই ভালো হবে।”

তবে তিনি আরও বলেন, “আমাদের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে আমরা বরাবরের মতোই বিষয়গুলো তুলে ধরি। মাঝেমধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যেহেতু আবার নতুন করে হাসপাতাল চত্বরে ইজিবাইক এবং মাইক্রোবাস পার্কিং শুরু হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

রোগী ও স্বজনরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতাল চত্বরকে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের দখলমুক্ত করে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি বিভাগের সামনে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ফরিদপুরে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে পুলিশের প্রশিক্ষণ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে পুলিশের প্রশিক্ষণ শুরু

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দুই দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু হয়েছে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় ফরিদপুর পুলিশ লাইনসের শহীদ ছালাম সভাকক্ষে প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রথম ব্যাচের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম।

​উদ্বোধনী বক্তব্যে ফাতেমা ইসলাম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ফরিদপুর জেলা পুলিশ শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনি দায়িত্বে সততা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার বিকল্প নেই। এ ধরনের প্রশিক্ষণ সদস্যদের সক্ষমতা বাড়াতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

​প্রথম ব্যাচে জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিট থেকে আসা ৫০ জন পুলিশ সদস্য অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, আইন প্রয়োগে মানবিক হওয়া, জনগণের আস্থা অর্জন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে চা দোকানিকে কুপিয়ে হত্যায় মামলা, আসামি ৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে চা দোকানিকে কুপিয়ে হত্যায় মামলা, আসামি ৪৩

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় চা দোকানি রবিউল ইসলাম শেখ রবি (৫৬) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

​এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত রবিউলের ভাতিজা নাজমুল শেখ বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

​থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়বাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা (হুকুমের আসামি) করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্য আসামিরাও একই এলাকার বাসিন্দা।

​মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল বড়ভাগ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা সদর বাজারে চা বিক্রি করতেন। ঘটনার রাতে দোকান বন্ধ করে নিজ গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে হোসাইন শেখের নেতৃত্বে একদল হামলাকারী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই রবিউলের মৃত্যু হয় এবং সঙ্গে থাকা তিনজন গুরুতর আহত হন।

​আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার জানান, নিহতের ভাতিজার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

​উল্লেখ্য, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে গত ২৬ জুন সুমন শেখ (৩০) নামে এক যুবক খুন হন। নিহত রবিউল ছিলেন সুমনের চাচা। ওই সুমন হত্যা মামলারও প্রধান হুকুমের আসামি ছিলেন হোসাইন শেখ। পূর্বের মামলায় আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এলাকায় আসার পরই এ নতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

অবশেষে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন পদে মঞ্জুর এ এলাহীর পদায়ন বাতিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ
অবশেষে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন পদে মঞ্জুর এ এলাহীর পদায়ন বাতিল

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে ডা. এস এম মঞ্জুর এ এলাহীর বদলি ও পদায়নের আদেশ বাতিল করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর পদায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অংশ বাতিল করা হয়।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-২ শাখার যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ৮ সেপ্টেম্বর জারি করা স্মারকমূলে ডা. এস এম মঞ্জুর এ এলাহীকে ওএসডি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা থেকে সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব), ফরিদপুর হিসেবে বদলি/পদায়নের ক্ষেত্রে তাঁর জন্য প্রযোজ্য অংশ নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডা. মঞ্জুর এ এলাহীর ফরিদপুরের সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন বাতিলের দাবিতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন ছাত্র সমাজ। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা ডা. মঞ্জুর এ এলাহীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ তুলে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁকে স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে না রাখার দাবি করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওই সময় নবনিযুক্ত সিভিল সার্জনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের উপস্থিতিও দেখা যায়। পরে আপাতত অবরোধ স্থগিত করে আন্দোলনকারীরা পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সতর্ক করেন।

এর দুই দিন পরই স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে ডা. মঞ্জুর এ এলাহীর ফরিদপুরের সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি/পদায়নের আদেশ বাতিলের কথা জানানো হলো।

প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), ফরিদপুরের সিভিল সার্জন/সহকারী পরিচালক এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।