খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ৮৮৮টি প্রাথমিকে শূন্য ৫১৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ, ভেঙে পড়ছে পাঠদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৮৮৮টি প্রাথমিকে শূন্য ৫১৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ, ভেঙে পড়ছে পাঠদান

ফরিদপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র আকার ধারণ করেছে প্রধান শিক্ষক সংকট। জেলার মোট ৮৮৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানই চলছে অভিভাবকহীন অবস্থায়। অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে স্থায়ী কোনো প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্তদের ওপর ভর করে জোড়াতালি দিয়ে চলছে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। এতে একদিকের যেমন প্রশাসনিক গতি স্থবির হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে শ্রেণি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ফরিদপুরে ৮৮৮টি বিদ্যালয়ে অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদও ৮৮৮টি। তবে এর মধ্যে বর্তমানে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন মাত্র ৩৭৩ জন। অর্থাৎ ৫৮ শতাংশেরই বেশি বিদ্যালয়ে পদ শূন্য রয়েছে।

​উপজেলাভিত্তিক হিসেবে দেখা যায়, সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সদরপুর ও আলফাডাঙ্গায়।

জেলাটির ​সদরপুর উপজেলার ১৩০টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৪৩ জন, শূন্য পদ ৮৭টি।আলফাডাঙ্গায় ৭৩টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৯ জন, শূন্য পদ ৫৪টি। ​নগরকান্দায় ৮৪টি বিদ্যালয়ে কর্মরত ৩০ জন, শূন্য পদ ৫৪টি। ​সালথা উপজেলায় ৭৬টি পদের মধ্যে কর্মরত ২৪ জন, শূন্য পদ ৫২টি। ​বোয়ালমারীতে ১০২টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৪৬ জন, শূন্য পদ ৫৬টি। ​ভাঙ্গায় ১২০টি পদের মধ্যে কর্মরত ৪৯ জন, শূন্য পদ ৭১টি। ​মধুখালীতে ৯৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৪৫ জন, শূন্য পদ ৫১টি। ​ফরিদপুর সদর উপজেলার ১৫৩টি বিদ্যালয়ে কর্মরত ৮০ জন, শূন্য পদ ৭৩টি ও ​চরভদ্রাসন উপজেলায় ৫৪টি পদের মধ্যে কর্মরত ৩৭ জন, শূন্য পদ ১৭টি।

​সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এসব শিক্ষকদের মূল পাঠদান বাদ দিয়ে নিয়মিত দাপ্তরিক নথিপত্র প্রস্তুত, প্রশাসনিক তদারকি, নানা সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়ন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক মিটিংয়ে অংশ নিতে হচ্ছে। একজন শিক্ষক যখন প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকছেন, তখন অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বাড়তি চাপ পড়ছে। ফলে নিয়মিত শ্রেণির পরীক্ষা ও পাঠদান ব্যাপকভাবে পিছিয়ে পড়ছে।

​স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দু হলেন প্রধান শিক্ষক। বছরের পর বছর এই পদ শূন্য থাকলে সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয় এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

​এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম তৌফিকুর রহমান বলেন, “জেলার ৫১৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। সমস্যাটি সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত তথ্য ও তালিকা পাঠানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”

নগরকান্দায় উদয়ন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন পোশাক উপহার

এহসানুল হক মিয়া, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় উদয়ন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন পোশাক উপহার

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদী উদয়ন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক এ টি এম নুরুল আলম মনা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ। লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ এফ এম সিদ্দিকিল আলম বাবলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ফেরদৌসুর রহমান মুন্সী, মিজানুর রহমান মিজান, মোস্তফা মুন্সী, সাহিদ মেম্বার, মিরাজ মুন্সী, সহিদ মিয়া, রিজু খান ও রোকেয়া বেগমসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস তুলে দেওয়া হয়। নতুন পোশাক পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় স্কুলে যাওয়ার পথে আট বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় আকিদুল শেখ (২৫) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ প্রহরায় কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত আকিদুল শেখ আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের সেলিম শেখের ছেলে।

​মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২০ জুন সকাল ১০টার দিকে নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছিল। আগের দিনের বৃষ্টিতে স্কুলে যাওয়ার রাস্তায় পানি ও কাদা জমে ছিল। এ সময় আকিদুল শিশুটিকে কাদা রাস্তা পার করে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পার্শ্ববর্তী একটি বাঁশবাগানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যান।

​ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষকরা তার পরিবারকে খবর দেন। প্রথমে তাকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

​এ ঘটনায় ২১ জুন শিশুটির বাবা শংকর কুমার মন্ডল বাদী হয়ে আকিদুল শেখকে আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন।

​রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের জঘন্য অপরাধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থার গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত।”

ফরিদপুরে ৭ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবাসহ কক্সবাজারের যুবক গ্রেপ্তার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৭ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবাসহ কক্সবাজারের যুবক গ্রেপ্তার

কক্সবাজার পৌরসভা এলাকা থেকে ইয়াবার বড় চালানের খবর পেয়েই তৎপর হন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সদস্যরা। দীর্ঘ নজরদারি শেষে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকা থেকে আটক করা হয় তরুণ মাদক কারবারি মো. হারুন রশীদকে (২৪)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চালানের সাত হাজার নয়শত (৭,৯০০) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে ১১ টার মধ্যে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানাধীন ভাঙ্গা বাসস্টপ সংলগ্ন ভাঙ্গা-বরিশাল কাউন্টারের পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার ওপর এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে টেকনাফ-কক্সবাজার রুট দিয়ে আসা যুবকদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে মো. হারুন রশীদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​গ্রেফতারকৃত হারুন রশীদ কক্সবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেকপাড়া এলাকার (ইউনুছ এর বাড়ির ভাড়াটিয়া) মৃত সিদ্দিক মিয়া ও মৃত রেনুয়ারা বেগমের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিল।

​এ বিষয়ে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরিন আক্তার ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “মাদক সরবরাহ ও পাচারের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত জিরো টলারেন্স অভিযান চলছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমরা বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ হারুনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় নিয়মিত ধারায় ১টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

​ডিএনসি ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিচালিত এ অভিযানে আটক আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। মাদকের এই বড় সিন্ডিকেটের পেছনে আর কারা জড়িত রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।