খুঁজুন
, ,

জুলাই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধায় ফরিদপুরে আলোচনা সভা, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানার আহ্বান

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
জুলাই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধায় ফরিদপুরে আলোচনা সভা, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানার আহ্বান

জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তাদের আত্মদান দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম।

সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা কাজী দেলোয়ার হোসেন, এনসিপি ফরিদপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. সাঈফ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এনামুল চৌধুরী, মুখপাত্র জেবা তাওসীন এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী সানজিদা রহমান সমতা।

এছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী, শহিদ পরিবারের সদস্য, আহত আন্দোলনকারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহিদরা দেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং শহিদদের আদর্শ ধারণ করে দেশপ্রেম, সততা, ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অব্যাহত অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলার বিকল্প নেই, প্রতিটি ইউনিয়নে হবে খেলার মাঠ’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলার বিকল্প নেই, প্রতিটি ইউনিয়নে হবে খেলার মাঠ’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

“মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।”— এমন মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার মাধ্যমে গড়ে তোলার এমন উদ্যোগ অতীতে কোনো সরকার নেয়নি।”

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের হলরুমে নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নগরকান্দা উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যৌথভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপির অর্থায়নে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, “নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে অনেক নারী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। পর্যায়ক্রমে এ ধরনের কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হবে।”

তিনি বলেন, “একদিকে নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এ দুটি উদ্যোগই একটি সুস্থ, দক্ষ ও উৎপাদনশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে ‘সবুজ সোনা’ তোষা পাটের মাঠ দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘সবুজ সোনা’ তোষা পাটের মাঠ দিবস

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল পাটের উৎপাদন ও গুণগত মান আরও উন্নত করতে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ‘বিজেআরআই তোষা পাট-৯ (সবুজ সোনা)’ জাতের মাঠ দিবস ও কৃষক সমাবেশে ফরিদপুরের কৃষকদের ছিল ব্যাপক সাড়া। নতুন এই জাতের অধিক ফলন, উন্নতমানের আঁশ এবং রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখে আগামী মৌসুমে চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন শতাধিক কৃষক।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ফরিদপুর সদর উপজেলার হাট গোবিন্দপুর মোল্লাপাড়ায় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাট গবেষণা আঞ্চলিক কেন্দ্র, ফরিদপুরের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ. টি. এম. মোর্শেদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. লুৎফর রহমান, ড. রণজিৎ কুমার ঘোষ এবং পাট গবেষণা আঞ্চলিক কেন্দ্র, ফরিদপুরের ইনচার্জ ড. মো. রিশাদ আব্দুল্লাহ। এছাড়া স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা অংশ নেন।

প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন শেষে কৃষি বিজ্ঞানীরা জানান, ‘বিজেআরআই তোষা পাট-৯’ বর্তমানে উদ্ভাবিত অন্যতম সম্ভাবনাময় তোষা পাটের জাত। প্রচলিত জাতের তুলনায় এটি প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে সক্ষম। মাত্র ১১০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই ফসল কাটার উপযোগী হওয়ায় কৃষকেরা সময়মতো পরবর্তী ফসল আবাদ করতে পারেন।

বিজ্ঞানীরা আরও জানান, এ জাতের আঁশ অত্যন্ত উজ্জ্বল, সোনালি রঙের, মসৃণ ও শক্তিশালী হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ও মূল্য তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসে।

প্রধান অতিথি ড. এ. টি. এম. মোর্শেদ আলম বলেন, ‘বিজেআরআই তোষা পাট-৯’ গড়ে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩.২৫ টন আঁশ এবং ৬.৪৮ টন পাটকাঠি উৎপাদন করতে সক্ষম। গাছের গড় উচ্চতা প্রায় ৩.০৪ মিটার এবং কাণ্ডের ব্যাস ১৬.২৫ মিলিমিটার, যা উন্নত আঁশ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের পাট উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে এ জাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রদর্শনী প্লটের কৃষক মোক্তার মোল্লা বলেন, “এবারই প্রথম বিজেআরআই তোষা পাট-৯ চাষ করেছি। অন্যান্য বছরের তুলনায় ফলন অনেক ভালো হয়েছে। গাছগুলো সমানভাবে লম্বা ও মোটা হয়েছে। প্রতিদিন আশপাশের এলাকার কৃষকেরা এই পাট দেখতে আসছেন। আগামী মৌসুমে অনেকেই এই জাতের পাট চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।”

মাঠ দিবসে অংশ নেওয়া অন্যান্য কৃষকেরাও নতুন জাতটির প্রশংসা করে বলেন, এ পাট পানিতে দীর্ঘ সময় ভালো থাকে, ঝড়-বৃষ্টিতে সহজে হেলে পড়ে না এবং রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়। তারা সরকারিভাবে পর্যাপ্ত বীজ সরবরাহের দাবি জানান, যাতে আরও বেশি কৃষক এই জাতের পাট চাষে উৎসাহিত হন।

বিকেলে আয়োজিত উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় কৃষকেরা পাট চাষের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা ও মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। জবাবে কৃষি বিজ্ঞানীরা আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ ব্যবহারের কৌশল, রোগবালাই দমন এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করার বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পাটের উৎপাদন বাড়াতে উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সময়োপযোগী বীজ সরবরাহ ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ফরিদপুরসহ দেশের পাট উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে ‘সবুজ সোনা’ আবারও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

বন্যার্তদের মুখে হাসি ফোটাতে ত্রাণ নিয়ে চট্টগ্রামের পথে ফরিদপুরের স্বেচ্ছাসেবীরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বন্যার্তদের মুখে হাসি ফোটাতে ত্রাণ নিয়ে চট্টগ্রামের পথে ফরিদপুরের স্বেচ্ছাসেবীরা

ফরিদপুরবাসী ও প্রবাসীদের সহযোগিতা নিয়ে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে রওনা হয়েছেন একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবী। মানবিক এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তরুণ স্বেচ্ছাসেবক খায়রুল ইসলাম রোমান।

বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ফরিদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা। তাদের লক্ষ্য, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে সরাসরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া এবং দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো।

স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা মূল্যের খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে তারা চট্টগ্রামে যাচ্ছেন। প্রতিটি পরিবারের জন্য আলাদাভাবে ত্রাণ প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিটি প্যাকেজে রয়েছে ১ কেজি মুড়ি, ১ কেজি চিড়া, ১ কেজি গুড়, ১ কেজি বিস্কুট, ২ লিটার বিশুদ্ধ পানি, ৫০০ গ্রাম চানাচুর, এক প্যাকেট মোমবাতি, চারটি কয়েল, পাঁচ প্যাকেট খাবার স্যালাইন, একটি গ্যাস লাইট, শিশুদের জন্য দুধ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ, নারীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি করে তোশক, বালিশ ও চাদর। এছাড়া ১০ হাজার পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ওষুধও রাখা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রীর কার্টুনও বিতরণ করা হবে।

এই মানবিক অভিযানে অংশ নিয়েছেন আলী মুকিম, কাজী রিয়াজ, জসিম উদ্দিন, ইয়াসিন হোসাইন, সাইদুল ইসলাম সাইদ, আবু সাইদ অমি, সালমান এফ রহমান, শারবিব রাব্বি, সিফাত হোসাইন, আরিয়ান খান শিহাব, শামিম হোসাইন, মো. জামাল, ডি এম রাজু, তরিকুল ইসলাম মাহফুজ, জাবির রায়হান ও সাকিব আল হাসানসহ আরও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক।

যাত্রার আগে খায়রুল ইসলাম রোমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, “আপনাদের ভালোবাসা ও আমানত যথাযথ মর্যাদায় বন্যাকবলিত মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়ে সুস্থভাবে ফিরে আসতে চাই। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন।”

দুর্যোগের সময়ে ফরিদপুরের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সমাজের বিত্তবান ও তরুণদের এমন উদ্যোগ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য যেমন আশার বার্তা, তেমনি মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।