খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে তরুণীকে যৌনপল্লীতে আটকে রেখে পাচার, নারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে তরুণীকে যৌনপল্লীতে আটকে রেখে পাচার, নারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুর শহরের রথখোলা যৌনপল্লীতে এক তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে মানবপাচার আইনে তানিয়া আক্তার (৪৩) নামে এক নারীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

​একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

​এ ছাড়া একই আইনের অপর একটি ধারায় তানিয়া আক্তারকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে বড় সাজা অর্থাৎ ১০ বছরের কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে।

​বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার সময় আসামি তানিয়া আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী ঢাকার সাভারের একটি গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালের ১৮ মার্চ তানিয়া আক্তার তাকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার যৌনপল্লীতে নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়।

​পরে ২৫ মার্চ রাত দেড়টার দিকে ওই তরুণী ফরিদপুর র‍্যাব-১০ ক্যাম্পে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে র‍্যাব সদস্যরা ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে তাকে যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করেন।

​এ ঘটনায় ২৫ মার্চ উদ্ধারকারী র‍্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার শেখ ইসরাইল আমিন বাদী হয়ে তানিয়া আক্তারকে একমাত্র আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন।

​মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রসাদ কুমার চাকী। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল তানিয়া আক্তারকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তিনি।

​রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূইয়া বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৬ ও ১১ ধারায় আসামিকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।

​তিনি আরও বলেন, ‘এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এর ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা এবং মানবপাচার অনেকাংশে কমে আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

সালথায় কৃষকদলের আটঘর ইউনিয়ন শাখার আংশিক কমিটি অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
সালথায় কৃষকদলের আটঘর ইউনিয়ন শাখার আংশিক কমিটি অনুমোদন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল আটঘর ইউনিয়ন শাখার আংশিক কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সালথা উপজেলা কৃষকদলের পক্ষ থেকে এই আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়।

​বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল সালথা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান (হাফিজ) এবং সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ হোসেন স্বাক্ষরিত প্যাডে এই কমিটি অনুমোদিত হয়েছে।

​অনুমোদিত কমিটিতে মো. আতিকুর রহমান মোল্যাকে সভাপতি এবং মো. শফিকুল ইসলাম (সুফিকে) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

​কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যারা স্থান পেয়েছেন তারা হলেন— ​সিনিয়র সহ-সভাপতি: মো. ইউসুফ মাতুব্বর,​সহ-সভাপতিগণ মো. নাসির হায়দার দরজী, মো. মাহফুজুল রহমান, মো. লাল মিয়া খান, মো. হাফিজুর রহমান, মো. জাহিদ ফকির ও মো. বকুল খান

​সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক: মো. ইউসুফ মোল্লা,​যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
​যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসান মন্ডল ও মো. লাভলু শেখ। ​সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ফজর আলী মাতুব্বর, মো. ছমির মোল্লা ও মো. এনায়েত মোল্লা,​সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গাউস হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকমো. রবিউল মাতুব্বর ও মো. রোকন মাতুব্বর।

​দপ্তর সম্পাদক মো. রাজিবুল ইসলাম সুমন, ​সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. শাকিল মোল্লা, ​প্রচার সম্পাদক মো. লিটন সরকার, ​প্রকাশনা সম্পাদক মো. রাজিব খান,​শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. রকিবউদ্দিন মোল্যা (মঞ্জুর), ​স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম,​কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মো. বিল্লাল শিকদার।

​এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে মো. আসাদ মিয়া, মো. ইউনুস মোল্যা, মো. সেকেন মাতুব্বর, মো. জামাল শেখ, মো. ইলিয়াছ শেখ, মো. আব্দুল করিম, মো. জসিম মাতুব্বর, মো. উজ্জ্বল মোল্যা ও মো. শাকিল মৃধাকে।

​সংগঠনকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটি স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

‘অসভ্যতার ভদ্রবেশ’

শাবলু শাহাবউদ্দিন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
‘অসভ্যতার ভদ্রবেশ’

মানুষের আত্মা আজ পচে গেছে স্তূপে স্তূপে,

সভ্যতার মুখোশটা সে পরে নেয় রোজ খুব মাপে।

রক্তের স্রোত বয়ে যায় মানুষের ভেতরেই সুপ্ত,
মানুষ তো অমানুষ হলো, হৃদয়টা পুরোপুরি লুপ্ত।

শিক্ষার আলোয় আজ চারপাশ ঝলমল করে,

হিসাবের খাতা খোলে শিক্ষিত মানুষ স্বার্থের ঘরে।
ডিগ্রির পাহাড় জমে, সার্টিফিকেট ওড়ে বাতাসে,
কিন্তু মনটা যে পড়ে থাকে পশুপাখি কিংবা লাশের পাশে!

কত না বুলি আওড়ায়, কত নীতি, কত শত বাণী,

ভিতরটা হাহাকার, লোভের আগুনে পুড়ে ছাই জানি।
বইয়ের পাতায় শেখা বিদ্যা মুখে শুধু বুলি ফোটায়,
বিবেকটা মারা গেছে, স্বার্থের মোড়কে মন মোড়ায়।

তবে কি মানুষ তবে সভ্য হলো নাকি হলো অসভ্য?

এই পচা যুগে মানবতা আজ বড়ই নিঃস্ব ও লভ্য।
পোশাকে পরিপাটি, ঠোঁটে হাসি, মনে হিংসার বিষ,
এই আধুনিক পশুপাট্টা—আমাদের বর্তমান দিশা নিশি!

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এইচএসসিতে ফেল দুই-তৃতীয়াংশ, শীর্ষে মহিলা কলেজ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এইচএসসিতে ফেল দুই-তৃতীয়াংশ, শীর্ষে মহিলা কলেজ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় চরম ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার চারটি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬৯২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ৪৪৮ জন। এতে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

​তবে ফলাফলের এই চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও ৭০.৯৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ।

​প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার চারটি কলেজ থেকে এবার মোট ৬৯২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৪৪ জন। চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

​ফলাফলের চিত্রে দেখা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ থেকে ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

​অন্যদিকে উপজেলার প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের ফলাফলের চিত্র ছিল হতাশাজনক। এই কলেজ থেকে ৪৯০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১৫৭ জন, পাসের হার ৩২.০৪ শতাংশ। তবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

​এছাড়া আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজ থেকে ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৯ জন পাস করেছে (পাসের হার ৩৯.৫২% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন)। হাজী আফিজউদ্দিন আলেকজান কলেজ থেকে ৪৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে মাত্র ১৬ জন (পাসের হার ৩৪.০৪%), এই প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

​চলতি বছর জাতীয় পর্যায়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ হলেও আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাসের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ১৬.৮৬ শতাংশ কম। এমন ফলাফলে অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের কার্যকারিতা কমে যাওয়া এবং পারিবারিক তদারকির অভাবে এমন বিপর্যয় ঘটেছে।

​উপজেলা পর্যায়ে পাসের হারে শীর্ষে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শেখ ফাতেমা অনন্যা বলেন, “সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিয়মিত পাঠদান, উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ায় আমাদের এই সাফল্য এসেছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি।”

​সার্বিক বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব জানান, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং আগামীতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ মনিটরিং জোরদার করা হবে।