খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর রেলস্টেশনের সেই হাজেরা বিবির পঁচে যাচ্ছে পা, মাছি ভনভন করছে পচা ঘায়ে!

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর রেলস্টেশনের সেই হাজেরা বিবির পঁচে যাচ্ছে পা, মাছি ভনভন করছে পচা ঘায়ে!

ফরিদপুর রেলস্টেশন। প্রতিদিন এখানে শত শত মানুষ আসে, ট্রেনে ওঠে, আবার চলে যায়। ব্যস্ততার সেই ভিড়ে একটি মুখ যেন সবার অগোচরেই থেকে যায়। ছোট ছোট পায়ে কুঁজো হয়ে হাঁটা সেই বৃদ্ধা—হাজেরা বিবি। অনেকেই তাকে চেনেন, কেউ কয়েন দেন, কেউ একবেলা খাবার দেন, আবার অনেকেই পাশ কাটিয়ে চলে যান। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন, এই স্টেশনই এখন তার ঘর, তার আশ্রয়, তার পৃথিবী।

বয়স ষাট পেরিয়েছে অনেক আগেই। মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই নেই। পরিবার আছে কি নেই, সেই প্রশ্নের উত্তরও যেন সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে। দিনের আলো ফুটলে মানুষের কাছে হাত পাতেন, আর রাত নামলে স্টেশনের কোনো এক কোণে শুয়ে পড়েন। এভাবেই কেটে গেছে তার জীবনের কয়েকটি বছর।

সোমবার সকাল। সূর্যের আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। স্টেশনের গোলচত্বরে বসে আছেন হাজেরা বিবি। অন্য দিনের মতো মানুষের দিকে তাকিয়ে নেই তিনি। মুখটা মলিন, চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত। কাছে গিয়ে শুধু জিজ্ঞেস করা হলো, “কেমন আছেন?”

এই একটি প্রশ্ন যেন তার বুকের জমে থাকা সব কষ্ট ভেঙে দিল। হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন তিনি।

কাঁদতে কাঁদতেই বললেন, “বাবা, কয়দিন হলো ডান পায়ের গোড়ালিতে বড় ঘা হয়েছে। এখন পা পচে যাচ্ছে। ফুসকুড়ি, পুঁজ, মাছি পড়ে। টিস্যু দিয়ে ঢেকে রাখি, তবুও রক্ষা হয় না। ব্যথায় দাঁড়াতে পারি না। মানুষের কাছে হাত পাততেও যেতে পারি না। বৃষ্টি এলেও নড়তে পারি না। মনে হয় পা-টা বুঝি খসে পড়বে। এই পা দিয়ে আর কোনোদিন হাঁটতে পারব না বাবা…।”

কথাগুলো বলতে বলতে আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

একজন অসহায় মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা শুধু ক্ষুধা নয়, অসুস্থ হয়েও চিকিৎসা না পাওয়া। হাজেরা বিবির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। হয়তো সময়মতো চিকিৎসা পেলে আজ তার পা এতটা ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছাত না। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সামর্থ্য নেই, হাসপাতালে যাওয়ার মতো মানুষও নেই পাশে। তাই প্রতিদিন ঘা আরও বড় হচ্ছে, সংক্রমণ বাড়ছে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে হয়তো একদিন তার পা কেটে ফেলতে হতে পারে।

তার কাঁপা হাতে কিছু টাকা তুলে দেওয়া হলো। কিন্তু সেই সামান্য অর্থ দিয়ে কি একটি মানুষের চিকিৎসা সম্ভব? কয়েকটি ওষুধ কেনা যেতে পারে, কিন্তু একটি জীবন কি এভাবে বাঁচানো যায়?

হাজেরা বিবির মতো মানুষ আমাদের সমাজে খুব বেশি নেই, কিন্তু একেবারেই নেই তাও নয়। তারা আমাদের চোখের সামনেই বেঁচে থাকেন, অথচ অদৃশ্য হয়ে যান আমাদের ব্যস্ততার ভিড়ে। আমরা হয়তো প্রতিদিন তাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাই, কিন্তু তাদের কষ্টের গভীরতা অনুভব করার সময় হয় না।

আজ হাজেরা বিবির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একজন চিকিৎসক, একটি হাসপাতালের শয্যা, কিছু ওষুধ এবং কয়েকটি সহানুভূতির হাত। হয়তো কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি, কোনো সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী দল কিংবা সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে আবারও চিকিৎসা পেতে পারেন তিনি। হয়তো আবার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে পারবেন।

একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে সব সময় লাখ লাখ টাকা লাগে না। অনেক সময় লাগে শুধু একটু মানবতা, একটু দায়িত্ববোধ এবং পাশে দাঁড়ানোর আন্তরিক ইচ্ছা।

হাজেরা বিবি আজ কারও কাছে ভিক্ষা নয়, বেঁচে থাকার সুযোগ চাইছেন। তার চোখের জল যেন আমাদের বিবেককে একবার হলেও প্রশ্ন করে—একজন অসহায় বৃদ্ধা কি চিকিৎসার অভাবে এভাবেই ধুঁকে ধুঁকে শেষ হয়ে যাবেন, নাকি আমরা সবাই মিলে তার জীবনে নতুন করে আশার আলো জ্বালাব?

‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

আকাশের বুকে কালো মেঘের ঘনঘটা,
শ্রাবণের দিনে যেন আঁধারের ছটা।
রিমঝিম সুর ধরে ঝরে জলধারা,
ঝরাপাতারা যেন হাহাকারে হারা।

​বাতাস বয়ে যায় উদাস পথ ধরে,
গাছের ডালে জল টুপটুপ করে।
কদমের শাখা আজ ফুটেছে সতেজ,
সবুজে সবুজে আঁকা নতুন আবেশ।

​ভেজা কাদা-মাটিতে হাঁটে মেঠো পথ,
বয়ে চলে বর্ষার অবিরাম রথ।
পাখিরা যে নিথর, ডানা দুটি গুটিয়ে,
উষ্ণতার খোঁজে যেন নীড়ে গেছে লুকিয়ে।

​মাঠে মাঠে জমা জল দর্পণের মতো,
ঝাপসা পাহাড়ি ছবি দেখা যায় কত।
মেঘের গর্জনে বুক কাঁপে ধরে,
বিদ্যুৎ ঝলকায় দূর নীলম্বরে।

​শ্রাবণের এই মেঘ মন কেড়ে নেয়,
সোঁদা মাটির ঘ্রাণে প্রাণ ভরে দেয়।
ধুয়ে যায় ধুলোবালি ধরা হয় শুভ্র,
মেঘে ঢাকা দিনশেষে প্রকৃতি সুশান্ত।

ফরিদপুরে পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ফরিদপুরে পুলিশের দুই দিন মেয়াদী দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রথম ব্যাচের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর পুলিশ লাইনসের শহীদ ছালাম সভা কক্ষে এ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, “আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিটি সদস্যকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে।”

​কোর্সে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিট থেকে আসা ৫০ জন সদস্য অংশ নেন। প্রশিক্ষণে নির্বাচনি দায়িত্বে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা, নিরপেক্ষতা, জনগণের আস্থা অর্জন, আইন প্রয়োগে মানবিকতা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

​সমাপনী অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে পথচারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় ব্যবহৃত ২২ বোরের রিভলবারটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. হামিদুল গাজী (৪২) নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের (ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা সংলগ্ন) ওপর একটি খয়েরি রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১৬-৩০৮৭) থামান হামিদুল গাজী। গাড়িতে তাঁর সঙ্গে শিমু আক্তার তিশা ওরফে ফাতেমা ইসলাম এনি (২৬) নামে এক নারী আরোহী ছিলেন। গাড়ি পার্কিং নিয়ে এক পথচারীর সঙ্গে তর্কাতর্কির জেরে হামিদুল গাজী গাড়িতে বসেই নিজ রিভলবার দিয়ে ওই পথচারীকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরবর্তীতে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।

​ঘটনাটি নজরে আসার পর ভাঙ্গা থানা পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানে আসামির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রশান্ত কুমার মন্ডল বাদী হয়ে অস্ত্র আইন ও পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা (মামলা নং-০৬) দায়ের করেন।

​পরবর্তীতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর র‍্যাব-১-এর সহায়তায় ঢাকার বনানী এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি হামিদুল গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থাকা নারী আরোহী শিমু আক্তার তিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত হামিদুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ৯টি মামলা রয়েছে।

​গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হামিদুল স্বীকার করেন যে, তিনি পিস্তলটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে তাঁর নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটে লুকিয়ে রেখেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম লৌহজং উপজেলার গোয়ালী মান্দ্রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিভলবারটি উদ্ধার করে।

​ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মামলার তদন্ত কাজ এখনও চলমান রয়েছে।