খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ‘সবুজ সোনা’ তোষা পাটের মাঠ দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘সবুজ সোনা’ তোষা পাটের মাঠ দিবস

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল পাটের উৎপাদন ও গুণগত মান আরও উন্নত করতে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ‘বিজেআরআই তোষা পাট-৯ (সবুজ সোনা)’ জাতের মাঠ দিবস ও কৃষক সমাবেশে ফরিদপুরের কৃষকদের ছিল ব্যাপক সাড়া। নতুন এই জাতের অধিক ফলন, উন্নতমানের আঁশ এবং রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখে আগামী মৌসুমে চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন শতাধিক কৃষক।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ফরিদপুর সদর উপজেলার হাট গোবিন্দপুর মোল্লাপাড়ায় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাট গবেষণা আঞ্চলিক কেন্দ্র, ফরিদপুরের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ. টি. এম. মোর্শেদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. লুৎফর রহমান, ড. রণজিৎ কুমার ঘোষ এবং পাট গবেষণা আঞ্চলিক কেন্দ্র, ফরিদপুরের ইনচার্জ ড. মো. রিশাদ আব্দুল্লাহ। এছাড়া স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা অংশ নেন।

প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন শেষে কৃষি বিজ্ঞানীরা জানান, ‘বিজেআরআই তোষা পাট-৯’ বর্তমানে উদ্ভাবিত অন্যতম সম্ভাবনাময় তোষা পাটের জাত। প্রচলিত জাতের তুলনায় এটি প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে সক্ষম। মাত্র ১১০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই ফসল কাটার উপযোগী হওয়ায় কৃষকেরা সময়মতো পরবর্তী ফসল আবাদ করতে পারেন।

বিজ্ঞানীরা আরও জানান, এ জাতের আঁশ অত্যন্ত উজ্জ্বল, সোনালি রঙের, মসৃণ ও শক্তিশালী হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ও মূল্য তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসে।

প্রধান অতিথি ড. এ. টি. এম. মোর্শেদ আলম বলেন, ‘বিজেআরআই তোষা পাট-৯’ গড়ে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩.২৫ টন আঁশ এবং ৬.৪৮ টন পাটকাঠি উৎপাদন করতে সক্ষম। গাছের গড় উচ্চতা প্রায় ৩.০৪ মিটার এবং কাণ্ডের ব্যাস ১৬.২৫ মিলিমিটার, যা উন্নত আঁশ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের পাট উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে এ জাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রদর্শনী প্লটের কৃষক মোক্তার মোল্লা বলেন, “এবারই প্রথম বিজেআরআই তোষা পাট-৯ চাষ করেছি। অন্যান্য বছরের তুলনায় ফলন অনেক ভালো হয়েছে। গাছগুলো সমানভাবে লম্বা ও মোটা হয়েছে। প্রতিদিন আশপাশের এলাকার কৃষকেরা এই পাট দেখতে আসছেন। আগামী মৌসুমে অনেকেই এই জাতের পাট চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।”

মাঠ দিবসে অংশ নেওয়া অন্যান্য কৃষকেরাও নতুন জাতটির প্রশংসা করে বলেন, এ পাট পানিতে দীর্ঘ সময় ভালো থাকে, ঝড়-বৃষ্টিতে সহজে হেলে পড়ে না এবং রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়। তারা সরকারিভাবে পর্যাপ্ত বীজ সরবরাহের দাবি জানান, যাতে আরও বেশি কৃষক এই জাতের পাট চাষে উৎসাহিত হন।

বিকেলে আয়োজিত উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় কৃষকেরা পাট চাষের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা ও মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। জবাবে কৃষি বিজ্ঞানীরা আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ ব্যবহারের কৌশল, রোগবালাই দমন এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করার বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পাটের উৎপাদন বাড়াতে উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সময়োপযোগী বীজ সরবরাহ ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ফরিদপুরসহ দেশের পাট উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে ‘সবুজ সোনা’ আবারও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৪ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠানো সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

​স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৯৩ জনে। এর মধ্যে হামজনিত জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন।

​এদিকে গত এক দিনে আক্রানদের মধ্যে জেলার ২৪ জন এবং বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১০ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেলাজুড়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন ৪৪ জনের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৭ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​বর্তমানে এই দুই হাসপাতালে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে মোট ৯৩ জন হাম রোগী ভর্তি আছেন। যার মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ২৬ জন ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬৭ জন। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৭ জন। এ নিয়ে জেলাজুড়ে মোট সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫ হাজার ৪৪৭ জনে।

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আলফাডাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ২৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া বোয়ালমারীতে ২৫, সালথায় ২৩, চরভদ্রাসনে ১৭, সদরপুরে ১৪, ভাঙ্গায় ১২, মধুখালীতে ৬, ফরিদপুর সদর উপজেলায় ৫ এবং নগরকান্দায় ২ জন হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরের পানিতে ডুবে উৎস সরকার নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড় ৭টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের সীতারামপুর দাসপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত উৎস সরকার ওই গ্রামের উত্তম সরকারের একমাত্র সন্তান।

​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শিশু উৎসের মা ঘরের গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় সবার অলক্ষে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে পাশের বাড়ির একটি পুকুরে পড়ে তলিয়ে যায়।

​সন্তানকে ঘরে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে স্থানীয় একটি পুকুরে শিশুটির স্যান্ডেল ভাসতে দেখে স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুকুরে নেমে তল্লাশি চালিয়ে পানির নিচ থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

​একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মা-বাবা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো দাসপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদন করায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

ফরিদপুরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সরকারি জমি উদ্ধার ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার অবৈধ স্থাপনা সরাতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসময় কোটি টাকার সওজের জমি উদ্ধার করা হয়।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে এই অভিযান শুরু হয়।

​অভিযানের সময় ভাঙ্গা-ফরিদপুর (গোয়ালচামট) সড়কের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ভাঙ্গা রাস্তার মোড় পর্যন্ত সওজের আওতাধীন জায়গার অবৈধ দখল ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকানপাট ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

​জেলা প্রশাসনের এনডিসি শাকিব রহমান আকাশের নেতৃত্বে এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতাল চত্বর ও মূল সড়কের ওপর অবৈধ দোকানপাট ও দখলের কারণে দীর্ঘদিন ধরে রোগী, স্বজন ও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। এই উচ্ছেদের ফলে এলাকায় পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি পথচারীদের যাতায়াত সহজ হয়েছে। হঠাৎ এই অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

​অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সওজের সরকারি জমি দখল ও যত্রতত্র অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছিল। উচ্ছেদ করা জায়গায় যেন নতুন করে কেউ দখল বা পুনরায় দোকানপাট বসাতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।