খুঁজুন
, ,

বসন্ত এলেই মন কেন হারায় নিয়ন্ত্রণ?

মো. লিখন হোসেন
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ
বসন্ত এলেই মন কেন হারায় নিয়ন্ত্রণ?

ফাগুনের নরম হাওয়া যখন গালে ছুঁয়ে যায়, তখন যেন হঠাৎ করেই বদলে যায় চারপাশের আবহ। শুকনো ডালে নতুন কুঁড়ি ফোটে, শহরের ব্যস্ত রাস্তাতেও চোখে পড়ে হলুদের ছোঁয়া- আর মানুষের মনেও শুরু হয় এক অদ্ভুত রঙিন পরিবর্তন। বসন্ত যেন শুধু ঋতু নয়; এটি অনুভূতির দরজা খুলে দেওয়া এক জাদুকরী সময়, যেখানে ভালোবাসা একটু বেশি নরম হয়, আবেগ একটু বেশি গভীর হয়ে ওঠে।

বসন্ত মানেই প্রেম

বছরের অন্য সময়েও প্রেম থাকে, কিন্তু বসন্তে তার রূপ যেন অন্যরকম। ফুলের সুবাস, রোদের উষ্ণতা আর বাতাসের মিষ্টি ছোঁয়া- সব মিলিয়ে মানুষের মনে তৈরি করে এক অচেনা রোমাঞ্চ। অনেকেই বলেন, এই সময়টায় হঠাৎ করেই পুরনো কারও কথা বেশি মনে পড়ে, নতুন কারও হাসি বেশি ভালো লাগে। যেন হৃদয় নিজেই নতুন গল্প লিখতে শুরু করে।

বিশেষ করে তরুণদের মাঝে বসন্তের দিনগুলো হয়ে ওঠে প্রেমের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ক্যাম্পাসের গাছতলায় বসে গল্প, হলুদ শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে ছবি তোলা, কিংবা বিকেলের নরম আলোয় হাত ধরাধরি করে হাঁটা- সবকিছুতেই থাকে ভালোবাসার নিঃশব্দ ভাষা।

প্রথম প্রেমের ফাগুন

ফাগুন এলে অনেকেই ফিরে যান নিজের প্রথম প্রেমের স্মৃতিতে। কেউ মনে করেন প্রথম হাত ধরা, কেউ মনে করেন লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা সেই হাসি। বসন্ত যেন স্মৃতির অ্যালবাম খুলে দেয়- যেখানে জমে থাকে অপ্রকাশিত ভালোবাসা, অপূর্ণ অনুভূতি আর এক ফোঁটা মিষ্টি কষ্ট।

সাধারণত বছরের অন্য সময় এতটা প্রেম অনুভূতি হয় না। কিন্তু বসন্ত এলেই যেন মনে হয়, কাউকে পাশে চাই- যার সাথে রঙিন দিনগুলো ভাগ করা যায়। এই কথার মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে বসন্তের আসল রহস্য- মানুষ চায় কাছের মানুষ, চায় ভাগাভাগি করা সুখ।

কেন বদলে যায় মন

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রকৃতির পরিবর্তন মানুষের আবেগেও প্রভাব ফেলে। শীতের স্থিরতা কাটিয়ে বসন্তের উষ্ণতা মানুষের মনে এনে দেয় নতুন উদ্যম। সূর্যের আলো বাড়ে, প্রকৃতির রঙ বাড়ে-আর সেই সঙ্গে মানুষের মনেও জন্ম নেয় নতুন আশা, নতুন ভালোবাসা।

তবে শুধু বিজ্ঞান নয়, সংস্কৃতিও বড় কারণ। বসন্ত মানেই উৎসব, মানেই রঙিন পোশাক, মানেই প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো। ফলে এই সময়টায় সম্পর্কগুলো আরও গভীর হয়, নতুন বন্ধুত্ব জন্ম নেয়, পুরনো ভালোবাসা ফিরে পায় নতুন প্রাণ।

শহরের ক্যাফে, পার্ক কিংবা নদীর ধারে বসন্তের দিনে দেখা যায় অগণিত প্রেমিক–প্রেমিকাকে। কেউ গিটার বাজিয়ে গান শোনায়, কেউ ফুল দিয়ে প্রকাশ করে অনুভূতি। আবার গ্রামবাংলায় বসন্ত মানে কাশফুলের মাঠে হাঁটা, বিকেলের হাওয়ায় চুপচাপ পাশে থাকা-যেখানে কথা কম, অনুভূতি বেশি।

ভালোবাসার অদেখা ভাষা

বসন্ত শেখায় ভালোবাসা মানে শুধু বড় বড় কথা নয়; ছোট ছোট মুহূর্তই আসল। প্রিয়জনের জন্য ফুল তুলে আনা, রোদে বসে গল্প করা, কিংবা হঠাৎ করেই ‘তোমাকে ভালো লাগে’ বলে ফেলা- এসব ছোট কাজই হয়ে ওঠে জীবনের বড় স্মৃতি।

ফাগুন এলে মন বদলায়- কারণ প্রকৃতি বদলায়, মানুষ বদলায়, আর অনুভূতিগুলো নতুন করে জন্ম নেয়। বসন্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবনের রঙগুলো তখনই সুন্দর হয় যখন সেখানে থাকে ভালোবাসা। তাই হয়তো প্রতি বছর ফাগুন ফিরে আসে নতুন প্রেমের গল্প নিয়ে- কারও শুরু, কারও পুনর্মিলন, কারও আবার নিঃশব্দ অপেক্ষা।

বসন্তের এই রঙিন সময়ে প্রেম শুধু অনুভূতি নয়- এটি হয়ে ওঠে জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়, যেখানে প্রতিটি দিন যেন এক নতুন কবিতা, প্রতিটি মুহূর্ত এক নতুন ভালোবাসার গল্প।

ফরিদপুরে ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে তালা, বৃদ্ধ মাকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে তালা, বৃদ্ধ মাকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ইতালি প্রবাসী এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ, ভাঙচুর, বাড়ি দখল করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং তার বৃদ্ধ মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলার চরযশোরদি ইউনিয়নে পৌলানপুটি গ্রামে ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে বাড়িটি পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেয়।

অভিযোগে জানা যায়, ইতালি প্রবাসী জাহিদ শেখের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কাসালিয়া গ্রামের শাহিদুল মল্লিকের ছেলে নাসিম মল্লিকের বিদেশে পাঠানোকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন হয়। নাসিম মল্লিকের দাবি, ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাহিদ শেখ চুক্তিপত্রের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেন। পরে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলেও দীর্ঘদিন টাকা ফেরত দেননি। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি তার।

এদিকে জাহিদ শেখের পরিবারের অভিযোগ, ওই বিরোধের জেরে শুক্রবার নাসিম মল্লিক দলবল নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। এরপর জাহিদের মা দুলু বেগমকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দিয়ে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে একাধিক তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় তাকে মারধর, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দুলু বেগম বলেন, “ওরা দলবল নিয়ে এসে আমাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়। এরপর আমার ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বিষয়টি আমি আমার ছেলেকে জানাই। পরে সে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে তালা খুলে দেয়।”

ইতালি থেকে মুঠোফোনে জাহিদ শেখ বলেন, “নাসিমের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য টাকা নিয়েছিলাম। তাকে পাঠাতে না পারায় টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ না দিয়ে তারা আমার বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করেছে, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে এবং আমার মায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। আমি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

অভিযুক্ত নাসিম মল্লিক বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, “বিদেশে পাঠানোর জন্য টাকা দিয়েছিলাম। কথা ছিল বিদেশে পাঠাতে না পারলে বাড়ি আমাকে দিয়ে দেবে। সেই কারণে আমি বাড়িতে গিয়ে তালা ঝুলিয়েছি।” তবে আদালতের আদেশ বা আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া এভাবে বাড়ি দখল করা বৈধ কি না, এ প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে নগরকান্দা থানার এসআই আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে তালা খুলে বাড়িটি পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নানা নাটকীয়তা শেষে অবশেষে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ
নানা নাটকীয়তা শেষে অবশেষে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে অভিষেকেই ইতিহাস গড়া কেপ ভার্দে সহজে মাথা নোয়ানোর দল নয়; সেটি তারা প্রমাণ করল দারুণ লড়াইয়েও। নির্ধারিত সময়ের নাটক গড়াল অতিরিক্ত সময়ে।

সেখানে আবার এগিয়ে গিয়েও সমতায় ফিরল আফ্রিকার দলটি। শেষ পর্যন্ত মেসির কর্নার থেকে আসা আত্মঘাতী গোলে স্বস্তির জয় নিয়ে শেষ ষোলোয় উঠল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

মায়ামিতে নকআউট পর্বের রোমাঞ্চকর ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ছিল ১-১ সমতায়।

আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন মেসি ও লিসান্দ্রো মার্তিনেস। অতিরিক্ত সময়ে মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড দিনেই বোর্হেসের হাতে লেগে জালে জড়ালে সেটি আত্মঘাতী গোল হিসেবে ধরা হয়।

কেপ ভার্দের হয়ে গোল করেন ডেরয় দুয়ার্তে ও সিডনি লোপেস কাবরাল।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন অভিনেতা জয় চৌধুরী। শুক্রবার (৩ জুলাই) দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে শনিবার (৪ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট গণনা শেষে ১৭টি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয় বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।

ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে শিবা শানু পেয়েছেন ২৪৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ২৩৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জয় চৌধুরী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।

এবারের নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিএফডিসিতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের মধ্যে ছিল মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একদিকে ছিলেন আরমান-মুক্তি পরিষদ, অন্যদিকে শিবা শানু-জয় চৌধুরী পরিষদ। নির্বাচনের আগে প্রচার-প্রচারণা, প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠান এবং ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সরগরম ছিল চলচ্চিত্রাঙ্গন।

শুক্রবার সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট শেষে সন্ধ্যায় ব্যালট বাক্স সিলগালা করে গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ সময় ধরে ভোট গণনা শেষে শনিবার ভোরে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কামাল মো. কিবরিয়া লিপুর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন নেতৃত্ব পেলেন সভাপতি শিবা শানু ও সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী। নতুন কমিটির কাছে শিল্পীদের অধিকার রক্ষা, কল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদার এবং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।